ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভারী বর্ষণে সড়ক যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত


ভারী বর্ষণে সড়ক যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত

টানা ছয় দিনের ভারী বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের রুমা উপজেলায় সড়ক যোগাযোগ এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

পাহাড় ধস, সড়ক ভেঙে যাওয়া এবং সাঙ্গু নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার কারণে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। শতাধিক পরিবার এখনো আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে।

৬ জুলাই থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টির ফলে উপজেলার বেথেলপাড়া থেকে মুনমামপাড়া পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ সড়কের বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধস এবং মাটি সরে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

এই কারণে, ওই সড়কে যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। একইভাবে, রুমা-বগালেক-কেওক্রাডং সড়কের একাধিক স্থানে পাহাড় ধসের ফলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

এছাড়া, গত ৮ জুলাই থেকে রুমা-বান্দরবান সড়কও বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে। সড়কের অন্তত তিনটি স্থানে পাহাড় ধসে রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে এবং বিভিন্ন স্থানে মাটি ধসে বড় আকারের গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বান্দরবান জেলা সদরের সঙ্গে রুমার সব ধরনের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

গত শনিবার থেকে মোবাইল নেটওয়ার্ক আংশিকভাবে সচল হলেও, এখনো বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। জেলা সদরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কবে নাগাদ পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেনি।

এদিকে, বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে রুমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিজা আক্তার বিথী বন্যাকবলিত এলাকা এবং ভাঙনকবলিত স্থান পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজ-খবর নিচ্ছেন।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে, আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা শতাধিক পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার এবং রান্না করা খাবার বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। সেনাবাহিনীও দুর্গত মানুষের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান করছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল আল হাসান জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত পরিবারগুলোর জন্য চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং স্বাস্থ্যসেবাও প্রদান করা হচ্ছে।

রুমা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অংসিনু বাসসকে বলেন, টানা বৃষ্টির ফলে সাঙ্গু নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় নদী তীরবর্তী এলাকার সবজি ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। পাশাপাশি, পাহাড় ধসে জুমচাষ এবং বিভিন্ন ফলবাগানেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে কৃষকরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

রুমা বাজারের মারমা লাইনের বাসিন্দা বাসন্তী দাস জানান, গত ৭ জুলাই রাত থেকে তার ভাড়া বাসা বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। কবে বাড়িতে ফিরতে পারবেন, তা তিনি জানেন না। একই ধরনের দুর্ভোগে রয়েছেন আরও অনেক পরিবার।

আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার

স্থানীয় বাসিন্দা মেচিংথুই জানান, বন্যার সময় তার ঘর পানিতে তলিয়ে যাওয়ার কারণে টানা দুই দিন খাবার জোটেনি। বর্তমানে পানি কমতে শুরু করায় তিনি ঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজ করছেন।

সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার ফলে রুমা বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে, চাল, ডাল, তেল, সবজিসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। এতে সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার, বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন এবং দুর্গত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ ও পুনর্বাসন সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এসআরবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীকে অপহরণ, পুলিশ উদ্ধার অভিযান

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বোয়ালখালীতে ২০০ পরিবারকে পৌর প্রশাসকের ত্রাণ সহায়তা প্রদান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:০৬ পি.এম


বোয়ালখালীতে ২০০ পরিবারকে পৌর প্রশাসকের ত্রাণ সহায়তা প্রদান

বোয়ালখালী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে বাসিন্দা রহিমা বেগমের একমাত্র ছেলে মো. সাইফুদ্দিন রিকশা চালালে খাবার জোটে।

কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে তিনি গাড়ি নিয়ে বের হতে পারছেন না। তিনি জ্বর সর্দিতে ভুগছেন। এই মা-ছেলের সংসারে মো. সাইফুদ্দিনই একমাত্র উপার্জনকারী। হাতেপাতে যা ছিল, তা সবকিছুই তিনি ঔষধপত্রে খরচ করে ফেলেছেন।

আজ রোববার এই পরিস্থিতিতে রহিমার হাতে ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেন পৌর প্রশাসক কানিজ ফাতেমা। এদিন রহিমার মতো মোট ২০০ পরিবারের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন তিনি।

রহিমা বেগম বলেন, অঝোরে বৃষ্টি ঝরছে। উঠোনের পানি নামার কোন উপায় নেই, রাস্তা-ঘাটে চলা দায় হয়ে পড়েছে। বিপজ্জনক সাপ জোঁকের ভয় তো আছেই। রান্নার জন্য ঘরে কিছুই নেই।

তিনি আরো জানান, পৌর প্রশাসক বৃষ্টির মধ্যেও তার ঘরে এসে খোঁজ খবর নিয়েছেন। তিনি চাল, ডাল, তেলসহ মুড়ি, বিস্কুট ও চিড়া প্রদান করেছেন। এসব পাওয়ার মাধ্যমে অন্তত কয়েকদিন চলতে পারবো।

গত বুধবার থেকে ঝড় বাদল উপেক্ষা করে পৌর প্রশাসক অসহায় পরিবারের কাছে চাল, ডাল, তেলসহ শুকনো খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন।

রোববার পৌরসভার ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পানিবন্দী প্রায় ২০০ পরিবারের কাছে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন পৌর প্রশাসক কানিজ ফাতেমা।

তিনি উল্লেখ করেন, ভারী বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে পৌর এলাকায় এই পরিবারগুলো পানিবন্দী রয়েছে এবং তাদের দ্রুততম সময়ে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছানো হচ্ছে। এছাড়া যদি কোনো পরিবারের খরচের অবস্থা খারাপ হয়, তাও আমাদের কাছে এসেছে, সেক্ষেত্রে খাদ্য সামগ্রী তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৫ এমপি ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে যাচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:০৮ পি.এম


৫ এমপি ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে যাচ্ছে

দেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে গাজীপুর জেলা একটি অনন্য ও মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। জেলার পাঁচটি আসনের সকল সংসদ সদস্য (এমপি) তাদের এক মাসের সম্পূর্ণ মূল বেতন এবং জেলার সব সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের একদিনের মূল বেতন প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে দান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

রোববার (১২ জুলাই) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া।

দুপুরে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির নির্ধারিত সভা চলাকালীন গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এ কে এম ফজলুল হক মিলন বন্যা দুর্গতদের সহায়তায় তার সংসদ সদস্য হিসেবে প্রাপ্য এক মাসের পুরো মূল বেতন প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দেয়ার ঘোষণা দেন।

একই সঙ্গে তিনি সভায় উপস্থিত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে একদিনের বেতন প্রদানের আহ্বান জানান।

তার এ আহ্বানে তাৎক্ষণিকভাবে গভীর সংহতি প্রকাশ করেন জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে সভায় উপস্থিত জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানগণও স্ব-স্ব দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ উদ্যোগে অংশ নেয়ার বিষয়ে সহমত পোষণ করেন।

জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, সভায় অনুপস্থিত অন্য সংসদ সদস্যদের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তারাও এ উদ্যোগে শরিক হন।

এক মাসের মূল বেতন দানকারী সংসদ সদস্যরা হলেন; গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান, গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম মঞ্জুরুল করিম রনি, গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দীন আইয়ুবী, গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগের এ ক্রান্তিকালে আগামী ৩ কর্মদিবসের মধ্যে গাজীপুর জেলা প্রশাসনের সার্বিক সমন্বয়ের মাধ্যমে জেলার সকল সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একদিনের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হবে। সংগৃহীত এ অর্থ দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রেরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক (যুগ্ম সচিব) মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া জানিয়েছেন, গাজীপুর একটি বিশেষ জেলা হিসেবে জেলা প্রশাসন এ অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এ যৌথ অবদান দেশের অন্যান্য অঞ্চলের জন্য একটি উজ্জ্বল ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন; গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালমা খাতুন, মহানগর পুলিশ ও র‍্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানগণ এবং সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রী বাস্তুহারাদের ঘর নির্মাণ করতে চান : বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:১০ পি.এম


প্রধানমন্ত্রী বাস্তুহারাদের ঘর নির্মাণ করতে চান : বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, পাহাড়ের পাদদেশে যারা বসবাস করছেন, তাদের বোঝাতে হবে এবং যদি তাদের বুঝিয়ে বিকল্প জায়গায় বসবাস করতে দিতে পারি, তাহলে সেটিই হবে স্থায়ী সমাধান। প্রধানমন্ত্রী বাস্তুহারাদের জন্য বিকল্প জমিতে ঘর নির্মাণ করে দিতে আগ্রহী, এই বিষয়ে সংসদে আলোচনা হয়েছে।

আজ রোববার, জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে জেলার দপ্তর প্রধানদের সাথে মতবিনিময় সভা শেষে, উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।

আজ এক তথ্য বিবরণীতে এর তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ধৈর্য ধরে দুর্যোগ মোকাবেলা করতে হবে। সরকার সবসময় দুর্গত মানুষের পাশে রয়েছে। যদি প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজসহ সবাই মিলে একযোগে সচেতনতা তৈরি করতে পারেন, তাহলে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় কোন ঘাটতি থাকলে সংশ্লিষ্টদের জানানোর জন্য তিনি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দুর্গম এলাকায় সশস্ত্র বাহিনী এবং মাঠ পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), জেলা প্রশাসক ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিরলসভাবে কাজ করছেন, যা আমরা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছি। সবার সহযোগিতায় আমরা এই দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে চাই।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দুর্যোগ শেষে সকলেই বাড়িতে ফিরবে, কিন্তু বাসাবাড়ি আগের মতো থাকবে না। ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলো মেরামতের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করবো। এটি আমাদের জনগণের কাছে একটি ওয়াদা।

এ সময় রাঙ্গামাটি জেলার সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব এবং সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হয়রানি নাকি দুর্নীতি: দুদকে আসা অভিযোগের আসল কাহিনী কী?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:১৩ পি.এম


হয়রানি নাকি দুর্নীতি: দুদকে আসা অভিযোগের আসল কাহিনী কী?

দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) শত শত অভিযোগ জমা পড়ছে। কিন্তু এর একটি বড় অংশ অনুসন্ধানের জন্য আমলে নেয়া হচ্ছে না।

তথ্য অনুযায়ী, দুদকে আসা অভিযোগের প্রায় ৮১ শতাংশ বাতিল হয়ে যায়। সর্বশেষ ২০২৫ সালে জমা পড়া প্রায় ১৪ হাজার অভিযোগের মধ্যে মাত্র আড়াই হাজার অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য গ্রহণ করেছে সংস্থাটি।

দুদক কর্তৃপক্ষের দাবি, অধিকাংশ অভিযোগই ব্যক্তিগত বিরোধ, হয়রানিমূলক বা দুদকের এখতিয়ারভুক্ত নয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিযোগ বাছাইয়ে সতর্ক ও নিরপেক্ষ হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে এবং মিথ্যা অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

দুদক সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন দেশের নানা প্রান্ত থেকে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট তথ্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত বিরোধ বা প্রতিশোধ নেয়ার হাতিয়ার হিসেবেও অনেকে অভিযোগ জমা দিচ্ছেন।

সম্প্রতি, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে তার বাবার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে চাকরিতে অনৈতিক সুবিধা নেয়ার একটি অভিযোগ আসে। অন্যদিকে, শরিফুল ইসলামের বাবা মোশাররফ হোসেন নিজেকে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে এই অভিযোগকে ষড়যন্ত্র আখ্যা দেন এবং এর সুষ্ঠু তদন্ত চান।

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, লাল মুক্তিবার্তা, সমন্বিত মুক্তিযোদ্ধার তালিকা এবং ভাতাভোগী মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় মোশাররফ হোসেনের নাম রয়েছে। সরকারি নথি অনুযায়ী, তাকে অমুক্তিযোদ্ধা বলার সুযোগ নেই। লাল মুক্তিবার্তার নাম থাকা পর্যন্ত তিনি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবেই বিবেচিত হবেন।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সংস্থাটিতে মোট ১৩ হাজার ৮৭৭টি অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে অনুসন্ধানের জন্য গ্রহণ করা হয়েছে মাত্র আড়াই হাজার অভিযোগ। বাকি ১১ হাজার ৩৭৭টি অভিযোগ ব্যক্তিগত, পারিবারিক, হয়রানিমূলক অথবা দুদকের এখতিয়ারবহির্ভূত হওয়ায় নথিজাত বা বাতিল করা হয়েছে।

দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আক্তারুল ইসলাম এই বিষয়ে বলেন, ব্যক্তিগত রেষারেষি, ঝগড়া-বিবাদ বা জমিজমা সংক্রান্ত প্রচুর অভিযোগ দুদকে আসে। যেহেতু দুদকের তফসিলভুক্ত নয়, স্বাভাবিকভাবেই এসব অভিযোগের অধিকাংশ বাদ পড়ে যায়।

দুদকের এই অভিযোগ যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলেছেন দুর্নীতিবিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক জেলা জজ ড. শাহজাহান সাজু। তিনি বলেছেন, অভিযোগ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কমিশনকে আরও সতর্ক ও নিরপেক্ষ হতে হবে। প্রতিটি অভিযোগ ভালোভাবে যাচাই করার পর তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। কারণ, মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে তদন্তের জন্য ডাকা হলে ওই ব্যক্তির আর্থিক, সামাজিক ও মানসিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।

এছাড়াও, সামাজিক হয়রানি বন্ধে মিথ্যা অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন এই আইন বিশেষজ্ঞ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%