০৫:৪২ পি.এম
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নারী শিক্ষার্থীদের জন্য একমাত্র আবাসিক হল নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হলের চারটি লিফটের মধ্যে দুটি দীর্ঘ সময় ধরে অচল অবস্থায় রয়েছে। সচল থাকা দুটি লিফটের ক্ষেত্রেও রয়েছে ঝাঁকুনি, অস্বাভাবিক শব্দ এবং মাঝপথে আটকে যাওয়ার অভিযোগ। এই কারণে হলের প্রায় ১ হাজার ২০০ আবাসিক শিক্ষার্থী ভোগান্তিতে পড়েছেন।
১৬ তলা ভবনটির সচল দুটি লিফটের একটি জোড় তলায় এবং অন্যটি বিজোড় তলায় চলাচল করে। ফলে অনেক সময় শিক্ষার্থীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে লিফট পরিবর্তন করতে হয়। বিশেষ করে সকাল ও সন্ধ্যায় ক্লাসের সময় এবং পরীক্ষার আগে লিফটের সামনে দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। এতে শিক্ষার্থীরা সময়মতো ক্লাস ও পরীক্ষায় পৌঁছাতে সমস্যায় পড়ছেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সচল থাকা লিফট দুটিতেও প্রায়ই তীব্র ঝাঁকুনি ও অস্বাভাবিক শব্দ শোনা যায়। কখনো কখনো চলন্ত অবস্থায় লিফট বন্ধ হয়ে শিক্ষার্থীরা ভেতরে আটকা পড়েছেন। লিফটের ভেতরের ফ্যানও অনেক সময় কাজ করে না বলে তারা জানান।
আরও পড়ুন: চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসনে তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ
হলের ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রোমানা আক্তার বলেন, "দুটি লিফট বন্ধ থাকায় ক্লাস ও পরীক্ষার সময় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। এতে অনেক সময় ক্লাসে দেরি হয়। অসুস্থ ও শারীরিকভাবে অসুবিধায় থাকা শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি আরও বেশি।"
ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নাবিলা আক্তার বলেন, "লিফট চলার সময় হঠাৎ ঝাঁকুনি ও অস্বাভাবিক শব্দ হয়। কয়েকবার শিক্ষার্থীরা লিফটের ভেতরে আটকে পড়েছেন। নিয়মিত কারিগরি পরীক্ষা ছাড়া এভাবে লিফট চালানো নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।"
হল সংসদের ভিপি জান্নাতুল উম্মি তারিন বলেন, "প্রায় তিন মাস ধরে লিফটের সমস্যা নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। গত ৪ অক্টোবর উপাচার্য ও প্রধান প্রকৌশলী হলে এলে তাদের কাছে বিষয়টি জানানো হয়। সম্প্রতি এক শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চারটি লিফটই বন্ধ ছিল। চুক্তি নবায়ন ও কারিগরি জটিলতার কারণে সমস্যাটি দীর্ঘ হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।"
এর আগে আরটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আঞ্জুমান আরা লিফটের সমস্যার জন্য শিক্ষার্থীদের অসচেতনতাকেও দায়ী করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, "লিফটের সামনে শিক্ষার্থীরা মাছের কাঁটা, পানি ও অন্যান্য ময়লা ফেলেন। এসব ময়লা লিফটের বিভিন্ন অংশে জমে সমস্যার সৃষ্টি করে এবং কয়েক দিন পরপরই লিফটে ত্রুটি দেখা দেয়।" তবে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: ইবি প্রশাসনের চার পদে নতুন পরিচালক নিয়োগ
হলের আবাসিক শিক্ষক অধ্যাপক ড. বুশরা জাহান বলেন, "ভবনের ধারণক্ষমতার তুলনায় শিক্ষার্থী বেশি হওয়ায় লিফটের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। লিফটের দরজার সেন্সরে ময়লা জমা বা দীর্ঘ সময় ব্যবহারের কারণেও সমস্যা হতে পারে। ত্রুটি দেখা দিলে হল প্রশাসন ও স্টাফরা তাৎক্ষণিক সমাধানের চেষ্টা করেন।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, "হলের লিফট রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নতুন একটি কোম্পানিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বন্ধ থাকা দুটি লিফটের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
শিক্ষার্থীরা দ্রুত চারটি লিফট সচল করার পাশাপাশি মোটর, ব্রেক, কেবল, সেন্সর, দরজা ও কন্ট্রোল সিস্টেম পরীক্ষা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে জরুরি ফোন, ইন্টারকম ও অ্যালার্ম ব্যবস্থা সচল রাখা এবং লিফটে কেউ আটকে পড়লে দ্রুত উদ্ধারের কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি তাদের।
আরও পড়ুন: ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের তারিখ ঘোষণা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন