বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৩৩ পি.এম
গুগল জিমেইলে ভেরিফিকেশন কোড বা ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) দ্রুত কপি করার একটি নতুন সুবিধা চালু করছে। নতুন ‘কপি কোড’ সুবিধার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা ই-মেইল খুলতে না করেই ইনবক্স থেকে সরাসরি যাচাই কোড কপি করতে পারবেন।
প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট নাইন টু ফাইভ গুগলের রিপোর্ট অনুযায়ী, জিমেইলের অ্যান্ড্রয়েড ২০২৬.০৯.০৭.এক্স এবং আইওএস ৬.০.২৬০৯০৭ সংস্করণে ইতিমধ্যে নতুন এই সুবিধাটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এই সুবিধাটি ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে।
নতুন সুবিধাটি চালু হলে, যখনই জিমেইলের ইনবক্সে ভেরিফিকেশন কোড-সংবলিত কোনো ই-মেইল আসবে, তখন প্রিভিউ অপশনের পাশে ‘কপি কোড’ নামে একটি নতুন বাটন দেখা যাবে। ব্যবহারকারী যখন এই বাটনে ট্যাপ করবেন, তখন ভেরিফিকেশন কোডটি ফোনের ক্লিপবোর্ডে কপি হয়ে যাবে। এরপর নির্দিষ্ট অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে সহজেই কোডটি পেস্ট করা সম্ভব হবে।
বর্তমানে, যখন ই-মেইলে ওটিপি আসে, তখন ব্যবহারকারীদের প্রথমে সংশ্লিষ্ট ই-মেইল খুলে কোডটি দেখতে হয়। এরপর সেটি কপি করে অন্য অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে পেস্ট করতে হয়। নতুন সুবিধার ফলে এই অতিরিক্ত ধাপগুলো কমবে এবং বিভিন্ন অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে সাইন-ইন করার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হবে।
অ্যান্ড্রয়েডের গুগল মেসেজেসে আগে থেকেই একই ধরনের সুবিধা বিদ্যমান। এসএমএসে ভেরিফিকেশন কোড এলে নোটিফিকেশন থেকেই তা কপি করা যায়। এবার জিমেইলে আসা ভেরিফিকেশন কোডের ক্ষেত্রেও একই ধরনের দ্রুত কপি করার সুবিধা যুক্ত হচ্ছে।
সূত্র: গ্যাজেটস ৩৬০
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের কানসাস সিটিতে এক মাস বয়সী মেয়েশিশুর মৃত্যুর ঘটনায় দোষ স্বীকার করেছেন ২৮ বছর বয়সী মারাইয়া থমাস। আদালতে করা সমঝোতার মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে থাকা প্রথম-ডিগ্রির হত্যা মামলা বাদ দেওয়া হয়েছে। শিশুর কল্যাণ বিপন্ন করার অভিযোগে তাকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ইতোমধ্যে কারাগারে কাটানো সময় এই সাজা থেকে বাদ যাবে। ফলে থমাসকে আরও প্রায় ১১ বছর কারাগারে থাকতে হবে।
ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি কানসাস সিটির একটি বাড়িতে। সেদিন পুলিশকে জানানো হয়, একটি শিশু শ্বাস নিচ্ছে না। পুলিশ ও জরুরি বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে এক মাস বয়সী জা'রিয়াহ মে নামের শিশুটিকে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। পরে ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
আদালতের নথি অনুযায়ী, শিশুটিকে ঘুম পাড়ানোর সময় ভুল করে খাটের বদলে ওভেনে রেখে দিয়েছিলেন বলে তদন্তকারীদের জানিয়েছিলেন থমাস। তার এই বক্তব্য পরে মামলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। তবে কীভাবে এমন ভুল হয়েছিল, সে বিষয়ে প্রকাশ্য আদালতের নথিতে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
ঘটনার সময় শিশুটির শরীরে গুরুতর পোড়ার চিহ্ন ছিল। তদন্ত নথিতে তার পোশাক ও ডায়াপার শরীরের সঙ্গে লেগে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়। পুলিশ ও জরুরি বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলের পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।
পুলিশের কাছে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর এক স্বজনকে দ্রুত বাড়িতে ফিরে আসতে বলা হয়। শিশুটির সঙ্গে কিছু একটা ঘটেছে বলে তাকে জানানো হয়েছিল। বাড়িতে পৌঁছে তিনি ধোঁয়ার গন্ধ পান এবং শিশুটিকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান বলে তদন্ত নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
ঘটনার পর থমাসের বিরুদ্ধে প্রথমে শিশুর কল্যাণ বিপন্ন করে মৃত্যুর অভিযোগ আনা হয়। পরে মামলায় আরও গুরুতর অভিযোগ যুক্ত করা হয়। ২০২৪ সালের শেষ দিকে তার বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগও আনা হয়েছিল এবং বিচার শুরুর প্রস্তুতি চলছিল।
তবে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) আদালতে করা সমঝোতার মাধ্যমে মামলার মোড় ঘুরে যায়। থমাস প্রথম-ডিগ্রির শিশু কল্যাণ বিপন্ন করার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। এর বিনিময়ে তার বিরুদ্ধে থাকা প্রথম-ডিগ্রির হত্যা অভিযোগ বাদ দেওয়া হয়।
আদালত তাকে মিসৌরি সংশোধনাগার বিভাগের অধীনে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তাকে প্রবেশনের সুযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কানসাস সিটির স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেএসএইচবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, থমাস ইতোমধ্যে কারাগারে যে সময় কাটিয়েছেন, তা তার সাজা থেকে সমন্বয় করা হবে। সে হিসাবে তাকে কার্যত আরও প্রায় ১১ বছর কারাভোগ করতে হবে।
ঘটনার পর জ্যাকসন কাউন্টির প্রসিকিউটর জ্যঁ পিটার্স বেকার শিশুটির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এই ঘটনায় একটি মূল্যবান প্রাণ হারানোর বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং বিচারব্যবস্থা যথাযথভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করবে বলে তারা বিশ্বাস করেন।
২০২৪ সালে মামলাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকে ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। দোষ স্বীকারের মাধ্যমে এখন মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। হত্যা মামলার পরিবর্তে শিশু কল্যাণ বিপন্ন করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন মারাইয়া থমাস এবং তাকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: কেএসএইচবি, জ্যাকসন কাউন্টি প্রসিকিউটর কার্যালয়
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্য নিউইয়র্কে সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম দিনেই ১০টি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন। তার উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানিয়েছেন, এসব কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী জনগণের স্বার্থ এবং বিশ্বমঞ্চে দেশের মর্যাদা বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টায় জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
মাহদী আমিন সফরের প্রথম দিনের কর্মসূচি পর্যালোচনা করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে, বাংলাদেশের স্বার্থকে কীভাবে প্রাধান্য দেওয়া যায় এবং জনগণের স্বার্থকে সবার আগে রাখা যায়। এছাড়া, একজন নির্বাচিত সরকারপ্রধান হিসেবে বাংলাদেশের মর্যাদাকে কীভাবে আরও উপরে নিয়ে যাওয়া যায়, সেটিও নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দিনের কর্মসূচিগুলো বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত ছিল, যার মধ্যে ব্যক্তিগত, বহুপক্ষীয়, আঞ্চলিক, দ্বিপক্ষীয়, রোহিঙ্গা সংকট এবং উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা অন্তর্ভুক্ত ছিল। দিনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী এবং তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আয়োজিত বিশ্বনেতা ও তাদের সহধর্মিণীদের সম্মানে প্রাতঃরাশ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেন।
মাহদী আমিন জানান, প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রী ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে এবং মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট উজ হুসেইন মোহাম্মদ লতিফের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ, পর্যটন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গেও বৈঠক করেন। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং বহুপক্ষীয় বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রীকে তুরস্ক সফরের আমন্ত্রণও জানিয়েছেন বলে তিনি জানান।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাইডলাইন বৈঠক করেছেন হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ে ফিস-আইমে। বৈঠকে হাইতির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সেখানে বাংলাদেশের জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দিনের আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকটও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপ এবং জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহের সঙ্গে বৈঠক করেন। আলোচনায় বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
তিনি জানান, আগামী বুধবার জাতিসংঘে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে প্রধানমন্ত্রী অংশ নেবেন। বাংলাদেশ ও গাম্বিয়া যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে।
প্রধানমন্ত্রী বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। উপদেষ্টা জানান, বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, বাণিজ্য, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার সংস্কার ও অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ সরকারের বিভিন্ন নীতি ও অগ্রাধিকার নিয়ে বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
মাহদী আমিন জানান, নির্ধারিত কর্মসূচির মধ্যে ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক এবং মেটার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি বৈঠক করা সম্ভব হয়নি। তবে মেটার সঙ্গে বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বৈঠক করেছে এবং বাংলাদেশে মেটার বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দিনের কর্মসূচির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়োজিত বিশ্বনেতা ও তাদের সহধর্মিণীদের সম্মানে অভ্যর্থনায় অংশগ্রহণও ছিল। প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরের কর্মসূচিতে এ অভ্যর্থনার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে তার প্রথম ভাষণ দেবেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইমরান নাজির রাজশাহী ছাড়া করার হুমকি দিয়েছেন ছাত্রদলের প্রত্যেক নেতা–কর্মীকে ‘কুত্তার মতো পিটিয়ে’। এই হুমকি তিনি রাজশাহীর পদ্মা সরকারি কলেজে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের পর আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে দেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ইসলামী ছাত্রশিবির রাজশাহী মহানগর শাখার উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি নগরের সাহেব বাজার থেকে শুরু হয়ে সোনাদিঘীর মোড় এলাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।
সভাপতির বক্তব্যে ইমরান নাজির উল্লেখ করেন, "আমরা ছাত্রদলের বন্ধুদের বলছি, আমরা ধৈর্যের সীমান্তের একেবারে শেষ পর্যায়ে আছি। যদি আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায়, প্রত্যেকটা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের কুত্তার (কুকুর) মতো পিটিয়ে রাজশাহী ছাড়া করব।"
তিনি আরও বলেন, ছাত্রশিবিরের কোনো নেতা–কর্মী আহত হলে ছাত্রদলের ‘টোকাই মার্কা’ কোনো নেতার ‘পিঠের চামড়া’ রাখা হবে না। ইমরান নাজির হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "ছাত্রশিবির কোনো ভেসে আসা সংগঠন না, ছাত্রশিবির রাজপথে জীবন দেওয়া সংগঠন। শহীদ আলীরা প্রমাণ করেছে, রাজপথে কীভাবে জীবন দিতে হয়। আমরা জীবন দেব, কিন্তু আমার ছাত্রসমাজের বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কোনো নেতা-কর্মীর ওপর যদি কোনো হামলা হয়, তার দাঁতভাঙা জবাব আমি দেব, ইনশা আল্লাহ।"
রাজশাহী মহানগর ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ইমরান নাজির। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মহানগর শাখার সাবেক সভাপতি এ কে এম সারওয়ার জাহান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি ও সাবেক কেন্দ্রীয় এইচআরডি সম্পাদক আবদুর রহিম, রাজশাহী মহানগর শাখার সাবেক সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং খায়রুল ইসলাম।
মঙ্গলবার সকালে পদ্মা সরকারি কলেজে ব্যানার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা–কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এই ঘটনায় ছাত্রশিবিরের তিনজন ও ছাত্রদলের দুজনসহ মোট পাঁচজন আহত হন। আহতদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কলেজে ভর্তি কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে একটি হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হয়। সেখানে ব্যানার টাঙানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়, পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এদিকে, রাজশাহী মহানগর ছাত্রশিবির সভাপতির বক্তব্যের জবাবে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ছাত্রদলের রাজশাহী মহানগরের সদস্যসচিব এমদাদুল হক (লিমন)।
ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভের পর রাতে ছাত্রদল নেতা এমদাদুল হক শহীদ মিনার এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। ছাত্রদলকে ‘কুকুরের মতো পিটিয়ে’ রাজশাহী থেকে বের করে দেওয়ার কথা বলা ছাত্রশিবিরের সভাপতির মুখে শোভা পায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, "ইমরান নাজিরকে হুঁশিয়ারি করে বলে দিতে চাই, ইমরান নাজির সাহেব, আপনার বাসা কুমিল্লা। আপনি হয়েছেন পিআর পদ্ধতিতে নেতা। রাজশাহীতে আমাদের নাড়ি পোঁতা, এই রাজশাহীতেই হচ্ছে আমাদের জন্ম, পৈতৃক ভিটার ওপর বসবাস করি। যখন লাগবেন, তখন টের পাবেন।"
তিনি আরও বলেন, "যদি ছাত্রদল রাজপথে নামে, ছাত্রশিবির কেন, ওই রাজাকারের সংগঠন রাজশাহীতে পা ফেলারও জায়গা পাবে না।"
পদ্মা সরকারি কলেজের ঘটনা নিয়ে এমদাদুল হক অভিযোগ করেন, ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বহিরাগতরা যোগ দিয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করেছে। ছাত্রদল হামলার ‘অল্প পরিমাণ প্রতিরোধ’ করেছে।
ইমরান নাজিরের উদ্দেশে এমদাদুল হক বলেন, "ছাত্রদল যখন প্রতিরোধ গড়ে তুলবে, ইমরান নাজির, আপনি কুমিল্লার বাসও পাবেন না—তা আপনাকে বলে দিতে চাই।"
রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র মো. গাজিউর রহমান জানান, সকালে একটি ঘটনা ঘটেছিল। পরে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ টহল বাড়িয়েছেন তারা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধির কারণে হঠাৎ করে বেড়ে গেছে রড ও সিমেন্টের দাম। মঙ্গলবার থেকে প্রতি টন রডের দাম গড়ে ১ হাজার টাকা এবং প্রতি বস্তা সিমেন্টের দাম ২৫ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নির্মাণসামগ্রীর বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, নির্মাণকাজ কমে যাওয়ার কারণে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বাজারে চাহিদা আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে, ২০২১ সালের পর থেকে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির অজুহাতে রডের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকে। ২০২৩ সালের মার্চে প্রতি টন রডের দাম লাখ টাকা ছাড়িয়ে যায়। একই সময়ে সিমেন্টের দামও বৃদ্ধি পায়।
তবে ২০২৪ সালের পর রড ও সিমেন্টের দাম তুলনামূলকভাবে কমে আসে। এর ফলে নির্মাণকাজ ও চাহিদাও কমে যায়। ব্যবসায়ীদের দাবি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে অনেকেই নতুন বাড়ি বা স্থাপনা নির্মাণে আগ্রহ হারিয়েছেন। ফলে ফরিদপুরে গত প্রায় এক বছর ধরে রড ও সিমেন্টের কেনাবেচা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
তথ্য অনুসারে, ২০২৩ সালে প্রতি টন ১ লাখ টাকায় বিক্রি হওয়া রড ২০২৪ সালের শেষ দিকে নেমে আসে প্রায় ৮৫ হাজার টাকায়। মাঝে দাম ৯০ হাজার টাকার কাছাকাছিও ছিল। সোমবার পর্যন্ত বাজারে কেএসআরএম প্রতি টন ৮৯ হাজার টাকা, বিএসআরএম ৯০ হাজার ৫০০ টাকা, একেএস ৯০ হাজার ৫০০ টাকা, সিএসআরএম ৮৪ হাজার ৫০০ টাকা এবং জেডএসআরএম ৮৩ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুই বছরের ব্যবধানে রডের দাম প্রতি টনে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা কমেছে। একই সময়ে সিমেন্টের দামও বস্তাপ্রতি প্রায় ৩০ টাকা কমেছিল। তবে মঙ্গলবার থেকে নতুন করে রড ও সিমেন্টের দাম বাড়তে শুরু করেছে। বর্তমানে প্রতি টন রডে গড়ে ১ হাজার টাকা এবং প্রতি বস্তা সিমেন্টে ২৫ টাকা বেড়েছে। ৪৮০ থেকে ৫২০ টাকার মধ্যে বিক্রি হওয়া সিমেন্ট এখন কিছু ক্ষেত্রে ৫৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
ফরিদপুরের সালথা উপজেলা সদরের রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, আগে রডের দাম ৯২ হাজার টাকা ছিল। বর্তমানে দাম কমে প্রতি টন ৮৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক বছর আগে বিভিন্ন কোম্পানির সিমেন্টের দাম ছিল ৪৯০ টাকা, বর্তমানে তা ৫৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ী নাজিম জানিয়েছেন, বর্তমানে কেনাবেচা কম। ব্যবসায় অফসিজন চলছে। ফলে রড ও সিমেন্টের চাহিদা তুলনামূলকভাবে অনেক কমে গেছে। শীতের সময় নতুন ইট বাজারে উঠলে চাহিদা বাড়তে পারে।
এদিকে ঠিকাদারদেরও একই ধরনের সংকটের কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। রনি নামে এক ঠিকাদার জানিয়েছেন, বর্তমানে তার প্রায় ২০ কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। কিন্তু সরকারি উন্নয়নমূলক কাজ আপাতত খুবই কম। ফলে ঠিকাদারদের রড ও সিমেন্টের প্রয়োজনও কমে গেছে। পাশাপাশি দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও মানুষের হাতে নগদ অর্থের সংকটের কারণে ইট, বালু, রড ও সিমেন্টসহ নির্মাণসামগ্রীর চাহিদা কমেছে।
তবে ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, আগামীতে দাম আরও বাড়তে পারে। তাদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়ে পড়ছে, যা রড ও সিমেন্টের বাজারেও প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে ডিসেম্বরের দিকে নির্মাণকাজ বাড়লে এসব পণ্যের চাহিদাও বাড়তে পারে।
ফরিদপুর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের সঙ্গে অনেক পণ্যের দাম নির্ভরশীল। তেলের দাম বাড়লে উৎপাদন ও পরিবহন খরচও বৃদ্ধি পায়। তবে কোনো ব্যবসায়ী বাজারমূল্যের বাইরে অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন কি না কিংবা সিন্ডিকেট করছেন কি না, সে বিষয়ে অধিদপ্তর সজাগ রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ