ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রিয়ালের জয় ছাপিয়ে গুলারের লাল কার্ড বিতর্ক


রিয়ালের জয় ছাপিয়ে গুলারের লাল কার্ড বিতর্ক

রিয়াল মাদ্রিদের সেভিয়ার বিরুদ্ধে জয়ী ম্যাচে আর্দা গুলারের লাল কার্ড নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এই তুর্কি তারকার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তিনি প্রতিপক্ষের ফরোয়ার্ড পেককে কনুই দিয়ে আঘাত করেছেন। তবে সেভিয়ার খেলোয়াড়রা ভিএআর হস্তক্ষেপ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

ম্যাচের ২২তম মিনিটে ঘটে এই বিতর্কিত ঘটনা। রিয়াল মাদ্রিদের একটি পাল্টা আক্রমণ থামানোর চেষ্টা করতে গিয়ে গুলারের হাতের আঘাতে মাটিতে পড়ে যান সেভিয়ার ফরোয়ার্ড পেক। সঙ্গে সঙ্গে সেভিয়ার খেলোয়াড়রা রেফারির কাছে অভিযোগ করেন। তাদের দাবি ছিল, গুলারকে হিংসাত্মক আচরণের জন্য সরাসরি লাল কার্ড দেখানো উচিত ছিল।

ঘটনাটি ভিএআরে পর্যালোচনা করা হলেও মাঠের রেফারি বুস্কেতস ফেরেক রিপ্লে দেখার জন্য মনিটরে যেতে নির্দেশ দেননি। আঘাতের সুনির্দিষ্ট স্থান এবং বলপ্রয়োগের মাত্রা পরিষ্কার না হওয়ায় গুলারের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি রেফারির পক্ষ থেকে। বরং প্রতিবাদ করায় হলুদ কার্ড দেখতে হয় সেভিয়ার হাইসেন ও ফেলিক্স কোরিয়াকে।

আরও পড়ুন: শূন্য রান করেও ম্যাচের নায়ক ম্যাক্স ফিল্ড, খেললেন ১৩২ বল

ম্যাচের প্রথমার্ধের বিরতির সময় সেভিয়ার ডিফেন্ডার কিকে সালাস এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সতীর্থ পেকের বক্তব্যের ওপর আস্থা রেখে তিনি বলেন, "গুলারের ওই আঘাত লাল কার্ড পাওয়ার মতো অপরাধ।" যদিও তিনি তখনও ঘটনার পরিষ্কার রিপ্লে দেখেননি।

সালাসের মতে, গুলারের গোলের আগে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ সেভিয়ার হাতে ছিল। তবে পেককে কনুই দিয়ে আঘাত করার ঘটনাটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারত। এ সময় ভিএআরের ভূমিকা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।

বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই গোল করে রিয়ালকে এগিয়ে দেন গুলার। দিয়ামান্দের বাড়িয়ে দেওয়া নিখুঁত পাস থেকে চমৎকার ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান এই তরুণ তারকা। ফলে সেভিয়ার ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়।

এরপর ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। রিয়াল মাদ্রিদ জয় পেলেও সেভিয়ার শিবিরে অসন্তোষ থেকেই যায়। তাদের মতে, গুলারকে লাল কার্ড দেখানো হলে ম্যাচের গতিপথ সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারত।

আরও পড়ুন: সালমান আগার সেঞ্চুরিতে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে পাকিস্তানের জয়

সব মিলিয়ে রিয়ালের জয় ছাপিয়ে রেফারির সিদ্ধান্ত এবং ভিএআরের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা চলছে। বিতর্কিত ওই ঘটনায় সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েই ফুটবল মহলে চলছে তর্ক-বিতর্ক।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইবি প্রশাসনের চার পদে নতুন পরিচালক নিয়োগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪০ পি.এম


ইবি প্রশাসনের চার পদে নতুন পরিচালক নিয়োগ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) প্রশাসন চারটি নতুন পদে পরিচালক নিয়োগ প্রদান করেছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমানের স্বাক্ষরিত পৃথক চারটি অফিস আদেশের মাধ্যমে এই নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়।

নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে আইসিটি সেলের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলাম। শিক্ষক ছাত্র সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের (টিএসসিসি) পরিচালক পদে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনজুর রহমান নিয়োগ লাভ করেছেন। প্রেস প্রশাসক হিসেবে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. গাজী মোহাম্মদ মাহবুব মুর্শিদ এবং সেন্ট্রাল ল্যাবের পরিচালক পদে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. রুহুল আমিন ভূঁইয়া নিয়োগ পেয়েছেন।

অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, আইসিটি সেলের পরিচালক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান আলীর মেয়াদ ২১ অক্টোবরে শেষ হবে। এ কারণে তদ্বস্থলে আইসিটি বিভাগের অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলামকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। টিএসসিসির পরিচালক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. জাকির হোসেনের মেয়াদ ১৮ অক্টোবর শেষ হওয়ায় তদস্থলে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনজুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রেস প্রশাসক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. এ.কে.এম. মফিজুল ইসলামের মেয়াদ ২০ অক্টোবরে শেষ হবে; তদস্থলে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. গাজী মো. মাহবুব মোর্শেদকে উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছেন।

এছাড়া, সেন্ট্রাল ল্যাবরেটরির পরিচালক হিসেবে আইসিটি অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলামকে ১৭ অক্টোবর থেকে সেন্ট্রাল লাইব্রেরির পরিচালক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তদ্বস্থলে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রুহুল আমিন ভূঁইয়াকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুষ্টিয়ার লালন সাঁইয়ের আখড়াবাড়ি থেকে টাইম বোমা উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪১ পি.এম


কুষ্টিয়ার লালন সাঁইয়ের আখড়াবাড়ি থেকে টাইম বোমা উদ্ধার

কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় বাউলসম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের আখড়াবাড়ির প্রাঙ্গণ থেকে পুলিশ একটি টাইম বোমা এবং দুই লিটার পেট্রল উদ্ধার করেছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে ঢাকা থেকে আসা পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল বোমাটি নিষ্ক্রিয় করে। এই ঘটনার পর আখড়াবাড়ি ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১৮ অক্টোবর) দিবাগত রাত ২টার সময় লালন আখড়াবাড়ির ভেতরে একটি সাদা ব্যাগে মোড়ানো সন্দেহজনক বস্তু পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিষয়টি জানার পর পুলিশ দ্রুত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। রাতের মধ্যেই আখড়াবাড়ির ভেতরে অবস্থানরত সাধু-ফকিরদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

সোমবার সকালে ঢাকা থেকে পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা সন্দেহজনক ব্যাগটি তল্লাশি করে একটি টাইম বোমা এবং দুই লিটার পেট্রল উদ্ধার করে। পরে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করা হয়।

এদিকে, ঘটনার পর থেকে লালন আখড়াবাড়ি প্রাঙ্গণে সাধু, ভক্ত এবং সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মাজার ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার রেখেছে।

কে বা কারা, কী উদ্দেশ্যে এসব বস্তু আখড়াবাড়ি প্রাঙ্গণে রেখে গেছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুমারখালী উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাভিদ সরোয়ার বলেন, "বোমা উদ্ধারের ঘটনা সত্য। এ বিষয়ে পুলিশ বিস্তারিত বলতে পারবে।" কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, "লালন সাঁইয়ের আখড়াবাড়ি প্রাঙ্গণ থেকে একটি টাইম বোমা ও দুটি বোতলে পেট্রল উদ্ধার করা হয়েছে। বোমাটি নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। বর্তমানে মাজার এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুষ্টিয়ার লালন আখড়াবাড়িতে সাধু-গুরু ও লালন অনুসারীদের মিলনমেলা শেষ হচ্ছে আজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪২ পি.এম


কুষ্টিয়ার লালন আখড়াবাড়িতে সাধু-গুরু ও লালন অনুসারীদের মিলনমেলা শেষ হচ্ছে আজ

এক বছর দীর্ঘ অপেক্ষার পর আবার। কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ার লালন আখড়াবাড়িতে সমবেত হয়েছেন দেশ-বিদেশের হাজারো সাধু-গুরু ও লালন অনুসারী, গুরু-সান্নিধ্য এবং মরমি সাধনায় একাত্ম হওয়ার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সাধুসঙ্গের আনুষ্ঠানিকতা অধিবাস, বাল্য সেবা ও পূর্ণ সেবার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। বিদায় বেলায় ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আখড়াবাড়ি ছাড়তে শুরু করেছেন সাধুরা। তবে মূল মঞ্চের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং গ্রামীণ মেলা চলবে সোমবার (১৯ অক্টোবর) পর্যন্ত।

বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত তিনদিনের উৎসবের দ্বিতীয় দিন থেকেই ভাঙতে শুরু করেছে সাধুদের মিলন মেলা। লালনের মানবতাবাদী দর্শন, আত্মশুদ্ধি ও মরমি সাধনার চর্চায় একত্রিত হওয়া সাধুরা পূর্ণ সেবার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরছেন। তারা আবারও ফিরে আসার প্রত্যাশা রেখে যাচ্ছেন।

রোববার সকালে বাল্য সেবা এবং দুপুরে পূর্ণ সেবা অনুষ্ঠিত হয়। এর মাধ্যমে সাধু সঙ্গের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। বিকেল থেকেই অধিকাংশ সাধু আখড়াবাড়ি ছেড়ে চলে যান। কিছু সাধু গুরুকার্য সম্পন্ন করে সোমবার সকালে বিদায় নেবেন বলে জানা গেছে।

গাইবান্ধা থেকে আসা নিজাম ফকির বলেন, “আমরা প্রতিবছর সাঁইজির ধামে আসি। এখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধু-গুরুরা একত্রিত হয়ে সাধুসঙ্গ করি। অধিবাস, রাখাল সেবা, বাল্য সেবা ও পূর্ণ সেবার মধ্যদিয়ে আমাদের সাধুসঙ্গের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছে। আজ অশ্রুসিক্ত নয়নে সাঁইজির আখড়াবাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছি। আবারও আগামী বছর আসব। এই মিলন মেলায় সবার সঙ্গে দেখা হবে-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

মামুন সাধু বলেন, “সাঁইজির ধামে এলে আমরা সবাই এক পরিবারের মতো মিলিত হই। সাধুসঙ্গের মধ্য দিয়ে গুরু-সান্নিধ্য লাভ করি এবং লালন সাঁইয়ের মানবতাবাদী দর্শন ও মরমি ভাবধারার চর্চা করি। পূর্ণ সেবার মধ্য দিয়ে সাধুসঙ্গের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ায় এখন বিদায়ের পালা। মনটা খুব ভারী হয়ে আছে। আবারও আগামী বছর সাঁইজির ধামে ফিরে আসার অপেক্ষায় থাকব।”

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসা এক নারী শিক্ষার্থী গণমাধ্যমকে বলেন, “আজ এখানে আসার মূল উদ্দেশ্য লালন সাঁইয়ের দার্শনিক ভাবনা সম্পর্কে জানা ও তা উপলব্ধি করা। বিশেষ করে সমাজের বৈষম্যবিরোধী যে বার্তা তিনি দিয়েছেন, তা আমাদের ভীষণভাবে আকৃষ্ট করে। তার দর্শন ও চিন্তাধারা কাছ থেকে অনুভব করা এবং বোঝার সুযোগ পাওয়া সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর কথাগুলোর মতো গানগুলোও মনের গভীরে দাগ কাটে। আশা করি, আজকের এই আয়োজন থেকে আমরা সবাই মানবতা, সাম্য ও ইতিবাচক চিন্তার সুন্দর বার্তা নিয়ে ফিরতে পারব।”

সাধুদের বিদায়ে আখড়াবাড়িতে সাধুসঙ্গের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও উৎসবের আমেজ এখনো কাটেনি। মূল মঞ্চে লালন অ্যাকাডেমির শিল্পী ও দেশ বরেণ্য লালন শিল্পীদের পরিবেশনায় চলবে মরমি সংগীত। পাশাপাশি আখড়াবাড়ি প্রাঙ্গণের তিনদিনের গ্রামীণ মেলাও চলবে সোমবার পর্যন্ত। ফলে সাধুদের বড় একটি অংশ ফিরে গেলেও লালন ভক্ত ও দর্শনার্থীদের আনাগোনা অব্যাহত রয়েছে।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের কেউ লালনের দর্শন জানতে, কেউ তার মানবতাবাদী চিন্তায় জীবনের অর্থ খুঁজতে, আবার কেউ আত্মিক প্রশান্তির আশায় ছুটে এসেছেন এই ধামে। লালনের প্রেম, মানবিকতা ও আত্ম শুদ্ধির বাণীকে ধারণ করেই ভক্ত-অনুসারীদের এই মিলনমেলা।

ঐতিহাসিক এ উৎসব নির্বিঘ্ন করতে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছিল কয়েক স্তরের নিরাপত্তা-ব্যবস্থা।

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, “লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস শুধু একটি স্মরণোৎসব নয়, এটি তার মানবতাবাদী দর্শন, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন। এ উৎসবে দেশ-বিদেশের লালনভক্ত, সাধু-গুরু ও দর্শনার্থীরা একত্রিত হন।”

উৎসবকে শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্ন করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উৎসবের পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। লালনের মানবতাবাদী দর্শন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, ১২৯৭ বঙ্গাব্দের পহেলা কার্তিক ফকির লালন সাঁইয়ের মৃত্যুর পর থেকে তার স্মরণে ভক্ত-অনুসারীরা স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছেন। পরবর্তী সময়ে লালন অ্যাকাডেমি ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ আয়োজন বিস্তৃত রূপ পায়। প্রতিবছর তিরোধান দিবসে লালনের দর্শন, মানবতাবাদী ভাবধারা ও মরমি সংগীতের টানে ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়িতে সমবেত হন দেশ-বিদেশের অসংখ্য ভক্ত, সাধু ও দর্শনার্থী।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রিজভী: উৎসব সামাজিক সীমানায় আবদ্ধ নয়, জাতীয়তাবাদ ও ধর্মীয় অধিকার রক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪২ পি.এম


রিজভী: উৎসব সামাজিক সীমানায় আবদ্ধ নয়, জাতীয়তাবাদ ও ধর্মীয় অধিকার রক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রের

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করেছেন, "উৎসব কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় বা সামাজিক সীমানায় আবদ্ধ নয়; এর সর্বজনীন আহ্বান সব সম্প্রদায়ের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে এবং ভ্রাতৃত্ববোধ নিয়ে একসঙ্গে বসবাসের অনুপ্রেরণা জোগায়। সমাজে অসত্য ও অশুভ শক্তির বিনাশ করে সত্য, ন্যায় ও শান্তি প্রতিষ্ঠাই দুর্গাপূজার মূল মর্মবাণী।"

তিনি সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে এই মন্তব্য করেন।

রিজভী আরও বলেন, "শত শত বছর ধরে এ দেশের মানুষ একই ভাষা ও লোকজ সংস্কৃতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে মিলেমিশে বসবাস করছে। দেশের অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্য বিনষ্ট করতে দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্র হতে পারে। তবে ধর্মপ্রাণ ও অসাম্প্রদায়িক মানুষ তা কখনও সফল হতে দেবে না।"

তিনি উল্লেখ করেন, "বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ এমন একটি বাগান, যেখানে বিভিন্ন রঙের ও জাতের ফুল একসঙ্গে ফোটে এবং প্রতিটি সম্প্রদায়ের নিজস্ব স্থান সংরক্ষিত রয়েছে।"

তিনি আরও বলেন, "ধর্মীয় বিশ্বাস যার যার ব্যক্তিগত বিষয় হলেও রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার সমান। প্রত্যেকে যাতে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্নে, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।"

হিন্দু সম্প্রদায়ের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দুর্গাপূজার ছুটি বৃদ্ধি, পূজামণ্ডপে বরাদ্দ বাড়ানো এবং পুরোহিত ও সেবায়েতদের সম্মানী দেওয়ার বিষয়টি বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দেবাশীষ পাল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি ডা. জাহিদুর রহমান, ছাত্রদলের সহসভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়ালসহ হিন্দু ধর্মাবলম্বী বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%