ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নির্মাণসামগ্রীর বাজারে অস্থিরতা, হঠাৎ বেড়েছে রড-সিমেন্টের দাম


নির্মাণসামগ্রীর বাজারে অস্থিরতা, হঠাৎ বেড়েছে রড-সিমেন্টের দাম

উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধির কারণে হঠাৎ করে বেড়ে গেছে রড ও সিমেন্টের দাম। মঙ্গলবার থেকে প্রতি টন রডের দাম গড়ে ১ হাজার টাকা এবং প্রতি বস্তা সিমেন্টের দাম ২৫ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নির্মাণসামগ্রীর বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, নির্মাণকাজ কমে যাওয়ার কারণে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বাজারে চাহিদা আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে, ২০২১ সালের পর থেকে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির অজুহাতে রডের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকে। ২০২৩ সালের মার্চে প্রতি টন রডের দাম লাখ টাকা ছাড়িয়ে যায়। একই সময়ে সিমেন্টের দামও বৃদ্ধি পায়।

তবে ২০২৪ সালের পর রড ও সিমেন্টের দাম তুলনামূলকভাবে কমে আসে। এর ফলে নির্মাণকাজ ও চাহিদাও কমে যায়। ব্যবসায়ীদের দাবি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে অনেকেই নতুন বাড়ি বা স্থাপনা নির্মাণে আগ্রহ হারিয়েছেন। ফলে ফরিদপুরে গত প্রায় এক বছর ধরে রড ও সিমেন্টের কেনাবেচা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

আরও পড়ুন: সরকারি কর্মচারীদের ভাতা নির্ধারণে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি

তথ্য অনুসারে, ২০২৩ সালে প্রতি টন ১ লাখ টাকায় বিক্রি হওয়া রড ২০২৪ সালের শেষ দিকে নেমে আসে প্রায় ৮৫ হাজার টাকায়। মাঝে দাম ৯০ হাজার টাকার কাছাকাছিও ছিল। সোমবার পর্যন্ত বাজারে কেএসআরএম প্রতি টন ৮৯ হাজার টাকা, বিএসআরএম ৯০ হাজার ৫০০ টাকা, একেএস ৯০ হাজার ৫০০ টাকা, সিএসআরএম ৮৪ হাজার ৫০০ টাকা এবং জেডএসআরএম ৮৩ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুই বছরের ব্যবধানে রডের দাম প্রতি টনে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা কমেছে। একই সময়ে সিমেন্টের দামও বস্তাপ্রতি প্রায় ৩০ টাকা কমেছিল। তবে মঙ্গলবার থেকে নতুন করে রড ও সিমেন্টের দাম বাড়তে শুরু করেছে। বর্তমানে প্রতি টন রডে গড়ে ১ হাজার টাকা এবং প্রতি বস্তা সিমেন্টে ২৫ টাকা বেড়েছে। ৪৮০ থেকে ৫২০ টাকার মধ্যে বিক্রি হওয়া সিমেন্ট এখন কিছু ক্ষেত্রে ৫৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

ফরিদপুরের সালথা উপজেলা সদরের রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, আগে রডের দাম ৯২ হাজার টাকা ছিল। বর্তমানে দাম কমে প্রতি টন ৮৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক বছর আগে বিভিন্ন কোম্পানির সিমেন্টের দাম ছিল ৪৯০ টাকা, বর্তমানে তা ৫৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ী নাজিম জানিয়েছেন, বর্তমানে কেনাবেচা কম। ব্যবসায় অফসিজন চলছে। ফলে রড ও সিমেন্টের চাহিদা তুলনামূলকভাবে অনেক কমে গেছে। শীতের সময় নতুন ইট বাজারে উঠলে চাহিদা বাড়তে পারে।

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে সোনার দাম বেড়ে গেল, বিনিয়োগকারীদের নজর ফেডারেল রিজার্ভের সিদ্ধান্তে

এদিকে ঠিকাদারদেরও একই ধরনের সংকটের কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। রনি নামে এক ঠিকাদার জানিয়েছেন, বর্তমানে তার প্রায় ২০ কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। কিন্তু সরকারি উন্নয়নমূলক কাজ আপাতত খুবই কম। ফলে ঠিকাদারদের রড ও সিমেন্টের প্রয়োজনও কমে গেছে। পাশাপাশি দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও মানুষের হাতে নগদ অর্থের সংকটের কারণে ইট, বালু, রড ও সিমেন্টসহ নির্মাণসামগ্রীর চাহিদা কমেছে।

তবে ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, আগামীতে দাম আরও বাড়তে পারে। তাদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়ে পড়ছে, যা রড ও সিমেন্টের বাজারেও প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে ডিসেম্বরের দিকে নির্মাণকাজ বাড়লে এসব পণ্যের চাহিদাও বাড়তে পারে।

ফরিদপুর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের সঙ্গে অনেক পণ্যের দাম নির্ভরশীল। তেলের দাম বাড়লে উৎপাদন ও পরিবহন খরচও বৃদ্ধি পায়। তবে কোনো ব্যবসায়ী বাজারমূল্যের বাইরে অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন কি না কিংবা সিন্ডিকেট করছেন কি না, সে বিষয়ে অধিদপ্তর সজাগ রয়েছে।

আরও পড়ুন: কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামাজিক সুরক্ষা জোরদার সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রধান লক্ষ্য: ড. তিতুমীর

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন ও শিল্পের লাভজনকতায় কাজ করছে সরকার: মন্ত্রী মুক্তাদির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৩৫ পি.এম


চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন ও শিল্পের লাভজনকতায় কাজ করছে সরকার: মন্ত্রী মুক্তাদির

বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, সরকার চা শ্রমিকদের মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন নিশ্চিত করার পাশাপাশি চা বাগানগুলোকে লাভজনক ও টেকসই করতে কাজ করছে।

মন্ত্রী বলেন, "চা শ্রমিকদের মজুরি কত টাকা হবে, শুধু সেটিই মূল বিষয় নয়, একজন শ্রমিক যাতে স্বাভাবিক ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারেন, সে অনুযায়ী মজুরি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।"

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সিলেটের লাক্কাতুরা চা বাগান মাঠে সরকারের সিএসআর তহবিলের সহযোগিতায় চা শ্রমিকদের মধ্যে রেইনকোট বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা করার দাবির প্রেক্ষিতে বলেন, "চা শিল্পের প্রকৃতি অন্যান্য শিল্পের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন। দেশের অনেক চা বাগান দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে রয়েছে। কোনো কোনো বাগানে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়মিত পরিশোধ করাও সম্ভব হয়নি।" তিনি উল্লেখ করেন যে, এ অবস্থায় বাগানগুলোকে টেকসই ও লাভজনক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, "যেসব চা বাগানে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও সরবরাহ অবকাঠামোর সুযোগ রয়েছে, সেখানে চা গাছের ক্ষতি না করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে বাগানের আয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।" পাশাপাশি মসলা জাতীয় গাছ, টিম্বারসহ অন্যান্য উপযোগী সম্পদ ব্যবহারের বিষয়েও কাজ করা হচ্ছে।

চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, "প্রয়োজন অনুযায়ী চা বাগানগুলোতে প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থা করা হবে।" তিনি জানান, বাগানের রাস্তাঘাট উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে শ্রমিকদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, "শ্রমিক পরিবারের নতুন প্রজন্ম যাতে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক পেশায় যেতে পারে, সে সুযোগ তৈরি করা হবে।" তিনি উল্লেখ করেন, বাগানের আয় বৃদ্ধি, উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে চা শিল্পকে টেকসই করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ্ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসেইন, সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াতসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং চা বাগানের শ্রমিকরা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪৬৫ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৩৫ পি.এম


ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪৬৫ জন

রাজধানী ঢাকায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ৪৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এই তথ্য প্রকাশ করেন।

তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রমনা বিভাগ থেকে ৩৮ জন, লালবাগ বিভাগ থেকে ৩৮ জন, ওয়ারী বিভাগ থেকে ৬৪ জন, মতিঝিল বিভাগ থেকে ৮৩ জন, তেজগাঁও বিভাগ থেকে ৮০ জন, মিরপুর বিভাগ থেকে ৯০ জন, গুলশান বিভাগ থেকে ৩৩ জন, উত্তরা বিভাগ থেকে ৩৪ জন এবং গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) থেকে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানের সময় একটি দেশীয় ওয়ান শুটারগান, একটি শিশার কার্তুজ, দুটি ছুরি, ৫০ কেজি গাঁজা, ২৯৯টি ইয়াবা ও ২৩ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়েছে।

উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী আরও জানান, অভিযানের ফলে একটি পিকআপ, ১১টি মোবাইল ফোন, একটি স্টিলের রড, পাঁচটি কাঠের স্ট্যাম্প, দুটি বোতলের ছিপি, কিছু ফুয়েল পেপার এবং নগদ ৪ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে একজন ভিকটিমকেও উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে এসব আলামত ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পরকীয়ার জন্য দায়ী আপনি নিজেই: সম্পর্কের সীমারেখা ও আবেগগত অসন্তোষের প্রভাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৩৬ পি.এম


পরকীয়ার জন্য দায়ী আপনি নিজেই: সম্পর্কের সীমারেখা ও আবেগগত অসন্তোষের প্রভাব

বর্তমানে দাম্পত্য সম্পর্কের অন্যতম আলোচিত সমস্যা হলো পরকীয়া। অনেক সময় সুখী দাম্পত্যেও তৃতীয় ব্যক্তির উপস্থিতি সম্পর্কের মধ্যে সংকট সৃষ্টি করতে পারে। তবে পরকীয়া ঘটলে শুধুমাত্র একজনকে দায়ী করে বিষয়টির ব্যাখ্যা করা সবসময় সহজ নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দাম্পত্যে দূরত্ব, আবেগগত অপূর্ণতা, ব্যক্তিগত অসন্তুষ্টি, সুযোগ এবং ব্যক্তির নিজস্ব সিদ্ধান্ত সবকিছুই এ ধরনের ঘটনায় ভূমিকা রাখতে পারে।

পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমাতে তাই নিজের আচরণ, আবেগ ও সম্পর্কের সীমারেখা সম্পর্কে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি। সম্পর্কের বাইরে কারও প্রতি আকর্ষণ তৈরি হওয়া এবং সেই আকর্ষণকে সম্পর্কের দিকে নিয়ে যাওয়া দুটি ভিন্ন বিষয়। সিদ্ধান্তের জায়গাতেই সচেতন হওয়ার সুযোগ থাকে।

ছোট গোপনীয়তা থেকেই শুরু হতে পারে ঘনিষ্ঠতা। পরকীয়া অনেক সময় হঠাৎ করে তৈরি হয় না। পরিচিত কারও সঙ্গে নিয়মিত কথা বলা, ব্যক্তিগত বিষয় ভাগ করে নেওয়া কিংবা একসঙ্গে সময় কাটানোর মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হতে পারে। শুরুতে বিষয়টি স্বাভাবিক বন্ধুত্ব মনে হলেও একপর্যায়ে ওই ব্যক্তির সঙ্গে নিজের আবেগ, সমস্যা ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বেশি ভাগ করে নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে।

সমস্যা আরও বাড়ে যখন এ ধরনের যোগাযোগ সঙ্গীর কাছ থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করা শুরু হয়। ফোনের চ্যাট মুছে ফেলা, কলের তথ্য লুকানো কিংবা ‘জানলে অযথা সমস্যা হবে’ এমন চিন্তা করে সত্য গোপন করা সম্পর্কের সীমারেখা নিয়ে সতর্ক হওয়ার সংকেত হতে পারে।

দাম্পত্যের সমস্যা সমাধানে তৃতীয় ব্যক্তিকে বেছে নেওয়া উচিত নয়। দাম্পত্য জীবনে মনোমালিন্য, একাকিত্ব কিংবা মানসিক দূরত্ব তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। সঙ্গী সময় দিচ্ছেন না, কথা শুনছেন না বা নিজের অনুভূতি বুঝতে পারছেন না এমন অভিজ্ঞতা থেকেও বাইরের কারও প্রতি আকর্ষণ তৈরি হতে পারে।

তবে দাম্পত্যের সমস্যা সমাধানের বিকল্প হিসেবে তৃতীয় কোনো ব্যক্তিকে বেছে নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ ক্ষেত্রে সঙ্গীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলা, নিজের প্রয়োজন ও কষ্ট স্পষ্টভাবে জানানো এবং প্রয়োজন হলে দাম্পত্য কাউন্সেলরের সহায়তা নেওয়া তুলনামূলকভাবে কার্যকর পথ হতে পারে।

‘শুধু বন্ধুত্ব’ কখন সীমা ছাড়াচ্ছে?

কর্মক্ষেত্র, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা পুরোনো বন্ধুত্বের সূত্রে অন্য কারও সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে নিজের কাছে কিছু প্রশ্ন রাখা যেতে পারে।

এই ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি কি সঙ্গীর কাছ থেকে লুকানো হচ্ছে? তার মেসেজের জন্য কি অস্বাভাবিকভাবে অপেক্ষা করা হচ্ছে? সঙ্গীর চেয়ে ওই ব্যক্তির সঙ্গে কি নিজের সমস্যা বেশি ভাগ করে নেওয়া হচ্ছে? তার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ তৈরি করতে কি অজুহাত খোঁজা হচ্ছে?

এ ধরনের প্রশ্নের উত্তর বারবার ‘হ্যাঁ’ হলে সম্পর্কটির সীমারেখা নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে।

ব্যক্তিগত চ্যাট ও একান্ত সময়েও সতর্কতা জরুরি। ডিজিটাল যোগাযোগের সহজলভ্যতায় মানুষের মধ্যে দ্রুত ঘনিষ্ঠতা তৈরি হচ্ছে। মেসেজ, ভিডিও কল কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত কথাবার্তা থেকেও আবেগগত সম্পর্ক তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে গভীর রাতে ব্যক্তিগত চ্যাট, ইঙ্গিতপূর্ণ কথাবার্তা কিংবা এমন ছবি-ভিডিও আদান-প্রদান, যা নিজের সঙ্গীর সামনে স্বাভাবিকভাবে করা সম্ভব নয় এসব ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। ব্যক্তিগত যোগাযোগ সীমিত করা কিংবা এমন পরিস্থিতি এড়িয়ে চলা অনেক সময় সম্পর্কের সীমারেখা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।

একটি সহজ নীতি হতে পারে যে কাজটি সঙ্গীর সামনে করতে অস্বস্তি হবে, সেটি গোপনে করার আগে থেমে নিজেকে প্রশ্ন করা।

আকর্ষণ তৈরি হলেই সম্পর্কে জড়াতে হবে না। প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সম্পর্কে থাকা অবস্থায় অন্য কারও প্রতি সাময়িক আকর্ষণ তৈরি হতে পারে। তবে আকর্ষণ অনুভব করা এবং সেই আকর্ষণকে সম্পর্কের দিকে এগিয়ে নেওয়া এক বিষয় নয়।

কোনো ব্যক্তির প্রতি আকর্ষণ তৈরি হলে ইচ্ছাকৃতভাবে দূরত্ব বজায় রাখা, একান্তে দেখা করা এড়িয়ে চলা, ব্যক্তিগত যোগাযোগ কমিয়ে দেওয়া এবং নিজের দাম্পত্যের দিকে মনোযোগ দেওয়া যেতে পারে। অর্থাৎ অনুভূতিকে অস্বীকার করার চেয়ে নিজের আচরণ ও সিদ্ধান্তের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

দাম্পত্য সম্পর্কেও সময় দেওয়া প্রয়োজন

অনেক সময় সম্পর্কের মধ্যে সমস্যা তৈরি হলেও দুজনের কেউই সেটি নিয়ে কার্যকরভাবে কাজ করেন না। একসঙ্গে খাওয়া, কথা বলা, কোথাও ঘুরতে যাওয়া কিংবা দৈনন্দিন জীবনের ছোটখাটো অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার মতো বিষয়গুলো দাম্পত্যের ঘনিষ্ঠতা ধরে রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে সম্পর্কের মধ্যে নির্যাতন, জোরজবরদস্তি, ভয় কিংবা নিরাপত্তার ঝুঁকি থাকলে শুধু সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেষ্টা না করে নিজের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।

আগে থেকেই নির্ধারণ করুন নিজের সীমারেখা। পরকীয়া এড়াতে শুধু ‘আমি কখনো এতে জড়াব না’ এমন সিদ্ধান্ত যথেষ্ট নাও হতে পারে। বরং কার সঙ্গে কতটা ব্যক্তিগত হওয়া যাবে, কোন ধরনের যোগাযোগ এড়িয়ে চলতে হবে এবং দাম্পত্যে সমস্যা হলে কার সঙ্গে কীভাবে তা নিয়ে আলোচনা করা হবে এসব বিষয়ে নিজের সীমারেখা আগে থেকেই স্পষ্ট রাখা প্রয়োজন।

পরকীয়াকে শুধু একজনের ‘ভুল’ হিসেবে দেখলে দাম্পত্য সম্পর্কের জটিল বাস্তবতা অনেক সময় আড়ালে থেকে যায়। তবে নিজের সিদ্ধান্ত, গোপনীয়তা ও আচরণের দায়িত্ব প্রত্যেক ব্যক্তিরই রয়েছে। সম্পর্কের বাইরে কারও প্রতি আকর্ষণ তৈরি হলেই তাতে জড়িয়ে পড়তে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। সচেতনভাবে দূরত্ব বজায় রাখা, সঙ্গীর সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা এবং প্রয়োজন হলে পেশাদার সহায়তা নেওয়ার মাধ্যমে অনেক পরিস্থিতি সামলানো সম্ভব।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সন্তান দেখাশোনায় বছরে ৯ হাজার ডলার সহায়তা: কারা পাবেন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৩৭ পি.এম


সন্তান দেখাশোনায় বছরে ৯ হাজার ডলার সহায়তা: কারা পাবেন?

যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান দেখাশোনার জন্য অভিভাবকদের ঘরে থাকার সুযোগ সৃষ্টি করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বছরে সর্বোচ্চ ৯ হাজার ডলার পর্যন্ত সহায়তা দেওয়ার একটি প্রস্তাব বিবেচনা করছে। তবে, এই প্রস্তাব এখনও চূড়ান্ত হয়নি। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে কোন পরিবার কতটা উপকৃত হবে এবং কতজন কর্মজীবী অভিভাবক চাকরি ছেড়ে সন্তান দেখাশোনায় থাকবেন, তা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে বিভিন্ন মতামত রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন ব্যয়ের পর সন্তান দেখাশোনার খরচ অনেক পরিবারের জন্য অন্যতম বড় ব্যয়। বিশেষ করে, যখন স্বামী-স্ত্রী দুজনই চাকরি করেন, তখন শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র বা ব্যক্তিগত পরিচর্যাকারীর জন্য বড় অঙ্কের অর্থ খরচ হয়। তবে চাকরি ছেড়ে দেওয়া সব পরিবারের জন্য সহজ নয়। কারণ বেতনের পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিমা, অবসরকালীন সঞ্চয় ও অন্যান্য চাকরির সুবিধাও পরিবারের আয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

কী থাকছে প্রস্তাবে

প্রস্তাব অনুযায়ী, যোগ্য পরিবার প্রতি সন্তান বছরে প্রায় ৯ হাজার ডলার পর্যন্ত শিশু পরিচর্যার সহায়তা পেতে পারে। এতে বিবাহিত দম্পতির একজন নির্দিষ্ট সময় চাকরি করবেন এবং অন্যজন সন্তানের যত্ন নিতে ঘরে থাকবেন—এমন পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। পরিবারের আয়ও নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকতে হতে পারে।

তবে, কারা এই সহায়তা পাবেন, কীভাবে অর্থ দেওয়া হবে এবং এর চূড়ান্ত শর্ত কী হবে—এসব এখনো নির্ধারিত হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবটি বিদ্যমান শিশু পরিচর্যা সহায়তা তহবিলের আওতা পরিবর্তনের মাধ্যমে বাস্তবায়নের কথা ভাবা হচ্ছে।

চাকরি ছেড়ে ঘরে থাকলে কতটা লাভ

মার্কিন পরিবারের জন্য বছরে ৯ হাজার ডলার সহায়তা কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে পরিবারের আয়, সন্তানের সংখ্যা এবং শিশু পরিচর্যার খরচের ওপর। নিউজউইকের প্রতিবেদনে মার্কিন আদমশুমারি ব্যুরোর তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, পূর্ণকালীন কর্মরত মায়েদের মধ্যম বার্ষিক আয় প্রায় ৬৫ হাজার ডলার। কর দেওয়ার পর অঙ্গরাজ্য ও ব্যক্তিগত কর পরিস্থিতি অনুযায়ী সেই আয় কমে প্রায় ৫২ হাজার ডলারে দাঁড়াতে পারে।

অন্যদিকে, একটি শিশুর শিশু পরিচর্যার গড় বার্ষিক খরচ প্রায় ১৩ হাজার ডলার হলে, শুধুমাত্র এই খরচের সঙ্গে বেতনের তুলনা করে চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া সব পরিবারের জন্য লাভজনক নাও হতে পারে। কারণ চাকরি ছাড়লে বেতনের পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিমা ও অন্যান্য সুবিধাও হারাতে হতে পারে।

তবে একাধিক ছোট সন্তান থাকা পরিবারের ক্ষেত্রে হিসাব ভিন্ন হতে পারে। গেটিসবার্গ কলেজের অর্থনীতির সহযোগী অধ্যাপক ব্রেন্ডন কাশিং-ড্যানিয়েলস নিউজউইককে বলেন, "কয়েকটি ছোট সন্তান থাকা পরিবারের জন্য একজন অভিভাবকের চাকরি ছেড়ে ঘরে থাকার সিদ্ধান্ত আর্থিকভাবে আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।"

তিনি মিসিসিপির একটি পরিবারের উদাহরণ দেন। ধরা যাক, পরিবারের একজনের বার্ষিক আয় ৮৫ হাজার ডলার এবং অন্যজনের আয় ৫০ হাজার ডলার। তিন সন্তানের জন্য বছরে প্রায় ৩০ হাজার ডলার শিশু পরিচর্যা খরচ হলে, একজন অভিভাবক চাকরি ছেড়ে ঘরে থাকলে কর সাশ্রয়ের পাশাপাশি তিন সন্তানের জন্য মোট ২৭ হাজার ডলার সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

অন্য দেশেও আছে এমন ব্যবস্থা

শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রের পরিবর্তে বাড়িতে সন্তান দেখাশোনা করা অভিভাবকদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশে রয়েছে। ফিনল্যান্ডে তিন বছরের কম বয়সী সন্তানকে সরকারি দিবাযত্ন কেন্দ্রে না পাঠানো পরিবারকে মাসিক ভাতা দেওয়া হয়। মূল ভাতার পরিমাণ ৩৭৭ দশমিক ৬৮ ইউরো। অতিরিক্ত প্রতিটি সন্তানের জন্য আরও ১১৩ দশমিক ০৭ ইউরো দেওয়া হয়।

হাঙ্গেরিতেও নির্দিষ্ট শর্তে সন্তানকে বাড়িতে রাখার জন্য অভিভাবকেরা সহায়তা পেতে পারেন। দুই বছর বয়স পর্যন্ত সন্তানের ক্ষেত্রে একজন অভিভাবক তার বেতনের সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত পেতে পারেন। এরপর সন্তান তিন বছর বয়সে পৌঁছানোর পর্যন্ত মাসিক সর্বোচ্চ ২৮ হাজার ৫০০ হাঙ্গেরীয় মুদ্রা দেওয়া হতে পারে।

প্রস্তাব নিয়ে মতভেদ

ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাব নিয়ে রিপাবলিকানদের মধ্যেও একমত দেখা যায়নি। রক্ষণশীল ভাষ্যকার মাইকেল নোলস এটিকে ট্রাম্পের অন্যতম সেরা নীতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। রক্ষণশীল সংগঠন টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএর মুখপাত্র অ্যান্ড্রু কোলভেটও প্রস্তাবটির প্রশংসা করেছেন।

তবে সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিনের মতে, ৯ হাজার ডলার যথেষ্ট নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই অর্থ আরও বাড়ানোর পাশাপাশি যারা সন্তানদের বাড়িতে রেখে পড়াশোনা করান, তাদের বিভিন্ন কর থেকে ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার কথা বলেন।

অন্যদিকে, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে শিক্ষা বিভাগের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অ্যাঞ্জেলা মরাবিতো প্রস্তাবটির সমালোচনা করেছেন। তার মতে, কর্মজীবী মায়েদের কাছ থেকে কর নিয়ে অন্যদের ঘরে থাকার জীবনযাপনকে অর্থায়ন করা হলে তা কর্মজীবী নারীদের জন্য নেতিবাচক হতে পারে।

সরকারি তহবিল নিয়েও প্রশ্ন

প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে বিদ্যমান শিশু পরিচর্যা ও উন্নয়ন তহবিলের অর্থ নতুনভাবে বণ্টন করতে হতে পারে। এই তহবিলের মাধ্যমে অঙ্গরাজ্যগুলো নিম্নআয়ের পরিবারকে শিশু পরিচর্যার খরচে সহায়তা দেয়। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফাউন্ডেশন ফর রিসার্চ অন ইকুয়াল অপরচুনিটি বলেছে, বর্তমানে যারা এই তহবিলের সহায়তা পাচ্ছেন, তাদের জন্য বরাদ্দ কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, বর্তমানে শিশু পরিচর্যা সহায়তা পাওয়া প্রায় ৮ লাখ ৭০ হাজার পরিবারের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই একক কর্মজীবী অভিভাবকের পরিবার।

শুধু বেতন নয়, আরও বিষয় বিবেচনায়

একজন অভিভাবক চাকরি ছাড়বেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত শুধু শিশু পরিচর্যার খরচ ও বেতনের তুলনার ওপর নির্ভর করে না। চাকরি ছাড়লে দীর্ঘমেয়াদে অবসরকালীন সঞ্চয় বা ৪০১(কে) সুবিধা হারানোর সম্ভাবনাও থাকে। সন্তান স্কুলে যাওয়ার বয়সে পৌঁছানোর পর আবার কর্মক্ষেত্রে ফিরতেও অনেকের সমস্যা হতে পারে।

স্বাস্থ্যবিমাও পরিবারের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কোনো পরিবারের একজনের বেতন বেশি হলেও অন্যজনের চাকরিতে তুলনামূলক ভালো বা কম খরচের স্বাস্থ্যবিমা থাকতে পারে। ফলে কোন অভিভাবক চাকরি ছাড়বেন, তা নির্ধারণে পরিবারগুলোকে একাধিক আর্থিক ও সামাজিক বিষয় বিবেচনা করতে হবে।

২০২৬ সালের মে মাসে ট্রাম্প প্রশাসন পরিবার ও শিশু পরিচর্যা নিয়ে বেশ কয়েকটি উদ্যোগের কথা জানিয়েছিল। হোয়াইট হাউস তখন শিশু পরিচর্যার সুযোগ ও সামর্থ্য বাড়ানোর পাশাপাশি ঘরে থেকে সন্তান লালন-পালন করা অভিভাবকদের জন্য আরও সুযোগ তৈরির কথা জানায়।

তবে বছরে ৯ হাজার ডলার করে সহায়তার প্রস্তাবের চূড়ান্ত কাঠামো, অর্থের উৎস এবং কারা এর আওতায় পড়বেন, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত চূড়ান্ত হয়নি। ফলে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে কত পরিবার এতে উপকৃত হবে বা কতজন কর্মজীবী অভিভাবক চাকরি ছাড়বেন, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

সূত্র: নিউজউইক, হোয়াইট হাউস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%