বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০১:৩৭ পি.এম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমাদের সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) আয়োজিত এফডিআই সম্মেলন ২০২৬ এ তিনি এ কথা বলেন।
ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের অনেকেই বাংলাদেশকে আপনাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ ও নতুন বিনিয়োগের প্রধান গন্তব্য হিসেবে বেছে নিয়েছেন। আপনাদের এই উদ্যোগ নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে, আধুনিক প্রযুক্তির প্রবর্তন ঘটিয়েছে, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলকে সমৃদ্ধ করেছে এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় অভাবনীয় অবদান রেখে চলেছে। এজন্য আমি আপনাদের প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
তিনি বলেন, রাজনীতিতে প্রবেশের পূর্বে আমি নিজেও একজন ব্যবসায়ী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলাম। আমার সেই বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে আমি শিখেছি-যেকোনো ব্যবসা কেবল উদ্যোক্তার দক্ষতা বা রাজনৈতিক আশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে সফল হতে পারে না। ব্যবসার সাফল্যের একটি বড় অংশ নির্ভর করে সরকারের প্রবৃদ্ধি-সহায়ক নীতিমালার ওপর।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ আমি আপনাদের একটি সহজ ও স্পষ্ট বার্তা দিতে চাই। নতুন ও দূরদর্শী বিএনপি সরকার চায় আপনারা বাংলাদেশে আসুন, নতুন উদ্যোগ নিন এবং ব্যবসা প্রসারিত করুন। আপনি দেশের উদ্যোক্তা হোন কিংবা বিদেশি বিনিয়োগকারী, আপনি যখন বাংলাদেশে মূলধন বিনিয়োগ করবেন, তখন আমাদের সরকারও তার সময়, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং সময়োপযোগী নীতিমালার মাধ্যমে আপনার পাশে থাকবে। এটি কেবল একটি আশ্বাস নয়, ইনশাআল্লাহ এটি আমাদের সরকারের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার।
বাংলাদেশের সামনে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, তবে এর পাশাপাশি আমাদের রয়েছে অফুরন্ত সম্ভাবনা ও সুদৃঢ় ভিত্তি। আমাদের রয়েছে একটি দ্রুত বিকাশমান বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার, একঝাঁক তরুণ ও পরিশ্রমী মানবসম্পদ, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং নিরঙ্কুশ জনসমর্থনপুষ্ট একটি নির্বাচিত সরকার। এই শক্তিগুলো একত্রিত হয়ে বাংলাদেশকে এক টেকসই ও অব্যাহত রূপান্তরের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো একটি সুনির্দিষ্ট নিয়মভিত্তিক, বিশ্ব অর্থনীতির সাথে যুক্ত এবং বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় পরিচালিত অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা। আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার এই অর্থনৈতিক রূপান্তরের একটি সুস্পষ্ট সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রদান করে। আমরা আপনাদের কেবল বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানাচ্ছি না, বরং এই রূপকল্প বাস্তবায়নে আমাদের সাথে বিশ্বস্ত অংশীদার হওয়ারও উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।
সরকারপ্রধান বলেন, আমাদের নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ মাস পূর্ণ করেছে। কিন্তু আমাদের অর্থনৈতিক ও নীতিগত প্রস্তুতির কাজ শুরু হয়েছিল নির্বাচনের অনেক আগেই। আমরা বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়িক চেম্বার, অর্থনীতিবিদ, উন্নয়ন সহযোগী এবং নীতি-নির্ধারকদের কথা গুরুত্বের সাথে শুনেছি। তাদের মূল বার্তাটি ছিল একেবারেই স্পষ্ট— বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন বিনিয়োগের সুদৃঢ় আইনি সুরক্ষা, আধুনিক ও ব্যবসাবান্ধব নিয়ন্ত্রক কাঠামো, সহজীকৃত কর ব্যবস্থা, অর্জিত মুনাফা প্রত্যাহারের নির্বিঘ্ন প্রক্রিয়া, শক্তিশালী পুঁজিবাজার এবং উন্নত অবকাঠামো।
তিনি বলেন, আমরা আপনাদের কথা গুরুত্বের সাথে অনুধাবন করেছি, আর তাই এখন আমরা সে অনুযায়ী কাজ শুরু করেছি। আমরা আমাদের আইনি ও রেগুলেটরি কাঠামোর আধুনিকায়ন করছি, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার করছি, দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা উন্নত করছি, কর ও ভ্যাট প্রশাসনকে সহজ এবং মুনাফা অর্জনের পর তা নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াকে ঝামেলামুক্ত করছি। একই সাথে আমরা একটি গতিশীল পুঁজিবাজার গঠন করছি, স্টার্টআপগুলোকে উৎসাহিত করছি, অপ্রয়োজনীয় বিধিমালা ও লাল ফিতার দৌরাত্ম্য দূর করছি, প্রশাসনিক প্রক্রিয়াসমূহ সহজ করছি এবং সরকারি সেবাসমূহ ডিজিটালাইজড করছি। পাশাপাশি, নবায়নযোগ্য শক্তিতে অধিকতর বিনিয়োগের পাশাপাশি আমাদের বন্দর, লজিস্টিকস অবকাঠামো এবং সার্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করছি।
তারেক রহমান বলেন, আমাদের সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আমাদের বাজেটে বিশেষ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট প্রণোদনা নিশ্চিত করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে নবায়নযোগ্য শক্তি, ওষুধ শিল্প, ইলেকট্রনিক্স, ডিজিটাল সেবা, কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ, উন্নত বস্ত্রশিল্প, স্বাস্থ্যসেবা এবং লজিস্টিকস। আমরা বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে একটি বৃহৎ উৎপাদন হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে কাজ করছি, আমাদের তৈরি পোশাক শিল্পকে বৈচিত্র্যময় করছি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও দক্ষতায় অগ্রাধিকার দিচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কেবল বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর নির্ভর করে না, বরং তা নির্ভর করে দীর্ঘস্থায়ী ও বিশ্বাসযোগ্য অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর। আমি এই কক্ষে উপস্থিত প্রতিটি ব্যবসায়িক নেতাকে সেই সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের অংশ হতে আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা একসাথে এমন একটি অর্থনীতি গড়ে তুলতে পারি যা হবে সুদৃঢ়, ন্যায়ভিত্তিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক।
সরকারপ্রধান বলেন, আমি আপনাদের সবাইকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও সাফল্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আসুন আমরা একসাথে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাই, নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করি এবং আগামীর বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তুলি। আসুন একটি সমৃদ্ধ ও বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত বাংলাদেশ গড়ার এই অগ্রযাত্রায় আমরা অংশীদার হই।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কয়েক দিন আগে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে অতিভারি বর্ষণের কারণে পানি জমা হয়েছিল। সেই সঙ্গে পাহাড়ধসও ঘটে। এতে সময়ের সাথে অনেক প্রাণহানি ঘটে। সেখানকার পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি। এখন আবহাওয়া অফিস আগামী ২৪ ঘণ্টার জন্য চট্টগ্রাম বিভাগের জন্য অতিভারি বর্ষণের সতর্ক বার্তা দিয়েছে। একইভাবে বরিশালেও অতিভারি বর্ষণ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন, আগামী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের কোথাও কোথাও অতিভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এদিকে বরিশালেও অতিভারি বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘অতিভারি বর্ষণের ফলে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ঢাকা সহ সারা দেশে থেমে থেমে বৃষ্টির মতো অবস্থা থাকতে পারে।’
এমন পরিস্থিতিতে খুলনা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, নোয়াখালী এবং সিলেট নৌবন্দরগুলোতে এক নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
এদিকে, সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য দেয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে- এ সময়ের মধ্যে খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঝড়ো বাতাস বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে এই ঝড় হতে পারে। সেইসঙ্গে বৃষ্টির সাথে বজ্রপাতের শঙ্কাও রয়েছে। এসব কারণে আট জেলার নদীবন্দরগুলোকে এক নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে র্যাঙ্ক ব্যাজ পরানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে ঢাকা সেনানিবাসস্থ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে এই ব্যাজ পরানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম. নাজমুল হাসান নবনিযুক্ত নৌপ্রধানকে ভাইস অ্যাডমিরাল পদমর্যাদার এই র্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেন। ব্যাজ পরানোর পর প্রধানমন্ত্রী নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধানকে অভিনন্দন জানান। এসময়, নবনিযুক্ত নৌপ্রধান বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. শাহীনুর রহমান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মушফিকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিতে ছিলেন।
ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ১৯৮৭ সালের ১ জানুয়ারি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগদান করেন এবং ১৯৮৯ সালে এক্সিকিউটিভ শাখায় কমিশন লাভ করেন। তিনি রয়্যাল মালয়েশিয়ান নৌবাহিনীতে বিশেষ কৃতিত্বের সঙ্গে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ শেষ করেছেন। দেশের পাশাপাশি বিদেশে উচ্চতর শিক্ষা ও সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার পর মেরিটাইম গভর্ন্যান্স বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
প্রায় ৪০ বছরের দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি অত্যন্ত দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড, স্টাফ এবং প্রশিক্ষণমূলক দায়িত Walgreens انجام দেন। তিনি চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের কমান্ডার, ঢাকা নৌ অঞ্চলের কমান্ডার, সাবমেরিন কমান্ডার এবং বাংলাদেশ নেভাল একাডেমির কমান্ড্যান্টসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তার কৃতিত্বের মধ্যে রয়েছে নৌ সদর দপ্তরে পরিচালক নৌ অপারেশনস ও পরিচালক নৌ পরিকল্পনা হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং নৌবাহিনীর বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজ ও নৌঘাঁটির অধিনায়ক হিসেবে সফলতা।
দেশের সীমা পার হয়ে লেবানন ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও তিনি পালন করেছেন। নৌপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে তিনি ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং সেখানে বাংলাদেশ ও ওমানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
দীর্ঘ ৪০ বছরের কর্মজীবনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম নৌবাহিনী পদক (এনবিপি), নৌ-পারদর্শিতা পদক (এনপিপি) এবং জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মানজনক পদক ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দল বহিষ্কার করার পরেও নৈতিক স্থলনজনিত কারণে সংসদ সদস্য (এমপি) পদ হারানোর আইনি ভিত্তি নেই। নির্বাচন কমিশন (ইসি) কেবল দণ্ডিত হলে সরাসরি ব্যবস্থা নিতে পারবে। কিন্তু সংসদ থেকে চিঠি পেলে সাতক্ষীরা চার আসনের জামায়াতের এমপি গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে কমিশন পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এসব কথা জানিয়েছেন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। এক তরুণীর সঙ্গে সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াত এমপি গাজী নজরুল ইসলামের ভিডিওর কাণ্ড সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক অঙ্গণে সমালোচনার ঝড় ওঠে। প্রথম দিকে এই ভিডিও এআই দিয়ে তৈরি বলে দাবি করে জামায়াত-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহল। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই তরুণীকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে দাবি করেন জামায়াতের এই এমপি। বিয়ের কাবিননামা ও তরুণীর বায়োডাটায় অসঙ্গতির অভিযোগ ওঠে। নৈতিক স্খলনের দায়ে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করেন তার নির্বাচনী এলাকার মানুষজনেরা। বুধবার নৈতিক স্খলনের প্রমাণ মেলায় গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াত। দল থেকে বহিষ্কারের পর গাজী নজরুল ইসলাম এমপির পদ হারাবেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, নৈতিক স্থলনজনিত কারণে রাজনৈতিক দল থেকে বহিষ্কার করলেও অভিযুক্ত সংসদ সদস্যের পদ বাতিলের ব্যপারে আইন অনুযায়ী ইখতিয়ার নেই। সংসদ থেকে চিঠি পেলে তবেই আইনি ব্যবস্থা নিতে পারবে ইসি। এদিকে, রাষ্ট্রপতি পদ খালি হলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে ইসি নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে বলেও জানান এ কমিশনার। সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে গুঞ্জন উঠলে, প্রশ্নের জবাবে কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ এই কথাগুলো জানান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার একজন আসামি সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেনকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) তার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারিক প্যানেলে শুনানির সময় তাকে গ্রেফতার করে।
এর আগেই, ওই একই সকালে মোজাফফর হোসেনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছিল।
১৯৮১ সালের ৩০ মে রাত আড়াইটা ছিল একটি কালো রাত। চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে কিছু সেনাকর্মকর্তার গুলিতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যার ঘটনায় অন্যতম আসামি সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে পলাতক ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেফতার করার কাজ সম্পন্ন করেছে।
এছাড়া, জিয়া হত্যামামলায় আসামি হিসেবে নয়, এবার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাতেও মোজাফফর হোসেন বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হচ্ছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাকে গ্রেফতার দেখানোর জন্য প্রসিকিউশন আবেদন করেছেন, এবং সর্বশেষ বৃহস্পতিবার তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানান, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে মোজাফফর হোসেনের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। তিনি মন্তব্য করেন, "১/১১ এর বেশ কয়েকটি অপরাধের সঙ্গে মোজাফফরের সম্পৃক্ততা আছে।" প্রয়োজন হলে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও মোজাফফরকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
এ সময়ে চিফ প্রসিকিউটর উল্লেখ করেন, মোজাফফর টানা ১৬ বছর ধরে বাংলাদেশ ও ভারতে নিয়মিত যাতায়াত সার্ভিস করেছিলেন। কিন্তু তিনি পরিচিত ছিলেন জনডো নামে, এবং এই একই পরিচয়ে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীসহ বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ