০২:৪৬ পি.এম
একটি পাকা কবর, যা ইট-পাথরে মোড়ানো। এর চারপাশে রয়েছে পরিপাটি পরিবেশ, পিলার, ছাদ এবং ছোট ছোট মিনার। প্রথমবার দেখলে এটি সাধারণ কোনো ঘর মনে হতে পারে, কিন্তু এটি আসলে প্রস্তুত রাখা একটি কবর। গত পাঁচ বছর ধরে নিজের হাতে এই কবরটি তৈরি করে রেখেছেন এক বৃদ্ধ, যিনি জীবনের শেষ দিনগুলো গুনছেন এর পাশে বসে।
এটি একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা, যা ঘটেছে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার কুশাডাঙ্গা গ্রামে। বৃদ্ধের নাম আব্দুর রহিম। প্রতিদিন নিয়মিতভাবে তিনি এই কবরের যত্ন নেন। ধুলোবালি জমলে নিজ হাতে পরিষ্কার করেন। শুধু নিজের জন্য নয়, মৃত্যুর পর স্ত্রী যেন পাশে ঠাঁই পান, সেই উদ্দেশ্যে স্ত্রীর জন্যও একটি কবর খুঁড়ে রেখেছেন তিনি। আত্মীয়স্বজনদের কাছে তার শেষ আকুতি হলো, মৃত্যুর পর যেন দুজনকে পাশাপাশি দাফন করা হয়।
মৃত্যুর পর সন্তানরা ঠিকঠাক দাফন-কাফন করবেন কি না, এই শঙ্কা ও মানসিক ভাবনা থেকেই মূলত আব্দুর রহিম এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এমনকি, মৃত্যুর পর যেন কারও ওপর বোঝা হতে না হয়, সেই কারণে জীবিত অবস্থাতেই নিজের কুলখানি, চল্লিশা এবং দোয়া মাহফিলের মতো ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে রেখেছেন তিনি।
আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য
এমন আগাম প্রস্তুতি ও ব্যতিক্রমী কাণ্ড দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে উৎসুক মানুষ আব্দুর রহিমের বাড়িতে ভিড় করছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বিষয়টিকে কৌতূহল ও বিস্ময়ের চোখে দেখছেন, তবে কেউ কেউ বলছেন, জীবনের চরম সত্যকে এত কাছ থেকে মেনে নেওয়ার মানসিকতা সত্যিই বিরল।
পৃথিবীর মায়াজাল ছিন্ন করে একদিন সবাইকে চলে যেতে হবে পরপারে। কিন্তু মহেশপুরের আব্দুর রহিমের এই প্রস্তুতি কি শুধুই আক্ষেপ ও লোকদেখানো, নাকি মৃত্যুর অবধারিত সত্যকে অতি নিকটে মেনে নেওয়ার এক অদ্ভুত মানসিকতা—এ নিয়ে পুরো এলাকায় আলোচনা ও কৌতূহল এখন তুঙ্গে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন