০৫:১২ পি.এম
পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি করিডোর বা চিকেনস নেক, যা ভারতের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি সরু অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। এটি ভারতীয় ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান সেতু হিসেবে কাজ করে।
শুক্রবার (২০ আগস্ট) শিলিগুড়িতে এসে দেশের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ওই করিডোরের ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা নিয়ে একটি বড় বার্তা দিয়েছেন। তার ঘোষণায় তিনি উল্লেখ করেন, ‘শিলিগুড়ি করিডোর সুরক্ষিত রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’ শুধুমাত্র সীমান্ত নিরাপত্তা নয়, তিনি প্রশাসনিক পরিকাঠামো, দিল্লির সঙ্গে দ্রুত রেল যোগাযোগ এবং শিলিগুড়িকে ঘিরে একাধিক পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেছেন।
শিলিগুড়ির রানিডাঙ্গায় সশস্ত্র সীমা বলের (এসএসবি) উত্তরবঙ্গ ফ্রন্টিয়ার হেডকোয়ার্টারে आयोजित এক অনুষ্ঠানে ১৮৯ কোটি টাকার একাধিক নতুন প্রশাসনিক ও আবাসিক প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
বক্তব্যে অমিত শাহ বলেন, ‘শিলিগুড়ি করিডোর ও সমগ্র দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক একটি বিশেষ ‘ত্রিকোণীয় নিরাপত্তা গ্রিড’ তৈরি করেছে। চোপড়া, কিষাণগঞ্জ ও ধুবড়ি এই তিন ঘাঁটি থেকে সমগ্র করিডোরে নজরদারি, সামরিক উপস্থিতি ও প্রশাসনিক কর্তৃত্ব বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। নিয়মিত ‘তিস্তা প্রহারের’ মতো সামরিক অনুশীলনের মাধ্যমে এই অঞ্চলকে সুরক্ষিত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’
তিনি জানান, শিলিগুড়ি করিডোরকে শক্তিশালী করতে দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর প্রায় ৫৬০ একর জমির প্রয়োজন ছিল। অনুপ্রবেশ ঠেকানোর জন্য সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া অত্যন্ত জরুরি, কিন্তু পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে এ বিষয়ে জমি পাওয়া যায়নি।
তবে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই জাতীয় নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। রাজ্য সরকার গঠনের মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ ও এসএসবির জমিজট কাটিয়ে ১১২৯ একর জমি হস্তান্তর করেছেন। এমনকি বাকি থাকা ২৯ একর জমির অনুমোদনও তৎক্ষণাৎ সম্পন্ন করার আশ্বাস তিনি দিয়েছেন।
সীমান্ত সুরক্ষায় সর্বাত্মক প্রচেষ্টার পাশাপাশি অঞ্চলের যাতায়াত, পর্যটন ও অর্থনৈতিক বিকাশকেও প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। ‘ভাইব্রেন্ট ভিলেজ প্রোগ্রাম ২.০’-এর আওতায় ৬৮৩৯ কোটি রুপির প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভুটান সীমান্ত গ্রামগুলোকে মূল ভূখণ্ডের হৃদয়জুড়ে সংযুক্ত করা হচ্ছে, কেবল সড়কপথের মাধ্যমে নয়।
আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আতঙ্ক, তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা
এর সঙ্গে ‘অমৃত ভারত স্টেশন’ প্রকল্পের মাধ্যমে শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়ি স্টেশনকে বিশ্বমানের স্টেশনে রূপান্তরিত করা হচ্ছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ঘোষিত দিল্লি-শিলিগুড়ি হাই-স্পিড রেল করিডোর চালুর মাধ্যমে আগামী ২-৩ বছরের মধ্যে দিল্লি থেকে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শিলিগুড়ি পৌঁছানো সম্ভব হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন