বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:৩১ পি.এম
মেট্রোরেল রুটের ২৭টি ত্রুটিপূর্ণ বিয়ারিং প্যাডকে ‘ক্রিটিক্যাল’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে রুটের ৪৬টি পিয়ারে বিভিন্ন মাত্রায় ফাটল বা ক্র্যাক শনাক্ত হয়েছে। এসব ত্রুটি মোকাবিলায় ২৭টি বিয়ারিং প্যাড আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে প্রতিস্থাপন এবং ফাটলযুক্ত পিয়ারগুলো পরীক্ষা ও মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এসব তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে এ প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়।
মন্ত্রী জানান, সেফটি অডিট কমিটির প্রতিবেদনে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল রুটের ৭৩০টি বিয়ারিং প্যাড পরীক্ষা করা হয়েছে। সবগুলোকে ক্রিটিক্যাল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। ১৪৭টি প্যাডের ত্রুটি ‘মাইনর’ হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। আরও ২৯৭টি প্যাডের ত্রুটি মূলত স্থাপন ওয়ার্কম্যানশিপ সংক্রান্ত। আর ২৭টি বিয়ারিং প্যাডকে ক্রিটিক্যাল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সেফটি অডিট কমিটির প্রতিবেদনে ৪৬টি পিয়ারেও বিভিন্ন মাত্রায় ক্র্যাক বা ফাটলের কথা উঠে এসেছে। এসব ফাটলের ঝুঁকি নিরূপণ এবং মেরামতের কৌশল ঠিক করতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েটকে স্ট্রাকচারাল কনসালট্যান্ট হিসেবে নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে।
ফাটল পরিমাপ ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণের জন্য ১০২টি স্থানে ‘স্ট্রাকচারাল ক্র্যাক গেজ’ বসানো হচ্ছে। পাশাপাশি বিয়ারিং প্যাডের স্থানচ্যুতির মতো সমস্যা হতে পারে এমন ১০টি ক্ষেত্রে স্টিল ব্র্যাকেট স্থাপন করা হয়েছে। ২৭টি বিয়ারিং প্যাডে বসানো হয়েছে সেটেলমেন্ট মার্কার।
মেট্রোরেলের নিরাপত্তা অডিট কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে এসব কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে সংসদে জানান মন্ত্রী। নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী ক্রিটিক্যাল হিসেবে চিহ্নিত ২৭টি বিয়ারিং প্যাড ৩০ নভেম্বরের মধ্যে প্রতিস্থাপন করার কথা রয়েছে।
সংসদে কর্ণফুলী টানেল নিয়েও তথ্য দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী। চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, টানেলকে কেন্দ্র করে আগে যেসব বিনিয়োগের সম্ভাবনা চিহ্নিত করা হয়েছিল, নানা কারণে সেগুলো যথাসময়ে বাস্তবায়ন করা যায়নি।
বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কর্ণফুলী টানেলকে ঘিরে শিল্পায়ন ও বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা তৈরিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। টানেলটিকে শুধু যোগাযোগ অবকাঠামো হিসেবে নয়, দক্ষিণ চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিল্পায়ন, পর্যটন বিকাশ এবং আঞ্চলিক ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছে ১০ হাজার ২৫৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা। প্রকল্পটির নির্মাণ ও বাস্তবায়ন নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন, দুদক তদন্ত করছে।
সংসদে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন, বিআরটিসির মোট বাস রয়েছে ১ হাজার ২৯৮টি। এর মধ্যে সচল ১ হাজার ১৭২টি এবং অচল ১২৬টি।
বিআরটিসির ট্রাক রয়েছে ৫২৫টি। এর মধ্যে ৪৯৪টি সচল এবং ৩১টি অচল।
ঢাকা, বগুড়া ও চট্টগ্রাম শহরে ১৩টি রুটে বর্তমানে ১৪টি মহিলা বাস বা ‘পিংক বাস’ সার্ভিস পরিচালিত হচ্ছে। সারা দেশে এই সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আরও ১০০টি ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল বা ইভি আমদানির কার্যক্রম চলছে বলে জানান মন্ত্রী।
সংসদে সড়ক পরিবহন আইন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আইন অনুযায়ী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে অযান্ত্রিক যান হিসেবে গণ্য করা হয়। জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে এসব অটোরিকশা চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
সড়ক ও মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৫৫ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা হয়েছে। একই সময়ে ৮১ কিলোমিটার নতুন ফ্লেক্সিবল পেভমেন্ট এবং ৫৯ কিলোমিটার রিজিড পেভমেন্ট নির্মাণ করা হয়েছে।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী জানান, ওই অর্থবছরে ২৫৯ দশমিক ৫৩ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্ত করা হয়েছে। ১৫৮ কিলোমিটার সড়ক শক্তিশালীকরণ এবং ২৫৮ কিলোমিটার মহাসড়ক পুনঃপৃষ্ঠায়নের কাজ শেষ হয়েছে।
এ সময়ে ৪ হাজার ৫৮৮ মিটার দৈর্ঘ্যের ৫৮টি সেতু এবং ১ হাজার ১৫২ মিটার দৈর্ঘ্যের ২১৪টি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ৭০০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি ফ্লাইওভার, ৪২ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি ওভারপাস এবং মোট ২১ দশমিক ৩৫ মিটার দৈর্ঘ্যের দুটি আন্ডারপাস নির্মাণ করা হয়েছে।
বর্তমানে ১৫ হাজার ৮৫১ কোটি ৮ লাখ টাকা এডিপি বরাদ্দে সড়ক পরিবহন ও সেতু খাতের ৯৫টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে বলে সংসদে জানান মন্ত্রী।
সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের জবাবে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন জানান, দেশে বর্তমানে নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত ২৭ হাজার ১৮২টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিনের প্রশ্নের জবাবে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, দেশে বছরে বস্ত্রের চাহিদা প্রায় ৮০০ কোটি মিটার। এর মধ্যে নীট কাপড়ের চাহিদা ৪০০ কোটি মিটার এবং ওভেন কাপড়ের চাহিদাও ৪০০ কোটি মিটার।
দেশে নীট কাপড়ের ঘাটতি প্রায় ১০ শতাংশ। আর ওভেন কাপড়ের ঘাটতি প্রায় ৬০ শতাংশ বলে জানান তিনি।
বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আলীমের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে পাটকল রয়েছে ২৬৬টি। এর মধ্যে ১৯৩টি পাটকল চালু রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের বাসাইলে দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত হয়েছেন হানিফ শেখ (৩৭), যিনি সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া এক আনসার সদস্য।
এই ঘটনা ঘটেছে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে, উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের বিলপাড়া এলাকায়। পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজন হলেন, হাবলা উত্তর পাড়ার মৃত মুক্তার আলীর ছেলে, ডায়মন্ড (৩৮) এবং অপরজন একই গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে মদদ মিয়া (৪৩)। নিহত হানিফ শেখ ছিলেন হাবলা উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা বক্তার আলী খানের সন্তান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে বিলপাড়া বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা হানিফের ওপর হামলা করে। হামলাকারীরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে আঘাত করে এবং পরে পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় হানিফকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান, যেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ বক্সের ইনচার্জ (এএসআই) মো. আতিকুর রহমান জানান, হানিফ নামের সাময়িক বরখাস্ত হওয়া আনসার সদস্যকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। পরে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর কবীর এ বিষয়ে বলেন, ঘটনার পর সন্দেহভাজন দুইজনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বুধবার টাঙ্গাইল কোটে প্রেরণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার রাতেই নিহতের স্ত্রী মনিরা সুলতানা ২০ জনকে আসামি করে বাসাইল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) অনুমতি ছাড়া সড়ক ও মহাসড়কে স্লিপার বাসের চলাচল নিষিদ্ধ করার নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট। স্লিপার বাস চালানোর অনুমতি চেয়ে বাস মালিক সমিতির করা আবেদনের প্রতি আদালত সাড়া দেয়নি। বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এই আদেশ প্রদান করেন।
আদালত উল্লেখ করেছেন, বিআরটিএ যেসব বাসকে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে, কেবল সেসব বাসই সড়কে চলাচল করতে পারবে। এর ফলে বিআরটিএর অনুমোদন ছাড়া স্লিপার বাস চালানোর কোনো সুযোগ নেই।
স্লিপার বাস চালানোর অনুমতি চেয়ে স্লিপার বাস মালিক অ্যাসোসিয়েশন আদালতে আবেদন করেছিল। শুনানির সময় বিআরটিএর পক্ষ থেকে এ ধরনের বাস চলাচলের অনুমোদন এবং বিদ্যমান আইনি কাঠামোর বিষয়টি তুলে ধরা হয়। আদালতে বিআরটিএর পক্ষ থেকে একটি প্রতিবেদনও উপস্থাপন করা হয়।
বিআরটিএর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. রাফিউল ইসলাম। তিনি জানান, স্লিপার বাস মালিক অ্যাসোসিয়েশন মহাসড়কে স্লিপার বাস চালানোর অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিল। এ সময় তিনি সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর বিধানগুলো আদালতের সামনে উপস্থাপন করেন।
রাফিউল ইসলাম আরও জানান, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৪০-এ ধারায় যানবাহনের কারিগরি বৈশিষ্ট্য বা টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন নির্ধারণ করা হয়েছে। যদি কোনো যানবাহন নির্ধারিত কারিগরি বৈশিষ্ট্য লঙ্ঘন করে, তাহলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এই ধরনের অপরাধের জন্য আইন ৮৪ ধারায় সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড এবং তিন লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।
এছাড়া, সড়ক পরিবহন আইনের ২৮ ধারায় রুট পারমিট ছাড়া কোনো গাড়ি সড়কে চলাচল করতে পারবে না, এই বিষয়টিও আদালতকে জানান বিআরটিএর আইনজীবী।
শুনানি শেষে আদালতের অবস্থান তুলে ধরে রাফিউল ইসলাম বলেন, বিআরটিএ যেসব বাসের চলাচলের অনুমতি দিয়েছে, সেগুলোই কেবল সড়কে চলতে পারবে। স্লিপার বাসের চলাচলের অনুমতি নেই এবং এ বিষয়ে হাইকোর্টও কোনো অনুমতি দেয়নি।
অর্থাৎ, আদালতে আবেদন করলেই মহাসড়কে স্লিপার বাস চালানোর অনুমতি পাওয়া যাবে না। বিআরটিএর প্রয়োজনীয় অনুমোদন, রুট পারমিট এবং সংশ্লিষ্ট কারিগরি শর্ত পূরণ করেই এসব বাস পরিচালনা করতে হবে।
আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাডভোকেট হুজ্জাতুল ইসলাম আল ফেসানি। তিনি জানান, মহাসড়কে স্লিপার বাস চলাচলের অনুমতি সংক্রান্ত বিআরটিএর একটি প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত বিআরটিএ অনুমোদিত বাস চলাচলের বিষয়টি স্পষ্ট করেন।
এর আগে মহাসড়কে স্লিপার বাস চলাচলের বৈধতা নিয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছিল। আবেদনে সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরে অননুমোদিত স্লিপার বাস চলাচল বন্ধে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল। শুনানি শেষে আদালত অনুমোদনহীন বাস চলাচলের সুযোগ না দেওয়ার অবস্থান স্পষ্ট করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইল প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ইনডোর গেমের পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার(৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শহরের বটতলাস্থ প্রিমিওপ্লাজায় এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম ওবায়দুল হক নাসির।
প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) সুমাইয়া মমিন, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী শামসুন্নাহার স্বপ্না, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এইচএম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী এবং জেলা সিনিয়র তথ্য অফিসার তাহলিমা জান্নাত।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শামসাদুল আখতার শামীম, সাধারণ সম্পাদক মহব্বত হোসেন, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ও প্রথমআলোর প্রতিনিধি কামনাশীষ শেখর, সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক জনকণ্ঠের প্রতিনিধি ইফতেখারুল অনুপম প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু জুবায়ের উজ্জল এবং নাহার চাকলাদার।
প্রধান অতিথি এসএম ওবায়দুল হক নাসির তাঁর বক্তব্যে বলেন, "সাংবাদিকরা লেখনির মাধ্যমে সমাজকে পথ দেখায়।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সাংবাদিক ভাইরা সমাজের সকল প্রকার অসঙ্গতি তুলে ধরে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত আধুনিক টাঙ্গাইল গড়তে বিশেষ ভূমিকা পালন করবেন।
তিনি বলেন, "গুজব সব সময় মানুষের অকল্যাণ বয়ে আনে, গুজব প্রতিহত করতে স্ব স্ব অবস্থান থেকে সবারই সোচ্চার হতে হবে।" পরে অনুষ্ঠানে প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের ইনডোর গেমসে বিজয়ী ও বিজিতদের মাঝে অতিথিরা পুরষ্কার তুলে দেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সরকারি দপ্তরের নথিপত্র, সারসংক্ষেপ এবং যোগাযোগে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর পদবির আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ বা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে কার্যকর করার জন্য সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং এর অধীন দপ্তর ও সংস্থাকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাধারণ অধিশাখা থেকে এ বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করা হয়। এই পরিপত্রে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব তানিয়া আফরোজ সই করেছেন।
পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের সঙ্গে দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ উপস্থাপনের সময় তাঁদের পদবির আগে সম্মানসূচক শব্দ হিসেবে যথাক্রমে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ লিখিতভাবে ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ, সরকারি চিঠিপত্র, অফিস আদেশ, নোট, প্রতিবেদন, সারসংক্ষেপসহ বিভিন্ন দাপ্তরিক নথিতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের পদবি লেখার আগে অতিরিক্ত সম্মানসূচক বিশেষণ যুক্ত করা যাবে না।
এ নির্দেশনার আওতায় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের পদবি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সরকারি দাপ্তরিক যোগাযোগে তাঁদের পদ ও দায়িত্বকে সরাসরি উল্লেখ করার রীতি অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
পরিপত্রে সরকারের সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং এর অধীন সব দপ্তরের দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ প্রেরণের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত অনুসরণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব সচিবকে তাঁদের নিয়ন্ত্রণাধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে বলা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পরিপত্রের অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সব সিনিয়র সচিব ও সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং প্রধান তথ্য কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
সরকারি নথিপত্র ও দাপ্তরিক যোগাযোগে পদবি ব্যবহারের ক্ষেত্রে অভিন্ন রীতি নিশ্চিত করতেই এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিপত্রে বিষয়টিকে অতীব গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে সিদ্ধান্তটি অনতিবিলম্বে কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ