০৪:৩৬ পি.এম
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, সরকার নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসা পরিচালনায় প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর জন্য, ঋণপ্রাপ্তির সুযোগ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাদের প্রতিনিধিত্ব জোরদার করার উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
তিনি সোমবার (৫ অক্টোবর) শিল্প মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিডব্লিউসিসিআই) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে এ মন্তব্য করেন। বৈঠকে সংগঠনের প্রেসিডেন্ট সঙ্গীতা আহমেদ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সিঙ্গেল উইন্ডো ব্যবস্থা চালুর ফলে নারী উদ্যোক্তারা ট্রেড লাইসেন্স, আমদানি নিবন্ধন সনদ (আইআরসি) এবং রপ্তানি নিবন্ধন সনদ (ইআরসি)-এর মতো প্রয়োজনীয় নথি অনলাইনে সংগ্রহ করতে সক্ষম হবেন। তারা দেশের যেকোনো স্থান থেকে এমনকি বিদেশে থেকেও আবেদন এবং নির্ধারিত ফি পরিশোধের মাধ্যমে এসব সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
আরও পড়ুন: সরকারি কর্মচারীদের ভাতা নির্ধারণে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি
এতে সরকারি দপ্তরে সরাসরি যাওয়ার প্রয়োজন কমে যাবে এবং ব্যবসা পরিচালনার প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা সহজ হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এসএমই খাতে অর্থায়ন প্রসঙ্গে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, এ খাতের জন্য ঋণের পরিসর ৩০০ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ২ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। এই অর্থ ৬ শতাংশ সুদে বিতরণ করা হবে।
তিনি বলেন, নারী উদ্যোক্তারা যাতে এ ঋণ থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা পান, সেজন্য এসএমই বোর্ড পুনর্গঠন এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন।
বৈঠকে বিডব্লিউসিসিআই প্রতিনিধিরা নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণে তথ্যের ঘাটতি, আনুষ্ঠানিক নিবন্ধনের জটিলতা এবং জেলা পর্যায়ে সমন্বয়ের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেন।
আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে সোনার দাম বেড়ে গেল, বিনিয়োগকারীদের নজর ফেডারেল রিজার্ভের সিদ্ধান্তে
তারা এসব সমস্যা দূর করতে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ডেটাবেজ প্রণয়ন, কেন্দ্রীয় কমপ্লায়েন্স ডেস্ক স্থাপন এবং নিয়মিত কেন্দ্র-জেলা সমন্বয় সভা আয়োজনের প্রস্তাব দেন।
প্রতিনিধিরা জানান, দেশে কোন খাতে এবং কোন পর্যায়ে কতজন নারী উদ্যোক্তা কাজ করছেন, তার সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই। ফলে তাদের প্রকৃত চাহিদা নির্ধারণ, কার্যকর নীতি প্রণয়ন এবং প্রয়োজনভিত্তিক সহায়তা প্রদান কঠিন হয়ে পড়ে।
তারা কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ তৈরির পাশাপাশি জেলা পর্যায়ের উইমেন চেম্বারগুলোর মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসাকে আনুষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত ও বিধিবিধান অনুসরণে নানা জটিলতা রয়েছে বলেও তারা জানান। এ জন্য একটি কেন্দ্রীয় কমপ্লায়েন্স ডেস্ক বা সমন্বিত সেবামঞ্চ গঠনের দাবি জানান প্রতিনিধিরা।
আরও পড়ুন: কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামাজিক সুরক্ষা জোরদার সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রধান লক্ষ্য: ড. তিতুমীর
প্রস্তাবিত ডেস্ক থেকে ব্যবসা নিবন্ধন, প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে দিকনির্দেশনা ও সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হয়।
এ ছাড়াও জেলা পর্যায়ের সমস্যাগুলো কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তুলে ধরা এবং সেগুলোর সমাধানে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে বছরে দুবার কেন্দ্র ও জেলা পর্যায়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে সভা আয়োজনের প্রস্তাব দেয় সংগঠনটি।
নারী উদ্যোক্তাদের সহায়তায় গড়ে ওঠা বিকল্প সেবামঞ্চগুলোর প্রশংসা করে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, সরকারের ইতিবাচক অবস্থান রয়েছে তাদের ব্যবসায়িক সেবাপ্রাপ্তি ও অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে। সূত্র: বাসস
আরও পড়ুন: বাংলাদেশে অবকাঠামো ও শিল্প খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে সিঙ্গাপুর
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন