ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শিক্ষকতাকে মেধাবীদের প্রথম পেশা করতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী


শিক্ষকতাকে মেধাবীদের প্রথম পেশা করতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেছেন যে, শিক্ষকতা কখনোই ‘উপায়হীন বিকল্প’ বা সাধারণ চাকরির মতো পেশা হতে পারে না। তিনি বলেন, সরকার শিক্ষকদের নিয়োগ এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করছে যাতে শিক্ষায় সবচেয়ে মেধাবীরা শিক্ষকতাকে প্রথম পছন্দ হিসেবে গ্রহণ করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, শিক্ষকদের সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে রাষ্ট্রের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি জড়িত। সমাজে শিক্ষকের মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকলে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি বাড়ে।’

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ের ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত শিক্ষকরা এ সম্মাননা লাভ করেন।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

এ বছরের বিশ্ব শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য হলো: ‘শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানো: পেশা সুরক্ষার ৬০ বছর, মর্যাদা উন্নয়ন এবং আমাদের ভবিষ্যৎ গঠন’।

প্রধানমন্ত্রী দেশের সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদরাসা, কারিগরি প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাকে বিনম্র শ্রদ্ধা জানান। তিনি ‘গুণী শিক্ষক’ হিসেবে সম্মাননা পাওয়া শিক্ষকদের অভিনন্দন জানান এবং তাদের মেধা ও যোগ্যতার প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষকরা যদি শিক্ষার্থীদের ‘প্রয়োজন এবং প্রিয়জন’ হয়ে উঠতে পারেন, তাহলে শিক্ষা-দীক্ষার মাধ্যমে একজন সুনাগরিক হিসেবে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা আরও সহজ হবে।’

পারিবারিক পাঠশালার গণ্ডি পেরোনোর পর শিক্ষার্থীদের সামনে শিক্ষক-শিক্ষিকারাই ‘আদর্শ রোল মডেল’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করছে, যাতে শিক্ষকরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সামনে নিজেদের রোল মডেল হিসেবে তুলে ধরতে পারেন।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

তিনি বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের এ সময়ে প্রচলিত শিক্ষা পদ্ধতির বাইরে এসে কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষা গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। তাই ‘শিখন’ ও ‘শিক্ষণ’ পদ্ধতির কৌশল পরিবর্তন এবং সিলেবাস আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবি।’

বাস্তবতার নিরিখে সরকার নতুন সিলেবাস প্রণয়ন করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ বছরের মধ্যেই শিক্ষার্থীরা নতুন সিলেবাস অনুযায়ী বই হাতে পাবে।’

তারেক রহমান বলেন, শিক্ষার্থীরা যেন বইবিমুখ হয়ে না ওঠে, সেজন্য ‘শিখন’ ও ‘শিক্ষণ’ পদ্ধতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুখস্থ করার বদলে ‘কেন’ ও ‘কীভাবে’- এই প্রশ্নগুলো শিক্ষার্থীদের মনে জাগিয়ে তুলতে হবে। কৌতূহল তৈরি হলে একজন শিক্ষার্থী নিজেই নিজের শিক্ষক হয়ে উঠতে পারে।

তিনি বলেন, ‘আনন্দময় শিক্ষা’ বর্তমানে সারা বিশ্বে, বিশেষ করে স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশেও এবার প্রথমবারের মতো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ শিরোনামে নতুন বই তুলে দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য শ্রেণিতেও এ ধরনের বই দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে শিক্ষা ব্যবস্থার সামনে যেমন বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে, তেমনি রয়েছে বড় বড় চ্যালেঞ্জ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা জ্ঞান অর্জনের সুযোগকে অবারিত করেছে। সার্টিফিকেট নির্ভর জ্ঞানের পরিবর্তে কারিগরি ও ব্যবহারিক জ্ঞান এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সামনেও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় টিচার্স ট্রেনিং কলেজগুলোকে আরও আধুনিক করা জরুরি।’

তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তিকে আমরা শিক্ষকের বিকল্প হিসেবে দেখতে চাই না। বরং প্রযুক্তি হবে শিক্ষকের শক্তি। এ লক্ষ্যেই সরকার ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি এগিয়ে নিচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, এ কর্মসূচির আওতায় একজন শিক্ষক ট্যাবের মাধ্যমে ডিজিটাল লেসন প্ল্যান, প্রশ্নব্যাংক, শিক্ষার্থীর শেখার অগ্রগতি এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষণসামগ্রী ব্যবহার করতে পারবেন। দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম সম্প্রসারণ এবং ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধাও বাড়ানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

তিনি বলেন, ‘সরকার এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে কোনো শিশু শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে না। শিক্ষাজীবনের যেকোনো পর্যায়ে কেউ কোনো কারণে ঝরে পড়লেও যেন বেকার না থাকে, তা নিশ্চিত করাও জরুরি।’

শিক্ষা খাত বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এ বাজেট আরও বাড়ানো হবে।’

মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা ব্যবস্থার ব্যাপ্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দেশে বর্তমানে মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রায় ২১ হাজার প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তিন লাখের বেশি শিক্ষক কোটিরও বেশি শিক্ষার্থীকে শিক্ষা দিচ্ছেন। এ পর্যায়ের শিক্ষার বড় অংশই বেসরকারি ও এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার সুযোগের ক্ষেত্রে শহর ও গ্রামের মধ্যে এখনও কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। তবে শহর কিংবা গ্রাম- সব এলাকার শিক্ষার্থী যাতে দক্ষ শিক্ষক ও আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা পায়, তা নিশ্চিত করতে সরকারের নানামুখী পরিকল্পনা রয়েছে।’

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কারে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর মূল ভিত্তি হচ্ছে সমান সুযোগ, মানসম্মত শিক্ষা এবং বৈষম্যহীন প্রবেশাধিকার।’

কর্মমুখী শিক্ষা প্রয়োজন হলেও কর্মসংস্থানই শিক্ষার একমাত্র উদ্দেশ্য নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নৈতিকতা ও চরিত্র গঠনও শিক্ষার অন্যতম মূল উদ্দেশ্য। জ্ঞান যদি নৈতিকতার সঙ্গে যুক্ত না হয়, তাহলে সেই জ্ঞান সমাজের কল্যাণের পরিবর্তে অকল্যাণের কারণ হতে পারে।’

সত্যবাদিতা, দায়িত্ববোধ, সহমর্মিতা, দেশপ্রেম, মানবিকতা, শৃঙ্খলা ও অন্যের প্রতি সম্মান- এসব মূল্যবোধকে শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত করতে পরিবারের পর শিক্ষক-শিক্ষিকারাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।’

শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষকতা পেশাকে আরও সম্মানজনক ও প্রতিযোগিতামূলক করতে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশেষ করে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের জন্য সরকার কাজ করছে।’

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন

তিনি বলেন, ‘শিক্ষকতা পেশায় মেধাবীদের আকৃষ্ট করতে শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রয়োজন অনুযায়ী ঢেলে সাজানো হচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দিবসে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষকে রাষ্ট্রীয় ভবনে আমন্ত্রণ জানিয়ে থাকেন। চলতি বছর থেকে একটি নীতিমালার ভিত্তিতে এসব অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অন্তত একজন করে শিক্ষককে বাধ্যতামূলকভাবে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘একজন শিক্ষক কর্মরত থাকুন কিংবা অবসর জীবনে, তার মহান পেশার কারণেই আমৃত্যু তিনি রাষ্ট্রের কাছে সম্মানীয়।’

শিক্ষকদের বেতন ও অবসরভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে হয়রানি বন্ধের নির্দেশনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একজন শিক্ষককে শুধু বেতন বা অবসরভাতার জন্য কষ্ট করে অফিসে ঘুরতে হবে না। যথানিয়মে যথাসময়ে তাঁর প্রাপ্য অর্থ ব্যাংকের মাধ্যমে পৌঁছে দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের শিক্ষকরাই জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার।’

শিক্ষকদের মর্যাদা, অধিকার, পেশাগত উন্নয়ন এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরতে প্রতিবছর ৫ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালন করা হয়।

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়া প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পিতা-পুত্রের নোবেল জয়ের অনন্য রেকর্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০১ পি.এম


পিতা-পুত্রের নোবেল জয়ের অনন্য রেকর্ড

নোবেল পুরস্কারের সোয়া শ' বছরের দীর্ঘ ইতিহাসে একই পরিবারের একাধিক সদস্যের দ্বারা এই সর্বোচ্চ সম্মাননা অর্জনের ঘটনা অত্যন্ত বিরল ও বিস্ময়কর। পারিবারিক মেধার এই অনন্য উত্তরাধিকার বিশ্বমঞ্চে সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে পদার্থবিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে। নোবেল ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ইতিহাসে মোট ৭ বার পিতা-পুত্রের নোবেল জয়ের নজির সৃষ্টি হয়েছে।

নিচে নোবেলজয়ী সেই সফল পিতা-পুত্রদের বিবরণ তুলে ধরা হলো:

হেনরি ও লরেন্স ব্র্যাগ

এক্স-রে ক্রিস্টালোগ্রাফি বিশ্লেষণের মাধ্যমে স্ফটিকের গঠন আবিষ্কারের জন্য পিতা উইলিয়াম হেনরি ব্র্যাগ এবং পুত্র উইলিয়াম লরেন্স ব্র্যাগ ১৯১৫ সালে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। এটি একই বছরে পিতা-পুত্রের নোবেল জয় হিসেবে একমাত্র রেকর্ড।

লরেন্স ব্র্যাগ মাত্র ২৫ বছর বয়সে বাবার সাথে যৌথভাবে এই পুরস্কার অর্জন করে বিজ্ঞানের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ পদার্থবিজ্ঞানী হিসেবে বিশ্ব রেকর্ড ধরে রেখেছেন।

জে জে থমসন ও জর্জ পেজেট

স্যার জোসেফ জন থমসন (জে জে থমসন) ১৯০৬ সালে ইলেকট্রন আবিষ্কার এবং গ্যাসে বিদ্যুৎ পরিবাহিতা নিয়ে গবেষণার জন্য পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পান। এর ৩১ বছর পর, ১৯৩৭ সালে তাঁর পুত্র জর্জ পেজেট থমসন ইলেকট্রনের তরঙ্গধর্মী বৈশিষ্ট্য প্রমাণের জন্য একই বিভাগে নোবেল লাভ করেন।

নিলস বোর ও অগে বোর

কোয়ান্টাম তত্ত্ব ও পরমাণুর গঠন ব্যাখ্যার জন্য বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী নিলস বোর ১৯২২ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পান। তাঁর যোগ্য উত্তরসূরি অগে বোর ১৯৭৫ সালে পরমাণুর নিউক্লিয়াসের অভ্যন্তরে উপ-পারমাণবিক কণার গতিপ্রকৃতি আবিষ্কারের জন্য একই বিভাগে নোবেল জয়ের গৌরব অর্জন করেন।

ম্যান ও কাই সিগবান

এক্স-রে স্পেকট্রোস্কোপি আবিষ্কারের জন্য ১৯২৪ সালে সুইডিশ বিজ্ঞানী কার্ল ম্যান সিগবান পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পান। ১৯৮১ সালে তাঁর পুত্র কাই সিগবান উচ্চ-রেজোলিউশন ইলেকট্রন স্পেকট্রোস্কোপি উন্নত করার স্বীকৃতিস্বরূপ একই বিভাগে নোবেল লাভ করেন।

হ্যান্স ও উলফ ভন ইউলার

বাবা হ্যান্স ভন ইউলার-চেলপিন ১৯২৯ সালে এনজাইমের গাঁজন প্রক্রিয়ার ওপর গবেষণার জন্য রসায়নে নোবেল পান। অন্যদিকে তাঁর পুত্র উলফ ভন ইউলার স্নায়ুতন্ত্রের নিউরোট্রান্সমিটার (নোরপাইনফ্রিন) সংক্রান্ত যুগান্তকারী আবিষ্কারের জন্য ১৯৭০ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল লাভ করেন।

আর্থার ও রজার কর্নবার্গ

মার্কিন বিজ্ঞানী আর্থার কর্নবার্গ ১৯৫৯ সালে (উঘঅ) কৃত্রিমভাবে ডিএনএ সংশ্লেষণের পদ্ধতি আবিষ্কারের জন্য চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পান। ৪৭ বছর পর, ২০০৬ সালে তাঁর পুত্র রজার কর্নবার্গ ইউক্যারিওটিক কোষের জিনগত তথ্য প্রতিলিপিকরণ প্রক্রিয়া আবিষ্কারের জন্য রসায়নে নোবেল লাভ করেন।

নিলস জার্নি ও সোভান্তে পাবো

ইমিউন সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণ তত্ত্বের জন্য ১৯৮৪ সালে নিলস জার্নি চিকিৎসায় নোবেল পান। আর ২০২২ সালে বিলুপ্ত হোমিনিন ও মানব বিবর্তনের জিনোম আবিষ্কারের জন্য তাঁর পুত্র সুইডিশ বিজ্ঞানী সোভান্তে পাবো চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল লাভ করেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নোবেল পুরস্কারের ইতিহাসে ক্যুরি পরিবারের অসাধারণ কীর্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০২ পি.এম


নোবেল পুরস্কারের ইতিহাসে ক্যুরি পরিবারের অসাধারণ কীর্তি

নোবেল পুরস্কারের ১২৫ বছরের দীর্ঘ ইতিহাসে একই ব্যক্তির একাধিক নোবেল জয়ের ঘটনা যেমন বিরল, তেমনি একই পরিবারের একাধিক সদস্যের এই সর্বোচ্চ সম্মাননা পাওয়ার নজির আরও বিস্ময়কর। কিছু পরিবার বিশ্বমঞ্চে মেধার এই অনন্য বংশানুক্রমিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বিশেষ করে ফরাসি বিজ্ঞানী ক্যুরি পরিবার বিজ্ঞান ও গবেষণায় যৌথ অবদানের মাধ্যমে নোবেল ইতিহাসে এমন এক অবিস্মরণীয় কীর্তি গড়েছে, যা আজ পর্যন্ত আর কোনো পরিবার স্পর্শ করতে পারেনি।

নোবেল পুরস্কারের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, নোবেল পুরস্কারের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল এবং আলোচিত পরিবার হলো ক্যুরি পরিবার। এই পরিবারটি যৌথ ও এককভাবে মোট ৫টি নোবেল পুরস্কার নিজেদের করে নিয়েছে।

মারি ক্যুরি ও পিয়েরে ক্যুরি (স্বামী-স্ত্রী)

১৯০৩ সালে তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার ও গবেষণার জন্য মারি ক্যুরি এবং তার স্বামী পিয়েরে ক্যুরি যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। এর মাধ্যমে মারি ক্যুরি ইতিহাসের প্রথম নারী নোবেল জয়ী হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।

মারি ক্যুরি (একক রেকর্ড)

স্বামী পিয়েরে ক্যুরির মৃত্যুর পর, ১৯১১ সালে মারি ক্যুরি রসায়নে এককভাবে তার দ্বিতীয় নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তিনি ইতিহাসের একমাত্র ব্যক্তি যিনি দুটি ভিন্ন বিজ্ঞান শাখায় (পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন) নোবেল জয়ের অনন্য রেকর্ডের অধিকারী।

আইরিন ও ফ্রেডেরিক জোলিও-ক্যুরি (কন্যা ও জামাতা)

মারি ও পিয়েরে ক্যুরির জ্যেষ্ঠ কন্যা আইরিন জোলিও-ক্যুরিও বাবা-মায়ের পথ ধরে বিজ্ঞানের আঙিনায় আসেন। ১৯৩৫ সালে কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কারের জন্য আইরিন এবং তার স্বামী ফ্রেডেরিক জোলিও-ক্যুরি যৌথভাবে রসায়নে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

এছাড়া মারি ক্যুরির ছোট মেয়ে ইভ ক্যুরির স্বামী হেনরি ল্যাবৌইসি ১৯৬৫ সালে জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফেট নির্বাহী পরিচালক হিসেবে সংস্থাটির পক্ষে নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণ করেন। সব মিলিয়ে ক্যুরি পরিবারের সাথে ৫টি নোবেল পুরস্কারের সরাসরি সংযোগ রয়েছে।

দম্পতির নোবেল জয়

নোবেল ইতিহাসে অন্যান্য সফল দম্পতি ক্যুরি দম্পতি ও তাদের কন্যা-জামাতা ছাড়াও ইতিহাসে আরও বেশ কয়েকজন স্বামী-স্ত্রী যৌথভাবে নোবেল পাওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।

গার্টি কোরি ও কার্ল কোরি: ১৯৪৭ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানে যৌথভাবে নোবেল পান এই চিকিৎসাবিজ্ঞানী দম্পতি।

মে-ব্রেট মোজার ও এডভার্ড মোজার: ২০১৪ সালে মস্তিষ্কের পজিশনিং সিস্টেম বা ‘অভ্যন্তরীণ জিপিএস’ আবিষ্কারের জন্য চিকিৎসাবিজ্ঞানে যৌথ নোবেল পান নরওয়ের এই দম্পতি।

অভিজিৎ ব্যানার্জি ও এস্থার দুফলো: ২০১৯ সালে বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য বিমোচনে পরীক্ষামূলক পদ্ধতির জন্য অর্থনীতিতে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত অভিজিৎ ব্যানার্জি ও তার স্ত্রী ফরাসি-মার্কিন অর্থনীতিবিদ এস্থার দুফলো।

সূত্র: বাসস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নোয়াখালীতে ৯৫ পিস ইয়াবাসহ ১১ মামলার আসামি গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০২ পি.এম


নোয়াখালীতে ৯৫ পিস ইয়াবাসহ ১১ মামলার আসামি গ্রেপ্তার

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় ৯৫ পিস ইয়াবাসহ ১১টি মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এর মধ্যে দুটি হত্যা মামলাও রয়েছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আহমেদ পেয়ার এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে রোববার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পূর্ব চরমটুয়া ইউনিয়নের সূর্যনারায়ণবহর এলাকায় সিরাজের বাড়ির টিনের ঘরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া আসামির নাম মো. নুরুল ইসলাম মিয়া, যিনি মিয়া ডাকাত নামেও পরিচিত। তার বয়স ৫৪ বছর এবং তিনি পূর্ব চরমটুয়া ইউনিয়নের সূর্যনারায়ণবহর এলাকার মৃত এলাহি বক্সের ছেলে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সুধারাম মডেল থানায় মোট ১১টি নিয়মিত মামলা রয়েছে, যার মধ্যে দুটি হত্যা মামলাও অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া, তিনি পাঁচটি ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পূর্ব চরমটুয়া ইউনিয়নের সূর্যনারায়ণবহর এলাকায় সিরাজের বাড়ির টিনের ঘরে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় তার দেহ তল্লাশি করে ৯৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আহমেদ পেয়ার আরও জানান, গ্রেপ্তার নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সুধারাম থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্ত্রী হত্যার দায়ে সাবেক ‘আমেরিকান আইডল’ প্রতিযোগী ক্যালেব ফ্লিনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৩ পি.এম


স্ত্রী হত্যার দায়ে সাবেক ‘আমেরিকান আইডল’ প্রতিযোগী ক্যালেব ফ্লিনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত সাবেক ‘আমেরিকান আইডল’ প্রতিযোগী ও সংগীত যাজক ক্যালেব ফ্লিনকে তার স্ত্রীকে হত্যার দায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রদান করেছে। তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে জানিয়েছেন, স্ত্রীকে হত্যার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।

৪০ বছর বয়সী ক্যালেব ফ্লিনকে গত সপ্তাহে তার স্ত্রী অ্যাশলি ফ্লিনকে হত্যার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। সোমবার (৫ অক্টোবর) তাকে প্যারোলের সুযোগ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অ্যাশলি ফ্লিন ছিলেন ৩৭ বছর বয়সী একজন স্কুলশিক্ষক ও ভলিবল প্রশিক্ষক। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ওহাইওর ডেটন এলাকার নিজ বাড়িতে গুলিতে নিহত হন তিনি। ঘটনার সময় ফ্লিন ও তাদের দুই মেয়ে বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, অ্যাশলি যখন বিছানায় ছিলেন এবং আত্মরক্ষার কোনো সুযোগ ছিল না, তখন ফ্লিন তাকে গুলি করেন। এরপর তিনি তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করার জন্য নাটক সাজান, যাতে দাবি করেন যে বাড়িতে ডাকাত বা হামলাকারী ঢুকেছিল।

ফ্লিন পুলিশকে ফোন করে জানান, কেউ বাড়িতে ঢুকে গুলি চালিয়েছে। তিনি তদন্তকারীদের বলেন, ঘটনার সময় তিনি বসার ঘরের সোফায় ঘুমাচ্ছিলেন এবং গুলির শব্দে ঘুম ভাঙার পর বিষয়টি জানতে পারেন।

এমনকি হত্যার এক দিন আগে এক ব্যক্তি তাদের বাড়িতে এসে অ্যাশলির হাতে একটি মার্কিন পতাকা দিয়ে ‘আমেরিকা নিয়ে অদ্ভুত বিক্রির কথা’ বলেছিল বলেও দাবি করেছিলেন ফ্লিন।

তবে আদালতে ফ্লিনের প্রেমিকা অ্যালেইঘা বটনার ভিন্ন তথ্য দেন। তিনি জানান, ফ্লিন তার স্ত্রীকে ঘৃণা করার কথা বলেছিলেন এবং তাকে হত্যার চিন্তাও করতেন।

প্রসিকিউটররা আদালতে ফ্লিন ও বটনারের মধ্যে আদান-প্রদান হওয়া এক লাখের বেশি বার্তার তথ্য উপস্থাপন করেন। একই সঙ্গে বটনারকে উদ্দেশ্য করে ফ্লিন তৈরি করেছিলেন বলে দাবি করা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি কিছু ভালোবাসার গানও জুরিদের শোনানো হয়।

মামলার শুনানিতে বিচারক জিনিন প্র্যাট বলেন, ফ্লিন সমাজের জন্য উচ্চ ঝুঁকি তৈরি করেন। সাজা ঘোষণার আগে তিনি বলেন, প্রতারণা, কারসাজি ও নিষ্ঠুরতার যে স্তর এই ঘটনায় দেখা গেছে, তা বোঝা কঠিন। ফ্লিন নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস ব্যবহার করে অন্যদের জীবন নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাবিত করেছেন বলেও মন্তব্য করেন বিচারক।

সাজা ঘোষণার সময় ফ্লিন কাঁদতে কাঁদতে নিজের পরিবার ও অ্যাশলির পরিবারের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, তিনি তার স্ত্রীকে ভালোবাসতেন এবং শেষ পর্যন্ত নিজের নির্দোষ প্রমাণের জন্য লড়াই করে যাবেন।

ফ্লিন তার দুই মেয়েকেও ক্ষমা চান। তিনি জানান, মেয়েরাই তার জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ।

তবে আদালতে উপস্থিত না থাকা দুই মেয়ের লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনানো হয়। তাদের বয়স ছিল ৯ ও ১১ বছর, যখন তাদের মা নিহত হন।

মেয়ে আলিসার চিঠিতে বাবার উদ্দেশে বলা হয়, সে তাকে গভীরভাবে ভালোবাসে। তবে বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে সে জানায়, তিনি শুধু নিজেকেই ভালোবাসার মতো আচরণ করেছেন।

অন্য মেয়ে আভা লিখেছে, বাবার বিচারসংক্রান্ত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বারবার দেখতে হচ্ছে। বাবাকে কষ্ট পেতে দেখে তার কষ্ট হলেও, মাকে হত্যা এবং পরকীয়ার সিদ্ধান্ত বাবাই নিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করে সে।

দুই মেয়েই তাদের বাবাকে মাকে হত্যার কথা স্বীকার করার আহ্বান জানায়। তাদের দাদা-দাদি, মামা ও খালাসহ পরিবারের সদস্যরা জানান, ধর্মীয় বিশ্বাসই তাদের এই শোক কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করছে।

অ্যাশলি ফ্লিনের বোন কায়লা কেইট আদালতে বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, ফ্লিনের এমন ভয়াবহ সহিংসতায় পরিবারের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার বিষয়টি জানার পর তারা এখনো সেই ধাক্কা ও হতাশা কাটিয়ে উঠতে পারেননি।

তিনি বলেন, আমরা আপনাকে বিশ্বাস করেছিলাম। আপনার ওপর আস্থা রেখেছিলাম। সত্যি বলতে, আপনার জন্য আমরা নিজেদের জীবনও দিয়ে দিতে প্রস্তুত ছিলাম।

মিয়ামি কাউন্টির প্রসিকিউটর পল ওয়াটকিনস আদালতে বলেন, ঘটনাটি ছিল ইচ্ছাকৃত সিদ্ধান্ত, যার ফলে একটি অপূরণীয় জীবন শেষ হয়েছে এবং পরিবারে স্থায়ী ধ্বংস নেমে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, ফ্লিন এখন পর্যন্ত নিজের দায় স্বীকার করেননি এবং যে জীবন তিনি শেষ করেছেন, তার জন্য প্রকৃত অনুশোচনাও প্রকাশ করেননি।

তবে সাজা ঘোষণার দিনও ফ্লিন নিজের নির্দোষ দাবি করে বলেন, তিনি স্ত্রীকে হত্যা করেননি এবং যতদিন সৃষ্টিকর্তা তাকে সুযোগ দেবেন, ততদিন নিজের নির্দোষ প্রমাণের জন্য লড়াই চালিয়ে যাবেন।

সূত্র: এনবিসি নিউজ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%