০৬:১০ পি.এম
নরসিংদীতে ঘটেছে এক শিশুর পা মুচড়ে নির্যাতনের ঘটনা, যার শিকার তিন মাস বয়সী একটি শিশু। এতে অভিযুক্ত চাচিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের অভিযানে মূল অভিযুক্তের স্বামী ও বাবা গ্রেফতার হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) মামলার বিষয়টি ও গ্রেফতারের খবর নিশ্চিত করেছেন মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন। এর আগে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দিবাগত রাতে নরসিংদী প্রবেশন অফিসার কার্যালয়ের কর্মকর্তা রিজা আক্তার বাদী হয়ে মাধবদী থানায় মামলাটি দায়ের করেছিলেন।
গত সোমবার (১৩ জুলাই) থেকে একটি শিশুর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, একজন নারী ঘুমন্ত শিশুর পা মুচড়িয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন। পরে শিশুটি কাঁদতে শুরু করে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় এবং দাবি করা হয় শিশুটির পা ভেঙে ফেলা হয়েছে। ঘটনা খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাধবদী থানার আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকারদী গ্রামের একটি ঘটনা এটি। ভুক্তভোগী শিশুটি সায়েবা বেগম ও কাউসার মিয়ার সন্তান।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
মামলার বিবরণে জানা যায়, শিশুটি জন্মের পর থেকেই অসুস্থ ছিল এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। বাড়িতেও প্রায়ই কান্না করতো। কান্নার কারণে শিশুর মায়ের সন্দেহ হলে তিনি ভিডিও ধারণের পরিকল্পনা করেন। গত শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে তিনি ঘরের ভেতরে মোবাইল ফোন দিয়ে গোপনে ভিডিও করতে থাকেন।
ভিডিওর মধ্যে দেখা যায়, শিশুর চাচি লতা বেগম ঘরে এসে ঘুমন্ত শিশুর একটি পা জোরে মুচড়িয়ে চলে যান। পরে শিশুর মা কান্না শুনে ছুটে আসেন এবং দেখতে পান তার সন্তান অস্বাভাবিকভাবে কাঁদছে। জানা যায়, পারিবারিক কলহের কারণে এই নির্যাতন করা হয়েছে।
শিশু নির্যাতনের মামলায় অভিযুক্তরা হলেন শিশুর চাচি লতা বেগম (৩২), তার স্বামী কাউসার আহমেদ (৩৩) এবং তার বাবা আলমাছ মিয়া (৬০)।
এ প্রসঙ্গে মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার ব্যাপারে স্পষ্ট ধারণা পাওয়ার পর আমি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়েছি এবং ওই শিশুর মা ও বাবার সঙ্গে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছেন, শিশুটির পা ভাঙেনি। তবে পারিবারিক কলহের কারণে শিশুটিকে নির্যাতন করা হতো।’
আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় প্রশাসনের তৎপরতা: বিভাগীয় কমিশনার
ওসি আরো জানান, মূল অভিযুক্ত লতা বেগম বর্তমানে পলাতক, কিন্তু তার স্বামী কাউসার আহমেদ এবং লতার বাবা আলমাছ মিযাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শিশুটির বাবা কাউসার মিয়া বলেন, ‘পারিবারিক কলহের কারণে আমার বড় ভাইয়ের স্ত্রী লতা বেগম গোপনে আমার সন্তানকে নির্যাতন করতেন। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্যই আমার স্ত্রী গোপনে ভিডিও ধারণ করেন। তবে আমার সন্তানের পা ভাঙেনি। বিষয়টি নিয়ে আমরা পারিবারিকভাবে বসে সমাধান করেছি।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন