প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে অবস্থিত আম্বর আলী শাহ মাজারের মূল ফটকের তালা ভেঙে দানবাক্স থেকে প্রায় এক লাখ টাকার চুরির অভিযোগ উঠেছে। এর পাশাপাশি, মাজার থেকে আটটি কাঁসার পাতিল ও বেশ কিছু আসবাবপত্রও চুরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত ৮টা থেকে বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার মধ্যে উপজেলার ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়নের মধ্যনগর এলাকায় এ চুরির ঘটনা ঘটে।
মাজার কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখানে দিনরাত একটি মাদকের সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকে এবং মাদকাসক্তরা এখানে মাদক সেবন করে থাকে। তাদের ওপর সন্দেহ করা হচ্ছে যে, তারা এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারে।
এ ঘটনায় মাজারের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং এলাকার মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ভক্তদের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
চুরি হওয়া মালামালের আনুমানিক মোট মূল্য প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা বলে জানা গেছে।
মাজার পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি এটিএম বাক্কী কালের কণ্ঠকে জানান, মঙ্গলবার রাত ৮টা থেকে বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটেছে এবং মাদকসেবীরা এ ধরনের কাণ্ড ঘটাতে পারে।
এটিএম বাক্কী থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, মঙ্গলবার রাতে মাজারের ভেতর ও চারপাশ দেখে মূল ফটকে তালা লাগিয়ে চলে যান তিনি। পরদিন বুধবার সকালে মাজারে গিয়ে দেখেন, মূল ফটকের তালা ভাঙা এবং সামনের দরজা খোলা। এরপর আশপাশের লোকজনকে ডেকে এনে মাজারের ভেতরে ও চারপাশে খোঁজাখুঁজি করেন। তখনই মাজারের দানবাক্সে থাকা টাকা ও বিভিন্ন মালামাল চুরি হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে।
এটিএম বাক্কী জানান, লুটেরারা মাজারের দানবাক্স থেকে আনুমানিক এক লাখ টাকা, ২০ হাজার টাকা মূল্যের আটটি কাঁসার পাতিল এবং প্রায় ২৫ হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন আসবাবপত্র নিয়ে গেছে। সব মিলিয়ে চুরি হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকার কাছাকাছি।
একটি ধর্মীয় স্থাপনায় এভাবে তালা ভেঙে অর্থ ও মালামাল চুরির অভিযোগকে ঘিরে মাজারের ভক্ত ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মাজারের ভক্ত রিয়াজ ও স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর বলেন, রাতের আঁধারে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, কীভাবে তারা মাজারে প্রবেশ করেছে এবং চুরি হওয়া মালামাল কোথায় নেওয়া হয়েছে, পুলিশ তা দ্রুত তদন্ত করে বের করুক।
বাক্কী জানান, ঘটনার পর আশপাশের এলাকায় খোঁজখবর নিয়েও সন্দেহভাজন কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে তিনি বুধবার বিকেলে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।
এ ঘটনায় বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াছিন কালের কণ্ঠকে বলেন, মাজারে চুরি হওয়ার ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে আমরা জোরালো ভূমিকা রাখব। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন