রবিবার, ২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৫৯ পি.এম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্তের ভারতীয় অংশে পড়ে থাকা বাংলাদেশি শিশু মো. শাকিলের (১৪) মরদেহ ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) নিয়ে গেছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার পাশে ভারতীয় অংশের লংকা মোড়া এলাকায় মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখা যায়।
শাকিল দক্ষিণ ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর গ্রামের আবুল বাসার ওরফে মালু মিয়ার পুত্র।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, মানসিকভাবে অসুস্থ শাকিল শুক্রবার থেকে নিখোঁজ ছিল। নিখোঁজের একদিন পর শনিবার সন্ধ্যায় সীমান্তের ভারতীয় অংশে তার মরদেহ দেখতে পাওয়া যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি শাকিলের বলে শনাক্ত করেন।
ঘটনাটি জানাজানি হলে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। মরদেহটি ভারতীয় ভূখণ্ডে অবস্থান করায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও পুলিশের সমন্বয়ে বিএসএফ মরদেহটি নিয়ে যায়।
আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম জানিয়েছেন, শাকিলের মরদেহ ভারতীয় অংশে থাকার কারণে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর আজ বিকালের দিকে মরদেহটি দেশে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হবে। শিশুটি কীভাবে সীমান্তের ওই এলাকায় পৌঁছালো এবং তার মৃত্যু কীভাবে ঘটেছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সরাইল ব্যাটালিয়ন (২৫ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল জাব্বার আহমেদ জানিয়েছেন, মরদেহটি ভারতীয় অংশে অবস্থান করায় বিজিবি-বিএসএফ এবং দুই দেশের পুলিশের আলোচনার মাধ্যমে সেটি ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তসহ প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর নিয়ম অনুযায়ী মরদেহটি দেশে আনা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শুরু হয়েছে আন্তঃবিভাগ ও আন্তঃহল ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০২৬-২৭। উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগ এবং ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটবল মাঠে এই টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এ. এস. এম. সরফরাজ নওয়াজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের সভাপতি, হল প্রভোস্ট, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, এবারের প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬টি বিভাগ ও পাঁচটি ছাত্র হলের শিক্ষার্থীরা। ইতোমধ্যে আয়োজক কমিটি সব বিভাগ ও হলের খেলার সময়সূচি প্রকাশ করেছে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান মন্তব্য করেন, "শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রাখা জরুরি।" তিনি বলেন, "এসব কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিত্ব ও চরিত্র গঠন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মদক্ষতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।"
তিনি আরও বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলোয়াড়রা আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন সময়ে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। এই গৌরবময় ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখতে হবে। খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ জাগ্রত করার পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি আরও সমৃদ্ধ করতে হবে।
উপাচার্য আরও উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সবসময় শিক্ষার্থীদের খেলাধুলাসহ বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে সহযোগিতা করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। শিক্ষার সনদ অর্জনের পাশাপাশি নিজেদের দক্ষ ও যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের এ ধরনের কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে হবে।
সার্বিক বিষয়ে শরীরচর্চা ও শিক্ষা বিভাগের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. শেখ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, "আজ (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় টুর্নামেন্টটি উদ্বোধন করা হয়েছে। আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। নিয়মমাফিক খেলা পরিচালিত হবে বলে আশা করছি।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, যা হাইকোর্টের বিস্ফোরণের ঘটনার পরপরই ঘটে। এই দুই বিস্ফোরণের মধ্যে মাত্র ১৫ মিনিটের ব্যবধান ছিল।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে শিল্পকলা একাডেমির সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির সামনের সড়কে ককটেল বিস্ফোরণের সংবাদ পেয়েছি। বিস্তারিত খোঁজ নিচ্ছি।"
এর আগে, দুপুর সোয়া ১টার দিকে হাইকোর্টের সামনের সড়কে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
শনিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার পর রাজধানীর শাহবাগে তিন নেতার মাজারের পাশে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটেছে। তার আগে সাড়ে ১০টার দিকে কমলাপুর রেলস্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মের একটি নির্জন অংশে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এছাড়া, সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটের দিকে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা এলাকায় একাধিক ককটেল বিস্ফোরিত হয়, যেখানে ইবাদুর রহমান নামে এক অটোরিকশাচালক আহত হন।
ককটেল বিস্ফোরণের এসব ঘটনার পাশাপাশি, শনিবার সন্ধ্যা ও রাতে রাজধানীর মিরপুর, মধ্যবাড্ডা এবং দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে তিনটি বাস ও একটি পিকআপে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে, সন্ধ্যায় মিরপুরে দুটি বাসে এবং মধ্যবাড্ডায় একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার সামনে সড়কের ওপর জব্দ করে রাখা একটি পিকআপে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।
এছাড়া, গত শুক্রবার দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত রাজধানীর অন্তত নয়টি এলাকায় ১৩টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। যাত্রাবাড়ী, মালিবাগ, আগারগাঁও, মহাখালী, বাবুবাজার, মগবাজার, যাত্রাবাড়ী, রামপুরা ও নিউমার্কেট এলাকায় এসব বিস্ফোরণ ঘটে। কাফরুল থানার সামনে একটি ফাঁকা বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।
এদিকে, রাজধানী ঢাকায় দুইদিন ধরে একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার জন্য কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগকে দায়ী করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের ডিসি মোল্লা মো. শাহীন জানিয়েছেন, "আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশে এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতেই রাজধানীতে একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হচ্ছে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কিশোর ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার বিচারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে রাখার পর চার দফা দাবি তুলে তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস পাওয়ার পর রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তারা অবরোধ তুলে নেন।
সকাল ১১টার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি বিশ্বরোড এলাকায় শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ শুরু করেন। এই কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়, ফলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
প্রায় দুই ঘণ্টা পর কুমিল্লার স্থানীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী এবং জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান তাদেরকে বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন। এরপর প্রশাসনের দেওয়া আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
আন্দোলনকারীদের চার দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—অপ্রতিম হত্যার সঙ্গে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তার করে ৬০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করে ফাঁসি কার্যকর করা; কুমিল্লার পুলিশ সুপার, আদর্শ সদর ও সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দায় স্বীকার করে প্রত্যাহার করা; কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার জন্য একটি স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি প্রতিষ্ঠা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রয়োজনীয় দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা; নিখোঁজ ব্যক্তিদের নিরাপত্তার জন্য তাৎক্ষণিক সাড়া প্রদানকারী ইউনিট গঠন করা।
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী অঞ্জন রায় জানান, তারা প্রশাসনের কাছে তাদের দাবিগুলো তুলে ধরেছেন। পুলিশ প্রশাসন তাদের আশ্বাস দেওয়ায় আজকের মতো কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া হলে শিক্ষার্থীরা আবারও কঠোর আন্দোলনে যাবেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি) সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকার একটি মেসে নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. আজমুল হোসেনকে মারধরের পর মৃত্যুর ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীকে এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে আজমুলের বাবা কুতুব উদ্দিন হরিণটানা থানায় মামলা করেন। দণ্ডবিধির ৩০২ (হত্যা) ও ৩৪ (পরস্পর যোগসাজশ) ধারায় মামলাটি করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন।
মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হলের (খাজা হল) বিপরীতে ইসলামনগর সড়কের মসজিদ গলির একটি মেস ভবনে চুরির অভিযোগ তুলে আজমুলকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাকে ভবনের চারতলার ছাদে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। পরে সেখান থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। রাত দেড়টার দিকে কয়েকজন যুবক তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে মেসে মিল না দিয়েও খাবার খাওয়া নিয়ে আজমুলের সঙ্গে কয়েকজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ তোলা হয়। এ অভিযোগের ভিত্তিতে মেসের কয়েকজন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় ব্যক্তি তাকে মারধর করে ছাদে নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনাস্থলে আজমুলকে নির্যাতন ও চড়-থাপ্পড়ের পাশাপাশি তার মাথার চুল একপাশ দিয়ে কেটে দেওয়ার আলামতও পাওয়া গেছে। পরে তিনি ভবনের নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আজমুলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। হাসপাতালে নেওয়ার কিছুক্ষণ পরই তার মৃত্যু ঘটে। প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
নিহত আজমুল হোসেন নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার বড় শলুয়া গ্রামে। তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মসজিদ গলির ওই মেসে ভাড়া থাকতেন।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার সময় আজমুলকে আটকে রেখে তার পরিবারের কাছে ফোন করে চুরির ক্ষতিপূরণ বাবদ এক লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল। টাকা চাওয়ার পরপরই ফোন নম্বরটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে পুলিশ জানিয়েছে, এ অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, আজমুলকে কীভাবে মারধর করা হয়েছিল, মারধরের পর তাকে ছাদ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছিল কি না, নাকি অন্য কোনোভাবে তিনি নিচে পড়ে গিয়েছিলেন—এসব বিষয় তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামত বিশ্লেষণ করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
হরিণটানা থানার ওসি মো. ইকবাল হোসেন বলেন, মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা সবাই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এছাড়া অজ্ঞাত আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুরো ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আগের বিরোধের বিষয়ে ওসি বলেন, মেসের মধ্যে তাদের আগে থেকেই ঝামেলা চলছিল বলে আমরা জানতে পেরেছি। অন্যের পোশাক ব্যবহারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ ছিল।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সংবাদ প্রকাশের সময় পর্যন্ত এ ঘটনায় এজাহারভুক্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তবে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ