বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৬:৩৫ পি.এম
জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি ভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, এ বছরই দেশে ফিরছেন তিনি। সাক্ষাৎকারটি প্রকাশের পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে দেশে-বিদেশে। এবার এ নিয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
জবাবে শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক এ বার্তা নিয়ে নিজের এবং সরকারের ভাবনা ও পদক্ষেপ তুলে ধরেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সাংবাদিকরা শামা ওবায়েদকে প্রশ্ন করেন, শেখ হাসিনা দেশে ফেরার কথা বলছেন এবং সময়ের উল্লেখ করেছেন। তাহলে তাকে ফেরাতে বাধা কোথায়?
জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের আদালত একজনকে সাজা দিয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত আসামি যিনি বাংলাদেশে অনেক অন্যায়, অত্যাচার ও কুকর্ম করে বিদেশে পালিয়ে আছেন, তিনি কী বলছেন, না বলছেন সেটা প্রাসঙ্গিক না; একেবারেই প্রাসঙ্গিক না।
তিনি বলেন, বিদ্যমান বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ ও আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ বজায় রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক তৎপরতায় কোনো ঘাটতি নেই।
শামা ওবায়েদ বলেন, এখানে যে অন্যায়গুলো হয়েছে; যে দুর্নীতি, খুন, গুম হয়েছে, সেগুলোর একটি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ বিচার বাংলাদেশের মাটিতে হবে। আমাদের যে প্রক্রিয়া সেটা ভারতের সরকারের সঙ্গে চলমান আছে। এখন যিনি আসামি তার বক্তব্য প্রাসঙ্গিক না। তাকে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলমান আছে। প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে, সেটা চলমান আছে। কূটনীতির কোনও ঘাটতি নেই। এটা শুধু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিষয় না, এখানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিষয় আছে; তারা এটা নিয়ে কাজ করছে।
শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ভারতের সহযোগিতার অভাব বা আইনি জটিলতা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আইনি জটিলতা আছে কি নাই, সেটা আইন মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় খুঁটিয়ে দেখবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমাদের যে প্রক্রিয়া চালানো দরকার, সেটা আমরা চালাচ্ছি। সেটাতে কোনও ঘাটতি আমি দেখছি না।
এদিকে, গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত কূটনৈতিক সংলাপ চলছে। বাংলাদেশ বিশ্বাস করে, পারস্পরিক স্বার্থ, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গুরুত্ব বিবেচনা করে ভারত এ বিষয়ে ইতিবাচক ভূমিকা নেবে এবং দ্রুতই একটি প্রগতিশীল অগ্রগতি সম্ভব হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, ২০২৮ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে বর্জ্য থেকে ৪২.৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর মিরপুরের মধ্য পীরেরবাগে পানির পাম্প স্থাপনের স্থান পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এই তথ্য জানান।
শফিকুল ইসলাম খান জানান, সিটি করপোরেশন ২০২৮ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে বর্জ্য থেকে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছে।
এ সময় তিনি আরও বলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে এখানে পানির পাম্প নির্মাণের কাজ শুরু হবে, যা এই এলাকার পানি সংকট অনেকটাই সমাধান করবে।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে শফিকুল ইসলাম খান দাবি করেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর মশার উপদ্রব অনেকাংশে কমে গেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ইরানের বুশেহর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে যুক্তরাষ্ট্র বিমান হামলা চালিয়েছে। অপরদিকে, জর্ডানে আটটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে দিয়েছে তেহরান। তবে জানা গেছে, ওই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আটকে দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ-কে ইরানের স্থানীয় কর্মকর্তা এহসান জাহানিয়ান জানিয়েছেন, বুশেহরে দুপুরের দিকে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড কার্যক্রম শেষের ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরের এই হামলা ঘটে। যুক্তরাষ্ট্র এখনও এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। মেহের নিউজ জানাচ্ছে, বুশেহরে বিস্ফোরণের আওয়াজ শোনা গেছে। তবে তেহরান পরমাণু স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্রের টুকরো পড়ার খবর অস্বীকার করেছে।
বিশ বছর আগে রুশ কর্মীদের সহযোগিতায় বুশেহর কেন্দ্রীকরণটি প্রতিষ্ঠিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল যুদ্ধের সময় নাতাঞ্জ, ফোরদো ও ইসফাহানে হামলা করলেও বুশেহর নিরাপদ ছিল। সেই স্থানে এখনও রুশ কর্মীরা অবস্থান করছেন। তেহরান নিশ্চিত করেছে যে, পরমাণু কেন্দ্রটির কোনো ক্ষতি হয়নি।
ফারস নিউজ জানিয়েছে, উত্তরের গোলেস্তান প্রদেশের আক তাকেহ খান রেলসেতুর উপরেও মার্কিন হামলা হয়েছে। এই সেতুটি মূলত প্রধান বাণিজ্য সহযোগী চীন এবং অবরুদ্ধ সময়ে রাশিয়ার সাথে পণ্য পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ। সেতুটিকে সঙ্গে সাথে মেরামত করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা তুর্কমেনিস্তান ও কাজাখাস্তান হয়ে চীনে চলে যায়।
এদিকে, জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা উল্লেখযোগ্যভাবে সারা দেশে সাইরেন বাজার পর আকাশে ইরানের আটটি ক্ষেপণাস্ত্র আটকে দিয়েছে। এই ঘটনায় কোনো হতাহত বা আর্থিক ক্ষতির সংবাদ নেই।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিদেশ সফরে গিয়ে একের পর এক নতুন পদক ও সম্মাননা নিয়ে আসছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গত ২৭ থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত সেশেলস সফরে গিয়ে তিনি লাভ করেছেন গার্ডিয়ান অব দ্য ব্লু হরাইজন নামক একটি ট্রফি ও সম্মাননা। কিন্তু এই নতুন পদকপ্রাপ্তি বিশ্বমঞ্চে প্রশংসার চেয়ে বেশি কৌতুক এবং সমালোচনা কুড়িয়েছে। কারণ, মোদির সফরের মাত্র তিন দিন আগে তাড়িঘড়ি করে এই পুরস্কারটি তৈরি করা হয়েছে এবং এর সার্টিফিকেটে বানান ভুল রয়েছে।
পুরস্কার প্রদানকারী দেশটির নাম ভুলভাবে লেখা হয়েছে। রিপাবলিক অব সেশেলসের বদলে লেখা হয়েছে রিপাবলিক অব সেশেলিস। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে মোদির এই পদক এবং কূটনীতির পেছনের আসল রহস্য উন্মোচন করা হয়েছে।
সেশেলসের প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিক হারমিনি মোদিকে পরিবেশবান্ধব অবদানের জন্য যে পদকটি প্রদান করেন, সেই পদকের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসতেই শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। শুধু বানান ভুলই নয়, বিভিন্ন সফটওয়্যার দিয়ে পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে সার্টিফিকেটটি মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি করা হয়েছে।
এ নিয়ে ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেসের নেত্রী সুপ্রিয়া শ্রীনাতে বলেন, "বিশ্ব এখন মোদিকে চিনে গেছে, যেকোনো একটা পুরস্কারের লোভ দেখান, তিনি দৌড়ে চলে আসবেন।" এতটাই তাড়াহুড়ো ছিল যে সেশেলস নিজ দেশের নামটাই ভুল লিখে ফেলল। তীব্র বিতর্কের মুখে সেশেলস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাফাই গেয়েছে যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো তথ্যটি একটি ওয়ার্কিং ড্রাফট বা খসড়া ছিল এবং আসল সনদটি অনবদ্য।
জানা গেছে, বিশেষ করে মোদির জন্য এই ধরনের পদক নির্মাণ করা হয়। যুক্তরাজ্যের ওয়েস্টমিনস্টার ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক নিতাশা কাউল আলজাজিরাকে বলেন, "এই পুরস্কারগুলোর সঙ্গে ভারতের বৈদেশিক কূটনীতির কোনো সম্পর্ক নেই, এগুলো শুদ্ধুমাত্র মোদির ব্যক্তিগত ইমেজ তৈরির প্রচারণা।" ১২ বছরের শাসনামলে মোদি ৩০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন, যার অনেকগুলোই তাঁর সফরের ঠিক আগে তৈরি করা হয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে মোদির ইসরায়েল সফরের ঠিক আগে সে দেশের পার্লামেন্ট স্পিকার অব দ্য নেসেট মেডেল নামক একটি সম্পূর্ণ নতুন পুরস্কার তৈরি করে, যা মোদিকে ছাড়া আর কোনো বিশ্বনেতা পাননি। গত জুন মাসে স্লোভাকিয়া সফরের সময় মোদিকে সে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা অর্ডার অব দ্য হোয়াইট ডাবল ক্রস ফার্স্ট ক্লাস দেওয়া হয়। এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়া সফরেও তিনি পেয়েছেন বিনতাং আদিপূর্ণা পদক।
২০১৯ সালে মোদি ওয়ার্ল্ড মার্কেটিং সামিটের প্রথম ফিলিপ কোটলার প্রেসিডেন্সিয়াল অ্যাওয়ার্ড পান, যা প্রতি বছর বিশ্বনেতাদের দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও মোদির পর গত সাত বছরে আর কোনো বিশ্বনেতাকে এই পদক দেওয়া হয়নি।
মোদি ও তাঁর দল বিজেপি সবসময় দাবি করে যে এই আন্তর্জাতিক পদকগুলো ১৪০ কোটি ভারতবাসীর সম্মান হিসেবে। কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা এতে কোনো কূটনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সুবিধা দেখছেন না। অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ইয়ান হল বলেন, "নয়াদিল্লি যুক্তি দিতে পারে যে এগুলো বিশ্বমঞ্চে ভারতের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের প্রমাণ, তবে সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক বা কৌশলগত স্বার্থে এর কোনো বাস্তবিক অবদান নেই।" বরং এটি প্রমাণ করে যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী আসল কাজের তুলনায় নিজের প্রচারণায় বেশি মনোযোগী।
মোদির জীবনীকার নীলাঞ্জন মুখোপাধ্যায়ের মতে, এই পুরস্কারের শিকারের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের ভক্ত এবং ভোটারদের কাছে নিজেকে বিশ্বনেতা হিসেবে জাহির করা। কিন্তু সেশেলসের মতো দেশগুলোতে তাড়াহুড়ো করে বানান ভুল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি সার্টিফিকেট গ্রহণের এই প্রবণতা আন্তর্জাতিক মহলে ভারতকে সম্মানিত করার চেয়ে বেশি হাস্যরসের খোরাক দিচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
উপসচিব পদমর্যাদার ১৭২ কর্মকর্তা পদোন্নতি পেয়ে যুগ্ম সচিব হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ বিষয়টি জানানো হয়েছে।
এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৭২ কর্মকর্তাকে সরকারের যুগ্ম সচিব পদে উন্নীত করে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (যুগ্ম সচিব) হিসেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।
এদিকে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এটিই প্রথম পদোন্নতি। এবারের পদোন্নতির মাধ্যমে নতুন করে ২৫তম বিসিএসের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদেরও যুগ্ম সচিব হিসেবে পাঠানো হয়েছে। পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে কয়েকজন জেলা প্রশাসকও রয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ