ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

এসএসসি-এইচএসসি পাসে খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ৩৭ জনের নিয়োগ


এসএসসি-এইচএসসি পাসে খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ৩৭ জনের নিয়োগ

খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সম্প্রতি নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। এই বিজ্ঞপ্তির আওতায় কার্যালয় এবং এর অধীন বিভিন্ন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিসে মোট ৩৭ জনকে ৮টি পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। এসব পদে আবেদন করতে পারবেন নারী ও পুরুষ উভয় প্রার্থী। আবেদন প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে।

আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকাল ১০টায়। প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন ১৫ অক্টোবর ২০২৬ বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

পদের বিবরণ

আরও পড়ুন: চাকরির সাক্ষাৎকারে নারীর কাছে এইচআরের প্রশ্ন, ‘শিগগিরই সন্তান নেবেন?’

১. অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক

পদসংখ্যা: ৯টি

গ্রেড: ১৬

বেতন স্কেল: ৯,৩০০–২২,৪৯০ টাকা

আরও পড়ুন: কমিউনিটি ব্যাংকে চাকরির সুযোগ, বয়স ২৩ হলেই আবেদন করতে পারবেন

২. লাইব্রেরি সহকারী

পদসংখ্যা: ১টি

গ্রেড: ১৬

বেতন স্কেল: ৯,৩০০–২২,৪৯০ টাকা

আরও পড়ুন: এসিআই মোটরসে চাকরির সুযোগ, আবেদন ১০ নভেম্বর পর্যন্ত

৩. হিসাব সহকারী

পদসংখ্যা: ৭টি

গ্রেড: ১৬

বেতন স্কেল: ৯,৩০০–২২,৪৯০ টাকা

আরও পড়ুন: আকিজ বেকারসে চাকরির সুযোগ, গাজীপুরের টঙ্গীতে কর্মস্থল

৪. কপিস্ট

পদসংখ্যা: ৭টি

গ্রেড: ১৬

বেতন স্কেল: ৯,৩০০–২২,৪৯০ টাকা

আরও পড়ুন: সপ্তাহে ২ দিন ছুটিসহ ওয়ার্ল্ড ভিশনে চাকরির আবেদন ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত

৫. সার্টিফিকেট সহকারী

পদসংখ্যা: ৩টি

গ্রেড: ১৬

বেতন স্কেল: ৯,৩০০–২২,৪৯০ টাকা

আরও পড়ুন: এইচএসসি পাসে স্কয়ার ফুডে সেলস অফিসার পদে আবেদন ২৫ অক্টোবর শেষ

৬. বেঞ্চ সহকারী

পদসংখ্যা: ৬টি

গ্রেড: ১৬

বেতন স্কেল: ৯,৩০০–২২,৪৯০ টাকা

৭. অফিস সহায়ক

পদসংখ্যা: ২টি

গ্রেড: ২০

বেতন স্কেল: ৮,২৫০–২০,০১০ টাকা

৮. নিরাপত্তা প্রহরী

পদসংখ্যা: ২টি

গ্রেড: ২০

বেতন স্কেল: ৮,২৫০–২০,০১০ টাকা

প্রার্থী ও বয়স

নিয়োগটি অস্থায়ী ভিত্তিতে হবে। নারী ও পুরুষ উভয় প্রার্থী আবেদন করতে পারবেন, তবে প্রার্থীদের খুলনা জেলার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।

২০২৬ সালের ১ আগস্ট তারিখে প্রার্থীর বয়স ১৮ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে হতে হবে। বয়স প্রমাণের জন্য কোনো ধরনের এফিডেভিট গ্রহণ করা হবে না।

আবেদন ফি

১ থেকে ৬ নম্বর পদের জন্য পরীক্ষার ফি ১১২ টাকা এবং ৭ ও ৮ নম্বর পদের জন্য ৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আবেদন ফি টেলিটক প্রি-পেইড সিমের মাধ্যমে নির্ধারিত নিয়মে জমা দিতে হবে। আবেদন সম্পন্ন করার পর ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ফি পরিশোধ করা আবশ্যক।

যেভাবে আবেদন

আগ্রহী প্রার্থীদের অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদনের সময় ৩০০×৩০০ পিক্সেল আকারের ছবি এবং ৩০০×৮০ পিক্সেল আকারের স্বাক্ষর স্ক্যান করে সংযুক্ত করতে হবে।

নির্ধারিত সময়ের পর কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না এবং অসম্পূর্ণ আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে।

আবেদন ও নিয়োগসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যের জন্য খুলনা জেলা প্রশাসকের নিয়োগ পোর্টাল দেখুন।

আবেদনের সময়সীমা

আবেদন শুরু: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১০টা

আবেদনের শেষ সময়: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৫টা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজ পুলিশের সঙ্গে এক কাপ কফি খাওয়ার দিন উদযাপন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৪ পি.এম


আজ পুলিশের সঙ্গে এক কাপ কফি খাওয়ার দিন উদযাপন

পুলিশের সঙ্গে সাধারণ মানুষের যোগাযোগ সাধারণত কোনো অভিযোগ, সমস্যা বা জরুরি পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে হয়ে থাকে। তবে যদি অভিযোগ ছাড়াই এক টেবিলে বসে এক কাপ কফির সঙ্গে গল্প করা সম্ভব হয়, তাহলে সম্পর্কের ধরন পরিবর্তিত হতে পারে।

মানুষ ও পুলিশের মধ্যে দূরত্ব হ্রাস এবং পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পুলিশের সঙ্গে এক কাপ কফি খাওয়ার দিন একটি উদ্যোগ। প্রতি বছর অক্টোবরের প্রথম বুধবার যুক্তরাষ্ট্রে এই দিনটি উদযাপন করা হয়। ২০২৬ সালে দিনটি পড়েছে ৭ অক্টোবর।

কফির আড্ডায় পুলিশের সঙ্গে সরাসরি কথা

এই দিনে বিভিন্ন এলাকার পুলিশ সদস্যরা স্থানীয় জনগণের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আড্ডায় মিলিত হন। সেখানে নিরাপত্তা, অপরাধ প্রতিরোধ, যান চলাচল এবং স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

সাধারণ মানুষ পুলিশের কাজ সম্পর্কে প্রশ্ন করতে পারেন, নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারেন এবং এলাকার বিভিন্ন বিষয়ে মতামত প্রদান করতে পারেন। এর ফলে দায়িত্ব পালনের সময়ের বাইরেও পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে মানুষের সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

কীভাবে শুরু হলো এই আয়োজন

এই উদ্যোগের সূচনা ক্যালিফোর্নিয়ার হথর্ন শহরে হয়েছে। ২০১১ সালে সেখানকার পুলিশ সদস্যরা উপলব্ধি করেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগের একটি বড় অংশ ঘটে সমস্যা বা সংকটের পর।

তাহলে সমস্যা হওয়ার আগেই মানুষের সঙ্গে স্বাভাবিক পরিবেশে কথা বলার সুযোগ তৈরি করার জন্য পুলিশ সদস্যরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কফি খাওয়ার আয়োজন করেন। এখান থেকেই ‘পুলিশের সঙ্গে এক কাপ কফি’ উদ্যোগের উৎপত্তি ঘটে। পরে এটি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি লাভ করে।

জাতীয় দিবস হলো ২০১৬ সালে

২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের কমিউনিটি পুলিশিং কার্যালয়ের সহযোগিতায় অক্টোবরের প্রথম বুধবারকে জাতীয়ভাবে পুলিশের সঙ্গে এক কাপ কফি খাওয়ার দিন হিসেবে উদযাপন শুরু হয়। প্রথম জাতীয় আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ৭ অক্টোবর ২০১৬।

এরপর প্রতিবছর অক্টোবরের প্রথম বুধবার বিভিন্ন পুলিশ বিভাগ ও স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে এই আয়োজন হয়ে আসছে।

ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন দেশেও

শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে কেন্দ্রিক হলেও উদ্যোগটি পরে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে যায়। কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময়ে পুলিশের সঙ্গে কফির আড্ডার আয়োজন হয়েছে।

তবে এটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় দিবস। অন্যান্য দেশে একই ধরনের আয়োজন হলেও সেগুলোকে একই জাতীয় দিবস হিসেবে গণ্য করা ঠিক নয়।

বাংলাদেশেও হতে পারে এমন আয়োজন

বাংলাদেশে এই দিবস আনুষ্ঠানিকভাবে পালিত হয় কি না, সেটি একটি ভিন্ন বিষয়। তবে এর মূল ধারণাটি বাংলাদেশেও প্রাসঙ্গিক হতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ সদস্য, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে নিয়মিত অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হলে এলাকার নিরাপত্তা ও বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে যোগাযোগ যত বৃদ্ধি পাবে, ততই একে অপরের কাজ ও প্রয়োজন সম্পর্কে বোঝাপড়া তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকবে। আর কখনো কখনো সেই যোগাযোগের সূচনা হতে পারে খুব সাধারণ একটি বিষয় দিয়ে—এক কাপ কফির আড্ডা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আবরার ফাহাদের খুনিদের শাস্তি কার্যকরের অপেক্ষায় পরিবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৫ পি.এম


আবরার ফাহাদের খুনিদের শাস্তি কার্যকরের অপেক্ষায় পরিবার

আজ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ৭ বছর পূর্ণ হচ্ছে। ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের নির্যাতনের শিকার হয়ে পরদিন ভোরে আবরার মারা যান। নৃশংস ওই হত্যাকাণ্ডে আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করলেও, ৭ বছর পরও তা কার্যকর হয়নি। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না হওয়ায় আবরারের পরিবারের সদস্যরা ক্ষোভ ও হতাশা অনুভব করছেন।

বুধবার (৭ অক্টোবর) আবরার ফাহাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী। দিনটি উপলক্ষে কুষ্টিয়ার পিটিআই সড়কের বাড়িতে পুরোনো শোক ফিরে এসেছে। সাত বছর আগে যে ঘর থেকে আবরার মাকে বিদায় জানিয়ে ঢাকার উদ্দেশে বেরিয়েছিলেন, সেই ঘরেই আজও সাজানো রয়েছে তাঁর ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, বই-খাতা, পড়ার টেবিলসহ ব্যবহৃত নানা জিনিসপত্র। তবে পরিবারের মেধাবী সন্তানটি সেখানে নেই।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর কুষ্টিয়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে বাসে ওঠার আগে মা রোকেয়া খাতুন নিজ হাতে ছেলেকে খাইয়ে দিয়েছিলেন। সেটিই ছিল মায়ের সঙ্গে আবরারের শেষ দেখা। পরদিন ভোরে তার মৃত্যুর খবর পেয়ে পরিবারের মধ্যে যে শোকের ছায়া নেমে আসে, তা ৭ বছরেও কাটেনি।

আবরারের ১০৫ বছর বয়সী দাদা আব্দুল গফুর নাতির হত্যার বিচার দেখে যেতে চান। জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, "বাঁচতে বাঁচতেই যেন আবরার ফাহাদের ঘাতকদের শাস্তি কার্যকর দেখে যেতে পারি।"

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আবরারের মা রোকেয়া খাতুন বর্তমানে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন। তিনি আবরারের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজের সঙ্গে ঢাকায় বসবাস করছেন। বড় ভাই হত্যার পর ফাইয়াজও বুয়েটে ভর্তি হন। বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির যন্ত্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। একই প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করে ভাইয়ের স্মৃতি ও অসমাপ্ত স্বপ্নকে বয়ে নিয়ে চলছেন তিনি।

কুষ্টিয়ার বাড়িতে এখনও সংরক্ষিত রয়েছে আবরারের ব্যবহৃত জিনিসপত্র। শো কেসে রাখা ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন, পড়ার টেবিল, বই-খাতা সহ প্রতিটি জিনিস পরিবারের কাছে হয়ে আছে স্মৃতির শেষ আশ্রয়। এসবের মধ্যেই সন্তানকে খুঁজে ফেরেন মা-বাবা।

আবরারের স্মৃতি ধরে রাখতে স্থানীয়ভাবে গড়ে ওঠা শহীদ আবরার ফাহাদ স্মৃতি গ্রন্থাগারের উপদেষ্টা সুলতান মারুফ তালহাসহ স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং আদালতের রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।

২০১৯ সালের ওই হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের সন্তানকে কেড়ে নেয়নি, বরং দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদ সৃষ্টি করেছিল। আদালতের রায় হওয়ার পরও পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না হওয়ায় ৭ বছর পরও আবরারের পরিবারের কাছে বিচার প্রক্রিয়া অসম্পূর্ণই রয়ে গেছে।

প্রতিবছর মৃত্যুবার্ষিকী ফিরে আসে, ফিরে আসে সেই শেষ বিদায়ের স্মৃতি। মা রোকেয়া খাতুনের হাতে খাওয়া শেষ খাবার, বাবার সঙ্গে শেষ কথা এবং বাসে উঠে ঢাকার পথে ছুটে যাওয়া সেই তরুণের মুখ। পরিবারের একটাই প্রত্যাশা, আদালতের দেয়া সাজা দ্রুত কার্যকর হবে এবং আবরার হত্যার বিচার পূর্ণতা পাবে।

আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ জানান, দীর্ঘ ৭ বছর ধরে তারা সন্তানের হত্যার বিচার পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার অপেক্ষায় আছেন।

তিনি বলেন, "৭ বছর কেটে গেল, অথচ এখনও পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করে মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর করা হয়নি। যে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনের জন্য আবরারের মৃত্যু হয়েছে, সেই স্বপ্নের রাষ্ট্র গঠনের পাশাপাশি আমরা আসামিদের দ্রুত ফাঁসির রায় কার্যকর দেখতে চাই।"

সূত্র: বাসস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইনভেস্ট বাংলাদেশের পাইপলাইনে ১৩০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৬ পি.এম


ইনভেস্ট বাংলাদেশের পাইপলাইনে ১৩০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ

দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে ইনভেস্ট বাংলাদেশ চলতি বছরের ১৬ মার্চ ২০টি উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছিল। এর মধ্যে ৭টি উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়েছে এবং বর্তমানে ১৩০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ পাইপলাইনে রয়েছে।

এই উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে— চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল, চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল, বন্দরে ২৪ ঘণ্টা কার্যক্রম, সমন্বিত বিনিয়োগসেবা এবং বিদেশি বিনিয়োগে নতুন প্রণোদনা। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ ও খাত থেকে সম্ভাব্য ১৩০ কোটি মার্কিন ডলারের বিনিয়োগের একটি পাইপলাইনও তৈরি হয়েছে, যার মধ্যে ৪০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ বর্তমানে সিদ্ধান্ত বা বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে।

ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী পূর্বে বলেছিলেন, "বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সরকারের যে লক্ষ্য, এই পরিকল্পনা তারই অংশ। আমরা বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করতে অবকাঠামো, সেবার মান এবং সম্ভাবনাময় বিনিয়োগের পাইপলাইন তৈরিতে গুরুত্ব দিয়েছি। কিছু পরিবর্তন ইতিমধ্যে এসেছে। তবে বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও সময় লাগবে।"

ইনভেস্ট বাংলাদেশের সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) নাহিয়ান রহমান রোচি বাসসকে জানান, ২০টি উদ্যোগকে তিনটি বড় স্তম্ভের অধীনে নেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো- শক্তিশালী অবকাঠামো, বিনিয়োগে সহায়তা এবং বিনিয়োগ উন্নয়ন।

অবকাঠামোর ক্ষেত্রে বড় প্রকল্প

বাস্তবায়িত উদ্যোগগুলোর মধ্যে অন্যতম ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল। এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। এপিএম টার্মিনালস ২০৩০ সালের মধ্যে টার্মিনালটির নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এটি চালু হলে ৭০০’র বেশি প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা প্রায় ৪৪ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।

চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে এগিয়ে চলেছে। চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন (সিআরবিসি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। ২০২৮ সালের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। এই শিল্পাঞ্চলে এক লাখের বেশি প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে। প্রকল্পটির বিনিয়োগ পাইপলাইনের পরিমাণ প্রায় ১৩০ কোটি মার্কিন ডলার, যার মধ্যে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ ইতিমধ্যে সক্রিয় রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরে ২৪ ঘণ্টা কার্যক্রম চালুর উদ্যোগও বাস্তবায়িত হয়েছে। বর্তমানে কাস্টমস ছাড়পত্র ও ব্যাংকিং সেবা সার্বক্ষণিকভাবে পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে পণ্য খালাসের সময় কমবে এবং ব্যবসায়ীদের বিলম্বজনিত সমস্যা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এক ছাতার নিচে বিনিয়োগসেবা

বিনিয়োগকারীদের জন্য সেবা সহজতর করতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব কর্তৃপক্ষের (পিপিপিএ) বিনিয়োগ-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম একীভূত করে ইনভেস্ট বাংলাদেশের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

নতুন এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ সহায়তা, জমি, অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের সুযোগ সম্পর্কে সমন্বিত সেবা পাওয়ার কথা।

বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ) সম্পন্ন হওয়াও বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে একটি বড় অগ্রগতি। চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের ৯৭ শতাংশ পণ্য অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধা পাবে। এর মধ্যে ৮ হাজার ৪২৮টি পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা থাকবে।

এর ফলে উৎপাদন, অবকাঠামো, ইলেকট্রনিকস এবং উচ্চমূল্য সংযোজনকারী শিল্পে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী-ব্যবসায়ী সংলাপে ৭৫ শতাংশ অগ্রগতি

বিনিয়োগকারীদের সমস্যা দ্রুত সমাধানে প্রধানমন্ত্রী ও ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদের মধ্যে নিয়মিত সংলাপের ব্যবস্থা চালু হয়েছে।

প্রথম দুই দফা সংলাপে ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা ২৮টি সমস্যা তুলে ধরেন। এর মধ্যে ২১টি বিষয়ে ইতিমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ উত্থাপিত সমস্যার প্রায় ৭৫ শতাংশের ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে।

বিদেশি বিনিয়োগ আনতে সপ্তম উদ্যোগ হিসেবে এফডিআই প্রণোদনা কর্মসূচিও অনুমোদিত হয়েছে। এর আওতায় বিদেশি বিনিয়োগ দেশে আনতে সক্ষম যোগ্য ব্যক্তিকে দেশে আনা বিদেশি বিনিয়োগের ইক্যুইটির ১ দশমিক ২৫ শতাংশ সমপরিমাণ প্রণোদনা দেওয়া হবে।

এ কর্মসূচির নির্দেশিকা অনুমোদিত হয়েছে। এখন একটি পৃথক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরির কাজ চলছে। আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে কর্মসূচিটি চালুর লক্ষ্য রয়েছে।

বাকি ১৩ উদ্যোগও এগোচ্ছে

ইনভেস্ট বাংলাদেশের ২০ উদ্যোগের বাকি ১৩টিও বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল, মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল, প্রথম সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ), বাংলাবিজ বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্মের সম্প্রসারণ, চীনের গুয়াংজুতে ইনভেস্ট বাংলাদেশের কার্যালয় স্থাপন এবং দেশব্যাপী শিল্প খাতের ম্যাপিং।

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কাঠামোর আওতায় পরিচালনার জন্য আগামীকাল বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) মধ্যে একটি কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বন্দর ও লজিস্টিকস অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ড এই কনসেশন ব্যবস্থায় যুক্ত থাকবে। চুক্তিটি বাংলাদেশের বন্দর ও লজিস্টিকস অবকাঠামো শক্তিশালী করার পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালন সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যসুবিধা বাড়ানোর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পিপিপি কাঠামোর আওতায় এনসিটির পরিচালনায় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একটি প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা দেশের বন্দর ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক মানের পরিচালন পদ্ধতি যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করবে।

চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার হওয়ায় এর সক্ষমতা ও দক্ষতা বাড়ানো আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এনসিটি পরিচালনায় নতুন এ ব্যবস্থার ফলে ভবিষ্যতে দেশের বন্দর ও লজিস্টিকস খাতে আরও বিনিয়োগ ও অংশীদারত্বের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ চালু করার লক্ষ্য রয়েছে। এটি চালু হলে বিমানবন্দরের বার্ষিক কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা প্রায় ২ লাখ টন থেকে বেড়ে ৫ লাখ টনে দাঁড়াবে। অর্থাৎ সক্ষমতা বাড়বে ১৫০ শতাংশ। এ টার্মিনাল থেকে ৬ হাজারের বেশি প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানও হবে।

১৩০ কোটি ডলারের বিনিয়োগের পাইপলাইন

নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও অগ্রগতি হচ্ছে। ইনভেস্ট বাংলাদেশ ১৩০ কোটি মার্কিন ডলারের একটি বৈচিত্র্যময় বিনিয়োগ পাইপলাইন তৈরি করেছে। এর মধ্যে ৪০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ ইতিমধ্যে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে।

দেশভিত্তিক সম্ভাব্য বিনিয়োগের মধ্যে চীন থেকে ৬০ কোটি ডলার, মধ্যপ্রাচ্য থেকে ৩০ কোটি ডলার, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২০ কোটি ডলার এবং দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ১০ কোটি ডলার আসতে পারে।

খাতভিত্তিক হিসাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও তথ্যপ্রযুক্তিতে প্রায় ৩০ কোটি ডলার করে বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা ও বস্ত্র খাতে রয়েছে ২০ কোটি ডলার করে বিনিয়োগের সম্ভাবনা।

নতুন বিনিয়োগের সুযোগ চিহ্নিত করতে ইনভেস্ট বাংলাদেশ এফডিআই হিটম্যাপও তৈরি করেছে। এতে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে উন্নতমানের বস্ত্র, ওষুধশিল্প, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

অন্যদিকে অটোমোটিভ যন্ত্রাংশ, হালকা প্রকৌশল, জুতা এবং চামড়াজাত পণ্যকে দ্রুত বিনিয়োগ প্রবেশের উপযোগী খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

দ্রুত সেবা পেতে নতুন প্যাকেজ

বিনিয়োগকারীদের জন্য সেবা আরও দ্রুত করতে বাংলাবিজের আওতায় তিন দিনের ‘বিজনেস স্টার্টার প্যাকেজ’ চালুর কাজ চলছে। পাশাপাশি ১৪ দিনের ‘বিজনেস রেডিনেস প্যাকেজ’ তৈরি করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বিনিয়োগের শুরু থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ করার লক্ষ্য রয়েছে।

নাহিয়ান রহমান রোচি জানান, পাঁচটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের অধীনে ১০ হাজার একরের বেশি শিল্প জমিতে ৪৪টি বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে একটি পোর্টফোলিও তৈরির কাজও চলছে। একই সঙ্গে চীনে বিনিয়োগ প্রচার ও যোগাযোগ বাড়াতে গুয়াংজুতে ইনভেস্ট বাংলাদেশের একটি কার্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের কয়েকটি বড় সমস্যা হচ্ছে অবকাঠামোর ঘাটতি, বিচ্ছিন্ন সেবা, অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রতা এবং বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত প্রকল্পের সীমিত সুযোগ- এসব মোকাবিলায় উদ্যোগগুলো নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য আরও পূর্বানুমানযোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি হবে এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ার পথ আরও সুগম হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ময়নুল আলম ও আতিউর রহমানের সাফল্যে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক মনোনয়ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৬ পি.এম


ময়নুল আলম ও আতিউর রহমানের সাফল্যে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক মনোনয়ন

সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’ ২০১৯, ২০২০ ও ২০২১ পাওয়ার জন্য মনোনীত শিক্ষার্থীদের তালিকা।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের একটি বিজ্ঞপ্তিতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৬৯ জন শিক্ষার্থীর নাম প্রকাশ করা হয়েছে।

এই তালিকায় ময়মনসিংহের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ জন শিক্ষার্থী অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। তাদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টির লোক প্রশাসন ও সরকার পরিচালনা বিদ্যা বিভাগের দুই শিক্ষার্থী মনোনীত হয়েছেন। তারা হলেন— ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের মো. ময়নুল আলম এবং ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের মো. আতিউর রহমান।

আরটিভির নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা আবু তাহের তাদের সাফল্যের গল্প জানার জন্য তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ময়নুল আলম বলেন, "এই সম্মাননা অর্জনের অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এটা আমার একার অর্জন নয়; আমার বাবা-মা, শ্রদ্ধেয় শিক্ষকবৃন্দ, প্রিয় বিভাগ এবং সর্বোপরি আমার তীর্থভূমির সমতুল্য প্রিয় বিদ্যাপীঠ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জন। এই পদকটি উৎসর্গ করছি আমার প্রাণপ্রিয় বাবাকে, যিনি ২০০২ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় পরলোকগমন করেন। পাশাপাশি আমার শ্রদ্ধেয় মা ও প্রিয় ছোটবোন জেবিনকে, যাদের ত্যাগ, অনুপ্রেরণা ও সমর্থন ছাড়া এই পথচলা সম্ভব হতো না। সত্যিই আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।"

আতিউর রহমান তার অনুভূতি জানাতে গিয়ে বলেন, "কিছু অর্জন শুধু পুরস্কার নয়, বরং একটি দীর্ঘ পথচলার নীরব স্বীকৃতি। প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক—আমার কাছে তেমনই এক অনন্য প্রাপ্তি। এই অর্জন শুধু আমার একার নয়। এর পেছনে রয়েছে আমার বাবা-মায়ের অসংখ্য ত্যাগ ও দোয়া, পরিবারের ভালোবাসা, শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা এবং আমার প্রিয়জনদের নিরন্তর উৎসাহ।"

ময়নুল তার সফলতার গল্প জানাতে গিয়ে বলেন, "প্রকৃতপক্ষে আমার সফলতাকে শুধু আমার ভালো রেজাল্টের কৃতিত্ব হিসেবে দেখলে পুরো বিষয়টা বলা হবে না। আমি নিয়মিত পড়াশোনা করার চেষ্টা করেছি এবং শুরু থেকেই একটা বিষয় মাথায় রেখেছি—শুধু পরীক্ষার আগে পড়ে ভালো করার চেয়ে ক্লাসের পড়া নিয়মিত বুঝে পড়াটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমি নিয়মিত পড়াশোনা করতাম, ক্লাসে মনোযোগী ছিলাম এবং যা পড়তাম বুঝে পড়তাম। আমি কখনও ভাবিনি যে শেষ পর্যন্ত স্বর্ণপদক পাব। নিজের জায়গা থেকে যতটা সম্ভব ভালো করার চেষ্টা করেছি।"

আতিউর বলেন, "সত্যি বলতে কোনো শর্টকাট ছিল না। প্রতিদিন অল্প হলেও পড়ার চেষ্টা করেছি, ক্লাসে মনোযোগ দেওয়া, মুখস্থনির্ভর না হয়ে বিষয়গুলো বোঝার চেষ্টা, নিয়মিত রিভিশন এবং পরীক্ষার আগে নয়—পুরো সময়জুড়েই ধারাবাহিক প্রস্তুতি নেওয়াটাই ছিল আমার মূল কৌশল। নির্দিষ্ট কোনো ঘটনা আমাকে অনুপ্রাণিত করেনি কিংবা কাউকে কিছু প্রমাণ করার তাগিদও ছিল না। প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক সম্পর্কে জানার পর থেকেই মনে হয়েছিল, আমাকেও একদিন এমন একটি অর্জনের জন্য চেষ্টা করতে হবে। পুরো অনার্সের আটটি সেমিস্টারজুড়ে ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।"

শিক্ষার্থীদের এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে একই বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও বর্তমানে সহকারী অধ্যাপক নাজমুল হাসান বলেন, "প্রধানমন্ত্রীর স্বর্ণপদকের জন্য মনোনীত দুইজন শিক্ষার্থীই আমার সরাসরি ছাত্র। এটি আমার শিক্ষকতা জীবনের অত্যন্ত আনন্দের ও গৌরবের মুহূর্ত। তাদের এই অসামান্য অর্জনে আমি আনন্দিত, অভিভূত এবং অনুপ্রাণিত। একজন শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের এমন সাফল্যই আমার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আমি বিশ্বাস করি, তাদের এই অর্জন বিভাগের অন্যান্য শিক্ষার্থীদেরও উচ্চতর অ্যাকাডেমিক সাফল্য অর্জনে অনুপ্রাণিত করবে। এই কৃতিত্ব শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায়, পরিবারের সহযোগিতা এবং শিক্ষকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রতিফলন।"

তিনি আরও বলেন, "আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, বিভাগের সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। ভবিষ্যতেও আমাদের শিক্ষার্থীরা যেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে পারে, সেই প্রত্যাশা করি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%