বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:০১ পি.এম
নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় অবহেলার অভিযোগ ওঠার পর সাংবাদিকদের উদ্দেশে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের চিকিৎসক ডা. খাইরাতুন হিসান কেয়া।
বুধবার (৭ অক্টোবর) তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে একটি ফেসবুক পোস্টে আগের মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে ডা. কেয়া লেখেন, ‘এখন থেকে ডেলিভারির ব্যথা উঠলে সাংবাদিকদের কাছে যাবেন।’ তার এই মন্তব্যের কারণে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে সমালোচনা শুরু হয়।
পরদিন দেওয়া পোস্টে, আগের মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ডা. কেয়া জানান, তার মন্তব্যটি সকল সাংবাদিককে উদ্দেশ্য করে ছিল না। তিনি দাবি করেন, শব্দচয়নে ভুলের কারণে এমনটি ঘটেছে।
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ‘সকল সাংবাদিক ভাইদের বলছি, আমার পূর্বের পোস্টে ভুলবশত সকল সাংবাদিককে উদ্দেশ্য করে যে লেখাটা লিখেছি, সেটার জন্য দুঃখিত। শব্দচয়নে ভুলবশত এমন হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, তার ওই পোস্টটি শুধুমাত্র কয়েকজনকে উদ্দেশ্য করে ছিল, যারা নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তিনি সকলকে এক কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে চাননি বলেও উল্লেখ করেন।
এর আগে, চৌদ্দগ্রামে নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ তুলে স্থানীয় সাংবাদিকরা সংবাদ প্রকাশ করেন। এ ঘটনায় এশিয়া পোস্টের ওয়েবসাইট ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপরই সাংবাদিকদের উদ্দেশে ওই ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন ডা. কেয়া।
সম্প্রতি চৌদ্দগ্রাম উপজেলার খামার পুষ্করণী গ্রামের প্রসূতি নাজমা আক্তারের সন্তান প্রসবের ঘটনায় ডা. কেয়ার বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ করেন তার স্বজনরা।
স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা করা হলেও একপর্যায়ে নবজাতকের মৃত্যু ঘটে। তারা দাবি করেন, নবজাতকের মাথায় আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। পরে প্রসূতি নাজমাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুমিল্লা শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডা. কেয়া। সাংবাদিকদের তিনি জানান, তিনি স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা করেছিলেন এবং রোগীর অবস্থা ভালো না থাকায় দ্রুত তাকে কুমিল্লা শহরে পাঠিয়ে দেন। নবজাতকের মৃত্যু ও মাথায় আঘাতের বিষয়ে জানতে চাইলে রোগীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলার কথা জানান এই চিকিৎসক।
এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রশিদ আহমেদ চৌধুরী তোফায়েল এশিয়া পোস্টকে বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ চেরনিহিভসহ বিভিন্ন স্থানে রাতভর অন্তত ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ৫ শিশুর পাশাপাশি একাধিক নারীও রয়েছেন বলে জানা গেছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) ভোরে চেরনিহিভের প্রিলুকি জেলায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকে রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ঘুমন্ত অবস্থায় প্রাণ হারায় শিশুরা।
শক্তিশালী বিস্ফোরণের ফলে ওই অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের জানালার কাঁচ ভেঙে চুরমার হয়ে যায় এবং পাঁচতলা ভবনের অর্ধেক অংশই পুড়ে যাওয়া কংক্রিট ও দুমড়ানো ধাতব কাঠামোর স্তূপে পরিণত হয়।
প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে তিনজনের বয়স ছিল মাত্র ১২ মাস এবং আরেকজনের বয়স আট বছর।
ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সন্ধ্যায় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়।
প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে দেওয়া পৃথক এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, রুশ হামলায় প্রিলুকির ওই অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে ২০ জন নিহত হয়েছেন।
নিহতদের পাশাপাশি আহত হয়েছেন বহু মানুষ। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে আরও সাত শিশু রয়েছে। তিনি রাশিয়াকে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘বেসামরিক সাধারণ শহর ও বেসামরিক জীবনযাত্রাকে’ লক্ষ্য করে হামলা চালানোর জন্য অভিযুক্ত করেছেন।
জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন তথা আমাদের জনগণ ও শিশুদের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্রের অব্যাহত ব্যবহার হলো সন্ত্রাস সৃষ্টির এক সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ।
ইউক্রেনের নাগরিক ও ম্যাসাজ থেরাপিস্ট ৪০ বছর বয়সি ওলেনা সায়ুন এএফপি-কে বলেন, "আমরা বাড়িতে ঘুমাচ্ছিলাম। হঠাৎ বিস্ফোরণে আমাদের জানালার কাঁচ উড়ে যায়। সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ যে, আমরা নিজেদের শরীর দিয়ে আমাদের শিশু সন্তানকে আগলে রেখেছিলাম। আমার স্বামীর পিঠে এবং আমার শরীরেও কিছু কাটাছেঁড়া হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, হামলার সময় আমাদের সন্তানের প্রচণ্ড মানসিক আঘাত বা ‘নার্ভাস ব্রেকডাউন’ হয়েছিল এবং সে খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিল। আমরা দ্রুত বাথরুমের দিকে ছুটে গিয়েছিলাম এবং অ্যাপার্টমেন্টের সবকিছু যখন তছনছ হয়ে যাচ্ছিল, সে সময় আমরা সেখানেই ছিলাম।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ৭ অক্টোবর বুধবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৬টার দিকে প্রিলুকিতে হামলা শুরু করে রুশ বাহিনী। এর আগে মঙ্গলবার জেলেনস্কি রাশিয়ার তরফ থেকে একটি ‘ব্যাপক’ হামলার বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। ওই বার্তায় জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা বিশেষভাবে বলা হয়েছিল।
শীতকাল ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে রাজধানীতে হামলার মাত্রা বেড়ে গেছে এবং প্রায় অবিরাম বিমান হামলার সতর্ক সংকেত (সাইরেন) বেজে চলেছে।
উদ্বিগ্ন বাসিন্দারা ব্যাগ, শোয়ার মাদুর ও কম্বল নিয়ে রাতের জন্য সাবওয়ে স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নিচ্ছেন।
ব্যাংক কর্মকর্তা ইরিনা রিবালচেঙ্কো প্ল্যাটফর্মে গাঢ় রঙের হুডি পরে এবং চারপাশে ব্যাগ নিয়ে বসে থাকা অবস্থায় এএফপি-কে বলেন, "আমরা আমাদের জিনিসপত্র নিয়ে এখানে চলে এসেছি।"
তিনি বলেন, "পুরো কিয়েভ শহর এখন আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। আমরা কর্মস্থলে আটকা পড়েছিলাম এবং সবাই—আমাদের গ্রুপের চ্যাট বা বসরা—আমাদের সতর্ক থাকার বার্তা পাঠাচ্ছিলেন।"
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, বুধবার রাশিয়া দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক, কিয়েভ, খারকিভ ও পোলতাভাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত ৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৩০টি ড্রোন দিয়ে হামলা করেছে।
প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলা এই সংঘাতের অন্যতম ‘ঘৃণ্য হামলা’ উল্লেখ করে জেলেনস্কি বলেছেন, কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করা সম্ভব হলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছিল ‘সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ’ এবং নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি।
অনলাইন মার্কেটিংয়ে কর্মরত ৩১ বছর বয়সি ইউলিয়া শামরাই, যিনি প্রিলুকিতে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটির কাছেই থাকেন। তিনি বলেন, "এই হামলার মধ্যে দিয়ে রাশিয়ার কোন সামরিক লক্ষ্য পূরণ হলো, আমি বুঝতে পারছি না।"
সূত্র: এএফপি
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের কৃত্রিম উপগ্রহ ‘বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১’ বা বিএস-১ মহাকাশে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঝুঁকি থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে। ভারতের একটি পুরোনো স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ বিপজ্জনকভাবে বিএস-১-এর কাছে চলে আসায়, স্যাটেলাইটটিকে সামান্য সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে, ধ্বংসাবশেষটি মাত্র ৮৫২ মিটার দূর দিয়ে পাশ কাটিয়ে গেলে শঙ্কা কেটে যায়।
ঘটনাটি শুরু হয় ৯ আগস্ট সন্ধ্যায়। গাজীপুরের গ্রাউন্ড স্টেশনে জরুরি সতর্কবার্তা আসে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘স্পেস ট্র্যাকার’ জানায়, বিএস-১-এর কক্ষপথের খুব কাছ দিয়ে মহাকাশ বর্জ্য ধেয়ে আসছে।
বাংলাদেশের প্রকৌশলীরা দ্রুত তৎপর হয়ে ওঠেন। কারণ, মহাকাশে দুটি স্যাটেলাইট বা বড় বস্তুর সংঘর্ষ হলে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ তৈরি হতে পারে। ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সচল একটি স্যাটেলাইট ও রাশিয়ার নিষ্ক্রিয় একটি স্যাটেলাইটের সংঘর্ষে এমন ঘটনা ঘটেছিল।
বিএস-১-এর ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় কয়েক দিন ধরে নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও হিসাব-নিকাশ চলে। বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ ইমাদুর রহমান জানান, ওই চার দিন চরম উদ্বেগের মধ্যে কাটে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৫০ জনের বেশি প্রকৌশলীকে কাজে যুক্ত করা হয়, এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও উপদেষ্টারাও নিয়মিত পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখেন।
পরে জানা যায়, বিএস-১-এর দিকে এগিয়ে আসা মহাকাশ বর্জ্যটি ১৯৮২ সালে উৎক্ষেপণ করা ভারতের নিষ্ক্রিয় ‘ইনস্যাট-১এ’ স্যাটেলাইটের একটি অংশ। এর আগে ২০২১ ও ২০২৫ সালে বিএস-১ একই ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছিল।
শেষ পর্যন্ত ১৩ আগস্ট নিখুঁত হিসাব-নিকাশের পর বিএস-১-এর কক্ষপথে সামান্য পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নির্দিষ্ট কৌশলে স্যাটেলাইটটিকে সামান্য বাঁ দিকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এরপর শুরু হয় অপেক্ষার পালা। শেষ পর্যন্ত, মহাকাশ বর্জ্যটি বিএস-১-কে মাত্র ৮৫২ মিটার দূর দিয়ে পাশ কাটিয়ে যায়। ফলে বাংলাদেশের স্যাটেলাইটটি বড় ধরনের সংঘর্ষের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পায়।
বিপদ কেটে যাওয়ার পর বিএস-১-কে আবার তার নির্ধারিত কক্ষপথে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। বাংলাদেশের প্রকৌশলীদের এই সফল পদক্ষেপ মহাকাশে স্যাটেলাইট পরিচালনা ও ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশের সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে ওঠে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় একই পরিবারের ১৫ জন নারী-পুরুষ চেতনানাশক বিষাক্ত স্প্রের কারণে অসচেতন হয়ে কলারোয়া হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এটি বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত উপজেলার হেলাতলা ইউনিয়নের দামোদরকাঠি গ্রামের দাউদের বাড়িতে ঘটে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকালে ঘুম থেকে উঠে দাউদ, রিপন ও পারভীন খাতুন নামে তিনজন বাড়ির আঙিনায় কাজ করার সময় মাথা ঘুরে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে বাড়ির অন্যান্য সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে কলারোয়া হাসপাতালে নিয়ে যান। এরপর দিনভর নারী-পুরুষ ও শিশু সহ একের পর এক ১৫ জনকে অচেতন অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় রাত ৯টা পর্যন্ত।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে রয়েছেন- পারভীন খাতুন, আবু দাউদ, সিনথিয়া, আবু রায়হান, হাফিজুর রহমান, মেসের আলী, সকিনা খাতুন, রিপন হোসেন, আসমা খাতুন, মমতাজ বেগম, শিশু মেহনাজ, খালিদ হোসেন, সিয়াম হোসেন ও শামীমা খাতুন।
এলাকাবাসীর ধারণা, মাদকাসক্ত কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা একটি বিশেষ স্প্রে ব্যবহার করে অজ্ঞান করে বাড়ির জিনিসপত্র চুরি করতে পারে। এর আগে ওই গ্রামে এভাবে বাড়ির লোকজনকে অজ্ঞান করে দুটি মোটরসাইকেল ও একটি ইজিবাইক চুরি হয়।
উপজেলা প্রশাসন এবং কলারোয়া থানা পুলিশকে এলাকাবাসী মাদকাসক্ত যুবকদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম জানান, তারা যেকোনো ধরনের চেতনানাশক বিষাক্ত স্প্রের কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সলঙ্গা থানার নয়াপাড়া রশীদপুর এলাকায় এক যুবককে জিম্মি করে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্তরা ঘটনার ভিডিও ধারণ করে চাঁদা দাবি করেছে।
ভুক্তভোগী যুবক মিলন হোসেন অভিযোগ দায়ের করেছেন সলঙ্গা থানায়। তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।
মামলার অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন— হাটিকুমরুল ইউনিয়নের নয়াপাড়া রশীদপুর গ্রামের হৃদয় হোসেন, শফি আহামেদ, নাঈম আহামেদ, সিয়াম হোসেন, মনিরুল ইসলাম, কাইয়ুম, তুহিন ও শফিকুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী যুবক নয়াপাড়া রশীদপুর গ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান। রাতে স্থানীয় একটি দোকানের পাশে অবস্থানকালে অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে কৌশলে তাকে কাছের একটি নির্জন বাঁশবাগানে নিয়ে যায়। সেখানে অভিযুক্ত মনিরুল ইসলাম ভীতি প্রদর্শন করে সহযোগীদের নিয়ে তাকে জোরপূর্বক সংঘবদ্ধ বলাৎকার করে।
একই সময়ে অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে সম্পূর্ণ ঘটনার দৃশ্য ধারণ করে। ভুক্তভোগী যুবকের ডাক-চিৎকারে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে গেলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে ধারণকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে জনপ্রিয় যোগাযোগ মাধ্যম ‘ইমো’ অ্যাপের মাধ্যমে ভুক্তভোগীর আত্মীয়ের কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না দিলে ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী জানান, ঘটনার পর পারিবারিকভাবে এবং স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে শনিবার (২৮শে সেপ্টেম্বর) সলঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। তিনি বলেন, "আমি এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।"
সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ তারা হাতে পেয়েছেন। তিনি বলেন, "বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ