ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইনভেস্ট বাংলাদেশের পাইপলাইনে ১৩০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ


ইনভেস্ট বাংলাদেশের পাইপলাইনে ১৩০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ

দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে ইনভেস্ট বাংলাদেশ চলতি বছরের ১৬ মার্চ ২০টি উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছিল। এর মধ্যে ৭টি উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়েছে এবং বর্তমানে ১৩০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ পাইপলাইনে রয়েছে।

এই উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে— চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল, চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল, বন্দরে ২৪ ঘণ্টা কার্যক্রম, সমন্বিত বিনিয়োগসেবা এবং বিদেশি বিনিয়োগে নতুন প্রণোদনা। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ ও খাত থেকে সম্ভাব্য ১৩০ কোটি মার্কিন ডলারের বিনিয়োগের একটি পাইপলাইনও তৈরি হয়েছে, যার মধ্যে ৪০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ বর্তমানে সিদ্ধান্ত বা বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে।

ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী পূর্বে বলেছিলেন, "বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সরকারের যে লক্ষ্য, এই পরিকল্পনা তারই অংশ। আমরা বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করতে অবকাঠামো, সেবার মান এবং সম্ভাবনাময় বিনিয়োগের পাইপলাইন তৈরিতে গুরুত্ব দিয়েছি। কিছু পরিবর্তন ইতিমধ্যে এসেছে। তবে বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও সময় লাগবে।"

আরও পড়ুন: সরকারি কর্মচারীদের ভাতা নির্ধারণে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি

ইনভেস্ট বাংলাদেশের সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) নাহিয়ান রহমান রোচি বাসসকে জানান, ২০টি উদ্যোগকে তিনটি বড় স্তম্ভের অধীনে নেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো- শক্তিশালী অবকাঠামো, বিনিয়োগে সহায়তা এবং বিনিয়োগ উন্নয়ন।

অবকাঠামোর ক্ষেত্রে বড় প্রকল্প

বাস্তবায়িত উদ্যোগগুলোর মধ্যে অন্যতম ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল। এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। এপিএম টার্মিনালস ২০৩০ সালের মধ্যে টার্মিনালটির নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এটি চালু হলে ৭০০’র বেশি প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা প্রায় ৪৪ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।

চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে এগিয়ে চলেছে। চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন (সিআরবিসি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। ২০২৮ সালের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। এই শিল্পাঞ্চলে এক লাখের বেশি প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে। প্রকল্পটির বিনিয়োগ পাইপলাইনের পরিমাণ প্রায় ১৩০ কোটি মার্কিন ডলার, যার মধ্যে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ ইতিমধ্যে সক্রিয় রয়েছে।

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে সোনার দাম বেড়ে গেল, বিনিয়োগকারীদের নজর ফেডারেল রিজার্ভের সিদ্ধান্তে

চট্টগ্রাম বন্দরে ২৪ ঘণ্টা কার্যক্রম চালুর উদ্যোগও বাস্তবায়িত হয়েছে। বর্তমানে কাস্টমস ছাড়পত্র ও ব্যাংকিং সেবা সার্বক্ষণিকভাবে পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে পণ্য খালাসের সময় কমবে এবং ব্যবসায়ীদের বিলম্বজনিত সমস্যা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এক ছাতার নিচে বিনিয়োগসেবা

বিনিয়োগকারীদের জন্য সেবা সহজতর করতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব কর্তৃপক্ষের (পিপিপিএ) বিনিয়োগ-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম একীভূত করে ইনভেস্ট বাংলাদেশের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

নতুন এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ সহায়তা, জমি, অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের সুযোগ সম্পর্কে সমন্বিত সেবা পাওয়ার কথা।

আরও পড়ুন: কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামাজিক সুরক্ষা জোরদার সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রধান লক্ষ্য: ড. তিতুমীর

বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ) সম্পন্ন হওয়াও বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে একটি বড় অগ্রগতি। চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের ৯৭ শতাংশ পণ্য অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধা পাবে। এর মধ্যে ৮ হাজার ৪২৮টি পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা থাকবে।

এর ফলে উৎপাদন, অবকাঠামো, ইলেকট্রনিকস এবং উচ্চমূল্য সংযোজনকারী শিল্পে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী-ব্যবসায়ী সংলাপে ৭৫ শতাংশ অগ্রগতি

বিনিয়োগকারীদের সমস্যা দ্রুত সমাধানে প্রধানমন্ত্রী ও ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদের মধ্যে নিয়মিত সংলাপের ব্যবস্থা চালু হয়েছে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশে অবকাঠামো ও শিল্প খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে সিঙ্গাপুর

প্রথম দুই দফা সংলাপে ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা ২৮টি সমস্যা তুলে ধরেন। এর মধ্যে ২১টি বিষয়ে ইতিমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ উত্থাপিত সমস্যার প্রায় ৭৫ শতাংশের ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে।

বিদেশি বিনিয়োগ আনতে সপ্তম উদ্যোগ হিসেবে এফডিআই প্রণোদনা কর্মসূচিও অনুমোদিত হয়েছে। এর আওতায় বিদেশি বিনিয়োগ দেশে আনতে সক্ষম যোগ্য ব্যক্তিকে দেশে আনা বিদেশি বিনিয়োগের ইক্যুইটির ১ দশমিক ২৫ শতাংশ সমপরিমাণ প্রণোদনা দেওয়া হবে।

এ কর্মসূচির নির্দেশিকা অনুমোদিত হয়েছে। এখন একটি পৃথক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরির কাজ চলছে। আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে কর্মসূচিটি চালুর লক্ষ্য রয়েছে।

বাকি ১৩ উদ্যোগও এগোচ্ছে

আরও পড়ুন: মসলিনের টেকসই উৎপাদন ও বাণিজ্যিক সম্প্রসারণে সর্বোচ্চ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি

ইনভেস্ট বাংলাদেশের ২০ উদ্যোগের বাকি ১৩টিও বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল, মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল, প্রথম সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ), বাংলাবিজ বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্মের সম্প্রসারণ, চীনের গুয়াংজুতে ইনভেস্ট বাংলাদেশের কার্যালয় স্থাপন এবং দেশব্যাপী শিল্প খাতের ম্যাপিং।

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কাঠামোর আওতায় পরিচালনার জন্য আগামীকাল বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) মধ্যে একটি কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বন্দর ও লজিস্টিকস অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ড এই কনসেশন ব্যবস্থায় যুক্ত থাকবে। চুক্তিটি বাংলাদেশের বন্দর ও লজিস্টিকস অবকাঠামো শক্তিশালী করার পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালন সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যসুবিধা বাড়ানোর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পিপিপি কাঠামোর আওতায় এনসিটির পরিচালনায় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একটি প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা দেশের বন্দর ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক মানের পরিচালন পদ্ধতি যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করবে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশের পর্যটনে ১.২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা জাপানের

চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার হওয়ায় এর সক্ষমতা ও দক্ষতা বাড়ানো আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এনসিটি পরিচালনায় নতুন এ ব্যবস্থার ফলে ভবিষ্যতে দেশের বন্দর ও লজিস্টিকস খাতে আরও বিনিয়োগ ও অংশীদারত্বের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ চালু করার লক্ষ্য রয়েছে। এটি চালু হলে বিমানবন্দরের বার্ষিক কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা প্রায় ২ লাখ টন থেকে বেড়ে ৫ লাখ টনে দাঁড়াবে। অর্থাৎ সক্ষমতা বাড়বে ১৫০ শতাংশ। এ টার্মিনাল থেকে ৬ হাজারের বেশি প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানও হবে।

১৩০ কোটি ডলারের বিনিয়োগের পাইপলাইন

নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও অগ্রগতি হচ্ছে। ইনভেস্ট বাংলাদেশ ১৩০ কোটি মার্কিন ডলারের একটি বৈচিত্র্যময় বিনিয়োগ পাইপলাইন তৈরি করেছে। এর মধ্যে ৪০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ ইতিমধ্যে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে।

দেশভিত্তিক সম্ভাব্য বিনিয়োগের মধ্যে চীন থেকে ৬০ কোটি ডলার, মধ্যপ্রাচ্য থেকে ৩০ কোটি ডলার, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২০ কোটি ডলার এবং দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ১০ কোটি ডলার আসতে পারে।

খাতভিত্তিক হিসাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও তথ্যপ্রযুক্তিতে প্রায় ৩০ কোটি ডলার করে বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা ও বস্ত্র খাতে রয়েছে ২০ কোটি ডলার করে বিনিয়োগের সম্ভাবনা।

নতুন বিনিয়োগের সুযোগ চিহ্নিত করতে ইনভেস্ট বাংলাদেশ এফডিআই হিটম্যাপও তৈরি করেছে। এতে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে উন্নতমানের বস্ত্র, ওষুধশিল্প, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

অন্যদিকে অটোমোটিভ যন্ত্রাংশ, হালকা প্রকৌশল, জুতা এবং চামড়াজাত পণ্যকে দ্রুত বিনিয়োগ প্রবেশের উপযোগী খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

দ্রুত সেবা পেতে নতুন প্যাকেজ

বিনিয়োগকারীদের জন্য সেবা আরও দ্রুত করতে বাংলাবিজের আওতায় তিন দিনের ‘বিজনেস স্টার্টার প্যাকেজ’ চালুর কাজ চলছে। পাশাপাশি ১৪ দিনের ‘বিজনেস রেডিনেস প্যাকেজ’ তৈরি করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বিনিয়োগের শুরু থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ করার লক্ষ্য রয়েছে।

নাহিয়ান রহমান রোচি জানান, পাঁচটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের অধীনে ১০ হাজার একরের বেশি শিল্প জমিতে ৪৪টি বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে একটি পোর্টফোলিও তৈরির কাজও চলছে। একই সঙ্গে চীনে বিনিয়োগ প্রচার ও যোগাযোগ বাড়াতে গুয়াংজুতে ইনভেস্ট বাংলাদেশের একটি কার্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের কয়েকটি বড় সমস্যা হচ্ছে অবকাঠামোর ঘাটতি, বিচ্ছিন্ন সেবা, অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রতা এবং বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত প্রকল্পের সীমিত সুযোগ- এসব মোকাবিলায় উদ্যোগগুলো নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য আরও পূর্বানুমানযোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি হবে এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ার পথ আরও সুগম হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ময়নুল আলম ও আতিউর রহমানের সাফল্যে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক মনোনয়ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৬ পি.এম


ময়নুল আলম ও আতিউর রহমানের সাফল্যে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক মনোনয়ন

সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’ ২০১৯, ২০২০ ও ২০২১ পাওয়ার জন্য মনোনীত শিক্ষার্থীদের তালিকা।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের একটি বিজ্ঞপ্তিতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৬৯ জন শিক্ষার্থীর নাম প্রকাশ করা হয়েছে।

এই তালিকায় ময়মনসিংহের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ জন শিক্ষার্থী অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। তাদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টির লোক প্রশাসন ও সরকার পরিচালনা বিদ্যা বিভাগের দুই শিক্ষার্থী মনোনীত হয়েছেন। তারা হলেন— ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের মো. ময়নুল আলম এবং ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের মো. আতিউর রহমান।

আরটিভির নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা আবু তাহের তাদের সাফল্যের গল্প জানার জন্য তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ময়নুল আলম বলেন, "এই সম্মাননা অর্জনের অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এটা আমার একার অর্জন নয়; আমার বাবা-মা, শ্রদ্ধেয় শিক্ষকবৃন্দ, প্রিয় বিভাগ এবং সর্বোপরি আমার তীর্থভূমির সমতুল্য প্রিয় বিদ্যাপীঠ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জন। এই পদকটি উৎসর্গ করছি আমার প্রাণপ্রিয় বাবাকে, যিনি ২০০২ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় পরলোকগমন করেন। পাশাপাশি আমার শ্রদ্ধেয় মা ও প্রিয় ছোটবোন জেবিনকে, যাদের ত্যাগ, অনুপ্রেরণা ও সমর্থন ছাড়া এই পথচলা সম্ভব হতো না। সত্যিই আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।"

আতিউর রহমান তার অনুভূতি জানাতে গিয়ে বলেন, "কিছু অর্জন শুধু পুরস্কার নয়, বরং একটি দীর্ঘ পথচলার নীরব স্বীকৃতি। প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক—আমার কাছে তেমনই এক অনন্য প্রাপ্তি। এই অর্জন শুধু আমার একার নয়। এর পেছনে রয়েছে আমার বাবা-মায়ের অসংখ্য ত্যাগ ও দোয়া, পরিবারের ভালোবাসা, শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা এবং আমার প্রিয়জনদের নিরন্তর উৎসাহ।"

ময়নুল তার সফলতার গল্প জানাতে গিয়ে বলেন, "প্রকৃতপক্ষে আমার সফলতাকে শুধু আমার ভালো রেজাল্টের কৃতিত্ব হিসেবে দেখলে পুরো বিষয়টা বলা হবে না। আমি নিয়মিত পড়াশোনা করার চেষ্টা করেছি এবং শুরু থেকেই একটা বিষয় মাথায় রেখেছি—শুধু পরীক্ষার আগে পড়ে ভালো করার চেয়ে ক্লাসের পড়া নিয়মিত বুঝে পড়াটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমি নিয়মিত পড়াশোনা করতাম, ক্লাসে মনোযোগী ছিলাম এবং যা পড়তাম বুঝে পড়তাম। আমি কখনও ভাবিনি যে শেষ পর্যন্ত স্বর্ণপদক পাব। নিজের জায়গা থেকে যতটা সম্ভব ভালো করার চেষ্টা করেছি।"

আতিউর বলেন, "সত্যি বলতে কোনো শর্টকাট ছিল না। প্রতিদিন অল্প হলেও পড়ার চেষ্টা করেছি, ক্লাসে মনোযোগ দেওয়া, মুখস্থনির্ভর না হয়ে বিষয়গুলো বোঝার চেষ্টা, নিয়মিত রিভিশন এবং পরীক্ষার আগে নয়—পুরো সময়জুড়েই ধারাবাহিক প্রস্তুতি নেওয়াটাই ছিল আমার মূল কৌশল। নির্দিষ্ট কোনো ঘটনা আমাকে অনুপ্রাণিত করেনি কিংবা কাউকে কিছু প্রমাণ করার তাগিদও ছিল না। প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক সম্পর্কে জানার পর থেকেই মনে হয়েছিল, আমাকেও একদিন এমন একটি অর্জনের জন্য চেষ্টা করতে হবে। পুরো অনার্সের আটটি সেমিস্টারজুড়ে ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।"

শিক্ষার্থীদের এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে একই বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও বর্তমানে সহকারী অধ্যাপক নাজমুল হাসান বলেন, "প্রধানমন্ত্রীর স্বর্ণপদকের জন্য মনোনীত দুইজন শিক্ষার্থীই আমার সরাসরি ছাত্র। এটি আমার শিক্ষকতা জীবনের অত্যন্ত আনন্দের ও গৌরবের মুহূর্ত। তাদের এই অসামান্য অর্জনে আমি আনন্দিত, অভিভূত এবং অনুপ্রাণিত। একজন শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের এমন সাফল্যই আমার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আমি বিশ্বাস করি, তাদের এই অর্জন বিভাগের অন্যান্য শিক্ষার্থীদেরও উচ্চতর অ্যাকাডেমিক সাফল্য অর্জনে অনুপ্রাণিত করবে। এই কৃতিত্ব শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায়, পরিবারের সহযোগিতা এবং শিক্ষকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রতিফলন।"

তিনি আরও বলেন, "আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, বিভাগের সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। ভবিষ্যতেও আমাদের শিক্ষার্থীরা যেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে পারে, সেই প্রত্যাশা করি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বুয়েটে ২৪ পদে নিয়োগ, অষ্টম শ্রেণি পাসদের জন্য আবেদন সুযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৭ পি.এম


বুয়েটে ২৪ পদে নিয়োগ, অষ্টম শ্রেণি পাসদের জন্য আবেদন সুযোগ

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন স্থায়ী পদে জনবল নিয়োগের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪টি পদে বিভিন্ন স্তরের জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। যোগ্য বাংলাদেশি নাগরিকরা এসব পদে অনলাইনে আবেদন করার সুযোগ পাবেন। পদভেদে বেতন স্কেল ৮ হাজার ২৫০ থেকে ৩০ হাজার ২৩০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

গত ৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বুয়েটের রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশিত হয়েছে। আবেদন গ্রহণের শেষ সময় ১১ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত।

পদ ও বেতন

১. ড্রাফটসম্যান কাম-ক্যাড অপারেটর—১টি, গ্রেড-১১, বেতন ১২,৫০০–৩০,২৩০ টাকা।

২. মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (রেডিওলজি)—১টি, গ্রেড-১১, বেতন ১২,৫০০–৩০,২৩০ টাকা।

৩. প্রধান সহকারী—১টি, গ্রেড-১২, বেতন ১১,৩০০–২৭,৩০০ টাকা।

৪. লাইব্রেরি সহকারী কাম-ডকুমেন্টেশন সহকারী—১টি, গ্রেড-১৩, বেতন ১১,০০০–২৬,৫৯০ টাকা।

৫. রিপ্রোগ্রাফিক অপারেটর—১টি, গ্রেড-১৩, বেতন ১১,০০০–২৬,৫৯০ টাকা।

৬. ক্রাফট ইন্সট্রাক্টর—৪টি, গ্রেড-১৩, বেতন ১১,০০০–২৬,৫৯০ টাকা।

৭. অপারেটর মেকানিক—১টি, গ্রেড-১৩, বেতন ১১,০০০–২৬,৫৯০ টাকা।

৮. টেকনিশিয়ান গ্রেড-২—১টি, গ্রেড-১৩, বেতন ১১,০০০–২৬,৫৯০ টাকা।

৯. নার্সিং অ্যাসিস্ট্যান্ট—১টি, গ্রেড-১৫, বেতন ৯,৭০০–২৩,৪৯০ টাকা।

১০. এলডিএ কাম-কম্পিউটার অপারেটর—২টি, গ্রেড-১৬, বেতন ৯,৩০০–২২,৪৯০ টাকা।

১১. হিসাব সহকারী—১টি, গ্রেড-১৬, বেতন ৯,৩০০–২২,৪৯০ টাকা।

১২. সুপারভাইজার—১টি, গ্রেড-১৬, বেতন ৯,৩০০–২২,৪৯০ টাকা।

১৩. ল্যাব এটেনডেন্ট—৬টি, গ্রেড-১৭, বেতন ৯,০০০–২১,৮০০ টাকা।

১৪. সহকারী ইলেক্ট্রিশিয়ান—১টি, গ্রেড-১৭, বেতন ৯,০০০–২১,৮০০ টাকা।

১৫. রাজমিস্ত্রী—১টি, গ্রেড-১৭, বেতন ৯,০০০–২১,৮০০ টাকা।

১৬. লাইব্রেরি এটেনডেন্ট—২টি, গ্রেড-১৯, বেতন ৮,৫০০–২০,৫৭০ টাকা।

১৭. সহকারী রাজমিস্ত্রী—১টি, গ্রেড-১৯, বেতন ৮,৫০০–২০,৫৭০ টাকা।

১৮. এমএলএসএস—৬টি, গ্রেড-২০, বেতন ৮,২৫০–২০,০১০ টাকা।

১৯. এটেনডেন্ট—১টি, গ্রেড-২০, বেতন ৮,২৫০–২০,০১০ টাকা।

২০. সিকিউরিটি গার্ড—১টি, গ্রেড-২০, বেতন ৮,২৫০–২০,০১০ টাকা।

২১. বেলম্যান—১টি, গ্রেড-২০, বেতন ৮,২৫০–২০,০১০ টাকা।

২২. ভেহিক্যাল হেলপার—১টি, গ্রেড-২০, বেতন ৮,২৫০–২০,০১০ টাকা।

২৩. মালী—১টি, গ্রেড-২০, বেতন ৮,২৫০–২০,০১০ টাকা।

২৪. পরিচ্ছন্নতাকর্মী—১টি, গ্রেড-২০, বেতন ৮,২৫০–২০,০১০ টাকা।

যেসব শর্ত মানতে হবে

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ১ থেকে ১৪, ১৬ ও ১৮ নম্বর পদের জন্য শিক্ষাজীবনের কোনো স্তরে তৃতীয় বিভাগ বা শ্রেণি গ্রহণযোগ্য নয়।

অভ্যন্তরীণ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার বিভাগের শর্ত শিথিলযোগ্য। তবে ২০১৫ সালের ১১ মে-এর পর বুয়েটে নিয়োগ পেয়ে ডিগ্রি অর্জনকারীদের জন্য এই শিথিলতা প্রযোজ্য হবে না।

চাকরিরত প্রার্থীদের অনাপত্তিপত্র আবেদন করার সময় অনলাইনে আপলোড করতে হবে। ৬ ও ১৩ নম্বর ক্রমিকের পদে আবেদন অফিস বা বিভাগভিত্তিক করতে হবে।

আবেদন ফি

১ থেকে ৩ নম্বর পদের জন্য আবেদন ফি ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

৪ থেকে ১২ নম্বর পদের জন্য আবেদন ফি ২০০ টাকা।

১৩ থেকে ২৪ নম্বর পদের জন্য আবেদন ফি ১০০ টাকা।

আবেদন ফি অনলাইনের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে।

আবেদন যেভাবে

আগ্রহী প্রার্থীদের বুয়েটের নিয়োগসংক্রান্ত ওয়েবসাইটে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন প্রক্রিয়া ও ফি পরিশোধের বিস্তারিত নিয়ম ওয়েবসাইটের আবেদন গাইডলাইন মেনুতে উল্লেখ করা হয়েছে।

আবেদনের শেষ সময়

১১ নভেম্বর ২০২৬।

আবেদনসংক্রান্ত তথ্যের জন্য প্রয়োজনে [email protected] ই-মেইলে যোগাযোগ করা যাবে।

বিস্তারিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি এখানে দেখুন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শরীয়তপুরে গ্যাস সিলিন্ডার বেশি দামে বিক্রির অভিযোগে দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৭ পি.এম


শরীয়তপুরে গ্যাস সিলিন্ডার বেশি দামে বিক্রির অভিযোগে দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার টিএনটি মোড় ও কাজিরহাট বাজারের বিভিন্ন দোকানে অভিযান পরিচালনা করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় বেশি দামে সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি ও অন্যান্য অনিয়মের কারণে দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ২৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) শরীয়তপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জান্নাতুল ফেরদৌসের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানের সময় টিএনটি মোড় ও কাজিরহাট বাজারের বিভিন্ন গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয়কেন্দ্র, আইসক্রিম কারখানা ও সরিষার মিল তদারকি করা হয়।

অভিযানকালে সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রির ক্ষেত্রে ক্যাশমেমো বা মূল্যতালিকা সংরক্ষণ না করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ফায়ার এক্সটিংগুইশার রাখার অপরাধে ‘মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজ’-কে ২৫ হাজার টাকা এবং ‘মেসার্স রাসেল এন্টারপ্রাইজ’-কে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তবে নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনা করায় অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

অভিযানের সময় গ্যাস সিলিন্ডারের ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের কাছে তাদের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কোম্পানিগুলো চালানে গ্যাসের দাম কম দেখালেও পরিবহন ও আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে। কোম্পানির এ কারসাজির কারণে প্রতিটি সিলিন্ডারে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে তাদের। নামমাত্র কমিশন বা লাভ ছাড়াই বেশি দামে গ্যাস কিনে বাজারে বিক্রি করতে গিয়ে তারা বিপাকে পড়েছেন।

যদিও বাস্তবতা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে। গ্যাস সিলিন্ডার প্রস্তুতকারী একটি কোম্পানির কর্মকর্তা ও একজন খুচরা বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ১ হাজার ৭৪২ টাকায় গ্যাস কিনে ১ হাজার ৭৯২ টাকায় বিক্রির কথা থাকলেও অসাধু ডিলাররা পাইকারি বাজারে তা ১ হাজার ৯৫০ টাকায় বিক্রি করছেন। পরবর্তীতে খুচরা বিক্রেতারা এই গ্যাস ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত চড়া দামে বিক্রি করছেন।

ব্যবসায়ীদের এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, নির্ধারিত সময়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গ্যাস ডিলার ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে ব্যবসায়ীদের সমস্যা ও সিন্ডিকেটের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ভোক্তাসাধারণের অধিকার রক্ষা এবং বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

উল্লেখ্য, এ অভিযানে জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. বশির আহমেদ এবং জাজিরা থানা পুলিশের একটি দল সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পায়রা বন্দরে অত্যাধুনিক কার্গো হ্যান্ডলিং যন্ত্রের সংযোজন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৮ পি.এম


পায়রা বন্দরে অত্যাধুনিক কার্গো হ্যান্ডলিং যন্ত্রের সংযোজন

পটুয়াখালীর পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনালে চীনের পতাকাবাহী ‘ফান ঝৌ-৬’ জাহাজ সরাসরি এসে ভিড়েছে। জাহাজটি আজ সকাল ১০টার দিকে প্রথম টার্মিনালে নোঙর করে, যা বন্দরের কার্গো ও কন্টেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রমকে আরও দ্রুত ও আধুনিক করার লক্ষ্যে পাঁচটি অত্যাধুনিক সরঞ্জাম নিয়ে এসেছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ বুধবার (৭ অক্টোবর) জানায়, পায়রা বন্দরের কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রমকে আরও দ্রুত, আধুনিক ও দক্ষ করতে এসব সরঞ্জাম আনা হয়েছে। নতুন ইকুইপমেন্ট যুক্ত হওয়ার ফলে জাহাজ থেকে পণ্য খালাসের সময় কমবে। একই সঙ্গে, জাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম কমে যাবে এবং বন্দরের সামগ্রিক অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। প্রথম টার্মিনালের জন্য আনা পাঁচটি সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ৮০ টন ধারণক্ষমতার দুটি শিপ-টু-শোর (এসটিএস) ক্রেন, ৪০ টন ধারণক্ষমতার দুটি রাবার-টায়ার্ড গ্যান্ট্রি (আরটিজি) ক্রেন এবং ৮০ টন ধারণক্ষমতার একটি মোবাইল হারবার ক্রেন (এমএইচসি)। এসব যন্ত্রপাতি নির্মাণ করেছে চীনের নানজিং পোর্ট অ্যান্ড হারবার মেশিনারি কোম্পানি (এনপিএইচএমসি) ও শুঝো কনস্ট্রাকশন মেশিনারি গ্রুপ (এক্সসিএমজি)।

পায়রা বন্দরের ট্রাফিক বিভাগের উপপরিচালক আজিজুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, নতুন এসটিএস ক্রেনের মাধ্যমে মাদার ভেসেল থেকে কনটেইনার লোড-আনলোড করা হবে। আরটিজি ক্রেন ব্যবহার করে ট্রেইলার থেকে কনটেইনার ওঠানামা এবং ইয়ার্ডে কনটেইনার সংরক্ষণ ও স্থানান্তরের কাজ সম্পন্ন হবে। অন্যদিকে, এমএইচসির মাধ্যমে বাল্ক কার্গো ও কনটেইনার খালাসের কার্যক্রম আরও দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন এস এম শরিফুর রহমান জানান, ১৭০ মিটার দীর্ঘ এবং প্রায় ৬ মিটার ড্রাফটের ‘ফান ঝৌ-৬’ জাহাজটি গত ১৮ সেপ্টেম্বর চীনের পিংতান বন্দর থেকে পায়রার উদ্দেশে যাত্রা করে। নতুন সরঞ্জামগুলো যুক্ত হওয়ার ফলে বন্দরের কার্গো অপারেশন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। ভবিষ্যতে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে রাবনাবাদ চ্যানেলের নাব্যতা বাড়ানো গেলে, আরও বেশি ড্রাফটের বড় মাদার ভেসেল সরাসরি পায়রা বন্দরের জেটিতে আনা সম্ভব হবে। এতে বিপুল পরিমাণ কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের পাশাপাশি দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে পায়রা বন্দরের অবদান আরও বৃদ্ধি পাবে।

পায়রা বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল সৈয়দ সাইফ উল ইসলাম বলেন, পাঁচটি অত্যাধুনিক কার্গো হ্যান্ডলিং ইকুইপমেন্ট যুক্ত হওয়ায় বন্দর পূর্ণ সক্ষমতার দিকে আরও এক ধাপ এগিয়েছে। গাড়ি আমদানির জন্য ডেডিকেটেড ইয়ার্ড ও শেড ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। নতুন ক্রেন যুক্ত হওয়ার ফলে ৬৫০ মিটার মাল্টিপারপাস বার্থের সক্ষমতাও পূর্ণতা পেয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বন্দরের পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগাতে রাবনাবাদ চ্যানেলের নাব্যতা ধরে রাখা জরুরি। নাব্যতা ঠিক রাখা গেলে বড় মাদার ভেসেল সরাসরি জেটিতে ভেড়ানো সম্ভব হবে। প্রযুক্তিনির্ভর কার্গো ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পায়রা বন্দরের অপারেশনাল সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের বন্দর হিসেবে এর বিকাশের পথও সুগম হবে।

দীর্ঘ প্রায় দুই বছর পর আধুনিক কার্গো হ্যান্ডলিং সরঞ্জামবাহী মাদার ভেসেলের সরাসরি জেটিতে বার্থিংয়ের মাধ্যমে পুনরায় শুরু হলো বন্দরের সরাসরি জাহাজ বার্থিং কার্যক্রম।

এর আগে, ২০২৪ সালের ১৫ মে ৫০ হাজার ৫০০ টন পাথর নিয়ে ‘এমভি জেইন’ এবং একই বছরের ১ নভেম্বর ৪৮ হাজার ৫১১ টন পাথর নিয়ে ‘এমভি দা হং-১৬’ নামের দুটি মাদার ভেসেল সরাসরি পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনালে বার্থিং করে পণ্য খালাস করেছিল।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%