০৩:১০ পি.এম
তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের এলপিজি মূল্য কমানোর কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। কিন্তু সেই স্বস্তি এখনও ভোক্তার ঘরে পুরোপুরি পৌঁছায়নি। কারণ, সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ৫২৮ টাকার পরিবর্তে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ১২ কেজির এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায়।
গেল দুই মাসে টানা দুই দফায় ৫৯৯ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ার পর মোট ৪১২ টাকা কমানো হয়েছে। ফলস্বরূপ, ১২ কেজির একটি এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের নতুন দাম বর্তমানে ১ হাজার ৫২৮ টাকা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বিইআরসির আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নতুন এই দাম ঘোষণা করেন কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির মূল্য কমায় দেশের বাজারেও সেই অনুযায়ী মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।’
বিধি অনুযায়ী, জুলাই মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজির দাম ১ হাজার ৮৮৫ টাকা থেকে ৩৫৭ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কাগজে-কলমে দাম কমলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। রাজধানীর বসিলা এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি দোকানে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৭০ টাকা থেকে প্রায় ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
এ বিষয়ে কথা হয় বসিলার বাসিন্দা আমিরুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বক্তব্য রাখেন, ‘সরকার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে, শুনেছি। কিন্তু দোকানে গেলে বলে ১ হাজার ৬০০, কোথাও আবার ১ হাজার ৭০০ টাকা। এর নিচে পাওয়া যায় না। তাহলে সরকার দাম কমিয়ে লাভ কী, যদি আমরা সেই দামে কিনতেই না পারি?’
আমিরুল ইসলামের অভিযোগের সূত্র ধরে স্থানীয় একটি এলপি গ্যাসের দোকানে গেলে সেখানে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির সত্যতা দেখা যায়। তবে দোকানি জানান, ‘তারা ইচ্ছাকৃতভাবে অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন না। তার দাবি, নতুন দামের মাল এখনো আমাদের কাছে আসেনি। আগের বেশি দামের চালানই আছে। এছাড়া বাসায় পৌঁছাতে গাড়ি ভাড়া, শ্রমিক খরচসহ নানা ব্যয় রয়েছে। এসব কারণে একটু বেশি দাম রাখতে হচ্ছে। নতুন চালান এলে সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করা হবে।’
এ ধরনের অভিযোগ শোনা যায় আরও কয়েকজন ক্রেতার কাছ থেকেও। তাদের দাবি হলো, দাম কমানোর ঘোষণা প্রায়ই আসে, কিন্তু বাজারে তার বাস্তব প্রতিফলন খুবটা দেখা যায় না। ক্রেতা নাবিল বলেন, ‘সরকার যে দাম ঠিক করে দেয়, সেই দামে যদি গ্যাসই না পাই, তাহলে সেই ঘোষণার কোনো মূল্য থাকে না। বাজারে নিয়মিত তদারকি দরকার।’
অন্যদিকে খুচরা বিক্রেতাদের দাবি হলো, শুধুমাত্র সিলিন্ডারের দাম নয়, পরিবহন ব্যয়, গুদামজাতকরণ, শ্রমিক মজুরি এবং গ্রাহকের বাসায় পৌঁছে দেয়ার খরচও বিবেচনায় নিতে হয়। এজন্য তারা নির্ধারিত দামের সঙ্গে কিছু অতিরিক্ত অর্থ যোগ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
তবে ভোক্তাদের প্রশ্ন হচ্ছে, সরকার যখন প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে এলপিজির মূল্য নির্ধারণ করছে, তখন সেই মূল্য বাস্তবায়নের দায়িত্বও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই নিশ্চিত করতে হবে। তাদের দাবি, শুধু দাম ঘোষণা করলেই হবে না, মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি বাড়াতে হবে। তাহলেই সরকার নির্ধারিত দামে এলপি গ্যাস কিনতে সক্ষম হবে সাধারণ মানুষ এবং মূল্য কমানোর সুফল প্রকৃত অর্থেই পৌঁছাবে ভোক্তার হাতে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন