বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:৩২ পি.এম
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) অনুমতি ছাড়া সড়ক ও মহাসড়কে স্লিপার বাসের চলাচল নিষিদ্ধ করার নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট। স্লিপার বাস চালানোর অনুমতি চেয়ে বাস মালিক সমিতির করা আবেদনের প্রতি আদালত সাড়া দেয়নি। বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এই আদেশ প্রদান করেন।
আদালত উল্লেখ করেছেন, বিআরটিএ যেসব বাসকে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে, কেবল সেসব বাসই সড়কে চলাচল করতে পারবে। এর ফলে বিআরটিএর অনুমোদন ছাড়া স্লিপার বাস চালানোর কোনো সুযোগ নেই।
স্লিপার বাস চালানোর অনুমতি চেয়ে স্লিপার বাস মালিক অ্যাসোসিয়েশন আদালতে আবেদন করেছিল। শুনানির সময় বিআরটিএর পক্ষ থেকে এ ধরনের বাস চলাচলের অনুমোদন এবং বিদ্যমান আইনি কাঠামোর বিষয়টি তুলে ধরা হয়। আদালতে বিআরটিএর পক্ষ থেকে একটি প্রতিবেদনও উপস্থাপন করা হয়।
বিআরটিএর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. রাফিউল ইসলাম। তিনি জানান, স্লিপার বাস মালিক অ্যাসোসিয়েশন মহাসড়কে স্লিপার বাস চালানোর অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিল। এ সময় তিনি সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর বিধানগুলো আদালতের সামনে উপস্থাপন করেন।
রাফিউল ইসলাম আরও জানান, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৪০-এ ধারায় যানবাহনের কারিগরি বৈশিষ্ট্য বা টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন নির্ধারণ করা হয়েছে। যদি কোনো যানবাহন নির্ধারিত কারিগরি বৈশিষ্ট্য লঙ্ঘন করে, তাহলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এই ধরনের অপরাধের জন্য আইন ৮৪ ধারায় সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড এবং তিন লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।
এছাড়া, সড়ক পরিবহন আইনের ২৮ ধারায় রুট পারমিট ছাড়া কোনো গাড়ি সড়কে চলাচল করতে পারবে না, এই বিষয়টিও আদালতকে জানান বিআরটিএর আইনজীবী।
শুনানি শেষে আদালতের অবস্থান তুলে ধরে রাফিউল ইসলাম বলেন, বিআরটিএ যেসব বাসের চলাচলের অনুমতি দিয়েছে, সেগুলোই কেবল সড়কে চলতে পারবে। স্লিপার বাসের চলাচলের অনুমতি নেই এবং এ বিষয়ে হাইকোর্টও কোনো অনুমতি দেয়নি।
অর্থাৎ, আদালতে আবেদন করলেই মহাসড়কে স্লিপার বাস চালানোর অনুমতি পাওয়া যাবে না। বিআরটিএর প্রয়োজনীয় অনুমোদন, রুট পারমিট এবং সংশ্লিষ্ট কারিগরি শর্ত পূরণ করেই এসব বাস পরিচালনা করতে হবে।
আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাডভোকেট হুজ্জাতুল ইসলাম আল ফেসানি। তিনি জানান, মহাসড়কে স্লিপার বাস চলাচলের অনুমতি সংক্রান্ত বিআরটিএর একটি প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত বিআরটিএ অনুমোদিত বাস চলাচলের বিষয়টি স্পষ্ট করেন।
এর আগে মহাসড়কে স্লিপার বাস চলাচলের বৈধতা নিয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছিল। আবেদনে সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরে অননুমোদিত স্লিপার বাস চলাচল বন্ধে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল। শুনানি শেষে আদালত অনুমোদনহীন বাস চলাচলের সুযোগ না দেওয়ার অবস্থান স্পষ্ট করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইল প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ইনডোর গেমের পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার(৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শহরের বটতলাস্থ প্রিমিওপ্লাজায় এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম ওবায়দুল হক নাসির।
প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) সুমাইয়া মমিন, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী শামসুন্নাহার স্বপ্না, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এইচএম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী এবং জেলা সিনিয়র তথ্য অফিসার তাহলিমা জান্নাত।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শামসাদুল আখতার শামীম, সাধারণ সম্পাদক মহব্বত হোসেন, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ও প্রথমআলোর প্রতিনিধি কামনাশীষ শেখর, সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক জনকণ্ঠের প্রতিনিধি ইফতেখারুল অনুপম প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু জুবায়ের উজ্জল এবং নাহার চাকলাদার।
প্রধান অতিথি এসএম ওবায়দুল হক নাসির তাঁর বক্তব্যে বলেন, "সাংবাদিকরা লেখনির মাধ্যমে সমাজকে পথ দেখায়।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সাংবাদিক ভাইরা সমাজের সকল প্রকার অসঙ্গতি তুলে ধরে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত আধুনিক টাঙ্গাইল গড়তে বিশেষ ভূমিকা পালন করবেন।
তিনি বলেন, "গুজব সব সময় মানুষের অকল্যাণ বয়ে আনে, গুজব প্রতিহত করতে স্ব স্ব অবস্থান থেকে সবারই সোচ্চার হতে হবে।" পরে অনুষ্ঠানে প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের ইনডোর গেমসে বিজয়ী ও বিজিতদের মাঝে অতিথিরা পুরষ্কার তুলে দেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সরকারি দপ্তরের নথিপত্র, সারসংক্ষেপ এবং যোগাযোগে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর পদবির আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ বা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে কার্যকর করার জন্য সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং এর অধীন দপ্তর ও সংস্থাকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাধারণ অধিশাখা থেকে এ বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করা হয়। এই পরিপত্রে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব তানিয়া আফরোজ সই করেছেন।
পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের সঙ্গে দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ উপস্থাপনের সময় তাঁদের পদবির আগে সম্মানসূচক শব্দ হিসেবে যথাক্রমে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ লিখিতভাবে ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ, সরকারি চিঠিপত্র, অফিস আদেশ, নোট, প্রতিবেদন, সারসংক্ষেপসহ বিভিন্ন দাপ্তরিক নথিতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের পদবি লেখার আগে অতিরিক্ত সম্মানসূচক বিশেষণ যুক্ত করা যাবে না।
এ নির্দেশনার আওতায় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের পদবি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সরকারি দাপ্তরিক যোগাযোগে তাঁদের পদ ও দায়িত্বকে সরাসরি উল্লেখ করার রীতি অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
পরিপত্রে সরকারের সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং এর অধীন সব দপ্তরের দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ প্রেরণের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত অনুসরণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব সচিবকে তাঁদের নিয়ন্ত্রণাধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে বলা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পরিপত্রের অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সব সিনিয়র সচিব ও সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং প্রধান তথ্য কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
সরকারি নথিপত্র ও দাপ্তরিক যোগাযোগে পদবি ব্যবহারের ক্ষেত্রে অভিন্ন রীতি নিশ্চিত করতেই এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিপত্রে বিষয়টিকে অতীব গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে সিদ্ধান্তটি অনতিবিলম্বে কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দেশের শেয়ারবাজারে দরপতনের প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দাম বাড়ানোর তালিকায় প্রতিষ্ঠানগুলো বেশি থাকলেও প্রধান মূল্যসূচক কমে গেছে। একই সঙ্গে লেনদেনের পরিমাণও হ্রাস পেয়েছে। ফলে ডিএসইর প্রধান সূচক চলতি বছরের ১১ জুনের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে এসেছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমলেও সেখানে লেনদেন বেড়েছে।
বুধবার লেনদেনের শুরুতেই ডিএসইতে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমে যায়। এর ফলে দিনের শুরুতেই প্রধান সূচক ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। তবে লেনদেনের মাঝামাঝি সময়ে বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। লেনদেন শুরুর প্রায় তিন ঘণ্টার মাথায় ডিএসইএক্স একপর্যায়ে ২২ পয়েন্ট বেড়ে যায়।
সূচকের এই উত্থানে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাজারের ঘুরে দাঁড়ানোর আশা তৈরি হয়। কিন্তু শেষ এক ঘণ্টায় এক শ্রেণির বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়ান। এতে দাম বাড়ানোর তালিকা থেকে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দরপতনের তালিকায় চলে আসে। বিশেষ করে বড় মূলধনের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত সূচক পতনেই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
দিন শেষে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৮৭টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১৬৫টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৫০টির দাম কমেছে এবং ৭২টির দাম অপরিবর্তিত ছিল।
ভালো কোম্পানি হিসেবে বিবেচিত, অর্থাৎ ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১০৩টির শেয়ারদর বেড়েছে। কমেছে ৬২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩০টির দর। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩৭টির শেয়ারদর বেড়েছে, ২৫টির কমেছে এবং ১২টির অপরিবর্তিত রয়েছে।
লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২৫টির শেয়ারদর বেড়েছে। বিপরীতে ৬৩টির দর কমেছে এবং ৩০টির অপরিবর্তিত রয়েছে। মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১৭টির দাম বেড়েছে, ২টির কমেছে এবং ১৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম বাড়ানোর তালিকা বড় হলেও ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫৩৭ পয়েন্টে নেমেছে। এর ফলে সূচকটি চলতি বছরের ১১ জুনের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। ওই দিন ডিএসইএক্স ছিল ৫ হাজার ৫২০ পয়েন্ট।
অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ৫ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১০৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে। তবে শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানিগুলো নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১১০ পয়েন্টে উঠেছে।
সূচকের পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনও কমেছে। বুধবার বাজারটিতে ৫১৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট হাতবদল হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৫৯০ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক কার্যদিবসের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে ৭০ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।
লেনদেনে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে এনভয় টেক্সটাইল। কোম্পানিটির ২৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ২৭ কোটি ১১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন করে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ। ১৭ কোটি ২০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সায়হাম টেক্সটাইল।
লেনদেনের দিক থেকে ডিএসইর শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের বাকি কোম্পানিগুলো হলো এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, সেনা ইন্স্যুরেন্স, সায়হাম কটন, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, সাউথইস্ট ব্যাংক এবং সামিট এলায়েন্স পোর্ট।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দরপতনের চিত্র ছিল বেশি স্পষ্ট। সেখানে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৫৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫৫টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৭৩টির দাম কমেছে এবং ২৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দর কমায় সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৫৯ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৮৬৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
তবে সূচক কমলেও সিএসইতে লেনদেন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বুধবার সেখানে ৮৭ কোটি ২৭ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ২০ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।
ফলে বুধবারের বাজারে দুই স্টক এক্সচেঞ্জে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। ডিএসইতে কিছুটা বেশি সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বাড়লেও বড় মূলধনের শেয়ারে বিক্রির চাপ সূচককে নিচে নামিয়েছে এবং লেনদেনও কমেছে। অন্যদিকে সিএসইতে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দর কমলেও লেনদেন বেড়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সরকার একটি বড় পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে যাতে আকস্মিক বা সাময়িক গ্যাস সংকটে শিল্পখাত বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন না হয়। নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন, গ্যাসের নতুন উৎস অনুসন্ধান এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে ভোলার গ্যাস এলএনজি আকারে মূল ভূখণ্ডে আনার সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে এসব তথ্য তুলে ধরেন। সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদের প্রশ্নের জবাবে তিনি সরকারের জ্বালানি পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক ব্যাখ্যা করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
প্রধানমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে যদি হঠাৎ গ্যাস সংকট দেখা দেয়, তবে শিল্পখাত যাতে গ্যাসের অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন অন্যতম। টার্মিনালগুলোর মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি সংকটের সময়ে শিল্পকারখানায় জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমানে দেশে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৯৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব বলে সংসদে জানান প্রধানমন্ত্রী।
নতুন এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন এবং সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে মহেশখালীর কুতুবজোমে নতুন একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের কার্যক্রম চলছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই টার্মিনাল থেকে ২০২৮ সালে রি-গ্যাসিফাইড এলএনজি সরবরাহের আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া মাতারবাড়ীতে একটি ল্যান্ড-বেইজড এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের কার্যক্রমও চলছে। ২০৩০ সালের ডিসেম্বর নাগাদ সেখান থেকে রি-গ্যাসিফাইড এলএনজি সরবরাহের লক্ষ্য রয়েছে।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জ্বালানি চাহিদা বিবেচনায় পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা কিংবা ওই অঞ্চলের সমুদ্র উপকূলের সুবিধাজনক স্থানে জরুরি ভিত্তিতে আরও একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, কুতুবজোমের টার্মিনাল এবং অন্যান্য উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আগামী কয়েক বছরে দেশে এলএনজি আমদানির সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। আকস্মিক সংকটের সময় শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ ধরে রাখাই এসব উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
২০৩০ সালের মধ্যে ১৫০ কূপ খনন
দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়াতে নতুন কূপ খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে।
দেশের গ্যাসের নতুন উৎস খুঁজতে বড় পরিসরে ভূকম্পন জরিপও পরিচালিত হবে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার এলাকায় ২ডি সাইসমিক সার্ভে এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ৩ডি সাইসমিক সার্ভে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
সমুদ্রাঞ্চলেও তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সমুদ্রের ২৬টি ব্লকে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের জন্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নিয়োগে ২০২৬ সালের ২৪ মে আন্তর্জাতিক বিডিং রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে। বিড দাখিলের সময়সীমা নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া স্থলভাগে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ অনশোর মডেল পিএসসি ২০২৬ প্রণয়নের কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।
ভোলার গ্যাস শিল্পে ব্যবহারের উদ্যোগ
ভোলার গ্যাস মূল ভূখণ্ডে এনে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সরবরাহের বিষয়েও সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। গ্যাস প্রাপ্তি সাপেক্ষে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে তা সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
এ ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক অঞ্চল, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল বা ইপিজেড এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন বা বিসিকের মতো পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভোলার গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে মূল গ্যাস সঞ্চালন লাইনে আনতে দীর্ঘ সময় লাগবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ কাজে সাত বছর সময় লাগতে পারে। একই সঙ্গে ভোলায় কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও তিনি জানান।
ছাদে সৌরবিদ্যুতে বাড়তি সুবিধা
গ্যাস ও জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ জন্য ২০৩০ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎসাহ দিতে বিশেষ সুবিধার কথাও জানান তিনি। ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যেসব গ্রাহক নিজেদের ব্যবহারের পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করবেন, তাঁরা পরবর্তী তিন বছর প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা মূল্য পাবেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। সামনে এসব উদ্যোগের আরও সুফল পাওয়া যাবে।
প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ নিয়েও কঠোরতা
সংসদে প্রধানমন্ত্রী সরকারি প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ বৃদ্ধির প্রবণতা নিয়েও সরকারের পদক্ষেপের কথা জানান। তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যয় ও মেয়াদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নানা দুর্বলতা ধরা পড়েছে।
এ কারণে নতুন প্রকল্প গ্রহণের আগে নির্ভুল সমীক্ষা করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তুতি দ্রুত শেষ করা এবং বাস্তবায়ন পর্যায়ে নিবিড় তদারকি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আওয়ামী লীগ আমলে নেওয়া মেগাপ্রকল্পগুলোর অতিরঞ্জিত ব্যয় ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত চলছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। কয়েকটি প্রকল্পের তদন্ত ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্পের ব্যয় কমিয়ে জনগণ যাতে কম খরচে সর্বোচ্চ সুবিধা পায়, সরকার সে বিষয়টি নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।
গত ১৭ বছরের দুর্নীতি ও দুঃশাসন নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার যে শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছিল, সেটিকে সামনে রেখে বর্তমান সরকার পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও সংসদে জানান প্রধানমন্ত্রী।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ