মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:০৩ পি.এম
হাম উপসর্গে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। একই সময়ে নতুন করে সন্দেহ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ৩৪৯ জন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাম বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) দেশে নতুন করে ১ হাজার ২৫৭ জনকে সন্দেহজনক হাম রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। একই সময়ে ৯২ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে।
এখন পর্যন্ত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৮২ হাজার ২৯২ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ২০ হাজার ৭৩৮ জন।
এছাড়া, গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ১৭৬ জন সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন ১ হাজার ৬২ জন। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ১ লাখ ৮২ হাজার ২৯২ জন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সরকার দেশের চারটি জেলায় নতুন পুলিশ সুপার (এসপি) নিয়োগ দিয়েছে। একইসাথে, এসব জেলার বর্তমান পুলিশ সুপারদের বিভিন্ন ইউনিটে বদলির সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে এই সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে সই করেছেন উপসচিব তৌছিফ আহমেদ।
প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, র্যাবের উপপরিচালক (পুলিশ সুপার) মো. বদরুজ্জামানকে নেত্রকোনার পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নেত্রকোনার বর্তমান পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলামকে বিশেষ পুলিশ সুপার হিসেবে সিআইডিতে বদলি করা হয়েছে।
পুলিশ অধিদপ্তরের ঢাকার এআইজি জালাল উদ্দিন ফাহিম, পিপিএম-সেবাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বর্তমান পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফকে বিশেষ পুলিশ সুপার হিসেবে এসবিতে বদলি করা হয়েছে।
এছাড়া, র্যাবের উপপরিচালক (পুলিশ সুপার) মীর মনির হোসেনকে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রাজবাড়ীর বর্তমান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোর্শেদ, বিপিএম-সেবাকে পুলিশ সুপার হিসেবে হাইওয়ে পুলিশে বদলি করা হয়েছে।
মেহেরপুরের পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়কে বিশেষ পুলিশ সুপার হিসেবে সিআইডিতে বদলি করা হয়েছে। তার স্থলে পুলিশ অধিদপ্তরের ঢাকার এআইজি আলী হায়দার চৌধুরী, বিপিএমকে মেহেরপুরের পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, পুলিশ অধিদপ্তরে রিপোর্টিংরত পুলিশ সুপার মো. নুরুল আমিন হাওলাদারকে সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে পুলিশ স্টাফ কলেজ, ঢাকায় পদায়ন করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জারি করা এসব আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মা হওয়ার পর বলিউডের অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফের শারীরিক পরিবর্তন ও ওজন নিয়ে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা সমালোচনার বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আরেক অভিনেত্রী পরিণীতি চোপড়া।
একটি সাক্ষাৎকারে মাতৃত্বকালীন ওজন নিয়ে কটাক্ষকারীদের তিনি তীব্র সমালোচনা করেন। পরিণীতি বলেন, "মা হওয়ার পর একজন নারীর শরীর পরিবর্তন হওয়াটা স্বাভাবিক এবং একে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করা অত্যন্ত বোকামি ও অশিক্ষার পরিচয়।"
আইএএনএস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পরিণীতি জানান, তিনি এ ধরনের ট্রলিং বা নেতিবাচক মন্তব্যগুলোকে খুব একটা গুরুত্ব দেন না, কারণ তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশি সময় ব্যয় করেন না। তিনি মন্তব্য করেন, "যাদের আমি চিনিই না, তাদের এমন আজেবাজে কথায় আমার কিছু যায় আসে না। আমার কাছে আমার পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং নিজের জীবনই আসল।"
মাতৃত্বকালীন ট্রলিং প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, "একজন নারী একটি সন্তান জন্ম দিয়েছেন এবং তার শরীরে কিছু পরিবর্তন এসেছে—এটিকে কেন নেতিবাচক হিসেবে দেখা হবে? এটি তো অতিমানবিক শক্তির একটি নিদর্শন।"
তিনি উদাহরণ দেন, "যেমন জিমে গেলে পেশী বা অ্যাবস তৈরি হয়, কিংবা পা ভেঙে গেলে প্লাস্টার থাকে—সেগুলো যেমন প্রমাণ, তেমনি গর্ভধারণের পরিবর্তনগুলোও একটি সুন্দর প্রমাণ।"
পরিণীতি স্পষ্ট ভাষায় জানান, যারা মাতৃত্বকালীন ওজন বা শারীরিক পরিবর্তন নিয়ে উপহাস করেন, তাদের কোনো শিক্ষা, মৌলিক মানবিকতা কিংবা নিজেদের ব্যক্তিগত কোনো জীবন নেই।
ক্যাটরিনা কাইফকে নিয়ে কেন এই সমালোচনা?
গত বছরের ০৭ নভেম্বর অভিনেতা ভিকি কৌশল ও ক্যাটরিনা কাইফ দম্পতির ঘর আলো করে আসে তাদের প্রথম পুত্রসন্তান ভিহান। সন্তানের জন্মের এক বছর না পেরোতেই সম্প্রতি গণপতি উৎসবে ক্যাটরিনা প্রকাশ্যে আসতেই তার চেহারা ও শরীরের পরিবর্তন নিয়ে ট্রলের মুখে পড়তে হয় তাকে।
বলিউডের নায়িকাদের মা হওয়ার পর এমন জনসমালোচনার শিকার হওয়া অবশ্য নতুন কিছু নয়। তবে ক্যাটরিনার পাশে দাঁড়িয়ে অনেক ভক্ত ও নেটিজেনরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সোচ্চার হয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সাবেক বিশ্বসুন্দরী এবং বলিউডের অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন সৌন্দর্য এবং গ্ল্যামারের প্রতীক। সিনেমার পাশাপাশি, বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন মঞ্চে তার ঝলমলে উপস্থিতি দেখা যায়। সেই ধারাবাহিকতায়, আন্তর্জাতিক ফ্যাশন অঙ্গনে আবারও নিজের সৌন্দর্য ও ব্যক্তিত্বের ঝলক প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন এই বলিউড তারকা। প্যারিস ফ্যাশন উইকের অন্যতম আলোচিত ‘লে দেফিলে’ আয়োজনে আবারও র্যাম্পে হাঁটবেন ঐশ্বরিয়া।
আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর আইফেল টাওয়ারের সামনে প্লাস জফ্রে এলাকায় অনুষ্ঠিত হবে তারকাখচিত এই আয়োজন। ঐশ্বরিয়ার উপস্থিতি এবং মোহনীয় হাসি হৃদয়ে দোলা দেয়। বয়সকে হার মানিয়ে, তিনি আজও যেন চিরসবুজ ও চিরযৌবনা। ফরাসি প্রসাধনী ব্র্যান্ড লরিয়াল প্যারিসের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে ‘লে দেফিলে’র নবম আসর।
এবারের আয়োজনে মূল ভাবনা ‘নিজের যোগ্যতা প্রকাশ করো’। এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নারীর আত্মবিশ্বাস, বৈচিত্র্য, পারস্পরিক সংহতি ও অন্তর্ভুক্তিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে, প্যারিসের মঞ্চে ঐশ্বরিয়ার উপস্থিতি নিয়ে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। র্যাম্পে তার প্রত্যাবর্তন রূপ ও সৌন্দর্যের নতুন ঝলক নিয়ে আসবে, এমন প্রত্যাশা ভক্তদের।
ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন বর্তমানে প্রসাধনী ব্র্যান্ড লরিয়াল প্যারিসের দূত হিসেবে কাজ করছেন। তাই, এবারের আয়োজনে তার উপস্থিতিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আয়োজকরা র্যাম্পে তার প্রত্যাবর্তনকে শক্তি, আত্মবিশ্বাস ও নিজস্ব সৌন্দর্যবোধের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরছেন। তবে, শুধু র্যাম্পে হাঁটাই নয়, এবারের আয়োজনের সঙ্গে সৌন্দর্যপণ্যের নতুন সংযোজনও থাকবে।
ভারতীয় ত্বকের রঙের কথা মাথায় রেখে বাজারে আসছে লরিয়াল প্যারিসের নতুন ‘রানওয়ে ম্যাট কালেকশন’। এতে থাকবে ‘ইনফ্যালিবল ম্যাট রেজিস্ট্যান্স’ তরল লিপস্টিকের পাঁচটি নতুন গাঢ় রঙ। এর মধ্যে বিশেষ আকর্ষণ ‘৪২৩ অডাসিয়াস রেড’। প্যারিস ফ্যাশন উইকের মঞ্চে ঐশ্বরিয়ার ঠোঁটেও দেখা যাবে এই রঙ। ফলে, তার সাজ ও সৌন্দর্য নিয়েও দর্শকদের আগ্রহ থাকবে।
২০১৭ সালে যাত্রা শুরু করা ‘লে দেফিলে’ ইতোমধ্যে ফ্যাশন, সৌন্দর্য ও বিনোদন অঙ্গনের অন্যতম আলোচিত আয়োজন হয়ে উঠেছে। এবারের মঞ্চে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের একঝাঁক তারকার উপস্থিতি থাকবে। ঐশ্বরিয়ার সঙ্গে একই আয়োজনে দেখা যাবে সিমোন অ্যাশলি, ভায়োলা ডেভিস, কারা ডেলেভিন, জেন ফন্ডা, কেন্ডাল জেনার, ইভা লঙ্গোরিয়া, অ্যান্ডি ম্যাকডাওয়েলসহ আরও অনেক তারকাকে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিহারের জামুইয়ে দশম শ্রেণির এক নাবালিকা এবং তার সহপাঠীকে আটকে মারধর ও যৌন হেনস্তার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। কোচিং থেকে ফেরার পথে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এই ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শিশু যৌন অপরাধ প্রতিরোধ আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
রাহুল গান্ধী মন্তব্য করেছেন, "এই ধরনের জঘন্য আচরণ করার অধিকার কাউকে দেওয়া হয়নি।" তিনি আরও বলেন, "নারীদের ওপর অন্যায় নিয়ন্ত্রণকে যখন ভুল করে সংস্কৃতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা হয়, তখনই দুষ্কৃতিকারীরা নিজেদের আইন মনে করতে শুরু করে।" তিনি এটিকে অন্ধ পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতার প্রকাশ বলেও অভিহিত করেছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জামুইয়ের মাদওয়া পাহাড় এলাকায়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কোচিং শেষে স্কুটারে করে ওই এলাকায় গিয়েছিল দশম শ্রেণির দুই সহপাঠী। ফেরার পথে একদল যুবক তাদের পথ আটকায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, নাবালক ছাত্রটির সঙ্গে মারধর এবং নাবালিকা ছাত্রীর সঙ্গে অশালীন আচরণ করা হচ্ছে। ভিডিওতে তাদের ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করতেও দেখা যায়। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর জামুই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ইতিমধ্যে তিন নাবালককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিও বিশ্লেষণ করে আরও কয়েকজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে। ঘটনার তদন্তে জামুইয়ের উপবিভাগীয় পুলিশ কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, শিশু যৌন অপরাধ প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি নাবালকদের মুখ ও পরিচয় প্রকাশ করে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে ১৩টি ফেসবুক, ১২টি ইনস্টাগ্রাম এবং ৭টি এক্স অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে ভিডিও সরানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নাবালকের পরিচয় প্রকাশ করে ভিডিও ছড়ানো আইনত অপরাধ। ঘটনাটি কেন্দ্র করে বিহারে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়েছে। কংগ্রেস সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
প্রশাসন নাবালিকা ও তার সহপাঠীর পরিচয় গোপন রেখেই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ