ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নেপালি শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার আশ্বাস রাবি প্রশাসনের


নেপালি শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার আশ্বাস রাবি প্রশাসনের

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) অধ্যয়নরত নেপালি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সম্প্রতি নেপালে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ দুর্যোগের প্রেক্ষিতে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টায় উপাচার্যের কনফারেন্স রুমে এ সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় নিহত ও আহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। একই সঙ্গে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, "নেপালে সংঘটিত ভয়াবহ দুর্যোগের ঘটনায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ থেকে গভীর দুঃখ ও শোক প্রকাশ করছি। এই মর্মান্তিক ঘটনায় আপনারা যেমন ব্যথিত ও মর্মাহত, আমরাও তেমনি কষ্ট পেয়েছি। নেপাল আমাদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র। আপনাদের এই দুঃসময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আপনাদের পাশে আছে।"

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "আপনারা নেপাল থেকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে এসেছেন। আপনারা শুধু বিদেশি শিক্ষার্থী নন, আমাদের অতিথি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্য। তাই সংকটময় সময়ে আপনাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। নেপালে থাকা পরিবার ও স্বজনদের নিয়ে আপনারা উদ্বিগ্ন থাকাটাই স্বাভাবিক।"

তিনি আরও বলেন, "দেশে যোগাযোগে কোনো সমস্যা হলে, সহায়তার প্রয়োজন হলে কিংবা ব্যক্তিগত কোনো সমস্যায় পড়লে অবশ্যই আমাদের জানাবেন। ছাত্র উপদেষ্টা দপ্তর আপনাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতায় পাশে থাকবে।"

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ। তিনি বলেন, "নেপাল আমাদের প্রতিবেশী ও বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ। আপনারা পরিবার ও আত্মীয়স্বজন ছেড়ে এখানে পড়াশোনা করতে এসেছেন। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে যারা আছি, আমরা আপনাদের অভিভাবকের মতো দায়িত্ব নিতে চাই।"

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

তিনি আরও বলেন, "‘নেপালে ঘটে যাওয়া এই প্রাকৃতিক মহাবিপর্যয়ের মধ্যে আপনাদের পড়াশোনা বা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না, তা জানার জন্যই আপনাদের সঙ্গে কথা বলা। আমরা আমাদের জায়গা থেকে আশ্বস্ত করতে চাই, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সবসময় আপনাদের পাশে আছে এবং যেকোনো প্রয়োজনে আপনারা আমাদের সহযোগিতা পাবেন।’"

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের (উপ-উপাচার্য) প্রশাসন অধ্যাপক ড. আব্দুল আলীম, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান, ডরমিটরির পরিচালক ড. মো. আবু বকর পিকে, ডরমিটরির ওয়ার্ডেন, সহকারী প্রক্টরসহ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ২২ জন নেপালি শিক্ষার্থী।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হলো আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:২২ পি.এম


কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হলো আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্ট

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) আন্তঃবিভাগ ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০২৬-২৭ এর আয়োজন শুরু হয়েছে। শারীরিক শিক্ষা বিভাগ জানায়, এবারের প্রতিযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি বিভাগ অংশগ্রহণ করবে।

রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে অর্থনীতি বিভাগ ও ফার্মেসি বিভাগের মধ্যে ম্যাচের মাধ্যমে এবারের আসরের উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ক্রীড়া পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ড. মো. মহিউদ্দিন। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হাকিম, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিন, শিক্ষকবৃন্দ, খেলোয়াড় এবং শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী ম্যাচে নির্ধারিত ৫০ মিনিট সময়ে ১-১ গোলে ড্র হয়। পরে টাইব্রেকারের মাধ্যমে ৪–৩ গোলে ফার্মেসি বিভাগকে পরাজিত করে অর্থনীতি বিভাগ জয়লাভ করে।

কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন মন্তব্য করেন, ফুটবলের মাধ্যমে টিমওয়ার্ক, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ত্যাগের শিক্ষা অর্জন করা সম্ভব। তিনি জানান, এবারের প্রতিযোগিতায় ১৯টি দল সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে খেলবে। তিনি বলেন, "খেলবে ১৯ দল, কিন্তু জিতবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।"

তিনি খেলোয়াড়দের মাঠের নিয়ম-কানুন ও রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানান। দর্শকদের অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ না হয়ে খেলা উপভোগ করার অনুরোধও করেন। খেলা পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের নিরপেক্ষতা ও সহনশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার বলেন, আন্তঃবিভাগীয় এই প্রতিযোগিতাকে নিজেদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যকার প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখতে হবে। তিনি বলেন, "যে বিভাগই জয়ী হোক, জয়ী হবে বিশ্ববিদ্যালয়েরই একটি দল।" তিনি খেলাকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক না হয়ে পারস্পরিক বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানান।

তিনি সকলকে সতর্ক থাকতে বলেন যাতে খেলাধুলার মাঠে কোনো ধরনের সংঘাত বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। তিনি উল্লেখ করেন, "কোনো ফাউল বা বিতর্কিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে রেফারি ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা বিষয়টি নিয়ম অনুযায়ী সমাধান করবেন।" খেলোয়াড় ও দর্শকদের কারও গায়ে হাত না তোলার জন্যও তিনি কঠোরভাবে আহ্বান জানান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, ভলিবলসহ বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন আরও বিস্তৃত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে শিক্ষার্থী ও বিভাগগুলোর সহযোগিতা কামনা করেন।

তিনি আরও বলেন, খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের আনন্দ, শারীরিক সক্ষমতা ও পারস্পরিক বন্ধন বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই প্রতিযোগিতাকে সুন্দর ও ইতিবাচক পরিবেশে এগিয়ে নিতে সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

ক্রীড়া পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ড. মো. মহিউদ্দিন বলেন, খেলায় জয়-পরাজয় থাকবেই। তবে জয়-পরাজয়ের কারণে বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্ব যেন নষ্ট না হয়, সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। তিনি খেলাটিকে বিনোদনমূলক ও উপভোগ্য করে তোলার আহ্বান জানান এবং পরাজয় থেকে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তী প্রতিযোগিতার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করার পরামর্শ দেন।

তিনি জানান, প্রতিযোগিতার ম্যাচগুলো পরিচালনায় অভিজ্ঞ ও পেশাদার রেফারিদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রেফারির সিদ্ধান্ত পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত হিসেবে চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে। কোনো অভিযোগ বা আপত্তি থাকলে তা মাঠে উত্তেজনা সৃষ্টি না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, আন্তঃবিভাগ ফুটবল প্রতিযোগিতার গত আসরে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলায় মারমারির দায়ে টুর্নামেন্ট থেকে বহিস্কৃত হয়ে এবার খেলায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি মার্কেটিং বিভাগ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:২৩ পি.এম


বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর দেশের বিভিন্ন স্থানে আগামী দুই দিনের জন্য বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস প্রদান করেছে। এই সময়ের মধ্যে কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি, সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে।

রোববার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এসব তথ্য তুলে ধরেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে আগামীকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রংপুর, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু কিছু স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময়ও দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।

দ্বিতীয় দিনেও সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে বলে জানানো হয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে টেকনাফে ৬৮ মিলিমিটার। একই সময়ে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা খুলনার রাজারহাটে ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা টেকনাফে ২৪ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-উত্তর উড়িষ্যা উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।

এছাড়া মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, সুস্পষ্ট লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মায়ের সম্পত্তির ওয়ারিশ: শরিয়া মতে কার অংশ কতটুকু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:২৩ পি.এম


মায়ের সম্পত্তির ওয়ারিশ: শরিয়া মতে কার অংশ কতটুকু

মায়ের রেখে যাওয়া সম্পত্তি কেবল সন্তান ও স্বামীর জন্য পার্থিব সম্পত্তি নয়, বরং এটি শরিয়তের একটি অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট আমানত। ইসলাম ধর্মে কার মিরাস বা উত্তরাধিকার কতটুকু হবে, তা মানুষের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে না; বরং মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন নিজেই পবিত্র কুরআনে এটি সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। মায়ের ইন্তেকালের পর তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি কিভাবে সঠিক ও ইসলামি শরিয়াহ নির্দেশিত উপায়ে স্বামী, মেয়ে এবং অন্যান্য ওয়ারিশদের মধ্যে বণ্টন করতে হবে, তা নিচে আলোচনা করা হলো—

১. সম্পত্তি বণ্টনের পূর্বশর্ত (বাধ্যতামূলক ৩টি কাজ)

মায়ের ত্যাজ্য সম্পত্তি ওয়ারিশদের মাঝে ভাগ করার আগে তিনটি কাজ ক্রমানুসারে সম্পন্ন করা প্রতিটি মুসলিম পরিবারের জন্য বাধ্যতামূলক—

দাফন-কাফনের খরচ: মৃত ব্যক্তির জানাজা, কাফন ও দাফনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যয় মেটানো।

ঋণ ও মোহরানা পরিশোধ: মৃত ব্যক্তির দেনা-পাওনা বা অনাদায়ী মোহরানা থাকলে তা সম্পত্তি থেকে আগে পরিশোধ করতে হবে।

ওসিয়ত পূরণ: মৃত ব্যক্তি যদি অ-ওয়ারিশ কারো জন্য বৈধ ওসিয়ত করে যান, তবে তা মূল সম্পত্তির সর্বোচ্চ এক-তৃতীয়াংশ (১/৩) সীমার মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে।

২. মেয়ে ও স্বামীর প্রাপ্ত অংশের বিবরণ

উপরোক্ত সকল দেনা ও খরচ মিটিয়ে দেওয়ার পর অবশিষ্ট সম্পত্তিতে স্বামী ও মেয়েদের নির্ধারিত অংশ নিচের নিয়ম অনুযায়ী বণ্টিত হবে—

স্বামীর প্রাপ্ত অংশ

স্ত্রী মারা যাওয়ার পর যদি তার কোনো সন্তান (ছেলে বা মেয়ে) জীবিত থাকে, তবে স্বামী মোট ত্যাজ্য সম্পত্তির এক-চতুর্থাংশ (১/৪ অংশ বা ২৫%) পাবেন।

মেয়ের প্রাপ্ত অংশ

একমাত্র মেয়ে হলে: মৃত নারীর যদি শুধুমাত্র একটি মেয়ে থাকে (এবং কোনো ছেলে না থাকে), তবে সে মোট সম্পত্তির অর্ধেক (১/২ অংশ বা ৫০%) পাবে।

একাধিক মেয়ে হলে: যদি দুই বা ততধিক মেয়ে থাকে (এবং কোনো ছেলে না থাকে), তবে তারা সবাই মিলে সম্পত্তির দুই-তৃতীয়াংশ (২/৩ অংশ বা ৬৬.৬৬%) পাবে এবং তা নিজেদের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে নেবে।

৩. অবশিষ্টাংশ বা বাকি সম্পত্তির হিসাব

স্বামী (১/৪ বা ২৫%) এবং একমাত্র মেয়ে (১/২ বা ৫০%) তাদের নির্ধারিত অংশ পাওয়ার পর মোট সম্পত্তির এক-চতুর্থাংশ (১/৪ অংশ বা ২৫%) অবশিষ্ট থাকে। এই বাকি সম্পত্তি ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী বণ্টন করা হবে।

৪. কুরআন ও হাদিসের প্রামাণ্য দলিল

কুরআন মাজীদের দলিল: মেয়ের অংশের ক্ষেত্রে—

وَإِن كَانَتْ وَاحِدَةً فَلَهَا النِّصْفُ

‘আর যদি (সন্তান) কেবল একটিই মেয়ে হয়, তবে সে (মোট সম্পত্তির) অর্ধেক পাবে।’ (সুরা আন-নিসা: আয়াত ১১)

স্বামীর অংশের ক্ষেত্রে—

فَإِن كَانَ لَهُنَّ وَلَدٌ فَلَكُمُ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَقْنَ

‘অতঃপর যদি তাদের (স্ত্রীদের) কোনো সন্তান থাকে, তবে তাদের রেখে যাওয়া সম্পত্তির এক-চতুর্থাংশ (১/৪) তোমাদের (স্বামীদের)।’ (সুরা আন-নিসা, আয়াত ১২)

মায়ের ছেড়ে যাওয়া সম্পদ নিছক দুনিয়াবি সম্পদ নয়, বরং এর সঠিক বণ্টন পরকালের জবাবদিহিতার সাথে জড়িত। ইসলামে নির্ধারিত পন্থায় কারও অধিকার ক্ষুণ্ন না করে নিখুঁতভাবে এই মিরাস বণ্টন করা প্রতিটি ইমানদারের শরিয়তি দায়িত্ব। আল্লাহর দেওয়া এই ফারায়েজের সীমারেখা মেনে চললে পরিবারে শান্তি, শৃঙ্খলা ও বরকত বজায় থাকে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হিমায়িত খাদ্য রপ্তানিতে ৭ শতাংশ সুদে মিলবে ঋণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:২৩ পি.এম


হিমায়িত খাদ্য রপ্তানিতে ৭ শতাংশ সুদে মিলবে ঋণ

বাংলাদেশ ব্যাংক হিমায়িত খাদ্য রপ্তানি খাতের জন্য ২ হাজার কোটি টাকার প্রাক্‌-অর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে। উদ্যোক্তারা এই তহবিল থেকে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন।

এই তহবিলের উদ্দেশ্য হলো রপ্তানি বহুমুখীকরণ, বৈদেশিক মুদ্রা আয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্প্রসারণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নে গঠিত এই তহবিলের মেয়াদ তিন বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সময়কালে এটি রিভলভিং পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে।

রোববার (৩০ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংক একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে তহবিলের নীতিমালা প্রকাশ করেছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের সকল তফসিলি ব্যাংক এই তহবিলের সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিভাগ-২-এর সঙ্গে অংশগ্রহণকারী চুক্তি করতে হবে।

নীতিমালা অনুযায়ী, তহবিলের অর্থ রপ্তানির উদ্দেশ্যে হিমায়িত চিংড়ি, মাছ ও অন্যান্য হিমায়িত খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং রপ্তানিসংশ্লিষ্ট কাজে ব্যবহার করা যাবে। কাঁচামাল ক্রয়, কারখানা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন, যন্ত্রপাতি ক্রয়, কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ এবং বন্ধ বা আংশিক সচল কারখানা পুনরায় চালুর জন্যও এই ঋণ গ্রহণ করা যাবে।

এছাড়া, উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন এবং পরিবেশগত ক্ষতি প্রশমনের কাজেও তহবিলের অর্থ ব্যবহার করা যাবে।

গ্রাহক পর্যায়ে এই তহবিলের ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া প্রাক্‌-অর্থায়নের বিপরীতে ৪ শতাংশ সুদ প্রদান করবে।

নতুন কারখানা স্থাপনের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছরের মেয়াদে ঋণ প্রদান করা হবে। এর মধ্যে এক বছরের গ্রেস পিরিয়ড থাকবে। বিদ্যমান কারখানা সংস্কার, সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর।

চলতি মূলধন ঋণের মেয়াদ হবে এক বছর। তবে সন্তোষজনক ব্যবসায়িক লেনদেন থাকলে একবার তা নবায়ন করা যাবে।

নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংক ও গ্রাহকের অর্থায়নের অনুপাত সর্বোচ্চ ৭০:৩০ হবে। বিদ্যমান কারখানা সংস্কার ও আধুনিকায়নের জন্য সর্বোচ্চ ২০ কোটি টাকা এবং নতুন কারখানা নির্মাণের জন্য সর্বোচ্চ ৩০ কোটি টাকা মেয়াদি ঋণ প্রদান করা যাবে।

সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের জন্য মূল প্রকল্প ঋণের ৩০ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা—যেটি কম—পরিমাণ অতিরিক্ত ঋণ প্রদান করা যাবে।

চলতি মূলধনের অভাবে বন্ধ বা আংশিক বন্ধ হয়ে যাওয়া রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে খেলাপি ঋণগ্রহীতা এবং একই খাতে বাংলাদেশ ব্যাংক বা সরকারি অন্য কোনো তহবিলের ঋণ সুবিধা চলমান রয়েছে—এমন প্রতিষ্ঠান এই সুবিধা পাবে না।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%