শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৪৪ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পোর্ট শার্লটে ৩৮ বছর বয়সী এক নারীকে পোষা কুকুরের সঙ্গে যৌন আচরণের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগের শিকার মালিয়া এলিজাবেথ নুমারডরের বিরুদ্ধে প্রাণীর সঙ্গে যৌন সংস্পর্শের অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে।
শার্লট কাউন্টি শেরিফের দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধারণ করা একটি ভিডিওর ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয় এবং এর পরেই নুমারডরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে নুমারডর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এই মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে এবং আদালতে অভিযোগের সত্যতা এখনও প্রমাণিত হয়নি।
শেরিফের দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ সেপ্টেম্বর নুমারডরের স্বামী এরিক নুমারডর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেন যে, তিনি তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ভিডিও ও ছবিসহ কিছু প্রমাণ পেয়েছেন। এরপর বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে এবং তদন্তকারীরা এরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার বক্তব্য ও ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ করেন।
এরিক জানান, বাড়ির একটি কয়েন রাখার পাত্র থেকে টাকা হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টি খুঁজে বের করতে তিনি বাড়িতে দুটি নিরাপত্তা ক্যামেরা স্থাপন করেছিলেন। তিনি তদন্তকারীদের জানান যে, বাড়ির সদস্যরা ক্যামেরাগুলোর বিষয়ে অবগত ছিলেন।
পরে শোবার ঘরের ক্যামেরায় ধারণ করা পুরোনো ভিডিও দেখার সময় তিনি নুমারডর ও পরিবারের পোষা কুকুরকে নিয়ে সন্দেহজনক দৃশ্য দেখতে পান। এরপর তিনি পুলিশকে ভিডিওর কিছু ছবি দেন এবং ভিডিও সংরক্ষিত ল্যাপটপ ব্যবহারের সুযোগও দেন।
শার্লট কাউন্টি শেরিফের দপ্তর জানিয়েছে, তদন্তকারীরা ভিডিওটি পর্যালোচনা করেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভিডিওতে নুমারডরকে আংশিক পোশাকহীন অবস্থায় কুকুরটির সঙ্গে এমনভাবে দেখা যায়, যা তদন্তকারীদের কাছে যৌন আচরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হয়েছে। তবে এটি পুলিশের তদন্তভিত্তিক অভিযোগ এবং আদালতে এখনো এর সত্যতা নির্ধারিত হয়নি।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর তদন্তকারীরা নুমারডরকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তিনি ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি নিজেই এবং সেখানে থাকা কুকুরটি পরিবারের পোষা প্রাণী বলে স্বীকার করেন। তবে তিনি কোনো যৌন আচরণের অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তিনি কেবল কুকুরটিকে আদর করছিলেন।
তদন্তকারীদের দাবি, ভিডিওতে দেখা কর্মকাণ্ড সম্পর্কে নুমারডরের দেওয়া ব্যাখ্যা অসঙ্গত ছিল। একপর্যায়ে তিনি একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ করলে জিজ্ঞাসাবাদ শেষ করা হয়।
এরপর নুমারডরকে গ্রেপ্তার করে শার্লট কাউন্টি কারাগারে নেওয়া হয়। শেরিফের দপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে ‘প্রাণীর সঙ্গে যৌন কার্যকলাপ’ সংক্রান্ত দ্বিতীয় শ্রেণির গুরুতর অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় তার জামিনের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় ৩৫ হাজার ডলার।
শার্লট কাউন্টির শেরিফ বিল প্রামেল ঘটনাটিতে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, "কোনো প্রাণীকে এ ধরনের আচরণের শিকার করা উচিত নয়।" এ ধরনের ঘটনা সম্পর্কে তথ্য পেলে তার দপ্তর ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি।
গ্রেপ্তারের পর নুমারডরের কারাগারের ছবিতে তাকে হাসিমুখে দেখা যাওয়ার বিষয়েও শেরিফ মন্তব্য করেন।
তবে আইনগতভাবে নুমারডর এখনো দোষী সাব্যস্ত হননি। অভিযোগের বিচার প্রক্রিয়ায় প্রমাণ ও উভয় পক্ষের বক্তব্য বিবেচনা করা হবে। শার্লট কাউন্টি শেরিফের দপ্তর এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মামলাটি বর্তমানে অভিযোগ ও তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে।
সূত্র: শার্লট কাউন্টি শেরিফের দপ্তর, গালফ কোস্ট নিউজ, পিপল
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর যাতায়াত (ওভারফ্লাই) থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করেছে। বিগত অর্থবছরে (জুলাই থেকে জুন) বিমানবন্দরে মোট ওভারফ্লাই ফি বাবদ আয় হয়েছে ৮০৫ কোটি ১ লাখ ৬০ হাজার ৩৬৫ টাকা ২০ পয়সা।
এই তথ্য ‘রেভিনিউ আর্নড ওভারফ্লাই রিপোর্ট’ থেকে জানা গেছে, যা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, শাহজালালে স্থাপিত নতুন এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ার (এটিসি) আলো ছড়াচ্ছে। নতুন এটিসি টাওয়ারের মাধ্যমে আকাশ সুরক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি ফ্লাইং ওভার চার্জ আদায়ের গতিও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অত্যাধুনিক রাডার সিস্টেম স্থাপনের কাজ শেষ হবে। এরপর থেকেই মূলত অপারেশনে যাবে এটিসি টাওয়ার। তবে গত ২০ এপ্রিল সাবেক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
অর্থবছর অনুযায়ী আয়ের বিশ্লেষণ: প্রতিবেদনে বিগত এক বছরের রাজস্ব আয়কে দুই ভাগে ভাগ করে উপস্থাপন করা হয়েছে।
২০২৫ সালের জুলাই–ডিসেম্বর
বছরের প্রথম ছয় মাসে ওভারফ্লাই ফি বাবদ মোট আয় হয়েছে ৩৮৮ কোটি ১০ লাখ ১৫ হাজার ৪৫১ টাকা ২০ পয়সা। এর মধ্যে জুলাইয়ে আয় হয়েছে ৪৮ কোটি ১৮ লাখ ৫৪ হাজার ৬৮৫ টাকা ৩৩ পয়সা, আগস্টে ৪৪ কোটি ৭৫ লাখ ২৭ হাজার ৪৭৮ টাকা ৯৬ পয়সা, সেপ্টেম্বরে ৮৬ কোটি ৬৩ লাখ ৩৮ হাজার ৫১৭ টাকা ৬০ পয়সা, অক্টোবরে ৭৩ কোটি ৬৪ লাখ ৭৩ হাজার ৩৮৮ টাকা ৫৯ পয়সা, নভেম্বরে ৬২ কোটি ১১ লাখ ৩২ হাজার ৯৪৫ টাকা ১৪ পয়সা, ডিসেম্বরে ৭২ কোটি ৭৬ লাখ ৮৮ হাজার ৪৩৫ টাকা ৫৮ পয়সা।
২০২৬ সালের জানুয়ারি–জুন
পরবর্তীতে চলতি বছরের ছয় মাসে আয়ের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৪১৬ কোটি ৯১ লাখ ৪৪ হাজার ৯১৪ টাকায়। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ৮০ কোটি ১৬ লাখ ৫৬ হাজার ২৬৬ টাকা, ফেব্রুয়ারিতে ৬৯ কোটি ৫৮ লাখ ২৬ হাজার ২২৬ টাকা, মার্চে ৬২ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ১০৮ টাকা, এপ্রিলে ৬৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৭ হাজার ৪৭৬ টাকা, মে তে ৭০ কোটি ৪৭ লাখ ৫২ হাজার ২৫০ টাকা এবং জুনে ৬৬ কোটি ৯৮ লাখ ৬২ হাজার ৩১৮ টাকা।
এভিয়েশন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক আকাশপথে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। দেশের আকাশসীমা দিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইটের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ওভারফ্লাই ফি থেকে অর্জিত রাজস্ব দেশের অর্থনীতিতে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদ বলেন, ‘আমাদের নতুন এটিসি টাওয়ার চালুর পর থেকে আমাদের ফ্লাইং ওভার চার্জ আদায় বেড়েছে। এটি এই টাওয়ার স্থাপনের সফলতা।’
তিনি আরও বলেন, দেশের আকাশসীমা শতভাগ নজরদারী স্থাপিত হয়েছে। ফলে রাডার ফাঁকি দিয়ে কোনও ফ্লাইট দেশের আকাশে প্রবেশ করতে পারবে না। এটি আমাদের জন্য যুগান্তকারী একটি পদক্ষেপ।
বেবিচকের মুখপাত্র কাওছার মাহমুদ জানান, এটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন টাওয়ার, যা দ্বারা ফ্লাইট নিরাপদে ওঠানামার পাশাপাশি দেশের আকাশসীমা নজরদারির আওতায় এসেছে। দেশের আকাশসীমায় প্রবেশকারী কোনও ফ্লাইট নজরদারির বাইরে থাকবে না। পূর্বে যে রাডার ও নেভিগেশন ব্যবস্থাটি ছিল সেটি অনেক পুরোনো ছিল। ওই ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের পুরো আকাশসীমা নজরদারির আওতায় আসতো না, বিশেষ করে বঙ্গোপসাগরের অংশ। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাংলাদেশ।
তিনি আরও বলেন, নিয়ম অনুযায়ী, অন্য কোনও দেশের উড়োজাহাজ বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহার করলে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ফি নেওয়ার বিধান আছে। আকাশসীমা একবার ব্যবহারের জন্য ‘ফ্লাইং ওভার চার্জ’ নামের এই ফি বাংলাদেশ পেতো না। কিন্তু বর্তমানে এই ফি আমরা পাচ্ছি। পাশাপাশি আমাদের আকাশে শতভাগ নিজেদের কর্তৃত্ব স্থাপিত হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর ছুরিকাঘাতে হত্যা করে একটি খোলা মাঠে ফেলে দেয় একদল দুর্বৃত্ত। কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার হলেও, এর আগে কুকুর তার শরীরের কিছু অংশ খেয়ে ফেলে। এ ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের পর পুলিশ চারজন সন্দেহভাজনকে আটক করেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দিল্লির ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করার পর হত্যার পর মরদেহ একটি খোলা মাঠে ফেলে দেওয়া হয়। সেখানে কুকুর মরদেহের কিছু অংশ খেয়ে ফেলে। ধর্ষণ ও হত্যার কয়েক দিন পর ১৩ সেপ্টেম্বর পচে যাওয়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যা এই ভয়াবহ ঘটনার কথা প্রকাশ করে।
পুলিশের তথ্যে জানা গেছে, মরদেহ এতটাই পচে গিয়েছিল যে, প্রথমে সেটি নারী নাকি পুরুষের তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জানা যায়, কিশোরী ও অভিযুক্তরা পূর্ব পরিচিত ছিল। ঘটনার সময় কিশোরী তাদের সঙ্গে একটি টেম্পোতে ছিল।
অভিযোগ রয়েছে যে, টেম্পোর ভেতর তারা একসঙ্গে মদ পান করে। এরপর কিশোরীকে যৌন নির্যাতন করা হয় এবং ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। পরে তার মরদেহ খোলা মাঠে ফেলে দেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, ১৩ সেপ্টেম্বর মধ্য দিল্লির কুশাক রোডে জয়পাল রানার মাঠের কাছে কিশোরীর পচে যাওয়া মরদেহ পাওয়া যায়। কুকুর মরদেহের কিছু অংশ খেয়ে ফেলেছিল। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কিশোরীর একটি হাত মরদেহ থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া যায়।
কিশোরীর পরিবার তার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে কোনো অভিযোগ করেনি। পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের সদস্যরা তাদের জানান যে, কিশোরী প্রায়ই বাড়ি থেকে বের হয়ে কয়েক দিন পর ফিরে আসত।
এ ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং শিশু নির্যাতন আইন পকসোর প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা করা হয়েছে। ঘটনার স্থানে কোনো প্রত্যক্ষদর্শী পাওয়া যায়নি এবং প্রথমে অভিযুক্তদের পরিচয়ও জানা ছিল না। এ কারণে পুলিশ ওই এলাকা ও আশপাশের ৫০টির বেশি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে।
ফুটেজ বিশ্লেষণের সময় ঘটনার সম্ভাব্য সময়ের কাছাকাছি একটি টেম্পোকে ঘটনাস্থলের আশপাশ দিয়ে যেতে দেখা যায়। অন্ধকারের কারণে টেম্পোটির নম্বর স্পষ্টভাবে দেখা যায়নি। এরপর তদন্তকারীরা একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ অনুসরণ করে টেম্পোটির চলাচলের গতিপথ শনাক্ত করার চেষ্টা করেন।
গত ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যবর্তী রাতে রাতভর অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন টেম্পোটির সন্ধান পাওয়া যায়। এর চালককে শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্তে ওই অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়, যাদের মধ্যে তিনজন অপ্রাপ্তবয়স্ক।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাপ্তবয়স্ক অভিযুক্তের নাম শিবম ওরফে সুদামা ওরফে চুচু, যিনি খাড্ডা কলোনির বাসিন্দা। তিন অপ্রাপ্তবয়স্কের বয়স ১৬ ও ১৭ বছর। অপরাধে ব্যবহৃত দুটি ছুরি, অভিযুক্তদের পরা পোশাক এবং টেম্পোটি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পুরো ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে, আটক ব্যক্তিদের প্রত্যেকের ভূমিকা নির্ধারণ করতে এবং ফরেনসিক ও প্রযুক্তিগত প্রমাণ যাচাই করতে তদন্ত চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মুখে রোদে পোড়া দাগছোপ, ব্রণ অথবা ত্বকের শুষ্কতা নিয়ে অনেকেই চিন্তিত থাকেন। ত্বকের সঠিক যত্ন নিতে সবসময় পার্লারে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। ঘরে থাকা কিছু পরিচিত উপকরণ ব্যবহার করে সহজেই ত্বকের যত্ন নেওয়া সম্ভব। এর মধ্যে বেসন একটি কার্যকরী উপাদান হতে পারে।
বেসন ত্বক পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। তবে, শুধুমাত্র বেসন ব্যবহার করলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। তাই বেসনের সঙ্গে কিছু উপকরণ মিশিয়ে নেওয়া যেতে পারে, যা ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করবে এবং ত্বককে নরম ও উজ্জ্বল দেখাতে পারে।
ঘরেই বেসন দিয়ে তৈরি করা যেতে পারে এই চার ধরনের প্যাক—
বেসন ও হলুদের প্যাক
এক চা চামচ বেসনের সঙ্গে এক চিমটি হলুদ গুঁড়া, দুধের সর ও সামান্য অলিভ তেল মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
বেসন, মধু ও গোলাপজল
এক চামচ বেসনের সঙ্গে এক চা চামচ মধু ও এক চামচ গোলাপজল মিশিয়ে একটি মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। মুখ ও গলায় লাগিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রাখুন। পুরোপুরি শুকিয়ে যাওয়ার আগেই হালকা হাতে ঘষে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করা যেতে পারে।
বেসন ও বাদামের তেল
বেসনের সঙ্গে বাদামের তেল অথবা দুধের সর ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে প্রায় ১০ মিনিট রাখুন। শুকিয়ে যাওয়ার আগেই পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। যাদের ত্বক খুব শুষ্ক, তাদের জন্য এই প্যাকটি উপকারী হতে পারে।
বেসন, টমেটো ও হলুদ
এক চা চামচ বেসনের সঙ্গে সামান্য হলুদ গুঁড়া ও এক চামচ টমেটোর রস মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। মুখে লাগিয়ে ২০ থেকে ২৫ মিনিট রেখে দিন। এরপর হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
ব্যবহারের আগে সতর্কতা
ঘরোয়া উপাদান হলেও সবার ত্বকে সবকিছু একইভাবে মানিয়ে নাও নিতে পারে। তাই মুখে ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট একটি অংশে অল্প পরিমাণ লাগিয়ে দেখে নেওয়া ভালো। জ্বালা, চুলকানি বা অস্বস্তি হলে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
ত্বকের দাগছোপ দীর্ঘদিন ধরে থাকলে অথবা ত্বকে কোনো সমস্যা দেখা দিলে নিজে থেকে বিভিন্ন উপাদান ব্যবহার না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই শ্রেয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যেকোনো সম্পর্কের ভিত্তি হলো বিশ্বাস ও ভরসা। যখন সন্দেহ প্রবেশ করে, তখন ধীরে ধীরে সম্পর্কের মধ্যে চিড় ধরতে শুরু করে। বিশেষ করে স্বামী-স্ত্রী বা প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে একে অপরের ওপর আস্থা হারিয়ে গেলে একসঙ্গে পথ চলা কঠিন হয়ে যায়।
বিশ্বাসের অভাব হলে ছোটখাটো বিষয় নিয়েও ঝগড়া ও অশান্তি বৃদ্ধি পেতে থাকে। সম্পর্কের মধ্যে জমে থাকা তিক্ততা তৈরি হয়। কিন্তু একবার বিশ্বাসে আঘাত লাগলেই যে সম্পর্ক শেষ হয়ে যাবে, এমন নয়। কিছু বিষয় সম্পর্কে সচেতন থাকলে ধীরে ধীরে সঙ্গীর আস্থা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।
খোলাখুলি কথা বলুন
যখন সম্পর্কে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়, তখন চুপ থাকা কোনো সমাধান নয়। সঙ্গীর কোন কথায় বা কাজে আপনি আঘাত পেয়েছেন, এবং কী কারণে বিশ্বাসে চিড় ধরেছে—এসব নিয়ে সরাসরি আলোচনা করা অত্যন্ত জরুরি।
একইভাবে, যদি আপনার কোনো ভুলের কারণে সঙ্গীর বিশ্বাস নষ্ট হয়ে থাকে, তবে তার মনের কথা জানার চেষ্টা করুন। যদি তার মনে কোনো ভুল ধারণা তৈরি হয়ে থাকে, তবে সেটিও খোলাখুলি আলোচনা করে দূর করতে হবে।
একসঙ্গে সময় কাটান
বিশ্বাসে আঘাত লাগার পর দুজনের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে সেই দূরত্ব যদি বাড়তে থাকে, তাহলে সম্পর্ক আরও দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
সুতরাং, সঙ্গীর কাছ থেকে দূরে সরে না গিয়ে যতটা সম্ভব একসঙ্গে সময় কাটানোর চেষ্টা করুন। ভালোবাসা ও যত্নের মাধ্যমে সম্পর্কের পুরোনো মধুরতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করতে হবে।
সবকিছুতে স্বচ্ছ থাকুন
একবার বিশ্বাস ভেঙে গেলে সঙ্গীর কাছে সত্যি কথাও অনেক সময় সন্দেহজনক মনে হতে পারে। তাই এই সময়ে আরও বেশি স্বচ্ছ থাকা প্রয়োজন।
সঙ্গীর কাছ থেকে কোনো বিষয় লুকানোর চেষ্টা করবেন না। মিথ্যা বলাও এড়িয়ে চলুন। বরং স্বাভাবিকভাবে কথা বলুন এবং নিজের আচরণে স্বচ্ছতা বজায় রাখুন। এতে ধীরে ধীরে সঙ্গীর আস্থা ফিরে আসতে পারে।
পরিস্থিতি শান্ত রাখুন
বিশ্বাসে আঘাত লাগলে সঙ্গী রেগে যেতে পারেন, কষ্ট পেতে পারেন কিংবা বারবার একই বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করতে পারেন। এমন পরিস্থিতিতে তর্কে জড়িয়ে পড়লে সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
সুতরাং, নিজেকে প্রমাণ করার জন্য অতিরিক্ত কথা না বলে পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করুন। সঙ্গী যখন কিছুটা শান্ত হবেন, তখন বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করুন। প্রয়োজন হলে নিজের অবস্থান ও সত্যিটা ধীরে-সুস্থে বুঝিয়ে বলুন।
যা এড়িয়ে চলবেন
বিশ্বাস ফেরানোর পথে সবচেয়ে বেশি সমস্যা তৈরি করতে পারে মিথ্যা বলা, বিষয় লুকানো এবং অযথা তর্কে জড়িয়ে পড়া। তাই এসব থেকে দূরে থাকাই ভালো।
সম্পর্কে আবার আস্থা তৈরি হতে সময় লাগে। একদিনে সবকিছু আগের মতো হয়ে যাবে—এমন আশা না করে ধৈর্য ধরে সঙ্গীর পাশে থাকা, খোলাখুলি কথা বলা এবং নিজের আচরণে ধারাবাহিকতা রাখা জরুরি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ