বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৮:৪৬ পি.এম
কক্সবাজারের টেকনাফে বিজিবি জওয়ানেরা মেরিন ড্রাইভ সড়কে অভিযান চালিয়ে ৪০ হাজার পিচ ইয়াবাসহ একজন ব্যাক্তিকে আটক করেছেন। এ সময় পাচারের কাজে ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটিও জব্দ করা হয়েছে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ২১ জুলাই রাত ১১টার দিকে মেরিন ড্রাইভ সড়কের সী-বীচ বিওপি চেকপোষ্টে কর্তব্যরত জওয়ানেরা চট্টগ্রামের দিকে গামী একটি প্রাইভেটকারে তল্লাশি পরিচালনা করে ৪০ হাজার পিচ ইয়াবাবড়ি উদ্ধার করেন। আটককৃত ইয়াবার সঙ্গে থাকা ব্যক্তি হলেন চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের মোস্তাক আহমদের ছেলে ওমর ফারুক রাসেল (৪১) বলেও জানানো হয়েছে। ২বিজিবির অধিনায়ক লে: কর্ণেল মো: হানিফুর রহমান ভুঁইয়া সংবাদটির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন যে, ইয়াবাসহ আটক গাড়ির চালককে মাদক আইনে মামলার রুজু করে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বিজিবির এই কমান্ডিং অফিসার আরও জানান, বিজিবি সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক, চোরাচালান, অবৈধ পণ্য পাচার এবং সীমান্ত এলাকায় সংঘটিত অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। মাদক ও সীমান্ত অপরাধ দমনে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের গোয়েন্দা নজরদারি, নিয়মিত টহল, চেকপোষ্টভিত্তিক তল্লাশি এবং বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
টিকটকে পরিচয়, এরপর প্রেমের সম্পর্ক। সেই প্রেমের টানেই টাঙ্গাইলের এক শিক্ষকের স্ত্রী চাঁদপুরে চলে আসেন। নিখোঁজ ডায়েরির সূত্রে পুলিশের অভিযানে ওই নারী উদ্ধার হন। এই ঘটনায় অভিযুক্ত অটোচালক আটক হন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানানো হয়, চাঁদপুর সদর উপজেলার ৮ নম্বর বাগাদি ইউনিয়নের ইচলি রোড এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় ওই নারীর সঙ্গে বসবাস শুরু করেন অটোচালক মোরশেদ আলম দুলাল। অভিযোগ রয়েছে, টিকটকে পরিচয়ের পর প্রেমের ফাঁদে ফেলে তিনি ওই নারীকে চাঁদপুরে নিয়ে আসেন। এছাড়া অভিযোগ আছে, ওই নারীর গলার প্রায় এক লাখ টাকার স্বর্ণের চেইন বিক্রি করে সেই টাকা আত্মসাৎ করেন দুলাল। এলাকাবাসীরা দাবি করেছেন, এর আগেও তিনি টিকটক এবং ফেসবুকের মাধ্যমে একাধিক নারীর সঙ্গে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে চাঁদপুরে এনে প্রতারণা ও নির্যাতনের অভিযোগে আলোচনায় ছিলেন।
এদিকে, স্ত্রী নিখোঁজ হওয়ার পর টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন ওই শিক্ষক। সেই তথ্যের ভিত্তিতে চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে বাগাদি এলাকা থেকে দুজনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে টাঙ্গাইল থেকে ওই শিক্ষকের পরিবারের সদস্যরা চাঁদপুরে এসে নারীকে নিজেদের জিম্মায় নিয়ে যান।
পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজ সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে নারীকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়ার কথা হয়েছে। আর অভিযুক্ত যুবককে তাঁর বোনের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে টাঙ্গাইলে এ ঘটনার মামলা হলে তাঁকে আবার আটক করে টাঙ্গাইল পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুরে ঘটেছে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা, যেখানে ট্রাফিক পুলিশের পোশাক বা পরিচয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করা হয়। সিএনজি ও অটোরিকশা চালকদের তৎপরতার কারণে ধরা পড়েছে এক ভুয়া ট্রাফিক পুলিশ। আটক ব্যক্তির নাম সুমন গাজী এবং তাঁর বাড়ি হাজীগঞ্জ উপজেলায়। অভিযোগ রয়েছে, সুমন গাজী দীর্ঘদিন ধরে চাঁদপুরের পালবাজার এলাকায় ট্রাফিক পুলিশের পরিচয় দিয়ে সিএনজি ও অটোরিকশা থামিয়ে চালকদের কাছ থেকে টাকা আদায় করতেন। ঘটনার দিন, মঙ্গলবার, তিনি প্রথমে নিজের পরিচয় দেন ট্রাফিক পুলিশের সদস্য হিসেবে। পরে তিনি নিরাপদ সড়কের সদস্য হওয়ার দাবি করেন। কিন্তু টাকা নেওয়ার সময় চালকদের সন্দেহ হলে তারা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে খবর দেন। পরে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে এবং হেফাজতে নিয়ে ডোপ টেস্ট করে। ডোপ পরীক্ষায় তিনি মাদকসেবী হিসেবে প্রমাণিত হন। অভিযোগ রয়েছে, অসহায় মানুষের কাছ থেকে চাঁদাবাজির মাধ্যমে আদায় করা টাকা দিয়ে তিনি মাদক সেবন করতেন। পুলিশ জানায়, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হলে আদালতের নির্দেশ অনুসারে কারাগারে পাঠানো হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য হলো, যদি কেউ পুলিশের পরিচয় দিয়ে অবৈধভাবে টাকা দাবি করে তাহলে পরিচয় নিশ্চিত করে দ্রুত পুলিশকে জানানো উচিত।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার হোমনায় দেওয়াল ধসে আহত রামকৃষ্ণপুর কামাল স্মৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির তিন শিক্ষার্থীর বাড়ি পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. শহিদুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার, ২২ জুলাই২০১৬, তিনি আহত শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান, তানিশা ও ইশানার শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার জন্য দশ হাজার টাকা করে মোট ত্রিশ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
পরিদর্শন শেষে ইউএনও মো. শহিদুল ইসলাম জানান, শিশুরা জাতির ভবিষ্যৎ। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নিয়ে সহযোগিতা করেছি। তিনি বলেন, তবে তাদের দ্রুত সুস্থতা ও ক্লাসে ফেরার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তাদের প্রতি প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুদৃষ্টি থাকবে। উল্লেখ্য, গত ২০ জুলাই তারিখে স্বুল ছুটির পর রাস্তা দিয়ে বাড়ি যাওয়ার সময় একটি পুরোনো বাড়ির সীমানা দেওয়াল ধসে এই তিন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছিল।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
অর্থ আত্মসাতের মামলায় ৩ বছরের সাজা এড়াতে মুর্শেদ খাদেম (৪০) নামের একজন ব্যক্তি ১২ বছর ধরে পালিয়ে থাকার পর অবশেষে গত বুধবার রাতে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন। মামলার বাদী হলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা হরলাল দেবনাথ। মুর্শেদ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহজাদাপুর গ্রামের কোনাপাড়ার প্রয়াত ফরিদ মিয়ার ছেলে।
সরাইল থানার এ.এস.আই আমান উল্লাহর নেতৃত্বে পুলিশ একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেন। পুলিশ, মামলা ও বাদী সূত্রে জানা যায়, ইট দেওয়ার শর্তে হরলাল দেবনাথের কাছ থেকে ষ্ট্যাম্পে লিখিত দিয়ে ২০১২ সালে সাড়ে ৩ লাখ টাকা গ্রহণ করেন মুর্শেদ খাদেম। টাকা গ্রহণের পরপরই মুর্শেদ তার রূপ বদলে ফেলেন। ইট না দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তিনি হরলালকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নানা তালবাহানা করতে থাকেন। এক পর্যায়ে মুর্শেদ লাপাত্তা হয়ে যান। মুর্শেদের অবস্থান জানতেও হরলালকে বিভিন্ন জায়গায় ধরণা দিতে হয়েছিল। বাধ্য হয়ে ২০১৩ সালে হরলাল দেবনাথ মুর্শেদের স্বাক্ষর করা ষ্ট্যাম্প ব্যবহার করে তার বিরূদ্ধে অর্থ আত্মসাতের মামলা করেন।
এই মামলায় ২০১৪ সালে বিজ্ঞ আদালত মুর্শেদ খাদিমকে ৩ বছরের সাজা প্রদান করেন। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও সাজা এড়াতে মুর্শেদ পালিয়ে থাকতে থাকেন। ৩ বছরের সাজা থেকে আত্মরক্ষা করতে দীর্ঘ ১২ বছর পালিয়ে ছিলেন তিনি। অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত বুধবার রাত প্রায় ১০টা নাগাদ সরাইল থানার এ.এস.আই আমান উল্লাহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে শাহজাদাপুর গ্রামে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে তারা সাজাপ্রাপ্ত আসামী মুর্শেদকে গ্রেপ্তার করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি মন্তব্য করেন যে, উল্লেখযোগ্য কোন কর্ম না করলেও মুর্শেদ খুব দাপুটে চলেন। তার কাছে অনেক লোকজন টাকা পাবেন এবং পাওনাদাররা তার খুঁজতে গ্রামে আসেন। তার শ্বশুড়বাড়ি দেওড়ায় গিয়েও মুর্শেদকে খুঁজেন। এ.এস.আই আমান উল্লাহ মুর্শেদকে গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "একটি মামলায় ১২ বছর আগে তিনি সাজাপ্রাপ্ত হয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।" উনার নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে তাকে খুঁজছিলেন এবং বুধবার রাতে কৌশলে মুর্শেদকে গ্রেপ্তার করে গতকাল আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ