০৯:০৩ পি.এম
কুনমিং (চীন), ২১ আগস্ট, ২০২৬ : চীনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিংয়ের হ্যালো ওয়ার্ল্ড লিভিং মলে ২০২৬ মেকং-লানচাং ফল, কফি, ফুল ও বিয়ার কার্নিভ্যাল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইউনান প্রদেশের বাণিজ্য বিভাগের আয়োজনে এই আন্তর্জাতিক উৎসবে মেকং অঞ্চলের দেশগুলোর ফল ও কৃষিপণ্য নিয়ে ৯৪টি স্টল বসেছে। উৎসব শুরু হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশের স্টলকে ঘিরে স্থানীয় দর্শনার্থী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে।
আঞ্চলিক কৃষি ও বাণিজ্য সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এ উৎসবে চীন, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, মিয়ানমার, মালয়েশিয়া, লাওস, বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ড অংশ নিয়েছে। অংশগ্রহণকারী দেশগুলো নিজেদের বৈচিত্র্যময় ফল, কৃষিপণ্য ও খাদ্যপণ্য প্রদর্শন ও সেগুলি বিক্রির ব্যবস্থা করেছে।
এ আয়োজনে বাংলাদেশ সহ-আয়োজক হিসেবে অংশ নিচ্ছে। বাংলাদেশের স্টলে প্রদর্শিত ফল ও কৃষিপণ্য দেখার জন্য দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এই আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের বৈচিত্র্য আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হচ্ছে এবং চীনের সঙ্গে নতুন বাণিজ্যিক যোগাযোগ তৈরির স্বল্প সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রীর সাক্ষাৎ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে আগ্রহ
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কুনমিংয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের কনসাল জেনারেল শাহনাজ রানু মন্তব্য করেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে কৃষিপণ্য বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। কৃষিপণ্য রপ্তানি, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে দুই দেশের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তিনি আরও জানান, গত বছরের ফল উৎসবের পর বাংলাদেশ ও ইউনানের মধ্যে ‘থ্রি ফ্রিস অ্যান্ড থ্রি ফ্যাসিলিটেশনস’ নীতির আওতায় সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য চীনের বাজারে প্রবেশের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
শাহনাজ রানু বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের সময় বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল চীনের বাজারে রপ্তানির জন্য উদ্ভিদ স্বাস্থ্যবিধি প্রটোকল স্বাক্ষর একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
বাংলাদেশের আম ইতোমধ্যে চীনের বাজারে প্রবেশ করেছে এবং ভবিষ্যতে পেয়ারা ও অন্যান্য গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ফল রপ্তানির সম্ভাবনাও রয়েছে। তিনি ইউনানকে বাংলাদেশের তাজা কৃষিপণ্যের জন্য চীনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের কৃষি বাণিজ্য আরও সম্প্রসারিত হবে।
আরও পড়ুন: পায়রা বন্দরে অত্যাধুনিক কার্গো হ্যান্ডলিং যন্ত্রের সংযোজন
‘বড় বাজার ভাগাভাগি, চীনে রপ্তানি’ এর স্লোগানকে সামনে রেখেই আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেকং-লানচাং অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, কূটনীতিক, কৃষি ও বাণিজ্য খাতের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন লানচাং-মেকং উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য উন্নয়ন কেন্দ্রের উপপরিচালক লিউ জি, কুনমিংয়ে নিযুক্ত কম্বোডিয়ার কনসাল জেনারেল হেং পিসাল, থাইল্যান্ডের বাণিজ্যিক প্রতিনিধি মি. চ্যানউইট রুয়াংচাইথাওয়েসুক, ভিয়েতনামের কনসাল জেনারেল নঘিয়েম ভিয়েত চুং এবং ইউনান প্রদেশের কৃষি ও গ্রামীণ বিষয়ক বিভাগের প্রধান কৃষিবিদ কে বিন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। আয়োজকরা আশা করছেন, এই উৎসব অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর কৃষিপণ্যের বাজার সম্প্রসারণ, বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধি এবং কৃষিভিত্তিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কুনমিংয়ে শুরু হওয়া এ উৎসব চলবে আগামী ২৩ আগস্ট পর্যন্ত। মেলায় দর্শনার্থীরা বিভিন্ন দেশের ফল, কৃষিপণ্য, কফি, ফুল এবং অন্যান্য পণ্য দেখার পাশাপাশি সেগুলি কেনার সুযোগও পাচ্ছে।
আরও পড়ুন: মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশ ভ্রমণের আহ্বান জানালেন ডেপুটি হাইকমিশনার
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন