বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৩:৫৮ এম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে অবস্থিত আম্বর আলী শাহ মাজারের মূল ফটকের তালা ভেঙে দানবাক্স থেকে প্রায় এক লাখ টাকার চুরির অভিযোগ উঠেছে। এর পাশাপাশি, মাজার থেকে আটটি কাঁসার পাতিল ও বেশ কিছু আসবাবপত্রও চুরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত ৮টা থেকে বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার মধ্যে উপজেলার ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়নের মধ্যনগর এলাকায় এ চুরির ঘটনা ঘটে।
মাজার কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখানে দিনরাত একটি মাদকের সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকে এবং মাদকাসক্তরা এখানে মাদক সেবন করে থাকে। তাদের ওপর সন্দেহ করা হচ্ছে যে, তারা এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারে।
এ ঘটনায় মাজারের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং এলাকার মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ভক্তদের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
চুরি হওয়া মালামালের আনুমানিক মোট মূল্য প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা বলে জানা গেছে।
মাজার পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি এটিএম বাক্কী কালের কণ্ঠকে জানান, মঙ্গলবার রাত ৮টা থেকে বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটেছে এবং মাদকসেবীরা এ ধরনের কাণ্ড ঘটাতে পারে।
এটিএম বাক্কী থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, মঙ্গলবার রাতে মাজারের ভেতর ও চারপাশ দেখে মূল ফটকে তালা লাগিয়ে চলে যান তিনি। পরদিন বুধবার সকালে মাজারে গিয়ে দেখেন, মূল ফটকের তালা ভাঙা এবং সামনের দরজা খোলা। এরপর আশপাশের লোকজনকে ডেকে এনে মাজারের ভেতরে ও চারপাশে খোঁজাখুঁজি করেন। তখনই মাজারের দানবাক্সে থাকা টাকা ও বিভিন্ন মালামাল চুরি হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে।
এটিএম বাক্কী জানান, লুটেরারা মাজারের দানবাক্স থেকে আনুমানিক এক লাখ টাকা, ২০ হাজার টাকা মূল্যের আটটি কাঁসার পাতিল এবং প্রায় ২৫ হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন আসবাবপত্র নিয়ে গেছে। সব মিলিয়ে চুরি হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকার কাছাকাছি।
একটি ধর্মীয় স্থাপনায় এভাবে তালা ভেঙে অর্থ ও মালামাল চুরির অভিযোগকে ঘিরে মাজারের ভক্ত ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মাজারের ভক্ত রিয়াজ ও স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর বলেন, রাতের আঁধারে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, কীভাবে তারা মাজারে প্রবেশ করেছে এবং চুরি হওয়া মালামাল কোথায় নেওয়া হয়েছে, পুলিশ তা দ্রুত তদন্ত করে বের করুক।
বাক্কী জানান, ঘটনার পর আশপাশের এলাকায় খোঁজখবর নিয়েও সন্দেহভাজন কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে তিনি বুধবার বিকেলে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।
এ ঘটনায় বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াছিন কালের কণ্ঠকে বলেন, মাজারে চুরি হওয়ার ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে আমরা জোরালো ভূমিকা রাখব। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় লোকালয়ে শেয়ালের আক্রমণে ১১ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নারীও রয়েছেন। বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায়, মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এই ঘটনাগুলো ঘটে। আহতদের বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। একের পর এক শেয়ালের কামড়ের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
আহত ১১ জনের মধ্যে দুজন নারী এবং ৯ জন পুরুষ রয়েছেন। তারা বাগাতিপাড়া পৌরসভার ঘোরলাজ, নওশেরা, বারইপাড়া, সোনাপাতিল ও পেড়াবাড়িয়া সহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। আহতদের মধ্যে পলি নামের এক নারীও রয়েছেন, যিনি হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার সময় উপজেলা চত্বর এলাকায় শেয়ালের কামড়ের শিকার হন।
বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. শামুন আল হাসান সৌমিক জানিয়েছেন, বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে শেয়ালের কামড়ে আহত প্রথম ব্যক্তি হাসপাতালে আসেন। এরপর প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে মোট ১১ জন চিকিৎসা গ্রহণ করেন। শেয়ালের কামড়ের কারণে আহত হলে ক্ষত স্থান সাবান ও প্রবহমান পানি দিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট ধোয়ার পর দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। চিকিৎসক আরও জানান, হাসপাতালে জলাতঙ্কের টিকা পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।
এদিকে, শেয়ালের আক্রমণের খবর পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শামসুল ইসলাম বলেন, শেয়ালের কামড়ে একাধিক ব্যক্তি আহত হওয়ার বিষয়টি বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগকে জানানো হয়েছে। রাজশাহী থেকে বিশেষজ্ঞ দল এসে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এছাড়া, স্থানীয়ভাবে মাইকিং করে এলাকাবাসীকে সতর্ক ও সচেতন করা হচ্ছে।
এক ঘণ্টার ব্যবধানে বিভিন্ন এলাকায় ১১ জন শেয়ালের কামড়ের শিকার হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নামাজ ইসলামের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত। ইমানের পর নামাজই সবচেয়ে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ আমল হিসেবে গণ্য হয়। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পাশাপাশি ইসলামের নফল সালাতেরও বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
নামাজ মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও সান্নিধ্য লাভের জন্য একটি প্রধান মাধ্যম। এটি একজন মুমিনের জন্য শুধুমাত্র ফরজ ইবাদত নয়, বরং আত্মিক প্রশান্তি ও জীবনে বরকত লাভের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
অতএব, প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য একটি দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত।
আজকের ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিচে তুলে ধরা হলো—
ফজর: ৪:৪৫ মিনিট
জোহর: ১১:৪৭ মিনিট
আসর: ৩:৫১ মিনিট
মাগরিব: ৫:৩১ মিনিট
এশা: ৬:৪৫ মিনিট
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা মন্তব্য করেছেন, পূজামণ্ডপে মুসলমানদের উপস্থিতি একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিফলিত হচ্ছে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এই সম্প্রীতি এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সকলের মধ্যে সহনশীলতা প্রয়োজন। যদি সবাই একসঙ্গে কাজ করে, তাহলে এলাকার উন্নয়ন সম্ভব।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সিংগাইর পৌর এলাকার আঙ্গাড়িয়া পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।
খাদ্যমন্ত্রী আরও বলেন, গত ১৭ বছর ধরে ফ্যাসিস্ট সরকারের শাসন ও দলের দুঃসময়ের মধ্যে যারা মানিকগঞ্জে আমার পাশে ছিলেন, তাদের ত্যাগের জন্য আজকের এই অবস্থান সম্ভব হয়েছে। এজন্য তিনি মানিকগঞ্জবাসীর প্রতি চিরকাল কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, কে ভোট দিয়েছেন এবং কে দেননি, তা নিয়ে চিন্তা না করে সকল মানুষের জন্য জনপ্রতিনিধিদের কাজ করতে হবে। "ধর্ম, বর্ণ, দল, মত নির্বিশেষে জনগণের স্বপ্ন পূরণে আমি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করব।"
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধিদের মূল দায়িত্ব হলো জনগণের সেবা করা। দ্বন্দ্বে না জড়িয়ে একত্রিতভাবে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে।
ভোটের ক্ষেত্রে টাকার প্রলোভনে না পড়ে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার আহ্বান জানান তিনি। ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব ও দলীয় কোন্দলের কারণে যেন এলাকার উন্নয়ন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকার অনুরোধ করেন।
উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাইদুর রহমান সাগরের সঞ্চালনায় পূজামণ্ডপ পরিদর্শন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নূর তাজ আলম বাহার, জেলা কৃষক দলের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া সাঈদ, ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম বাদল।
এ সময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবিদুর রহমান খান রোমান, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম ভূইয়া জয়, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মাহাবুবুর রহমান মিঠু, যুগ্ম-সম্পাদক আওলাদ হোসেন (এজিএস), আওলাদ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাজেদুল আলম স্বাধীন, প্রচার সম্পাদক ইলিয়াছ হোসেন, পৌর বিএনপির সাবেক সহসভাপতি সায়েদ আলী, জিন্নত আলী, যুগ্ম সম্পাদক আশরাফুল আলম শ্যামল, যুগ্ম-সম্পাদক রিপন উদ্দিন, যুগ্ম-সম্পাদক আতাউর রহমান আতা, ইমরান খান, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান আকুল, থানা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক সাকিল, পৌর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক রাসেল ও কলেজ ছাত্রদল নেতা শাহিলসহ উপজেলা, পৌর ও বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপি, কৃষকদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদল এবং ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা হরিরামপুর, দৌলতপুর, ঘিওর ও শিবালয় উপজেলার আরো ৭টি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের খোঁজ খবর নেন, শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং পূজামণ্ডপে আর্থিক অনুদান প্রদান করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) খুলনায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সুন্দরবন রক্ষা ও মোংলা বন্দরের উন্নয়নকাজ সরাসরি দেখার উদ্দেশ্যে। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই একদিনের সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা যাচাই করা, সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পরিবেশের সংরক্ষণ এবং মোংলা বন্দরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প সরেজমিনে পরিদর্শন করা। তিনি হেলিকপ্টারে করে যাবেন এবং বিকেলেই ঢাকায় ফিরে আসবেন। বিশেষভাবে সুন্দরবন সুরক্ষার উদ্যোগ, মোংলা সমুদ্র বন্দরের পরিস্থিতি এবং সেখানে গড়ে ওঠা অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রকল্পগুলো পরিদর্শনের পাশাপাশি একটি পর্যালোচনা সভাতেও অংশগ্রহণ করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফর শুরু হবে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে যাত্রার মাধ্যমে। সকাল ১০টায় তিনি আকাশ থেকে হিরণ পয়েন্ট ও সুন্দরবন এলাকা পরিদর্শন করবেন। এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার হেলিকপ্টার অবতরণ করবে। সেখান থেকে দুপুর পৌনে ১টায় নৌপথে বাগেরহাটের মোংলায় অবস্থিত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঘাঁটি ‘বানৌজ মোংলা’য় পৌঁছাবেন এবং মধ্যাহ্নভোজের বিরতি নেবেন।
দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে নৌঘাঁটির ওয়ার্ড রুমে একটি পর্যালোচনা সভায় যোগ দেবেন। এরপর দুপুর ৩টায় মোংলা বন্দরের জেটি এবং সাড়ে ৩টায় প্রস্তাবিত মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করবেন। সবশেষে বিকেল ৪টায় হেলিকপ্টারে করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ