ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

খামেনির কফিন উন্মোচন, দাফনকে কেন্দ্র করে ইরানে কী ঘটতে যাচ্ছে?


খামেনির কফিন উন্মোচন, দাফনকে কেন্দ্র করে ইরানে কী ঘটতে যাচ্ছে?

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে এক সপ্তাহের শোক কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। রাজধানী তেহরানসহ কোম, মাশহাদ এবং ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় বিভিন্ন দাফন ও শোকানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের সূত্রে এমন খবর পাওয়া গেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত হওয়ার পর খামেনির দাফনকে ঘিরে লাখ লাখ মানুষকে একত্রিত করার পরিকল্পনা করেছে ইরানের সরকার। দেশের নেতৃত্ব ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতি জনগণের সমর্থন ও ঐক্যের বার্তা দিতে চায়।

সরকারি পক্ষ থেকে শোকানুষ্ঠানে অংশ নিতে মানুষের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিভিন্ন হোটেলে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি বাস, ট্রেনসহ গণপরিবহন শোকযাত্রীর সুবিধার জন্য বিশেষভাবে পরিচালনা করা হবে। অনেক স্কুল, মসজিদ ও ক্রীড়া কেন্দ্রে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

শনিবার (৪ জুলাই) তেহরানের একটি মসজিদ থেকে খামেনির মরদেহ নিয়ে জাতীয় পর্যায়ের শেষযাত্রা শুরু হবে। একই হামলায় নিহত তার মেয়ে, জামাতা, নাতনি এবং নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনির স্ত্রীকেও একই সঙ্গে বিদায় জানানো হবে।

সোমবার (৬ জুলাই) তেহরানে বড় শোকমিছিলের পর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে কোম শহরে। সেখানে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) শোকানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বুধবার (৮ জুলাই) ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হবে। সবশেষে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) মাশহাদে ইমাম রেজার মাজারের পাশে খামেনিকে দাফন করা হবে।

ইরানের কর্মকর্তারা অভিযোগ করছেন, এই শোকানুষ্ঠান শুধু ধর্মীয় নয়, বরং ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতি জনগণের সমর্থনের একটি বড় বার্তা হবে। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট, নিষেধাজ্ঞা ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের জন্য সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ সরকারের প্রতি অসন্তুষ্ট। খামেনির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তেহরানের কিছু এলাকায় উল্লাসের সংবাদও পাওয়া গেছে।

দাফনকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তেহরানসহ কয়েকটি শহরের আকাশসীমায় সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে জানানো হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল নতুন করে হামলা চালালে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

সূত্র: রয়টার্স

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মরে ফেলার স্থানে কেন নিয়ে যাওয়া হলো খামেনির মরদেহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:০৫ পি.এম


মরে ফেলার স্থানে কেন নিয়ে যাওয়া হলো খামেনির মরদেহ

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ তার মেরে ফেলার স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর পরেই শুরু হয়েছে কয়েক দিনব্যাপী শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম উইয়ন এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার (৩ জুলাই) তেহরানে খামেনির কফিন জনসাধারণের সামনে আনা হয়েছিল, এবং তারপর সেটি গোপনে সেই স্থানে নেওয়া হয়, যেখানে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় তিনি নিহত হন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরানের জোমহুরি সড়কে অবস্থিত ওই স্থান পরবর্তীতে শোকপ্রকাশকারীদের জন্য অস্থায়ী স্মৃতিস্থানে পরিণত করা হয়েছে।

ইরানি কর্তৃপক্ষের মতে, দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করায় খামেনিকে শহীদ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে মৃত্যুর স্থানে মরদেহ নেওয়াকে শহীদদের স্মরণ ও সম্মান জানানোর অংশ হিসেবে ধরা হচ্ছে।

৪ থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত খামেনির মরদেহ তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য রাখা হবে। এরপর তার নিজ শহর মাশহাদে তার শেষ জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হবে।

খামেনির শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী, তাকে ইমাম রেজার মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হবে। তার শেষ বিদায়ে বিপুল জনসাধারণের সমাগম হবে বলে আশা করছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।

এদিকে নিরাপত্তাজনিত কারণে খামেনির ছেলে ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনি বাবার দাফন অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে অংশ নেবেন না বলে জানিয়েছেন ভারতে তার প্রতিনিধিত্বকারী আয়াতুল্লাহ হাকিম এলাহি।

তিনি উল্লেখ করেছেন, ইসরায়েলের নজরদারি ও সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে মোজতাবা খামেনির জনসমক্ষে আসা আপাতত নিরাপদ নয়। এ কারণে তিনি দাফনের আনুষ্ঠানিকতায় থেকেও দূরে থাকবেন।

সূত্র: উইয়ন

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাগজে-কলমে মূল্য কমলেও এলপি গ্যাসে ভোক্তার স্বস্তি এখনও অধরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:১০ পি.এম


কাগজে-কলমে মূল্য কমলেও এলপি গ্যাসে ভোক্তার স্বস্তি এখনও অধরা

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের এলপিজি মূল্য কমানোর কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। কিন্তু সেই স্বস্তি এখনও ভোক্তার ঘরে পুরোপুরি পৌঁছায়নি। কারণ, সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ৫২৮ টাকার পরিবর্তে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ১২ কেজির এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায়।

গেল দুই মাসে টানা দুই দফায় ৫৯৯ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ার পর মোট ৪১২ টাকা কমানো হয়েছে। ফলস্বরূপ, ১২ কেজির একটি এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের নতুন দাম বর্তমানে ১ হাজার ৫২৮ টাকা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বিইআরসির আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নতুন এই দাম ঘোষণা করেন কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির মূল্য কমায় দেশের বাজারেও সেই অনুযায়ী মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।’

বিধি অনুযায়ী, জুলাই মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজির দাম ১ হাজার ৮৮৫ টাকা থেকে ৩৫৭ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কাগজে-কলমে দাম কমলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। রাজধানীর বসিলা এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি দোকানে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৭০ টাকা থেকে প্রায় ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে কথা হয় বসিলার বাসিন্দা আমিরুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বক্তব্য রাখেন, ‘সরকার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে, শুনেছি। কিন্তু দোকানে গেলে বলে ১ হাজার ৬০০, কোথাও আবার ১ হাজার ৭০০ টাকা। এর নিচে পাওয়া যায় না। তাহলে সরকার দাম কমিয়ে লাভ কী, যদি আমরা সেই দামে কিনতেই না পারি?’

আমিরুল ইসলামের অভিযোগের সূত্র ধরে স্থানীয় একটি এলপি গ্যাসের দোকানে গেলে সেখানে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির সত্যতা দেখা যায়। তবে দোকানি জানান, ‘তারা ইচ্ছাকৃতভাবে অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন না। তার দাবি, নতুন দামের মাল এখনো আমাদের কাছে আসেনি। আগের বেশি দামের চালানই আছে। এছাড়া বাসায় পৌঁছাতে গাড়ি ভাড়া, শ্রমিক খরচসহ নানা ব্যয় রয়েছে। এসব কারণে একটু বেশি দাম রাখতে হচ্ছে। নতুন চালান এলে সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করা হবে।’

এ ধরনের অভিযোগ শোনা যায় আরও কয়েকজন ক্রেতার কাছ থেকেও। তাদের দাবি হলো, দাম কমানোর ঘোষণা প্রায়ই আসে, কিন্তু বাজারে তার বাস্তব প্রতিফলন খুবটা দেখা যায় না। ক্রেতা নাবিল বলেন, ‘সরকার যে দাম ঠিক করে দেয়, সেই দামে যদি গ্যাসই না পাই, তাহলে সেই ঘোষণার কোনো মূল্য থাকে না। বাজারে নিয়মিত তদারকি দরকার।’

অন্যদিকে খুচরা বিক্রেতাদের দাবি হলো, শুধুমাত্র সিলিন্ডারের দাম নয়, পরিবহন ব্যয়, গুদামজাতকরণ, শ্রমিক মজুরি এবং গ্রাহকের বাসায় পৌঁছে দেয়ার খরচও বিবেচনায় নিতে হয়। এজন্য তারা নির্ধারিত দামের সঙ্গে কিছু অতিরিক্ত অর্থ যোগ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

তবে ভোক্তাদের প্রশ্ন হচ্ছে, সরকার যখন প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে এলপিজির মূল্য নির্ধারণ করছে, তখন সেই মূল্য বাস্তবায়নের দায়িত্বও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই নিশ্চিত করতে হবে। তাদের দাবি, শুধু দাম ঘোষণা করলেই হবে না, মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি বাড়াতে হবে। তাহলেই সরকার নির্ধারিত দামে এলপি গ্যাস কিনতে সক্ষম হবে সাধারণ মানুষ এবং মূল্য কমানোর সুফল প্রকৃত অর্থেই পৌঁছাবে ভোক্তার হাতে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অসহায় বৃদ্ধের পাশে দাঁড়ালেন প্রতিমন্ত্রী টুকু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:১৪ পি.এম


অসহায় বৃদ্ধের পাশে দাঁড়ালেন প্রতিমন্ত্রী টুকু

জীবনের শেষ প্রান্তে আসা মানুষ সবচেয়ে বেশি আশ্রয় খোঁজেন সন্তানের কাছে এবং আত্মীয়-স্বজনের কাছে। কিন্তু টাঙ্গাইলের এক শতবর্ষী বৃদ্ধের ক্ষেত্রে ঘটেছে বিপরীত দৃশ্য। যে মানুষটি সারাজীবন পরিশ্রম করে সন্তানদের বড় করেছেন, তিনি আজ বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে, চোখের দৃষ্টিশক্তি প্রায় হারিয়ে; এবং শেষ পর্যন্ত তাকেই ফেলে রাখা হলো রাস্তার পাশে। অসহায় ওই বৃদ্ধের পাশে দাঁড়ালেন টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল পৌর এলাকার বৈল্লা বাজার এলাকায় একটি সেতুর পাশে কান্নারত অবস্থায় উদ্ধার হন বৃদ্ধ মফিজ উদ্দিন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় দৃষ্টিশক্তিহীন এ বৃদ্ধ গত কয়েক বছর ধরে একা চলাফেরা করতে পারেন না। বয়সের ভার ও শারীরিক দুর্বলতার কারণে দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাকে অন্যের সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হয়।

অনুসন্ধান করে জানা গেছে, এনায়েতপুর গ্রামের বাসিন্দা মফিজ উদ্দিন তিন ছেলে ও তিন মেয়ের জনক। প্রায় আট বছর আগে তার স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকে তার জীবন হয়ে যায় নিঃসঙ্গ। এক ছেলে মারা গেছে, বড় ছেলে পক্ষাঘাতগ্রস্ত, আর ছোট ছেলে আলাদা সংসার করেন। জীবনের শেষ সম্বলটুকুও মাত্র ১০০ টাকার বিনিময়ে দুটি ছেলের নামে লিখে দিয়েছিলেন তিনি। এরপর থেকেই তার পরিবারের মধ্যে অবস্থান অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

এলাকা বাসীদের মন্তব্য, তিনি পক্ষাঘাতগ্রস্ত বড় ছেলে শামসুলের বাড়িতেই বসবাস করতেন। ছেলের স্ত্রী মারা যাওয়ার পর সেখানে নাতনি ও তার স্বামী থাকতেন। কিন্তু তারা বৃদ্ধ দাদার দেখাশোনা করতে চাননি। একপর্যায়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাকে বাড়ি থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে নিয়ে গিয়ে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে চলে যান। দীর্ঘসময় সেখানে বসে কান্না করে যাচ্ছিলেন তিনি। পরে স্থানীয়রা এসে তার পরিচয় শনাক্ত করেন।

ততক্ষণে খবরটি পৌঁছে যায় প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর কাছে। এ ঘটনা জানার পর তিনি তৎক্ষণাৎ টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনায় পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে বৃদ্ধকে উদ্ধার করে নিরাপদে তার ছোট মেয়ে রিনা বেগমের জিম্মায় পৌঁছে দেয়। একই সাথে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করে পুলিশ। ইতোমধ্যে নাতনিকে থানায় হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

মাথায় শুধু উদ্ধারেই থেমে থাকেননি প্রতিমন্ত্রী। বৃদ্ধের চিকিৎসা, খাবার, বাসস্থান এবং প্রয়োজনীয় সব ব্যয়ভার ব্যক্তিগতভাবে বহনের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। দ্রুত বৃদ্ধভাতার ব্যবস্থা করার উদ্যোগও নিয়েছেন। প্রয়োজনে তার থাকার জন্য আলাদা কক্ষ ভাড়া নেওয়া এবং সেই খরচও নিয়মিত বহনের আশ্বাস দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

প্রথমদিকে বাবার দায়িত্ব নিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলেও, পরবর্তীতে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার পর ছোট মেয়ে রিনা বেগম বাবার দেখাশোনার দায়িত্ব নিতে সম্মত হন।

রিনা বেগম জানান, পাশের বাড়ির লোকজনের মাধ্যমে জানতে পারি যে, আমার বাবাকে রাস্তার পাশে ফেলে রাখা হয়েছে। বাবাকে এমন অবস্থায় দেখে খুব কষ্ট পেয়েছি। প্রতিমন্ত্রী আমার সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। এখন থেকে বাবার দায়িত্ব আমিই পালন করব।

টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন, প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বৃদ্ধকে উদ্ধার করে। বর্তমানে তিনি তার ছোট মেয়ের হেফাজতে রয়েছেন। নাতনিকে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। তবে তার স্বামী পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান।

এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, একজন অসহায় বৃদ্ধকে এভাবে রাস্তায় ফেলে রেখে যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত অমানবিক ও হৃদয়বিদারক। বাবা-মা আমাদের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ। তাদের অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই। যতদিন প্রয়োজন, এই বৃদ্ধের চিকিৎসা, থাকা-খাওয়া ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার দায়িত্ব আমি নেব। একই সাথে যারা তাকে এভাবে পরিত্যাগ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

এছাড়া প্রতিটি মানুষকে অসহায় প্রবীণদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুবাইয়ের রাজপুত্র পরিচয়ে প্রেমের ফাঁদ, এআইভিত্তিক প্রতারণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:১৭ পি.এম


দুবাইয়ের রাজপুত্র পরিচয়ে প্রেমের ফাঁদ, এআইভিত্তিক প্রতারণা

ঢাকা, ৩ জুলাই, ২০২৬ : মারিয়া বিশ্বাস করেছিলেন যে তিনি দুবাইয়ের এক রাজপুত্রের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছেন। লাইভ ভিডিও কলে তার মোহনীয় হাসি এবং ভালোবাসার কথায় তিনি গভীরভাবে আকৃষ্ট হয়ে পড়েন।

কিন্তু বাস্তবে, সেই ‘প্রেমিক’ ছিলেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি একটি ডিপফেক, যা একটি অনলাইন প্রতারণার অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

গবেষকদের মতে, এই ধরনের প্রতারণায় অপরাধীরা বাস্তব জীবনের দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্সের ছদ্মবেশ ধারণ করে অনলাইনে সম্পর্ক গড়ে তোলে। পরে তারা অর্থ হাতিয়ে নেয়। কিছু ঘটনার সঙ্গে নাইজেরিয়ার অপরাধচক্র জড়িয়ে থাকতে পারে বলেও গবেষকরা ধারণা করছেন।

মারিয়া প্রিন্স হামদান বিন মোহাম্মদের ছদ্মবেশে থাকা এক প্রতারকের সাথে একটি ডেটিং সাইটে পরিচিত হন। সেই প্রতারককে ফাজ্জা নামেও পরিচিতি রয়েছে। এরপর তাদের কথোপকথন একটি মেসেজিং অ্যাপে চলে যায়। এখানে সে মারিয়াকে অসংখ্য রোমান্টিক বার্তা পাঠাতে শুরু করে।

ভুক্তভোগী ফিলিপাইনের গৃহকর্মী মারিয়া এএফপি’কে জানান, "আমি ঘুমিয়ে থাকলেও সে পরপর আমাকে মেসেজ করত।" তিনি তার প্রকৃত নাম ও বয়স গোপন রাখার অনুরোধ জানান।

তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছিল যেন কোনো ভালোবাসার জাদু আমাদের মনকে একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে রেখেছে।’

এএফপি’র দেখা একটি হোয়াটসঅ্যাপ ভিডিও কলের রেকর্ডিংয়ে দেখা যায়, প্রতারকটি এআইয়ের সহায়তায় ওই প্রিন্সের চেহারার মতো হয়ে স্ক্রিনে উপস্থিত ছিল। তার কথাগুলো ঠোঁটের নড়াচড়ার সঙ্গে মিললেও, কণ্ঠস্বরটি আসল প্রিন্সের ছিল না।

কণ্ঠস্বরটি মারিয়াকে বলে, ‘হ্যালো প্রিয়তমা। তোমার ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ।’

মারিয়া শুরুতে ভালোবাসার আবেগে এতটাই আচ্ছন্ন ছিলেন যে তাকে প্রতারণা সন্দেহ করেননি। পরে, তার এক বছরের সঞ্চয় হারান।

প্রতারক তাকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে ১ লাখ পেসো (প্রায় ১ হাজার ৬২৫ মার্কিন ডলার) দিতে বাধ্য করে। ওই অর্থ, সে দাবি করেছিল বিয়ে নিবন্ধন ও একটি ‘রয়্যাল মেম্বারশিপ কার্ড’-এর জন্য। তার ভাষায়, মারিয়াকে দুবাইয়ে চাকরি পেতে সাহায্য করবে।

তার সন্দেহ তখনই শুরু হয়, যখন প্রতারক তাকে একটি হোটেলে দেখা করার প্রস্তাব দেয় এবং বুকিংয়ের জন্য আরও ৬০ হাজার পেসো (প্রায় ৯৭৪ মার্কিন ডলার) দাবি করে। পরে, তিনি তার ফেসবুক প্রোফাইলটি ভালোভাবে যাচাই করে দেখেন, যা পরবর্তীতে মুছে ফেলা হয়। তখন তিনি লক্ষ্য করেন, ওই অ্যাকাউন্টটি সম্ভবত নাইজেরিয়া থেকে পরিচালিত হচ্ছিল।

সর্বশেষ, তিনি যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে দেন এবং শেষ একটি বার্তা পাঠান: ‘জাহান্নামে যাও, প্রতারক।’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%