প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে বিদেশি নারীদের নিয়ে পরিচালিত একটি কথিত যৌন ব্যবসার চক্রের সন্ধান পেয়েছে দেশের ইমিগ্রেশন বিভাগ। এ ঘটনায় বাংলাদেশি-থাই দম্পতির সাথে মোট ২৬জনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃত ব্যক্তিদের মধ্যে স্থানীয় একজন ব্যক্তি কথিত প্রতিষ্ঠানের ‘ক্যাপ্টেন’ বা পাহারাদার হিসেবে কাজ করতেন বলে কর্তৃপক্ষের ধারণা।
বুধবার রাতে কুচাই লামা ও জালান গেলুগর এলাকার অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়। রাত ১০টা ৫০ মিনিটে শুরু হওয়া এ অভিযানের নেতৃত্ব দেন পুত্রজায়ায় মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের সদর দপ্তরের গোয়েন্দা ও বিশেষ অভিযান শাখার কর্মকর্তারা। অভিযানের পূর্বে लगभग দুই সপ্তাহ ধরে সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি পরিচালনা করা হয়।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, আটক ২৬ জনের বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছে একজন বাংলাদেশি পুরুষ, একজন থাই নারী, একজন মালয়েশীয় পুরুষ, তিনজন মিয়ানমারের পুরুষ, তিনজন বাংলাদেশি নারী, ১৪ জন ইন্দোনেশীয় নারী, দুইজন ভিয়েতনামী নারী এবং একজন মিয়ানমারের নারী।
প্রাথমিক তদন্তে ইমিগ্রেশন বিভাগ পেয়েছে যে, আটককৃত বিদেশিদের মধ্যে কারও কাছে মালয়েশিয়ায় থাকার বৈধ ভ্রমণ নথি বা পাস নেই। অভিযানে চারটি বাংলাদেশি, একটি থাই ও একটি ইন্দোনেশীয় পাসপোর্ট জব্দ করা হয়। এছাড়াও কয়েকটি মোবাইল ফোন, কনডম এবং কথিত কর্মকাণ্ড থেকে পাওয়া ১ হাজার ২১৫ রিঙ্গিত নগদ অর্থও জব্দ করা হয়েছে।
জাকারিয়া শাবান জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আবাসিক ও বাণিজ্যিক দুটি স্থাপনা বিদেশি নারীদের নিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে বিশেষ করে ক্লাং ভ্যালিতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে আবাসিক স্থাপনাটিতে গ্রাহক আকৃষ্ট করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
তদন্তে আরও জানা গেছে, কথিত চক্রের মূলহোতারা কর্মীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতেন এবং তাদের পাসপোর্ট নিজেদের হেফাজতে রাখতেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে আবাসিক স্থাপনায় গোপনে কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো।
অন্যদিকে, বাণিজ্যিক স্থাপনাটির কার্যক্রম স্থানীয় একজন ব্যক্তি নিয়ন্ত্রণ করতেন। কর্তৃপক্ষের ধারণা, তিনি সেখানে ‘ক্যাপ্টেন’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক জানান, আবাসিক স্থাপনায় ৬০ মিনিটের জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে ২০০ রিঙ্গিত নেওয়া হতো। আর বাণিজ্যিক স্থাপনায় ৯০ মিনিটের জন্য নেওয়া হতো ২৬০ থেকে ৪০০ রিঙ্গিত। তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি প্রায় দুই মাস ধরে এই কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।
আটক বিদেশি দম্পতি এবং স্থানীয় একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর ৫৬(১)(ডি) ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অন্য বিদেশিদের একই আইনের ৬(১)(সি) ধারায় আটক করা হয়েছে।
আটকদের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য ইমিগ্রেশন কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এদিকে তদন্তে সহায়তার জন্য আরও সাতজন স্থানীয় পুরুষকে ইমিগ্রেশন কার্যালয়ে হাজির হওয়ার নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
জাকারিয়া শাবান বলেন, দেশের আইন লঙ্ঘন করে পরিচালিত যেকোনো কর্মকাণ্ড বন্ধে ইমিগ্রেশন বিভাগের অভিযান এবং কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। মালয়েশিয়ার স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা এবং সমৃদ্ধি বজায় রাখতে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন