মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:০৪ পি.এম
সাবেক বিশ্বসুন্দরী এবং বলিউডের অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন সৌন্দর্য এবং গ্ল্যামারের প্রতীক। সিনেমার পাশাপাশি, বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন মঞ্চে তার ঝলমলে উপস্থিতি দেখা যায়। সেই ধারাবাহিকতায়, আন্তর্জাতিক ফ্যাশন অঙ্গনে আবারও নিজের সৌন্দর্য ও ব্যক্তিত্বের ঝলক প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন এই বলিউড তারকা। প্যারিস ফ্যাশন উইকের অন্যতম আলোচিত ‘লে দেফিলে’ আয়োজনে আবারও র্যাম্পে হাঁটবেন ঐশ্বরিয়া।
আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর আইফেল টাওয়ারের সামনে প্লাস জফ্রে এলাকায় অনুষ্ঠিত হবে তারকাখচিত এই আয়োজন। ঐশ্বরিয়ার উপস্থিতি এবং মোহনীয় হাসি হৃদয়ে দোলা দেয়। বয়সকে হার মানিয়ে, তিনি আজও যেন চিরসবুজ ও চিরযৌবনা। ফরাসি প্রসাধনী ব্র্যান্ড লরিয়াল প্যারিসের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে ‘লে দেফিলে’র নবম আসর।
এবারের আয়োজনে মূল ভাবনা ‘নিজের যোগ্যতা প্রকাশ করো’। এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নারীর আত্মবিশ্বাস, বৈচিত্র্য, পারস্পরিক সংহতি ও অন্তর্ভুক্তিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে, প্যারিসের মঞ্চে ঐশ্বরিয়ার উপস্থিতি নিয়ে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। র্যাম্পে তার প্রত্যাবর্তন রূপ ও সৌন্দর্যের নতুন ঝলক নিয়ে আসবে, এমন প্রত্যাশা ভক্তদের।
ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন বর্তমানে প্রসাধনী ব্র্যান্ড লরিয়াল প্যারিসের দূত হিসেবে কাজ করছেন। তাই, এবারের আয়োজনে তার উপস্থিতিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আয়োজকরা র্যাম্পে তার প্রত্যাবর্তনকে শক্তি, আত্মবিশ্বাস ও নিজস্ব সৌন্দর্যবোধের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরছেন। তবে, শুধু র্যাম্পে হাঁটাই নয়, এবারের আয়োজনের সঙ্গে সৌন্দর্যপণ্যের নতুন সংযোজনও থাকবে।
ভারতীয় ত্বকের রঙের কথা মাথায় রেখে বাজারে আসছে লরিয়াল প্যারিসের নতুন ‘রানওয়ে ম্যাট কালেকশন’। এতে থাকবে ‘ইনফ্যালিবল ম্যাট রেজিস্ট্যান্স’ তরল লিপস্টিকের পাঁচটি নতুন গাঢ় রঙ। এর মধ্যে বিশেষ আকর্ষণ ‘৪২৩ অডাসিয়াস রেড’। প্যারিস ফ্যাশন উইকের মঞ্চে ঐশ্বরিয়ার ঠোঁটেও দেখা যাবে এই রঙ। ফলে, তার সাজ ও সৌন্দর্য নিয়েও দর্শকদের আগ্রহ থাকবে।
২০১৭ সালে যাত্রা শুরু করা ‘লে দেফিলে’ ইতোমধ্যে ফ্যাশন, সৌন্দর্য ও বিনোদন অঙ্গনের অন্যতম আলোচিত আয়োজন হয়ে উঠেছে। এবারের মঞ্চে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের একঝাঁক তারকার উপস্থিতি থাকবে। ঐশ্বরিয়ার সঙ্গে একই আয়োজনে দেখা যাবে সিমোন অ্যাশলি, ভায়োলা ডেভিস, কারা ডেলেভিন, জেন ফন্ডা, কেন্ডাল জেনার, ইভা লঙ্গোরিয়া, অ্যান্ডি ম্যাকডাওয়েলসহ আরও অনেক তারকাকে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিহারের জামুইয়ে দশম শ্রেণির এক নাবালিকা এবং তার সহপাঠীকে আটকে মারধর ও যৌন হেনস্তার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। কোচিং থেকে ফেরার পথে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এই ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শিশু যৌন অপরাধ প্রতিরোধ আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
রাহুল গান্ধী মন্তব্য করেছেন, "এই ধরনের জঘন্য আচরণ করার অধিকার কাউকে দেওয়া হয়নি।" তিনি আরও বলেন, "নারীদের ওপর অন্যায় নিয়ন্ত্রণকে যখন ভুল করে সংস্কৃতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা হয়, তখনই দুষ্কৃতিকারীরা নিজেদের আইন মনে করতে শুরু করে।" তিনি এটিকে অন্ধ পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতার প্রকাশ বলেও অভিহিত করেছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জামুইয়ের মাদওয়া পাহাড় এলাকায়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কোচিং শেষে স্কুটারে করে ওই এলাকায় গিয়েছিল দশম শ্রেণির দুই সহপাঠী। ফেরার পথে একদল যুবক তাদের পথ আটকায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, নাবালক ছাত্রটির সঙ্গে মারধর এবং নাবালিকা ছাত্রীর সঙ্গে অশালীন আচরণ করা হচ্ছে। ভিডিওতে তাদের ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করতেও দেখা যায়। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর জামুই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ইতিমধ্যে তিন নাবালককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিও বিশ্লেষণ করে আরও কয়েকজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে। ঘটনার তদন্তে জামুইয়ের উপবিভাগীয় পুলিশ কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, শিশু যৌন অপরাধ প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি নাবালকদের মুখ ও পরিচয় প্রকাশ করে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে ১৩টি ফেসবুক, ১২টি ইনস্টাগ্রাম এবং ৭টি এক্স অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে ভিডিও সরানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নাবালকের পরিচয় প্রকাশ করে ভিডিও ছড়ানো আইনত অপরাধ। ঘটনাটি কেন্দ্র করে বিহারে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়েছে। কংগ্রেস সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
প্রশাসন নাবালিকা ও তার সহপাঠীর পরিচয় গোপন রেখেই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ইরান ও ইউক্রেনের যুদ্ধের কারণে বিশ্বের কিছু গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি উৎপাদনকারী দেশ থেকে ডিজেলের রপ্তানি কমে গেছে। এর ফলস্বরূপ, আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। সরবরাহ পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটলে দাম নতুন করে বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ইতোমধ্যে ডিজেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউরোপে ডিজেল ফিউচারের মূল্য গত সপ্তাহে সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২০২৬ সালের শুরুর দামের তুলনায় বর্তমানে এই জ্বালানির দাম দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে গেছে।
লোহিত সাগর দিয়ে জ্বালানি পরিবহনে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। সৌদি আরবের অধিকাংশ ডিজেল এই সমুদ্রপথ ব্যবহার করে বিভিন্ন বাজারে পৌঁছায়।
মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনের চলমান সংঘাতের কারণে ওই অঞ্চলের কয়েকটি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের শোধনাগারগুলোর ওপর জ্বালানি উৎপাদনের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) জানাচ্ছে, আগস্টের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের শোধনাগারগুলো গত আট বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সক্ষমতায় পরিচালিত হয়েছে। সোমবার প্রকাশিত এক নিউজলেটারে সংস্থাটি বলেছে, বিশ্বের অনেক শোধনাগার এখন প্রায় পূর্ণ সক্ষমতায় চলছে। ফলে আগামী কয়েক মাসে ডিজেলের সরবরাহ আরও কমে গেলে পরিস্থিতি সামাল দিয়ে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার সুযোগ খুবই সীমিত।
পণ্যবাজারের তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্য থেকে ডিজেল রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমে গেছে। ওই সময়ে অঞ্চলটি থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮ লাখ ব্যারেল ডিজেল রপ্তানি হয়েছে।
কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইউরোপের মোট ডিজেল আমদানির প্রায় ৪১ শতাংশ এসেছিল মধ্যপ্রাচ্য থেকে।
কেপলারের বিশ্লেষক জর্জ শ সতর্ক করে বলেছেন, লোহিত সাগর দিয়ে জ্বালানি সরবরাহে নতুন করে কোনো বিঘ্ন দেখা দিলে এমনিতেই চাপের মধ্যে থাকা বৈশ্বিক ডিজেল বাজারে সংকট আরও তীব্র হতে পারে। তার মতে, বর্তমানে শোধনাগারগুলোর সীমিত সক্ষমতাই বিশ্ব ডিজেল বাজারের সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাশিয়ার শোধনাগারে হামলা, বন্ধ ডিজেল রপ্তানি
ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার কয়েকটি শোধনাগারে উৎপাদন কমে যাওয়ার পর গত জুলাইয়ে ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করে মস্কো। এর মধ্যে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। তবে এরপরও দুই দেশ পরস্পরের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
এক আইনজীবী ১০০০ টাকার নোট বাতিলের দাবি জানিয়ে সরকারের কাছে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, দেশের অর্থনীতিকে মূল্যস্ফীতি থেকে রক্ষা করার জন্য স্বর্ণ, রৌপ্য ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছাড়া ইচ্ছামতো টাকা ছাপানো বন্ধ করা উচিত এবং কালো টাকা ও দুর্নীতি প্রতিরোধে এই নোটিশ প্রদান করেছেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট মো. মাহমুদুল হাসান জনস্বার্থে এই নোটিশটি পাঠান। নোটিশটি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব (অর্থ বিভাগ) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে পাঠানো হয়েছে।
আইনি নোটিশে বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো ধরনের রিজার্ভ বা ব্যাকআপ ছাড়াই অর্থনীতিতে ক্রমাগত কৃত্রিম টাকা ছাপিয়ে সরবরাহ করছে। অর্থনীতি ও মুদ্রানীতির সর্বজনীন নিয়ম অনুসারে, নতুন টাকা ছাপানোর জন্য অবশ্যই সমপরিমাণ স্বর্ণ, রৌপ্য অথবা নির্ভরযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রার (যেমন: ডলার, ইউরো, আরএমবি) রিজার্ভ বজায় রাখা বাধ্যতামূলক।
কিন্তু এই নিয়মের তোয়াক্কা না করে ইচ্ছামতো টাকা ছাপানোর ফলে ‘কোয়ান্টিটি থিওরি অব মানি’ অনুযায়ী টাকার নিজস্ব মান বা ক্রয়ক্ষমতা চরমভাবে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম লাগামহীনভাবে বাড়ছে এবং দেশে এক ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি তৈরি হচ্ছে।
নোটিশে আরো বলা হয়েছে যে, এই লাগামহীন মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ, দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার এবং জীবনযাত্রার খরচ পূরণের সামর্থ্য পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে বর্ণিত ‘Right to Life’ বা জীবনধারণের অধিকার বলতে কেবল পশুর মতো বেঁচে থাকাকে বোঝায় না, বরং মানুষের মতো মর্যাদাপূর্ণভাবে বেঁচে থাকার অধিকারকেও বোঝায়।
স্বর্ণ ও রৌপ্যের মতো মূল্যবান সম্পদের ব্যাকআপ ছাড়া টাকা ছাপিয়ে সৃষ্ট চরম অর্থনৈতিক সংকটে সাধারণ মানুষকে খাদ্যাভাবে ধুঁকে ধুঁকে মরতে বাধ্য করা সংবিধানের এই মৌলিক অধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন।
এছাড়া নোটিশে ১০০০ টাকার নোটের ক্ষতিকর প্রভাব অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, সাধারণ মানুষ, দিনমজুর বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দৈনন্দিন লেনদেনের জন্য ১০০০ টাকার মতো এত বড় নোটের কোনো বাস্তব প্রয়োজন নেই।
এই উচ্চমূল্যের নোটটি মূলত দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট, কর ফাঁকিবাজ এবং অপরাধীরা তাদের অবৈধ কালো টাকা ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে লুকিয়ে রাখার জন্যই সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করে। এটি দেশে একটি ধ্বংসাত্মক ‘শ্যাডো ইকোনমি’ বা ছায়া অর্থনীতি তৈরি করেছে।
প্রতিবেশী দেশ ভারত তাদের ২ হাজার টাকার নোট বাতিল করে কালো টাকার মজুদ ধ্বংস করার সফল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তাই দেশের অর্থনীতি থেকে কালো টাকার বিস্তার পুরোপুরি সমূলে উৎপাটন করতে এবং লেনদেনে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে ১০০০ টাকার নোট অবিলম্বে বাতিল করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
নোটিশে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে স্বর্ণ, রৌপ্য ও বৈদেশিক মুদ্রার যথাযথ রিজার্ভ ছাড়া নতুন টাকা ছাপানো সম্পূর্ণ বন্ধ করতে এবং কালো টাকার মজুদ ধ্বংস করতে ১০০০ টাকার নোট বাতিলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হলে হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে বলে নোটিশে জানানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের বৃদ্ধি, বাজারে ডলারের সহজলভ্যতা এবং বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বা রিজার্ভের বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের টাকা শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। বর্তমানে মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার মান একটি শক্ত অবস্থানে রয়েছে। শুধু ডলার নয়, গত এক বছরে প্রতিবেশী ভারতের রুপির তুলনায়ও টাকার শক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের মুদ্রা সাড়ে পাঁচ বছরের মধ্যে ডলারের বিপরীতে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য জানাচ্ছে, ২০২৫ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে ০ দশমিক ০৬ শতাংশ বেড়েছে। চলতি বছরের ৩০ আগস্ট থেকে ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে টাকার মূল্য আরও ০ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়েছে। এই সময়ে ডলারের বিনিময় হার ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সা থেকে কমে ১২৩ টাকায় নেমে এসেছে। ফলে, কয়েক বছর ধরে টাকার মূল্যমান কমে যাওয়ার প্রবণতায় একটি পরিবর্তন স্পষ্ট হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ৮৫ টাকা ৮০ পয়সা। এরপর ধারাবাহিকভাবে বেড়ে তা ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সায় পৌঁছায়। তবে চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এসে এই প্রবণতায় পরিবর্তন দেখা দিয়েছে।
এদিকে, গত এক বছর ধরে ভারতীয় রুপির বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার শক্তি ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে। একসময় ১০০ ভারতীয় রুপি কিনতে প্রায় ১৪০ টাকা খরচ করতে হতো, বর্তমানে তা কমে ১২৭ থেকে ১৩০ টাকার মধ্যে এসে দাঁড়িয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বরের হিসাবে ১ ভারতীয় রুপির বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মূল্য ছিল প্রায় ১ টাকা ২৭ পয়সা।
তবে, বাংলাদেশের টাকার শক্তিশালী হওয়ার পেছনে একমাত্র কারণ নয়। আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় রুপির দুর্বলতাও একটি বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি ২০২৬-এর শেষ দিকে ভারতীয় রুপি ডলারের বিপরীতে আগের অর্থবছরের জুনের তুলনায় ৬ দশমিক ৮ শতাংশ দুর্বল হয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশের টাকা ডলারের বিপরীতে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ছিল। এর ফলে, দুই দেশের মুদ্রার পারস্পরিক বিনিময় হারে বাংলাদেশের টাকা সুবিধাজনক অবস্থানে এসেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ