শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:৩৮ পি.এম
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে গবাদিপশুর মধ্যে অ্যানথ্রাক্সের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। রোগাক্রান্ত গরু জবাই ও মাংস কাটাকাটির সঙ্গে যুক্ত অন্তত ২০ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
১১ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের পূর্ব বাছহাটি গ্রামে রোগাক্রান্ত একটি ফ্রিজিয়ান গাভী জবাই করেন মঞ্জুরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। সেই মাংস কাটায় অংশ নেন বিভিন্ন বয়সের বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষ। চার দিন পর, শরীরে জ্বর আসে ৪ জনের। পরে দেখা যায়, কারো পেট, কারো হাত, কারো পা, আবার কারো হাতের আঙুলে ফোস্কা দেখা দেয়।
এরপর শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) আক্রান্ত হন আরও ১০ জন নারী, পুরুষ ও শিশু। এখন পর্যন্ত অ্যানথ্রাক্সের এসব উপসর্গ ২০ জনের দেহে পরিলক্ষিত হলেও তাদের মধ্যে অবস্থা গুরুতর ৩ জনের। তারা হলেন- জয়নাল আবেদীন (৪০), রুমি বেগম (২৯) ও রশিদা বেগম (৫০)।
আক্রান্তদের মধ্যে অন্যান্যরা হলেন- আব্দুল জলিল, সফিউল ইসলাম (৫০), চান মিয়া (৫৫), শফিক (৫০), জয়নাল আবেদীন (৬০), আব্দুর রশিদ (৪০), গোলেজান বেগম (৪০), রাবেয়া খাতুন (৬৫), রাহেলা খাতুন (৫০), শরিতোন নেছা (৫০), দোলেনা আকতার (৩৫), আজমিন আরা (২৪), ফাহিমা (৪৫), ফুলমতি বেগম (৫০) এবং নুর আকাইদ (০৬)।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে পূর্ব বাছহাটি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, ২০ জনের দেহে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দেওয়ায় এলাকার সাধারণ মানুষ আতঙ্কে রয়েছেন। ভয়ে ফ্রিজে রাখা বাকি মাংস মাটির নিচে পুঁতে ফেলেছেন তারা।
তারা বলছেন, মঞ্জরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির একটি উন্নত জাতের ফিজিয়ান গাভী অসুস্থ হলে সেটি জবাই করে ১০০ ভাগে ভাগ নেন স্থানীয়রা। আর এই মাংস কাটতে অংশ নিয়ে অসুস্থ হয়েছেন তারা।
পরে হাসপাতালের মাঠে দেখা যায়, প্রচন্ড রোদেও তীব্র জ্বর ও পেটে বড় আকারের ফোস্কা নিয়ে শুয়ে আছেন জয়নাল আবেদীন। আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর অসুস্থ তিনি। অন্যান্য আক্রান্তরা চিকিৎসা নিতে বসে পড়েছেন মাঠে।
অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত শফিক আলম বলেন, "বাড়ির পাশে ৫ মণ ওজনের একটি গরু অসুস্থ হয়। কী কারণে অসুস্থ জানি না। কিন্তু সেটা জবাই করার পরে অসুস্থ হয় সবাই।"
স্থানীয় মেম্বার সামিউল ইসলাম বলেন, "শুনেছি অসুস্থ গরু জবাই করার ৩-৪ দিন পরে ৪ জনের শরীরে প্রচন্ড জ্বর ও ফোস্কা পড়ে। গতকাল এ সংখ্যা ছিল ১৪ জন।"
খবর শুনে নিজেই আক্রান্তদের বাড়িতে গিয়ে খোঁজ-খবর নিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. কামরুল হাসান। তিনি জানান, "অ্যানথ্রাক্স উপসর্গ নিয়ে পূর্ব বাছহাটি গ্রামের ২০ জন রোগী জরুরি বিভাগে এসেছেন। তাদের প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র দিয়েছি। আতঙ্কের কিছু নেই। চিকিৎসায় এ রোগ ভালো হয়। আশাকরি তারা সুস্থ হয়ে উঠবেন ইনশাল্লাহ।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী মোড়ে মিনিটের ব্যবধানে ঘটে গেছে পাঁচটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা। এই বিস্ফোরণের ফলে মো. বিল্লাল (৩২) নামের একজন রিকশাচালক আহত হয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে যাত্রাবাড়ী মোড়ে।
যাত্রাবাড়ী থানার ওসি রাজু আহমেদ জানিয়েছেন, "কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।" তিনি বলেন, "তিনি ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন।" এ ঘটনায় কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে এই ঘটনায় কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া মন্তব্য করেছেন যে বিরোধী দলের আন্দোলনের কারণ এবং দাবিগুলো বোঝা যাচ্ছে না এবং তাদের উদ্দেশ্য হলো দেশকে আজীবন দাসত্বের মধ্যে রাখা।
তিনি শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুর জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ও ক্লাব সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এই কথা বলেন। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মনোনীত হওয়ায় তাকে এই সংবর্ধনা দেওয়া হয়। জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় এ অনুষ্ঠান।
আবুল খায়ের ভূঁইয়া বিরোধী দলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমাদের বয়স ৬ মাস, ৭ মাস চলছে। এর মধ্যে আমাদের প্রত্যাশা অনেক। বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন সমস্যা। আমরা মাত্র ঘরে ঢুকেছি। ঘরে কাঠমিস্ত্রি লাগবে, ইলেকট্রিক মিস্ত্রি লাগবে, টাইলস মিস্ত্রি লাগবে, ঠিকঠাক করতে সময় লাগে। এখনই লংমার্চ শুরু করে দিয়েছে, আমাদেরকে সময় বেশি দেওয়া যাবে না, আজব ব্যাপার। তাদের কী দাবি, আমরাও বুঝি না। কী কারণে, কী দাবি করে আন্দোলনে নেমেছে, সেটাও বুঝতে পারছি না। এদের মূল বিষয় হচ্ছে—রাষ্ট্রের কিছু ব্যাপার আছে, তারা এখান থেকে সিদ্ধান্ত নেয় না, বাইরে থেকে সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সিদ্ধান্ত মোতাবেক তারা আজীবন এ দেশকে দাসত্বের মধ্যে রাখতে চায়।’
তিনি আরও বলেন, বিগত দিনে দেশে অনিয়ম নিয়মে পরিণত হয়েছে। এখন আমলাদেরকে সাইজ করে নিয়মে আনতে সময় লাগছে। এরপরও অনেকে বোধগম্য হয়নি যে, মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী দ্রুত যেসব কাজ করা প্রয়োজন, সেভাবে কাজ হচ্ছে না। অনেক বিড়ম্বনা সৃষ্টি হচ্ছে, অনেকে হয়রানির শিকার হচ্ছে। এভাবে মানুষের মধ্যেও আগের মতো ক্ষোভ রয়ে গেছে। আমরা চেষ্টা করছি, ধীরে ধীরে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ কমে আসবে এবং পরিসমাপ্তি ঘটবে।
এ সময় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহসভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপির সভাপতিত্বে এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব মহসিন কবির স্বপনের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবিদ প্রফেসর ননী গোপাল ঘোষ, আবুল মোবারক ভূঁইয়া, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সদস্য দেলোয়ার হোসেন, আব্দুর রব শামীম এবং জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সোহেল আদনান প্রমুখ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মালয়েশিয়ার প্রতিবেশী দেশ ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা ও কালিমান্তান (বোর্নিও) দ্বীপে সৃষ্ট মারাত্মক দাবানল এবং কৃষি জমি পরিষ্কার করার জন্য বন পোড়ানোর বিষাক্ত ধোঁয়া পুরো মালয়েশিয়া জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।
জনজীবনে স্বস্তি প্রদান করতে ধোঁয়ার প্রভাব কমানোর উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বৃষ্টি নামানোর কার্যক্রম শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এবং আগামীকাল শুরু হবে। এই অভিযানটি জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (নাদমা), মালয়েশীয় আবহাওয়া বিভাগ (মেটমালয়েশিয়া), মালয়েশিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএএম) এবং রয়্যাল মালয়েশিয়ান এয়ার ফোর্স (আরএমএএফ)-এর সহযোগিতায় পরিচালিত হচ্ছে।
নাদমার মহাপরিচালক দাতুক মেওর ইসমাইল মেওর আকিম জানিয়েছেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের (ডিওই) দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে পিএম২.৫-এর মাত্রা ১৫০ ছাড়িয়ে যাওয়ায় এই ক্লাউড সিডিং কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে।
এই অভিযানে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সক্রিয় থাকবে এবং মেঘ বপন কার্যক্রমের প্রধান উপকরণ হিসেবে আরএমএএফ-এর একটি সি-১৩০ হারকিউলিস বিমান ব্যবহার করা হবে।
তিনি উল্লেখ করেছেন, তবে, এই কার্যক্রমটি আবহাওয়ার পরিস্থিতি এবং ক্লাউড সিডিং প্রক্রিয়ার জন্য উপযুক্ত মেঘের উপস্থিতির ওপর নির্ভরশীল।
তিনি আরও বলেন, ধোঁয়ার প্রভাব কমাতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর বায়ুর মান উন্নত করার জন্য সরকারের গৃহীত উদ্যোগগুলোর মধ্যে এই অভিযানটি অন্যতম।
পরিবেশ দপ্তরের বায়ু দূষণ সূচক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি (এপিআইএমএস) অনুযায়ী, আজ দুপুর ১টা পর্যন্ত পুত্রজায়া, কুয়ালালামপুর এবং সেলাঙ্গরের বায়ুমান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলোসহ মোট ১৭টি কেন্দ্রে অস্বাস্থ্যকর এপিআই মাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
পুত্রজায়ার এপিআই রিডিং ছিল ১১১, অন্যদিকে চেরাস এবং বাতু মুদার রিডিং ছিল যথাক্রমে ১৩৯ এবং ১২৪। সেলাঙ্গরের শাহ আলমের এপিআই রিডিং ছিল ১৫৪।
যেসব বায়ুমান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে অস্বাস্থ্যকর এপিআই (API) রিডিং রেকর্ড করা হয়েছে, তার মধ্যে সাতটিই সারাওয়াকে অবস্থিত। সেরিয়ানে সর্বোচ্চ রিডিং ১৭৬ রেকর্ড করা হয়েছে, এরপর কুচিং-এ ১৭২, শ্রী আমানে ১৬৬, সামারাহানে ১৬৫, সিবুতে ১৫৮, সারিকাই-এ ১৫০ এবং বিন্টুলুতে ১০৩।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গবেষকরা সতর্ক করেছেন যে, বাংলাদেশসহ আটটি দেশের সামনে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় অপেক্ষা করছে। তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, চীন, আফগানিস্তান ও মিয়ানমারের নাম রয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর শুক্রবারের (১৮ সেপ্টেম্বর) প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিবেদনকে।
গত ২৬ আগস্ট হিমবাহ ধসে নেপাল ও চীনের তিব্বতে ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক সমন্বিত পর্বত উন্নয়ন কেন্দ্রের (আইসিআইএমওডি) তথ্য অনুযায়ী, হিমবাহ ধসের ফলে শুধু পাহাড়ি দেশগুলো নয়, পশ্চিমে আফগানিস্তান থেকে পূর্বে মিয়ানমার পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার এলাকায় এর প্রভাব পড়ে।
গত বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক জলবায়ু গবেষণা নেটওয়ার্ক ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশনের (ডব্লিউডব্লিউএ) প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাজ্যের পরিবেশবিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সিস্টেমিকের প্রতিবেদন ও আইসিআইএমওডির ২০২৩ সালের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
গবেষকরা জানিয়েছেন, হিমালয়ের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে হিমবাহ গলে যাচ্ছে এবং পারমাফ্রস্ট বা দীর্ঘদিন ধরে জমাট থাকা মাটিও নরম হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় ভূমিধস, হঠাৎ হিমবাহ হ্রদের বাঁধ ভেঙে যাওয়া এবং হিমালয় থেকে সৃষ্ট নদীগুলোর পানি বেড়ে গিয়ে পুরো জনপদ ভাসিয়ে নেয়ার মতো ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতমালা ঘিরে থাকা দেশগুলোতে বসবাসকারী কোটি কোটি মানুষের জন্য একের পর এক দুর্যোগের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
সিস্টেমিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চলের প্রায় ৪০ হাজার হিমবাহের মধ্যে মাত্র ২১টি সক্রিয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এই অঞ্চল থেকেই এশিয়ার ১০টি প্রধান নদী ব্যবস্থার উৎপত্তি হয়েছে। নদীগুলো হলো—আমু দরিয়া, সিন্ধু, গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, ইরাবতী, সালউইন, মেকং, ইয়াংসি, হলুদ নদী ও তারিম।
এসব নদী অববাহিকা ভাটি অঞ্চলের প্রায় ২০০ কোটি মানুষকে সুপেয় পানি সরবরাহের পাশাপাশি জীবিকা নির্বাহ ও অর্থনীতি চালু রাখতে বড় অবদান রাখছে। গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র এই দুই নদী ব্যবস্থা হিন্দুকুশ-হিমালয় থেকে উৎপন্ন হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। গঙ্গা নদী ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের পর পদ্মা নামে পরিচিতি পেয়েছে। অন্যদিকে, তিব্বতে উৎপন্ন ব্রহ্মপুত্র নদ চীন ও ভারতের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে, যেখানে এর প্রধান ধারা যমুনা নামে পরিচিত।
গবেষকরা উদ্বিগ্ন, কারণ জলবায়ুর সঙ্গে হিমালয়ের দ্রুত পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশসহ ভাটি অঞ্চলের প্রায় দুইশ কোটি মানুষ বড় ধরনের চাপের মুখে রয়েছে।
সিস্টেমিকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারত অংশেই প্রায় দুইশটি হিমবাহ হ্রদ যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে যাওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে ৫৬টি অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। সিস্টেমিকের সিনিয়র ডিরেক্টর ও প্রতিবেদনের প্রধান লেখক অরুশি চোপড়া বলেছেন, ‘প্রশ্ন এখন এটা নয় যে, এমন ঘটনা আরও ঘটবে কি না? বরং কখন ঘটবে সেটাই দেখার বিষয়।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্বত ও নদীগুলোর ওপর নজরদারি বাড়াতে হবে, দেশগুলোকে তথ্য বিনিময় করতে হবে, আগাম সতর্কবার্তার ব্যবস্থা করতে হবে এবং মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কেবলমাত্র এসব পদক্ষেপ নিলে বন্যা-ভূমিধসের মতো ঘটনায় প্রাণহানি কিছুটা কমানো সম্ভব।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ