বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:১৩ পি.এম
সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কার নিকটবর্তী এলাকায় ইয়েমেনের সশস্ত্র হুতি গোষ্ঠীর হামলার চেষ্টা নিয়ে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, পবিত্র মক্কা বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ ও পবিত্রতম স্থান; সেখানে যেকোনো ধরনের হামলার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া সকলের নৈতিক ও ঈমানি দায়িত্ব।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ডা. শফিকুর রহমান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই মন্তব্য করেন।
জামায়াত আমির বলেন, ‘পবিত্র মক্কা নগরী আল্লাহ তা’য়ালার ঘর কা’বার কারণে সম্মানিত। এটি পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ও পবিত্রতম স্থান। এখানে যেকোনো প্রকার হামলা চালানো হলে তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এবং নিন্দা জানানো আমাদের নৈতিক ও ঈমানি দায়িত্ব।’
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, ‘এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। হামলাকারী হুতি হোক কিংবা যে কেউ হোক, এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
এর আগে, সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কার কাছে ইয়েমেনের সশস্ত্র হুতি গোষ্ঠীর ছোড়া একটি ড্রোন সৌদির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা ভূপাতিত হয়। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ড্রোনটি ধ্বংস করা হয়। হুতিদের পক্ষ থেকে মক্কাকে লক্ষ্য করে এটি দ্বিতীয় হামলার চেষ্টা বলেও দাবি করা হয়েছে।
জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি জানান, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে ড্রোনটি সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শনাক্ত করে ধ্বংস করে। নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয় এবং এর ধ্বংসাবশেষ মক্কার দক্ষিণে গিয়ে পড়ে।
আল-মালিকি বলেন, মক্কাকে লক্ষ্য করে হুতিদের এটি দ্বিতীয়বারের মতো হামলার চেষ্টা। এর আগে ২০১৭ সালের ২৭ জুলাই মক্কার দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, দুই পবিত্র মসজিদ ও সেখানে আসা মুসল্লিদের নিরাপত্তা ‘রেড লাইন’। ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা ঠেকাতে জোট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
এর একদিন আগে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছিল, হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় খামিস মুশাইত, আবহা ও তায়েফে ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। হামলায় সাতটি বাড়ি ও দুটি যানবাহনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) পৃথক দুটি র্যাগিংয়ের ঘটনায় পদার্থবিজ্ঞান ও ইতিহাস বিভাগের ২০ শিক্ষার্থীকে মোট ৬ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। জরিমানার অর্থ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত তাদের চলমান ও পরবর্তী নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। গত ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় ডিসিপ্লিন বোর্ডের সুপারিশ পর্যালোচনা করে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের এই শাস্তি প্রদান করা হয়েছে।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২০ জুলাই দিবাগত রাত ১০টা থেকে ভোর ৩টা পর্যন্ত পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ৫৪ তম আবর্তনের (২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ) কয়েকজন শিক্ষার্থী একই বিভাগের ৫৫ তম আবর্তনের (২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ) কয়েকজন শিক্ষার্থীকে র্যাগ দেন। শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক হলের পশ্চিম পাশে (মনপুরা) এ ঘটনা ঘটে। সেখানে ভুক্তভোগীদের বিভিন্নভাবে অমানবিক নির্যাতন, অকথ্য ভাষায় গালাগাল এবং কান ধরিয়ে উঠবস করানোর অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের আট শিক্ষার্থীকে ৩৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হয়েছে। ঐ আট শিক্ষার্থীর মধ্যে মো. জাহিদ হাসান, মো. ফজলে হাসান ফাহাদ, সৈয়দ সাকিব আহমেদ রাতুল এবং মো. আল-আমিন হোসাইনকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
এছাড়া মো. মাহমুদুল আমিন সিয়াম ও মো. মোস্তাফিজুর রহমান মিজুকে ৪৫ হাজার টাকা, মো. ফয়সাল আহমেদকে ৪০ হাজার টাকা, মো. মাহমুদুল হাসান খান আকিবকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই ঘটনায় মোট জরিমানা করা হয়েছে ৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা।
অন্যদিকে, গত ৩ জুলাই দিবাগত রাত ১১টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত ইতিহাস বিভাগের ৫৪ তম আবর্তনের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে একই বিভাগের ৫৫ তম আবর্তনের ১৩ জন শিক্ষার্থীকে র্যাগিংয়ের অভিযোগ ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে তাদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল, কান ধরানো এবং ম্যানার শেখানোর নামে র্যাগ দেওয়া হয় বলে অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ইতিহাস বিভাগের ১২ শিক্ষার্থীকে ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে মো. আবু আবতাহী অনিককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
নাছিম উদ্দিন মজুমদার, মো. মাহফুজুর রহমান অন্ত, আব্দুল্লাহ মাহদী, শুভাশীষ রায় প্রান্ত, মো. রায়হান খান, মো. নাঈমুল হাসান, মো. ইসফাক হাদী, নাঈম আহমেদ সজিব, কার্তিক চন্দ্র রায়, কাজী শাহ জামশেদ আলম নাবিল ও সাইফুল্লাহ মানসুর আনানকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এই ঘটনায় মোট জরিমানা হয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
অফিস আদেশে বলা হয়েছে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ ২০১৮-এর ধারা ৩(২)(ঘ) অনুযায়ী অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের জরিমানা করা হয়েছে।
জরিমানা পরিশোধ না করা পর্যন্ত তাদের চলমান পরীক্ষা, টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা অথবা পরবর্তী নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি স্থগিত থাকবে। এছাড়া ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ পুনরায় সংঘটিত হলে আরও কঠোর শাস্তি দেয়া হবে বলে অফিস আদেশে সতর্ক করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবাসে ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশে মারা গেছেন বড় ভাইও। দুই ভাইয়ের আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঘটনাটি ফটিকছড়ি পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের মীর আহমদ সওদাগর বাড়িতে ঘটে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মীর আহমদ সওদাগরের ছোট ছেলে মোহাম্মদ খোরশদুল আলম (৩৫) মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৫টার দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির মোসাফফা এলাকায় হৃদরোগে (স্ট্রোক) আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তার মরদেহ এখনও দেশে পৌঁছায়নি। ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই, ঠিক একদিন পর বুধবার সকাল ৫টায় মারা যান বড় ভাই মোহাম্মদ নুরুল আলম।
নিহতদের ভাতিজা রাশেদ বলেন, "ছোট চাচা প্রবাসে স্ট্রোক করে মারা গেছেন। সেই শোক কাটতে না কাটতেই তার পরদিনই আবার বড় চাচাও একই সময়ে আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। পরপর দুই অভিভাবককে হারিয়ে আমাদের পরিবার আজ দিশেহারা। এই চরম বেদনা আমাদের পরিবার কীভাবে মেনে নেবে, তা আমাদের জানা নেই।"
২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই ভাইয়ের আকস্মিক মৃত্যুর খবর শোনার পর ফটিকছড়ি পৌরসভা ও আশেপাশের এলাকায় শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। শোকসন্তপ্ত পরিবারটিকে সান্ত্বনা দিতে পাড়া-প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনরা তাদের বাড়িতে ভিড় করছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় মানুষের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার একাধিক নতুন সুবিধা যুক্ত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর তার স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন প্রদান, স্বাস্থ্যবিমার আওতায় আনা এবং নির্দিষ্ট শর্তে পেনশনের বয়স কমানোর প্রস্তাব।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হবে।
এ সভায় এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। অর্থমন্ত্রী পদাধিকারবলে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, জনসাধারণের আগ্রহ বৃদ্ধি করতে বেশ কিছু সংস্কার প্রস্তাব পর্ষদ সভায় উপস্থাপন করা হবে। এর মধ্যে পেনশনারের মৃত্যুর পর তার স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন দেওয়ার প্রস্তাবও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পর্ষদের অনুমোদন এবং প্রয়োজনীয় বিধিমালা সংশোধন করা গেলে আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে এসব সুবিধা কার্যকর করা সম্ভব হতে পারে।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, সর্বজনীন পেনশন স্কিমের একজন গ্রাহক ৬০ বছর বয়সে মাসিক পেনশন গ্রহণ শুরু করেন। পেনশন চলাকালে যদি তার মৃত্যু ঘটে, তবে নমিনি ওই গ্রাহকের ৭৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত সমপরিমাণ মাসিক পেনশন পেয়ে থাকেন।
তবে সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর তার স্বামী বা স্ত্রী আজীবন পেনশন পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এই ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সর্বজনীন পেনশন স্কিমেও নমিনির পরিবর্তে পেনশনারের স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এছাড়া পেনশন পাওয়ার বয়স ৬০ বছর থেকে কমিয়ে ৫৫ বছর করার প্রস্তাবও পরিচালনা পর্ষদের সভায় আলোচনায় আসতে পারে।
এদিকে, চালুর তিন বছর পেরিয়ে গেলেও সর্বজনীন পেনশনের চারটি স্কিমে প্রত্যাশিত সাড়া মেলেনি। এখন পর্যন্ত এসব স্কিমে ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯২০ জন নিবন্ধিত হয়েছেন। তাদের জমা করা অর্থের পরিমাণ ২৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা।
দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারীদের জন্য চালু করা ‘সমতা’ স্কিমে বর্তমানে ২ লাখ ৮৭ হাজার ২২৪ জন যুক্ত হয়েছেন। এই স্কিমে তাদের জমা করা অর্থের পরিমাণ ৫৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।
প্রবাসীদের জন্য চালু করা ‘প্রবাস’ স্কিমে অংশগ্রহণের হার সবচেয়ে কম। এ পর্যন্ত ১ হাজার ১৭১ জন প্রবাসী এই স্কিমে নিবন্ধিত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নারী ৯৭ জন। এই স্কিমে মোট জমা হয়েছে ১১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।
বিশেষ প্রয়োজনে সর্বজনীন পেনশনের গ্রাহকের জমা অর্থের একটি অংশ ঋণ হিসেবে নেওয়ার সুযোগ আইনে রাখা হয়েছে। ওই ঋণের সুদও গ্রাহকের হিসাবেই জমা হওয়ার কথা। তবে এখনও এই সুবিধা চালু হয়নি। নতুন সংস্কারের অংশ হিসেবে ঋণ সুবিধা কার্যকর করার পরিকল্পনা করছে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে, অন্তত পাঁচ বছর চাঁদা দেওয়ার পর শারীরিক বা আর্থিক অক্ষমতার কারণে কেউ পেনশন ব্যবস্থা থেকে বের হতে চাইলে বিশেষ বিবেচনায় তার পুরো জমা অর্থ তুলে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমানে এ ধরনের এক্সিট সুবিধা নেই।
সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় বিমা সুবিধা যুক্ত করার সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া হলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। পেনশনারদের জন্য স্বাস্থ্যবিমা চালুর বিষয়ে একটি খসড়া পরিকল্পনা অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠানো হয়েছে।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামান জানান, স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা দিতে গ্রাহকদের কাছ থেকে মাসে প্রায় ১০ থেকে ২০ টাকা নামমাত্র প্রিমিয়াম নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
এছাড়া সম্ভাব্য গ্রাহকদের কাছে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাকে আরও গ্রহণযোগ্য করতে শরিয়াহভিত্তিক একটি সংস্করণ চালুর বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।
পর্ষদ সভায় এসব প্রস্তাব অনুমোদন পেলে প্রয়োজনীয় বিধিমালা সংশোধন ও অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত নতুন সুবিধাগুলো চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে চিহ্নিত করে, প্রসিকিউশন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপাচার্য এ এস এম মাকসুদ কামাল এবং অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালসহ আটজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে।
এই অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে দাখিল করা হয়।
অন্য ছয় আসামির মধ্যে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ কে এম জামাল উদ্দিন, আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শায়ান এবং সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত।
বর্তমানে আসামিদের মধ্যে শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, এ কে এম জামাল উদ্দিন ও তানভীর হাসান সৈকত কারাগারে অবস্থান করছেন।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগের বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম সাংবাদিকদের জানান, জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর ‘ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও পুলিশের হামলার ঘটনায়’ উসকানি, ষড়যন্ত্র এবং সহযোগিতার অভিযোগে এই অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ১৪ জুলাই শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের 'রাজাকারের নাতি-পুতি' বা 'রাজাকারের বাচ্চা' বলার পর আসামিরা এই বক্তব্যকে কাজে লাগিয়ে তাদের অধীনস্থদের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্যাতন চালান এবং শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথা বলে ছাত্রদের হত্যা ও নির্যাতনের ষড়যন্ত্র করেন।
কয়েকজন আসামি এখনও ‘পলাতক’ থাকায় প্রথমে তাদের নাম প্রকাশে অনিচ্ছা প্রকাশ করা হলেও পরবর্তীতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সাবেক উপাচার্য মাকসুদ কামাল, ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম ও ইনানসহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিলের তথ্য দেন প্রসিকিউটর তামীম।
এর আগে ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৯১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে মামলা করার আবেদন করা হয়। লিখিত অভিযোগে অজ্ঞাতনামা আরও ৮০০ থেকে ১ হাজার জনকে আসামি করার আবেদন করা হয়েছিল।
কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার জন্য ছাত্রলীগকে দায়ী করা হয়।
ওই দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করে। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
এরপর সারাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলন তীব্রতা লাভ করে। বিভিন্ন স্থানে সংঘাত ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। ব্যাপক প্রাণহানির মধ্য দিয়ে চলা আন্দোলন একপর্যায়ে সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনে রূপ নেয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ