১০:১৩ পি.এম
দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) শত শত অভিযোগ জমা পড়ছে। কিন্তু এর একটি বড় অংশ অনুসন্ধানের জন্য আমলে নেয়া হচ্ছে না।
তথ্য অনুযায়ী, দুদকে আসা অভিযোগের প্রায় ৮১ শতাংশ বাতিল হয়ে যায়। সর্বশেষ ২০২৫ সালে জমা পড়া প্রায় ১৪ হাজার অভিযোগের মধ্যে মাত্র আড়াই হাজার অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য গ্রহণ করেছে সংস্থাটি।
দুদক কর্তৃপক্ষের দাবি, অধিকাংশ অভিযোগই ব্যক্তিগত বিরোধ, হয়রানিমূলক বা দুদকের এখতিয়ারভুক্ত নয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিযোগ বাছাইয়ে সতর্ক ও নিরপেক্ষ হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে এবং মিথ্যা অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া উচিত।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
দুদক সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন দেশের নানা প্রান্ত থেকে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট তথ্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত বিরোধ বা প্রতিশোধ নেয়ার হাতিয়ার হিসেবেও অনেকে অভিযোগ জমা দিচ্ছেন।
সম্প্রতি, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে তার বাবার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে চাকরিতে অনৈতিক সুবিধা নেয়ার একটি অভিযোগ আসে। অন্যদিকে, শরিফুল ইসলামের বাবা মোশাররফ হোসেন নিজেকে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে এই অভিযোগকে ষড়যন্ত্র আখ্যা দেন এবং এর সুষ্ঠু তদন্ত চান।
জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, লাল মুক্তিবার্তা, সমন্বিত মুক্তিযোদ্ধার তালিকা এবং ভাতাভোগী মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় মোশাররফ হোসেনের নাম রয়েছে। সরকারি নথি অনুযায়ী, তাকে অমুক্তিযোদ্ধা বলার সুযোগ নেই। লাল মুক্তিবার্তার নাম থাকা পর্যন্ত তিনি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবেই বিবেচিত হবেন।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সংস্থাটিতে মোট ১৩ হাজার ৮৭৭টি অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে অনুসন্ধানের জন্য গ্রহণ করা হয়েছে মাত্র আড়াই হাজার অভিযোগ। বাকি ১১ হাজার ৩৭৭টি অভিযোগ ব্যক্তিগত, পারিবারিক, হয়রানিমূলক অথবা দুদকের এখতিয়ারবহির্ভূত হওয়ায় নথিজাত বা বাতিল করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আক্তারুল ইসলাম এই বিষয়ে বলেন, ব্যক্তিগত রেষারেষি, ঝগড়া-বিবাদ বা জমিজমা সংক্রান্ত প্রচুর অভিযোগ দুদকে আসে। যেহেতু দুদকের তফসিলভুক্ত নয়, স্বাভাবিকভাবেই এসব অভিযোগের অধিকাংশ বাদ পড়ে যায়।
দুদকের এই অভিযোগ যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলেছেন দুর্নীতিবিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক জেলা জজ ড. শাহজাহান সাজু। তিনি বলেছেন, অভিযোগ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কমিশনকে আরও সতর্ক ও নিরপেক্ষ হতে হবে। প্রতিটি অভিযোগ ভালোভাবে যাচাই করার পর তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। কারণ, মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে তদন্তের জন্য ডাকা হলে ওই ব্যক্তির আর্থিক, সামাজিক ও মানসিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।
এছাড়াও, সামাজিক হয়রানি বন্ধে মিথ্যা অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন এই আইন বিশেষজ্ঞ।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন