০৪:৪৪ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার (৫ অক্টোবর) একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সড়কে করমুক্ত লাল রঙের ডিজেল (রেড-ডাইড ডিজেল) ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। সাধারণত কৃষি যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য অফ-রোড যানবাহনে ব্যবহারের জন্য এই ডিজেল নির্ধারিত থাকে। খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
জ্বালানির দাম যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইরান যুদ্ধের কারণে পাম্পে জ্বালানির দাম বাড়ার বিষয়টি ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে।
নেব্রাস্কায় এক সমাবেশে ট্রাম্প সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন, এই নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে অফ-রোড বা সড়কের বাইরে ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে নেওয়া হবে। ফলে যে কেউ যেকোনো প্রয়োজনে করমুক্ত লাল রঙের ডিজেল কিনতে পারবেন।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
লাল রঙের ডিজেল সম্পর্কে নিজের অপরিচিতির কথা স্বীকার করে ট্রাম্প রসিকতা করে বলেন, “আমি জানি না এটা আসলে কী, তবে যাই হোক, বলা হচ্ছে এটা খুব ভালো।”
লাল রঙের ডিজেল সাধারণ ডিজেলের মতোই, তবে এতে যুক্তরাষ্ট্রের মহাসড়ক বা হাইওয়ে জ্বালানি কর প্রযোজ্য হয় না। ডিজেলটিকে সহজে শনাক্ত করার জন্য এতে লাল রং মেশানো থাকে।
তবে ট্রাম্পের সমাবেশে যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত তথ্যপত্রে বিষয়টি কিছুটা সীমিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
তথ্যপত্র অনুযায়ী, সড়কে লাল ডিজেল ব্যবহার করলে যে কর দিতে হয়, তা বছরের শেষ পর্যন্ত স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ক্ষেত্রে কোনো সুদ বা জরিমানা নেওয়া হবে না। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এই কর পুরোপুরি বাতিল করার উপায় খুঁজতে অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে পরামর্শ করতে বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আতঙ্ক, তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা
হোয়াইট হাউস আরও জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ ও অঙ্গরাজ্যের গভর্নররা নিজেদের বিবেচনামতো লাল ডিজেল ব্যবহারের ক্ষেত্রে পরিদর্শন বন্ধ করতে এবং চালকদের ওপর আরোপযোগ্য কর মওকুফ করতে পারবেন।
তবে হোয়াইট হাউসের তথ্যপত্রে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে ইরানের কথা উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বিশ্বজুড়ে পরিশোধনাগারের সক্ষমতার ঘাটতিকে জ্বালানির দাম বাড়ার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া পরিবেশবান্ধব বা ‘গ্রিন এনার্জি’ নীতির নামে ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত অঙ্গরাজ্যগুলো পরিশোধনাগার বন্ধ করে দিয়েছে বলেও হোয়াইট হাউস অভিযোগ করেছে।
নেব্রাস্কার সমাবেশে ট্রাম্প চলতি মাসে ইউরোপের সঙ্গে হওয়া একটি চুক্তিরও প্রশংসা করেন। ওই চুক্তির আওতায় আগামী চার মাসে কৌশলগত মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল পরিশোধিত ডিজেল বাজারে ছাড়ার কথা রয়েছে।
আরও পড়ুন: বিলবোর্ডের ছবিকে রাস্তা ভেবে সজোরে ট্রাক চালালেন চালক, অতঃপর প্রাণ হারালেন
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করার সম্ভাবনার কথাও বলেছিলেন ট্রাম্প। ডিজেল ট্রাক, কৃষি যন্ত্রপাতি ও নির্মাণকাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম প্রতি গ্যালন ৬ ডলারের বেশি উঠে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর দেশটির পক্ষ থেকে রপ্তানি সীমিত করায় বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির সরবরাহ ও দামের ওপর আরও চাপ তৈরি হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন