ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্রবাসী বাংলাদেশিদের সমস্যা সমাধানে সরকারের নতুন উদ্যোগ


প্রবাসী বাংলাদেশিদের সমস্যা সমাধানে সরকারের নতুন উদ্যোগ

বাংলাদেশি প্রবাসীদের সমস্যা ও অভিযোগ দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় একটি ‘অভিযোগ নিষ্পত্তি ও নিরসন সেল’ প্রতিষ্ঠা করেছে, যা প্রবাসীদের সেবার মান উন্নয়ন এবং হয়রানি কমানোর জন্য কাজ করবে।

মন্ত্রণালয়ের একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত এই সেলটি প্রবাসীদের যেকোনো সমস্যা বা অভিযোগ সরাসরি ইমেইলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানাতে সক্ষম করবে।

অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রবাসীরা [email protected] এবং [email protected] ঠিকানায় নিজেদের অভিযোগ পাঠাতে পারবেন। এই সেলে প্রাপ্ত প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন: নিউইয়র্কে বিনা খরচে ট্যাক্স ফাইল, বাংলায় সহায়তা পাবেন যেভাবে

সেলের কার্যক্রম স্বচ্ছ ও গতিশীল রাখার জন্য, আসা আবেদন এবং অভিযোগগুলো দৈনিক ও সাপ্তাহিক ভিত্তিতে মন্ত্রী এবং সচিবের কাছে উপস্থাপন করা হবে। ফলে নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে প্রবাসীদের যেকোনো সংকটে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুনামগঞ্জে পিকনিক থেকে ফেরার পথে ৭ শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৫৯ পি.এম


সুনামগঞ্জে পিকনিক থেকে ফেরার পথে ৭ শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলা সদরে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ ৭ শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) মধ্য রাতে থানার পাশে শাহীদ আলী মডেল স্কুলের মাঠ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে নাশকতার মামলায় আসামি করে শনিবার রাতে আদালতে পাঠানো হয়। গ্রেপ্তারকৃত সাত জনই স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছে তাদের পরিবার।

গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষার্থীরা হলেন- হবিবপুর গ্রামের অনিক দাস (১৮), ডুমরা গ্রামের বর্ষণ তালুকদার (১৮), সৌমিত্র দাস (১৮), দীপ্ত দাস (১৮), অভি সরকার (১৬), দেব দাস (১৬) ও ইমন দাস (১৬)। আদালত রাতেই তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, একটি ক্লাবের ফুটবল খেলা উপলক্ষে কয়েক জন শিক্ষার্থী শুক্রবার রাতে শাল্লা উপজেলা সদরের ঘুঙ্গিয়ারগাঁও বাজারে খাবারের আয়োজন করেছিল। খাবার খাওয়ার পর বাড়ি যাওয়ার সময় শাহীদ আলী মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ এলাকায় তারা আনন্দের সঙ্গে এই স্লোগান দেয়।

পুলিশের নজরে স্লোগান দেওয়ার বিষয়টি আসলে, স্লোগান ও মিছিল দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে এবং পরে আরও ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর নাশকতার মামলায় আসামি করে শনিবার রাতে তাদের সুনামগঞ্জ আদালতে সোপর্দ করা হয়।

আদালতের বিচারক জুডিসিয়াল ম্যাজিস্টেট সকিনা আক্তার গ্রেপ্তারকৃত সবাইকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্টেট আদালতের শাল্লা জোনের জি.আর.ও এএসআই মো. আবুল কাশেম।

এদিকে শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃতরা কেউই ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়। তারা সবাই নিয়মিত স্কুল-কলেজের ছাত্র। বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে একসঙ্গে রাতের খাবার শেষে তারা এই স্লোগান দিয়েছিল। কিন্তু পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে নাশকতার মামলায় আদালতে প্রেরণ করেছে। এখন তাদের স্বজনরা দুশ্চিন্তায় আছেন।

বর্ষণ তালুকদারের বাবা অনাদি তালুকদার বলেন, "আমার ছেলে কোনো রাজনীতি করে না, রাজনীতি বুঝে না।" তবে পুলিশ স্লোগান ও মিছিল দেওয়ার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করে নাশকতার মামলায় কারাগারে পাঠিয়েছে। তাদের মুক্তির বিষয়ে আমরা আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলছি।

স্কুল ছাত্র অভি সরকারের বাবা বাদল সরকার বলেন, "আমার ছেলে হাই স্কুলে পড়ে, সে রাজনীতির কী বুঝে।" তারা নাকি কয়েক জন মিলে ওই স্লোগান দিয়েছে, এমন অভিযোগে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে শনিবার রাতে আদালতে প্রেরণ করেছে। ছেলেকে নিয়ে পরিবারের সবাই দুশ্চিন্তায় আছি।

শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সুহেল বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা শুক্রবার রাতে রাজনীতি নিষিদ্ধ সংগঠনের স্লোগান দিয়েছে ও মিছিল করেছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে শনিবার বিকেলে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

স্কুল ছাত্রদের গ্রেপ্তার করার বিষয়ে জানতে তিনি বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগেই সবাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বয়স যদি কম হয়ে থাকে আদালত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৫ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা, বাড়ছে অর্থমূল্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:১৬ পি.এম


৫ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা, বাড়ছে অর্থমূল্য

চলতি বছরের নোবেল পুরস্কার ঘোষণা আগামী ৫ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। ৫ অক্টোবর থেকে ১২ অক্টোবরের মধ্যে ধাপে ধাপে ছয়টি বিভাগে নোবেলজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে। নোবেল পুরস্কারের আনুষ্ঠানিক সব ঘোষণা সরাসরি সম্প্রচার করা হবে এবং বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে নোবেল পুরস্কারের নিজস্ব মাধ্যমে।

প্রথম তিন দিনে বিজ্ঞানের তিন শাখার নোবেলজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে। ৫ অক্টোবর, সোমবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও শারীরতত্ত্বে নোবেলজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে।

এরপর ৬ অক্টোবর, মঙ্গলবার বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে পদার্থবিজ্ঞানে এবং ৭ অক্টোবর, বুধবার একই সময়ে রসায়নে নোবেলজয়ীদের নাম প্রকাশ করা হবে।

নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয় চিকিৎসাবিজ্ঞান ও শারীরতত্ত্ব, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য, শান্তি ও অর্থনীতি—এই ছয়টি বিভাগে।

এবার নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্যও বৃদ্ধি করা হয়েছে। ২০২৫ সালে প্রতিটি পুরস্কারের অর্থমূল্য ছিল ১ কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা। ২০২৬ সালে তা বৃদ্ধি করে ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রতিটি পুরস্কারে ১০ লাখ ক্রোনা বা প্রায় ৯ শতাংশ অর্থমূল্য বেড়েছে।

নোবেল ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক হানা স্টিয়ারনে জানিয়েছেন, ২০২৬ সালে নোবেল পুরস্কারের ১২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে অর্থমূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে পুরস্কারের আর্থিক মূল্য ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এর আগে ২০২৩ সালে নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য ১ কোটি থেকে বাড়িয়ে ১ কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা করা হয়েছিল। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে অর্থমূল্যে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।

যদি কোনো বিভাগে একাধিক ব্যক্তি নোবেল পুরস্কার পান, তবে নির্ধারিত ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা তাদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে। বর্তমান হিসাবে এই অর্থের মূল্য প্রায় ১২ লাখ ৮ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৪ কোটি ৯১ লাখ টাকার বেশি।

প্রতিটি নোবেলজয়ী পাবেন একটি নোবেল পদক, একটি সনদপত্র এবং নির্ধারিত অর্থমূল্য। বিজ্ঞানের তিন বিভাগের পুরস্কার ঘোষণার পর পর্যায়ক্রমে সাহিত্য, শান্তি ও অর্থনীতিতে নোবেলজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে।

সূত্র: দ্য নোবেল প্রাইজ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশি মেয়েদের হার চাইনিজ তাইপের কাছে ৩-২ গোলে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:১৭ পি.এম


এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশি মেয়েদের হার চাইনিজ তাইপের কাছে ৩-২ গোলে

এগিয়ে থেকেও শেষ রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। এশিয়ান গেমসে নারী হকির গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের মহিলা দল চাইনিজ তাইপের কাছে ৩-২ গোলে পরাজিত হয়েছে।

গিফু প্রিফেকচারাল গ্রিন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচের শুরুতেই বাংলাদেশ গোল হজম করে। ম্যাচের ৬ মিনিটে চাইনিজ তাইপের হয়ে গোল করেন হুয়াং ইউ-টিং। তবে বাংলাদেশের মেয়েরা দ্রুতই ম্যাচে ফিরে আসার চেষ্টা করে। ১৯ মিনিটে কনা আক্তার গোল করে বাংলাদেশকে সমতায় ফেরান। এরপর ২৪ মিনিটে আবারও গোল করেন কনা, ফলে বাংলাদেশ ২-১ গোলে এগিয়ে যায়।

প্রথমার্ধের বাকি সময়ে আর কোনো গোল হয়নি। লাল-সবুজের দল এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায়।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। ৪৫ মিনিটে ওয়াং ইউ-চিউ গোল করে চাইনিজ তাইপেকে সমতায় ফেরান। এর চার মিনিট পর, আবারও গোল করে চাইনিজ তাইপে। হুয়াং ইউ-টিংয়ের দ্বিতীয় গোলের মাধ্যমে তারা ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ৩-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে চাইনিজ তাইপে।

গ্রুপ পর্বের পাঁচ ম্যাচে বাংলাদেশের এটি চতুর্থ হার। এর আগে চীনের কাছে ১৩-০, মালয়েশিয়ার কাছে ৩-১ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৮-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। কাজাখস্তানের বিপক্ষে ৩-৩ গোলে ড্র করে এক পয়েন্ট পেয়েছিল দলটি।

চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে শেষ ম্যাচেও জয়ের খুব কাছাকাছি গিয়েছিল বাংলাদেশ। দুই গোলের লিড নিয়েও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ ধরে রাখতে পারেনি তারা।

পাঁচ ম্যাচ শেষে এক পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করল বাংলাদেশ নারী হকি দল।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজস্ব আহরণে এনবিআরের নতুন কৌশল ও পরিকল্পনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:১৮ পি.এম


রাজস্ব আহরণে এনবিআরের নতুন কৌশল ও পরিকল্পনা

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজস্ব আহরণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যা কর প্রশাসনে বিনিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তির ব্যবহার, করদাতা সেবার মানোন্নয়ন এবং কর পরিপালন নিশ্চিত করার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে।

এ উদ্দেশ্যে এনবিআর চলতি অর্থবছরের রাজস্ব কৌশল ‘থ্রি-আর’ বা তিনটি মূলনীতির ভিত্তিতে সাজিয়েছে। এই তিনটি মূলনীতি হলো—রিকভারি (পুনরুদ্ধার), রেস্টোরেশন (পুনর্বহাল) এবং রিকনস্ট্রাকশন (পুনর্গঠন)।

রিকভারি কৌশলের আওতায় রাজস্ব আদায়ে গড়ে ১৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। রেস্টোরেশন কৌশলটি করের আওতা সম্প্রসারণ এবং ব্যবসাবান্ধব রাজস্ব পরিবেশ তৈরি করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। অন্যদিকে, রিকনস্ট্রাকশন কৌশলের আওতায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি ও স্বেচ্ছায় কর পরিপালন নিশ্চিত করার মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ের গতি বাড়ানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

গত মাসে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এনবিআরের উপস্থাপিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসব পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। বৈঠকে এনবিআরের সক্ষমতা, কর-জিডিপি অনুপাতের ব্যবধান কমাতে গৃহীত পদক্ষেপ এবং সংস্থাটির সাংগঠনিক কাঠামো ও প্রয়োজনীয় সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা দেওয়া হয়।

চলতি অর্থবছরে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এনবিআর বিভিন্ন খাত থেকে রাজস্ব সংগ্রহের পরিকল্পনাও তুলে ধরেছে। লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে আয়কর অনুবিভাগের জন্য ২ লাখ ২৩ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) অনুবিভাগের জন্য ২ লাখ ২৩ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা এবং কাস্টমস অনুবিভাগের জন্য ১ লাখ ৫৭ হাজার ৪০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এনবিআরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, "আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস প্রশাসনে সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে চলতি অর্থবছরে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে এনবিআর আশা করছে।"

আয়কর খাতে বাড়তি আদায়ের পরিকল্পনা

রাজস্ব আদায়ের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, আয়কর খাতে প্রবৃদ্ধি বাড়ানো, কর ফাঁকি দেওয়া অর্থ উদ্ধার, উৎসে করের আওতা সম্প্রসারণ, ব্যক্তিশ্রেণির কর কাঠামো ও বিনিয়োগে কর রেয়াতের পরিবর্তন, মূলধনি মুনাফার ওপর কর আরোপ, কর পরিপালন জোরদার এবং করসংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে রাজস্ব বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

আয়কর অনুবিভাগ নিয়মিত প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি কর ফাঁকি দেওয়া অর্থ উদ্ধার এবং বিভিন্ন নীতিগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে রাজস্ব সংগ্রহ বাড়াতে চায়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আয়কর ও ভ্রমণ কর বাবদ আদায় হয়েছিল ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে এ খাতে ১০ শতাংশ নিয়মিত প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে অতিরিক্ত ১৪ হাজার ৫৫৮ কোটি টাকা আদায়ের প্রত্যাশা করছে এনবিআর।

কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল, আয়কর গোয়েন্দা বিভাগ, আইআইসি এবং কর সার্কেলের মাধ্যমে কর ফাঁকি দেওয়া অর্থ উদ্ধার করে আরও ৩ হাজার কোটি টাকা আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে। নিরীক্ষা ও আয়কর আইনের ২১২ ধারায় পুনরায় মামলা খোলার মাধ্যমে সৃষ্ট করসংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করে আরও ১ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিলম্বে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ দিয়ে স্বেচ্ছায় কর পরিপালনে উৎসাহিত করার মাধ্যমে আরও ৫শ’ কোটি টাকা আদায়ের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। নীতিগত পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য ৫ শতাংশ করহার পরিবর্তন করে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত প্রগতিশীল করহার চালুর মাধ্যমে অতিরিক্ত ৩ হাজার কোটি টাকা আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিনিয়োগজনিত কর রেয়াতের হার ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ রেয়াতের সীমা ১০ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে সাড়ে ৭ লাখ টাকা নির্ধারণ করে আরও ১ হাজার কোটি টাকা আদায়ের প্রক্ষেপণ করা হয়েছে। সব ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের করদাতাদের জন্য টার্নওভার কর চালুর মাধ্যমে আরও ১ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি ব্যবসায়ী করদাতাদের আয়কর রিটার্নের সঙ্গে নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী ও হিসাবের বিবরণী জমা বাধ্যতামূলক করে ৫শ’ কোটি টাকা আদায়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

ব্যবসা-থেকে-ব্যবসা (বিজনেস-টু-বিজনেস) মডেলে খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে উৎসে কর আদায়ের মাধ্যমে অতিরিক্ত ৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আবাসন খাতের ডেভেলপারদের হিসাবরক্ষণে আইএফআরএস-১৫ চালুর মাধ্যমে আরও ৪ হাজার কোটি টাকা এবং জমি, ফ্ল্যাট ও অন্যান্য মূলধনি সম্পদ বিক্রি থেকে অর্জিত মুনাফার ওপর নিয়মিত করহার প্রয়োগ করে আরও ৪ হাজার কোটি টাকা আদায়ের প্রত্যাশা করছে এনবিআর।

ভ্যাট আদায়ে প্রবৃদ্ধি ও পরিপালনে জোর

ভ্যাট অনুবিভাগ নিয়মিত প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের পরিকল্পনা নিয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৯ কোটি টাকা আদায় হয়েছিল। চলতি অর্থবছরে ১০ শতাংশ নিয়মিত প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে অতিরিক্ত ১৫ হাজার ৬০৭ কোটি টাকা আদায়ের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

উন্নয়ন বাজেটের (এডিপি) বাস্তবায়ন বাড়ার ফলে আরও ১৫ হাজার কোটি টাকা এবং বিড়ি ও সিগারেটসহ তামাক খাত থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে। অবৈধ সিগারেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে আরও ২ হাজার ৫শ’ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া নিরীক্ষা, বকেয়া রাজস্ব আদায়, ভ্যাট নিবন্ধনের আওতা সম্প্রসারণ, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নজরদারি এবং কর পরিপালনের ঘাটতি কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভ্যাট অনুবিভাগের লক্ষ্য, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বিচারাধীন মামলার ৫০ শতাংশ এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যে অনিষ্পন্ন মামলার অন্তত ৯৫ শতাংশ নিষ্পত্তি করা।

কাস্টমসে ১ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য

চলতি অর্থবছরে কাস্টমস অনুবিভাগের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৪০ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে আদায় হয়েছিল ১ লাখ ১১ হাজার ৬২৩ কোটি টাকা।

নিয়মিত প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে ১১ হাজার ৫৭৭ কোটি টাকা এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের বিভিন্ন পদক্ষেপ থেকে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা আদায়ের প্রক্ষেপণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বকেয়া রাজস্ব আদায়, গোয়েন্দা তৎপরতা ও প্রতিরোধমূলক অভিযান, পণ্য খালাস-পরবর্তী নিরীক্ষা, নিলাম, আমদানিপণ্যের সঠিক শ্রেণিবিন্যাস ও মূল্য নির্ধারণ, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধ এবং স্থগিত রাজস্ব আদায়ের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।

পণ্য খালাস-পরবর্তী নিরীক্ষা থেকে ৫শ’ কোটি টাকা, নিলাম থেকে ৫শ’ কোটি টাকা, আমদানিপণ্যের সঠিক শ্রেণিবিন্যাস ও মূল্য নির্ধারণের মাধ্যমে ৪ কোটি টাকা, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধ করে ১ হাজার ৮শ’ কোটি টাকা এবং স্থগিত রাজস্ব আদায়ের মাধ্যমে ১৪০ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সূত্র: বাসস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%