ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নেত্রকোণায় নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে অভিযান, জব্দ ৯ লাখ টাকার সরঞ্জাম


নেত্রকোণায় নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে অভিযান, জব্দ ৯ লাখ টাকার সরঞ্জাম

 সদর উপজেলা বড় বাজারে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ জাল জব্দ করে পুড়ে ধ্বংস করা হয়েছে এবং একটি ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

আজ বুধবার বিকেলে বিশেষ এই অভিযানটি পরিচালনা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মৎস্য সংরক্ষণ ও সুরক্ষা আইন ১৯৫০-এর আওতায় এই অভিযানে আনুমানিক ৯ লাখ টাকা মূল্যের ৩০০টি (৮ বস্তা) চায়না দুয়ারী বা ম্যাজিক চাই জাল এবং ২০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ হয়েছে।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

এই আদালতটি পরিচালনা করেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল বাকিউল বারী। সদর উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে বিকেল ৫টায় আদালতটি পরিচালিত হয়।

অভিযান সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিকেলে বড় বাজারের একটি জাল বিক্রির গুদামে অভিযানটি চালানো হয়।

এ সময় সরকারিভাবে নিষিদ্ধ বিপুল পরিমাণ চায়না দুয়ারী ও কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত এসব অবৈধ ক্ষতিকর জাল স্থানীয় জনসাধারণের উপস্থিতিতে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

আদালত পরিচালনার সময় নিষিদ্ধ জাল বিক্রির অপরাধে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী ফুল মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে শাস্তির আদেশ দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

অভিযানে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আশরাফুল্লাহ। আইনশৃঙ্খলা ও সার্বিক সুরক্ষায় সহযোগিতা করেন নেত্রকোণা সদর মডেল থানার পুলিশের একটি দল।

সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল বাকিউল বারী বাসসকে জানান, দেশীয় মৎস্য প্রজাতি রক্ষা এবং জলজ জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে এই ধরনের কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। তিনি অভিযান সফল করতে সহযোগিতা করায় সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাতক্ষীরা সীমান্তে ভারতীয় মোবাইল ফোনের বিপুল যন্ত্রাংশ উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৫৮ পি.এম


সাতক্ষীরা সীমান্তে ভারতীয় মোবাইল ফোনের বিপুল যন্ত্রাংশ উদ্ধার

জেলার বিভিন্ন সীমান্তে চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ’র (বিজিবি) সদস্যরা জব্দ করেছে।

আজ বুধবার বিকেলে সাতক্ষীরা সদর ও কলারোয়া উপজেলার বৈকারী ও কাঁকডাঙ্গা বিওপির আওতাধীন বিভিন্ন সীমান্ত থেকে এসব মালামাল জব্দ করা হয়। জব্দকৃত ভারতীয় মালামালের বাজার মূল্য ২২ লাখ ১০ হাজার টাকা।

বিজিবি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৈকারী বিওপির বিশেষ আভিযানিক দল সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বলদঘাট নামক স্থান থেকে ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ জব্দ করে।

এছাড়া, কাঁকডাঙ্গা বিওপির পৃথক দুটি বিশেষ আভিযানিক দল কলারোয়া উপজেলার কেড়াগাছি নামক স্থান থেকে ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ জব্দ করে। জব্দকৃত ভারতীয় মালামালের সর্বমোট বাজার মূল্য ২২ লাখ ১০ হাজার টাকা। তবে, বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরকারবারীরা এসময় পালিয়ে যাওয়ায় তারা তাদের আটক করতে সক্ষম হননি।

সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটেলিয়নের অধিনায়ক লে. কর্র্নেল কাজী আশিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জব্দকৃত ভারতীয় মালামাল সাতক্ষীরা কাস্টমসে জমা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি’র এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ ও তাজিকিস্তানের মধ্যে এফওসি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:০০ পি.এম


বাংলাদেশ ও তাজিকিস্তানের মধ্যে এফওসি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে নিয়মিত পররাষ্ট্র দপ্তর পর্যায়ের পরামর্শ প্রক্রিয়া প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে ‘ফরেন অফিস কনসালটেশন (এফওসি)’ বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ ও তাজিকিস্তান।

আজ ঢাকায় দুই দেশের মধ্যে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্র দপ্তর পর্যায়ের পরামর্শ বৈঠকের আগে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব রাষ্ট্রদূত আসাদ আলম সিয়াম এবং তাজিকিস্তানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইদিবেক কালান্দার, এই দুই দেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।

বৈঠকে উভয় পক্ষ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুনভাবে বিন্যস্ত ও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করে এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে পারস্পরিক সফরের মাধ্যমে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা আরও জোরদারে সম্মত হয়। দুই দেশের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বাড়াতে বাংলাদেশ-তাজিকিস্তান পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গঠনের বিষয়েও আলোচনা হয়।

বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দুই দেশ বেসরকারি খাতের মধ্যে যোগাযোগ ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের বিনিময় বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়।

বাংলাদেশ তাজিক প্রতিনিধিদলকে তৈরি পোশাক (আরএমজি), পাট ও পাটজাত পণ্য এবং ওষুধ শিল্পে দেশের বৈশ্বিক সক্ষমতার কথা তুলে ধরে। একইসঙ্গে বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (এসইজেড) বিনিয়োগের জন্য তাজিক বিনিয়োগকারীদের আহ্বান জানানো হয়।

এছাড়া বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়ে একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন, দুই দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই এবং তাজিক ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফরের প্রস্তাব দেয় ঢাকা।

বৈঠকে খনিজ সম্পদ খাতে সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়। এ সময় বাংলাদেশ তাজিকিস্তানের স্বর্ণ, অ্যালুমিনিয়াম, জিংক, তামা, সিসা ও রৌপ্যের মজুত এবং সংশ্লিষ্ট দক্ষতা থেকে উপকৃত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে।

দুই দেশ শিক্ষা, ক্রীড়া, পর্যটন ও সংস্কৃতি খাতে সহযোগিতা এবং শিক্ষার্থী, তরুণ ও সাংস্কৃতিক দলের বিনিময়ের মাধ্যমে জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ জোরদারের উপায় নিয়েও আলোচনা করে। তাজিকিস্তানে বাংলাদেশের দক্ষ ও অর্ধদক্ষ জনশক্তির কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।

বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা, সাংস্কৃতিক সহযোগিতা, কূটনৈতিক ও সরকারি পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা অব্যাহতি, পর্যটন উন্নয়ন, দ্বৈত কর পরিহার, বিনিয়োগ সুরক্ষা ও প্রসার এবং শিল্প সহযোগিতা বিষয়ে কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় দলিলের আলোচনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত হয় দুই পক্ষ।

উভয় দেশ জাতিসংঘ ও ওআইসিসহ আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় ফোরামে পারস্পরিক সমন্বয় ও সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন দেওয়ায় তাজিকিস্তানকে ধন্যবাদ জানায় বাংলাদেশ।

আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়েও বৈঠকে মতবিনিময় হয়। দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলেও উভয় পক্ষ মত দেয়।

দুই পক্ষ প্রথমবারের মতো আয়োজিত পররাষ্ট্র দপ্তর পর্যায়ের পরামর্শ বৈঠককে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করে এবং এটিকে ভবিষ্যৎ সম্পৃক্ততার দৃঢ় ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে। পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে দুশানবেতে দ্বিতীয় দফা এফওসি আয়োজনেরও সিদ্ধান্ত হয়।

এফওসির পাশাপাশি বাংলাদেশ ও তাজিকিস্তানের কূটনৈতিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও একটি পৃথক সমঝোতা স্মারক সই হয়। এতে ফরেন সার্ভিস একাডেমির রেক্টর রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত এবং তাজিকিস্তানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইদিবেক কালান্দার স্বাক্ষর করেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুমিল্লায় দুর্ঘটনার পর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:০২ পি.এম


কুমিল্লায় দুর্ঘটনার পর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় ঘটে যাওয়া একটি সড়ক দুর্ঘটনার পর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে পুরো পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এই অবস্থায় ঢাকাগামী যাত্রী ও দূরপাল্লার পরিবহনের যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

বুধবার দুপুর আড়াইটার সময়ে উপজেলার নূরীতলা এলাকার কাছে একটি লরি যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়, যার ফলে লরিটি পাশের পুকুরে পড়ে যায়। এই দুর্ঘটনায় সিএনজির চালক এবং আরও দুইজন নিহত হন; এছাড়া প্রকৃতপক্ষে একজন গুরুতর আহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।

দুর্ঘটনার পর নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত লরি উদ্ধার করতে প্রায় এক ঘণ্টা সময়ের প্রয়োজন হয়, যা কঠিন অবস্থায় থেকে যানজটের পরিস্থিতিকে দ্রুত তীব্র আকারে রূপান্তরিত করে। একপর্যায়ে, বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি পর্যন্ত প্রায় দশ কিলোমিটার এলাকায় যানবাহনগুলোর দীর্ঘ সারি তৈরি হয়।

যানজটে আটকে পড়া সততা পরিবহনের যাত্রী শরীফুল ইসলাম বলেন, চান্দিনা বাসস্টেশন থেকে রাত ৮টার দিকে মাধাইয়া স্টেশনের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেও, হাড়িখোলা পর্যন্ত মাত্র এক কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে এক ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহনকেন্দ্রিক নিয়ম ভেঙে এক লেন ব্যবহার করায় যানজট আরও বেড়েছে।

রাত ১০টা পর্যন্ত ধীরে ধীরে ঢাকামুখী যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করছে।

এ বিষয়ে ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির শিকদার বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত লরি উদ্ধার করতে প্রায় এক ঘণ্টার সময় লেগেছে। এ সময়ের মধ্যে ঢাকামুখী লেন বন্ধ থাকায় যানজটের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। বর্তমানে যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক হচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বাস্থ্য পরিচালককে টেনে বের করে কক্ষে তালা দেওয়ার অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:০৫ পি.এম


স্বাস্থ্য পরিচালককে টেনে বের করে কক্ষে তালা দেওয়ার অভিযোগ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগে নবনিযুক্ত পরিচালক ডা. এস.এম মনিরুজ্জামানকে টানাটানি করে বের করে দিয়ে তাঁর কক্ষে তালা লাগানো হয়েছে। এর আগে প্রায় দুই ঘণ্টা তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।

বিএনপি সমর্থক চিকিৎসকদের একটি পক্ষের নেতার নেতৃত্বে বুধবার এ ঘটনা ঘটে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ের (শেবাচিম) কিছু ছাত্র।

বিএনপি সমর্থক চিকিৎসকদের সংগঠন ড্যাবের নেতা ডা. নজরুল ইসলাম সেলিমকে এসবের নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে। নগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা পরিচালকের পক্ষ নিলে একাধিকবার দু’পক্ষের বাকবিতণ্ডা হয়। বেলা ১২টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি ছিল। কোতোয়ালি থানার ওসির নেতৃত্বে পুলিশ কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করছিল।

জানা গেছে, চিকিৎসকদের দু’পক্ষের বিরোধকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। গত রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডা. মনিরুজ্জামানকে বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক পদে পদায়ন করে। এর আগে তিনি সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের উপপরিচালক ছিলেন। তিনি গত সোমবার বরিশালে কর্মস্থলে যোগ দেন। এরপর ড্যাবের এক পক্ষের প্ররোচনায় পরিচালককে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে তাঁর অপসারণ চেয়ে আন্দোলন শুরু হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে মেডিকেল কলেজের একদল ছাত্র গিয়ে পরিচালকের কক্ষে তালা লাগিয়ে দেন। এর আগেই ৫ দিনের ছুটি নিয়ে সকাল ১০টায় পরিচালক দপ্তর ত্যাগ করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। তবে বুধবার তিনি কর্মস্থলে ফিরে আসেন।

এদিন বেলা সাড়ে ১১টায় বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কার্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, পরিচালকের দপ্তরের সামনে পুলিশ অবস্থান করছে। পরিচালক তাঁর কক্ষে আছেন। মহানগর ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন সংগঠন এসে তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়। বেলা ১২টার দিকে অপসারণ দাবি করা মেডিকেল কলেজের প্রায় অর্ধশত ছাত্র সেখানে উপস্থিত হন। পরিচালকের কক্ষে ঢুকতে চাইলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরে পরিচালকের অনুমতি পেয়ে তারা কক্ষে ঢোকেন। এ সময় ড্যাবের নেতারা একে একে উপস্থিত হন।

তাদের মধ্যে ছিলেন জেলা শাখার সাবেক সভাপতি ডা. আজিজ রহিম ও নজরুল ইসলাম সেলিম, বর্তমান সভাপতি ডা. কবিরুজ্জামান, নাগরিক সংগঠক ডা. মিজানুর রহমানসহ জেষ্ঠ চিকিৎসকরা। নগরীর ১৬ নম্বর ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের ছাত্রদল-যুবদলের কিছু কর্মীও সেখানে জড়ো হন। তাদের মধ্যে যুবদলের মুরাদুল ইসলাম হিমেল জানান, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য তারা জ্যেষ্ঠ নেতাদের নির্দেশে এসেছেন।

মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা পরিচালকের মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে তাঁর সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় লিপ্ত হন। তাদের অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনের সময় ডা. মনিরুজ্জামান শেবাচিম হাসপাতালের উপপরিচালক ছিলেন। তখন তিনি আন্দোলনবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেন। আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে তিনি সুবিধাভোগী ছিলেন। ফ্যাসিবাদের দোসর হওয়ায় পরিচালক পদে তাঁকে মেনে নেওয়া হবে না। ছাত্রদের পক্ষে জোরালো ভূমিকা নেন ড্যাবের সাবেক সভাপতি ডা. নজরুল। তিনি একাধিকবার উত্তেজিত হয়ে পরিচালকের টেবিলে থাপ্পড় দেন। ছাত্ররা দফায় দফায় স্লোগান দেন।

অভিযোগের বিষয়ে পরিচালক বলেন, তিনি অন্য কোনো অনুষ্ঠানের র‍্যালি ভেবে আন্দোলনবিরোধী মানববন্ধনে গিয়েছিলেন। যাওয়ার পর পরিস্থিতির কারণে সেখান থেকে চলে আসতে পারেননি। চাকরির স্বার্থে তাঁকে অনেক কিছু করতে হয়েছে। তিনি ছাত্রজীবনে ছাত্রদল এবং এরপর থেকে ড্যাবের সঙ্গে যুক্ত। আন্দোলনের সময় গোপনে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের অর্থ সহায়তা দিয়েছেন। মেডিকেল ছাত্ররা, ডা. নজরুলসহ কয়েকজন চিকিৎসক তাদের বক্তব্যের পক্ষে অনড় থাকেন।

বেলা ২টা পর্যন্ত এমন পরিস্থিতি চলার পর ডা. নজরুল ইসলাম ও ডা. মিজানুর রহমান পরিচালককে অনুরোধ করেন, তাঁকে আপাতত ৫ দিনের ছুটিতে থাকতে হবে। এ সময়ের মধ্যে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সমস্যা সমাধান করবেন। ডা. মনিরুজ্জামান এতে রাজি হননি। একপর্যায়ে ডা. নজরুল ওঠে গিয়ে পরিচালককে হাত ধরে টানাটানি করে চেয়ার থেকে ওঠানোর চেষ্টা করেন। এসময় ছাত্ররা মারমুখী স্লোগান দিলে উপস্থিত ছাত্রদল-যুবদল কর্মীদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি হয়।

অন্য চিকিৎসদের অনুরোধে পরিচালক কক্ষ ত্যাগে রাজি হলে ডা. নজরুল ছাত্রদের উদ্দেশে বলেন, তাঁকে কোনো প্রকার হেনস্তা করা যাবে না। এরপর ড্যাব নেতা ও অন্য চিকিৎসকদের সঙ্গে দোতলা থেকে নেমে পরিচালক তাঁর গাড়িতে করে দপ্তর ত্যাগ করেন। একই গাড়িতে তাঁর সঙ্গে যান ডা. মিজানুর রহমান ও ডা. নজরুল ইসলাম। পরিচালক বের হবার পরই ছাত্ররা তাঁর কক্ষে তালা লাগিয়ে দেন।

বুধবার সন্ধ্যায় পরিচালক সমকালকে বলেন, তিনি নিরাপদে বাসায় আছেন। ৫ দিনের ছুটি নিয়েছেন। মন্ত্রণালয় থেকে যে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে তিনি সেটি মেনে নেবেন।

ড্যাব সভাপতি ডা. কবিরুজ্জামান মঙ্গলবার জানান, ডা. মনিরুজ্জামান ছাত্রজীবনে ছাত্রদল করেছেন। আওয়ামী লীগের আমলেও ড্যাবের সঙ্গে ছিলেন। শেবাচিম হাসপাতালে প্রশাসনিক পদে থাকায় আওয়ামী লীগ আমলে বিভিন্ন কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হন।

অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক ডা. মোনায়েম সাদ বলেন, ডা. মনিরুজ্জামান জুলাই আন্দোলনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করায় তাঁকে পরিচালক নিয়োগ অনেকে মানতে পারছেন না। তাই বিক্ষোভ হয়েছে।

ডা. মনিরুজ্জামান শেবাচিম হাসপাতালে ৪ বছর সহকারী পরিচালক ও দুই বছর উপপরিচালক পদে ছিলেন। গত বছর তাঁকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বদলি করা হয়। সর্বশেষ সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ছিলেন তিনি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%