প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বাংলাদেশ ব্যাংক হিমায়িত খাদ্য রপ্তানি খাতের জন্য ২ হাজার কোটি টাকার প্রাক্-অর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে। উদ্যোক্তারা এই তহবিল থেকে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন।
এই তহবিলের উদ্দেশ্য হলো রপ্তানি বহুমুখীকরণ, বৈদেশিক মুদ্রা আয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্প্রসারণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নে গঠিত এই তহবিলের মেয়াদ তিন বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সময়কালে এটি রিভলভিং পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে।
রোববার (৩০ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংক একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে তহবিলের নীতিমালা প্রকাশ করেছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের সকল তফসিলি ব্যাংক এই তহবিলের সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিভাগ-২-এর সঙ্গে অংশগ্রহণকারী চুক্তি করতে হবে।
নীতিমালা অনুযায়ী, তহবিলের অর্থ রপ্তানির উদ্দেশ্যে হিমায়িত চিংড়ি, মাছ ও অন্যান্য হিমায়িত খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং রপ্তানিসংশ্লিষ্ট কাজে ব্যবহার করা যাবে। কাঁচামাল ক্রয়, কারখানা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন, যন্ত্রপাতি ক্রয়, কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ এবং বন্ধ বা আংশিক সচল কারখানা পুনরায় চালুর জন্যও এই ঋণ গ্রহণ করা যাবে।
এছাড়া, উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন এবং পরিবেশগত ক্ষতি প্রশমনের কাজেও তহবিলের অর্থ ব্যবহার করা যাবে।
গ্রাহক পর্যায়ে এই তহবিলের ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া প্রাক্-অর্থায়নের বিপরীতে ৪ শতাংশ সুদ প্রদান করবে।
নতুন কারখানা স্থাপনের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছরের মেয়াদে ঋণ প্রদান করা হবে। এর মধ্যে এক বছরের গ্রেস পিরিয়ড থাকবে। বিদ্যমান কারখানা সংস্কার, সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর।
চলতি মূলধন ঋণের মেয়াদ হবে এক বছর। তবে সন্তোষজনক ব্যবসায়িক লেনদেন থাকলে একবার তা নবায়ন করা যাবে।
নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংক ও গ্রাহকের অর্থায়নের অনুপাত সর্বোচ্চ ৭০:৩০ হবে। বিদ্যমান কারখানা সংস্কার ও আধুনিকায়নের জন্য সর্বোচ্চ ২০ কোটি টাকা এবং নতুন কারখানা নির্মাণের জন্য সর্বোচ্চ ৩০ কোটি টাকা মেয়াদি ঋণ প্রদান করা যাবে।
সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের জন্য মূল প্রকল্প ঋণের ৩০ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা—যেটি কম—পরিমাণ অতিরিক্ত ঋণ প্রদান করা যাবে।
চলতি মূলধনের অভাবে বন্ধ বা আংশিক বন্ধ হয়ে যাওয়া রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে খেলাপি ঋণগ্রহীতা এবং একই খাতে বাংলাদেশ ব্যাংক বা সরকারি অন্য কোনো তহবিলের ঋণ সুবিধা চলমান রয়েছে—এমন প্রতিষ্ঠান এই সুবিধা পাবে না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন