বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৫:৩৪ পি.এম
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৫৩৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ অভিযানের সময় ৩৭টি মামলা দায়ের করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এই তথ্য প্রকাশ করেন।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মিরপুর বিভাগে ১৫২ জন, তেজগাঁও বিভাগে ৯৫ জন, ওয়ারী বিভাগে ৮০ জন, মতিঝিল বিভাগে ৬৬ জন, লালবাগ বিভাগে ৫৩ জন, উত্তরা বিভাগে ৩৩ জন, গুলশান বিভাগে ৩০ জন, রমনা বিভাগে ২৩ জন এবং গোয়েন্দা বিভাগে ২ জন রয়েছেন।
অভিযান চলাকালীন গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ১ কেজি গাঁজা, ১ হাজার ৫০৬ পিস ইয়াবা, ৪টি মোবাইল ফোন এবং ৪টি চাকু উদ্ধার করা হয়। এ সময় একজন ভুক্তভোগীকেও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় নতুন করে ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনা শুরু করার জন্য সম্মতি দিয়েছেন। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১০ নভেম্বর অথবা তার পরবর্তী সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে পুতিনের বৈঠকের পর এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। বৈঠকটি প্রায় তিন ঘণ্টা স্থায়ী হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের ইতিহাসে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আলোচনায় যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ইউক্রেন ও রাশিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উপায় নিয়ে আলোচনা করা হবে। তবে দুই দেশের মধ্যে শান্তিচুক্তির শর্ত নিয়ে এখনও উল্লেখযোগ্য মতপার্থক্য বিদ্যমান রয়েছে।
মার্কিন নাগরিক স্টিফেন হাবার্ডকে মুক্তি দেওয়ার মাধ্যমে সদিচ্ছার নিদর্শন হিসেবে রাশিয়া বৈঠকের আগে এই পদক্ষেপ নেয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে পুতিনের কাছে তাকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। বৈঠকের শুরুতে এই মুক্তিকে সদিচ্ছার নিদর্শন হিসেবে তুলে ধরা হয়।
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে এই প্রক্রিয়া থেমে যায়।
অন্যদিকে, নরওয়ের রাজধানী অসলোতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, ফিনল্যান্ড ও নরওয়ের নেতাদের সঙ্গে উইটকফের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে শান্তি উদ্যোগে কিছু অগ্রগতি হয়েছে বলে উইটকফ পুতিনকে জানান। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানান, ইউক্রেন নতুন কিছু প্রস্তাব ও ধারণা উপস্থাপন করেছে।
তবে ক্রেমলিনের কর্মকর্তা ইউরি উশাকভ জানান, আলোচনার কিছু দিক রাশিয়াকে পুরোপুরি সন্তুষ্ট করতে পারেনি।
পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে ইরান ইস্যুতেও যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তার প্রস্তাব দেন রুশ প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, "ইরানের সঙ্গে রাশিয়ার কয়েক দশকের সম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ দূর করতে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব।"
এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকদের সহায়তায় বিপুল পরিমাণ সার সরবরাহের প্রস্তাবও দেন পুতিন।
আগামী মাসে চীনে পুতিন, ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য ত্রিপক্ষীয় বৈঠক নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ক্রেমলিন জানিয়েছে, এ ধরনের বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বেইজিং।
শান্তিচুক্তিতে এখনও বড় বাধা
যুদ্ধ বন্ধের শর্ত নিয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের অবস্থান এখনও অনেক দূরে। পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা, ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগদানের পথ বন্ধ করা এবং সাময়িক যুদ্ধবিরতির পরিবর্তে একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তি নিশ্চিত করা—এসবই পুতিনের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে।
বৈঠকে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির বিভিন্ন ধারণাসংবলিত কিছু নথি পুতিনের হাতে তুলে দেন উইটকফ। ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারও কিছু প্রস্তাব জানাতে চেয়েছিলেন। পরে তিনি দূর থেকে ফোনে আলোচনায় যুক্ত হন।
জেলেনস্কি জানিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে পুতিন ও ট্রাম্পের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে আলোচনা করতে চান তিনি। তবে ক্রেমলিনের বক্তব্য, পুতিন ও জেলেনস্কির সরাসরি বৈঠক ফলপ্রসূ করতে হলে আগে থেকেই বিস্তারিত প্রস্তুতি নিতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেন সম্পর্কে টানাপোড়েন
রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বাণিজ্যসংক্রান্ত চুক্তির পর ওয়াশিংটন ও কিয়েভের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন বেড়েছে। চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম কমানোর লক্ষ্যে রাশিয়া থেকে ডিজেল রপ্তানির একটি চুক্তির কথা জানান ট্রাম্প।
এরপর গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং ইউক্রেনের সামরিক যোগাযোগব্যবস্থা ব্যবহারে বিঘ্ন ঘটার অভিযোগ তোলে কিয়েভ। তবে জেলেনস্কি জানিয়েছেন, অসলোতে মঙ্গলবারের বৈঠকে এসব সমস্যা সমাধানে সমঝোতা হয়েছে।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বুধবার (২১ অক্টোবর) মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ধনকুবের ইলন মাস্ক গত সপ্তাহে ইউক্রেনের ব্যবহৃত স্টারলিংক উপগ্রহ যোগাযোগব্যবস্থার সামরিক সংস্করণের কার্যক্রম ধীর করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ইউক্রেন রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের গতিবিধি শনাক্ত করতে এ ব্যবস্থা ব্যবহার করে। তবে রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে এ খবরের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।
মাস্কের বক্তব্য, এ ধরনের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বা প্রেসিডেন্ট নিয়ে থাকেন। ট্রাম্পও এ সিদ্ধান্তের দায় অস্বীকার করেছেন। বুধবার (২১ অক্টোবর) মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ইউক্রেনের স্টারলিংক ব্যবহারের সক্ষমতা কমিয়ে দেয়নি ওয়াশিংটন।
সূত্র: রয়টার্স
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
হবিগঞ্জের মাধবপুরে ওয়াজ মাহফিলে অংশ নেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও অসঙ্গতি নিয়ে প্রতিবাদী স্ট্যাটাস দিয়েছেন হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনের বিগত নির্বাচনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সংসদ সদস্য প্রার্থী ও ইসলামী বক্তা পীর গিয়াস উদ্দিন তাহেরী।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ওই স্ট্যাটাসে তিনি হবিগঞ্জ-৪ নির্বাচনী এলাকার মাধবপুর, ছাতিয়াইন ও গোপীনাথপুরের বিভিন্ন সড়কের বেহাল দশার কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে রতনপুর থেকে ছাতিয়াইন সড়কটি অত্যন্ত বেহাল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
স্ট্যাটাসে তাহেরী বলেন, মাধবপুর-চুনারুঘাটের আঞ্চলিক অনেক সড়ক অচলাবস্থায় থাকায় মানুষের দুর্ভোগ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতা, মাদক ও ইয়াবার ছড়াছড়ি, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি এবং লোডশেডিং বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এ ছাড়া জনগণের প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ না করে তাদের বিলাসবহুল স্বপ্ন দেখানো হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তাহেরী। উন্নয়নকাজের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলে ‘রডের বদলে বাঁশ দেওয়া’র মতো অভিযোগের বিষয়টি সামনে আনেন তিনি। স্ট্যাটাসের শেষে তিনি লেখেন, ‘মানুষগুলোই সমাজের ফুটফুটে...।’
তাহেরীর এসব মন্তব্যের বিষয়ে স্থানীয় দক্ষিণ মাধবপুর উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ও সাবেক যুবদল নেতা আনোয়ার হোসেন বেলাল বলেন, গণতন্ত্রে সবার বাক্স্বাধীনতা রয়েছে। তবে হবিগঞ্জ-৪ আসনে মাদক, দুর্নীতি ও অনিয়ম সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রিত। এমপি সাহেবের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। রাস্তাঘাট নিয়েও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ চলছে। মূলত এগুলো কিছু বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের অবহেলার ফসল।
অন্যদিকে গিয়াস উদ্দিন তাহেরীর ঘনিষ্ঠজন ও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের নেতা মুফতি মোজাম্মিল হক মাসুমী বলেন, মাদক, অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদ করা ঈমানি দায়িত্ব। তাহেরী হুজুর এই প্রতিবাদের মাধ্যমে জাহেলের ভিতরে জিহাদ ঘোষণা করেছেন। হুজুর যেমন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী, তেমনি ইসলামী চেতনা ও ওলি-আউলিয়ার আদর্শের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ : আদালতের তত্ত্বাবধানে শর্তসাপেক্ষে সংশোধনের সুযোগ দিয়ে চট্টগ্রামে ১ হাজার ৫৫১ জন লঘু অপরাধীকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করেছে প্রবেশন ব্যবস্থা। এই অপরাধীদের মধ্যে অধিকাংশই কিশোর ও তরুণ। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে অপরাধীদের তাদের পরিবার ও সমাজের সঙ্গে যুক্ত রেখে সংশোধনের পাশাপাশি দেশের অতিরিক্ত জনাকীর্ণ কারাগারগুলোর ওপর চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
২০১৬ সালে চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে প্রবেশন কার্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে মোট ১ হাজার ৫৫১ জন অপরাধী এই সুযোগ পেয়েছেন। প্রবেশন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৯৯২ জন প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে রয়েছেন, যা দেশের একক কোনো প্রবেশন কার্যালয়ের অধীনে সর্বোচ্চ সংখ্যা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, শর্ত পূরণ করে ৫৫৯ জন তাদের দণ্ড থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন।
প্রবেশন একটি আইনি ব্যবস্থা, যেখানে আদালত কোনো অপরাধীর কারাদণ্ড স্থগিত রেখে নির্দিষ্ট শর্তে তাকে পরিবারের সঙ্গে বসবাস ও সমাজে পুনর্বাসনের সুযোগ দেন। এই সময় একজন প্রবেশন কর্মকর্তা তার আচরণ ও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং সংশোধনের প্রক্রিয়ায় সহায়তা করেন।
জীবনের মোড় ঘুরে যাওয়ার একটি উদাহরণ হলো আবদুল্লাহ (প্রকৃত নাম নয়)। ২০২৩ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় চট্টগ্রাম সরকারি মুসলিম উচ্চবিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন তিনি। ভালো ফলাফল থাকা সত্ত্বেও একসময় কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন আবদুল্লাহ। পরে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) তাকে গ্রেপ্তার করে এবং তাকে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়।
তবে তার জীবনের গতিপথ বদলে যায় চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫-এর একটি আদেশে। আদালত তাকে আটক রাখার পরিবর্তে একজন প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে রাখার নির্দেশ দেন। প্রবেশন কর্মকর্তা মনজুর মোরশেদ আবদুল্লাহ ও তার পরিবারের সদস্যদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় যুক্ত করেন। তার আচরণ পরিবর্তনে সহায়তা করা হয়। একপর্যায়ে আবদুল্লাহ আগের অভ্যাস ত্যাগ করে নতুনভাবে জীবন গড়ার উদ্যোগ নেন। পরে আদালত ও প্রবেশন কার্যালয় তার শর্ত পূরণের বিষয়টি যাচাই করে তাকে দণ্ড থেকে অব্যাহতির যোগ্য বলে বিবেচনা করে।
আবদুল্লাহ শিক্ষাজীবনে ফিরে এসে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ভর্তির সুযোগ পান। কিশোর অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়া থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হয়ে ওঠার এ যাত্রা প্রমাণ করে, যথাযথ পুনর্বাসনের সুযোগ পেলে তরুণ অপরাধীরাও নতুন জীবন শুরু করতে পারে।
চট্টগ্রাম সিএমএম আদালত ও এর অধীনস্থ আদালতগুলো সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন কার্যালয়ের মাধ্যমে যোগ্য আসামি ও দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের শর্তসাপেক্ষ তত্ত্বাবধানে রাখছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এ ব্যবস্থা অপরাধীদের সমাজে পুনঃএকীভূত হতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে কারাগারে অতিরিক্ত বন্দির চাপ কমায় এবং লঘু অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের কারাগারে গুরুতর অপরাধীদের সংস্পর্শে এসে আরও বড় অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি হ্রাস করে।
প্রবেশনপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আদালতের দেওয়া শর্ত পূরণ করতে হয়। এসব শর্তের মধ্যে বই পড়া, গাছ লাগানো, প্রতিবেশীদের সঙ্গে সদাচরণ, মা-বাবার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা, মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ, ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা এবং হাসপাতালে মাদক পরীক্ষা করানোর মতো বিষয় থাকতে পারে।
১৯৬০ সালের অপরাধী প্রবেশন অধ্যাদেশের ৫ ধারা অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় নয়-এমন অপরাধের ক্ষেত্রে যোগ্য পুরুষ অপরাধীরা প্রবেশনের সুযোগ পেতে পারেন। মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে নারী অপরাধীরাও এ সুযোগের আওতায় আসতে পারেন। অন্যদিকে, শিশু আইন, ২০১৩-এর বিধান অনুযায়ী, আইনের শর্ত সাপেক্ষে অপরাধের ধরন নির্বিশেষে শিশু অপরাধীদের প্রবেশনে রাখার সুযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের কারাগারগুলোতে বর্তমানে প্রায় ৮০ হাজার বন্দি রয়েছেন, যেখানে ধারণক্ষমতা প্রায় ৪৬ হাজার। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারেই প্রায় ৬ হাজার বন্দি রয়েছেন, যা কারাগারটির নির্ধারিত ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি।
প্রবেশন কর্মকর্তা মনজুর মোরশেদ একটি গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে বলেন, কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া প্রায় ৫২ শতাংশ ব্যক্তি জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর কিংবা সাজা ভোগ শেষে পুনরায় অপরাধ বা বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। এ তথ্য অপরাধীদের কার্যকর পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
তিনি বলেন, প্রবেশনপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের প্রায় ৮০ শতাংশ শর্ত মেনে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করেন বলে তার ধারণা। তবে কেউ শর্ত ভঙ্গ করলে তাকে মূল দণ্ড ভোগের জন্য কারাগারে পাঠানো হতে পারে।
তবে জনবলের সংকট, পর্যাপ্ত লজিস্টিক সহায়তার অভাব ও সীমিত অর্থায়নের কারণে প্রবেশন ব্যবস্থার কার্যকর বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাঈদ আহসান খালিদ বাসসকে বলেন, প্রবেশনকে কেবল একটি আইনি ব্যবস্থা হিসেবে দেখলে চলবে না; বরং সমাজ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে এটি একটি পুনর্বাসন প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
তিনি বলেন, লঘু অপরাধে জড়িত কিছু ব্যক্তি কারাগারে গিয়ে গুরুতর অপরাধীদের সংস্পর্শে আসেন এবং একপর্যায়ে আরও গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারেন। কারাগার থেকে মুক্তির পর পরিবার ও সমাজের সঙ্গে পুনরায় খাপ খাইয়ে নিতেও তাদের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে পরিবার ও সমাজ তাদের সহজে গ্রহণ করতে চায় না।
তিনি বলেন, ‘এসব সমস্যা মোকাবিলায় প্রবেশন অত্যন্ত কার্যকর একটি ব্যবস্থা।’
আদালত সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতেই ৬৬ হাজারের বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
সাঈদ আহসান খালিদ বলেন, প্রবেশনের ব্যবহার বাড়ানো গেলে কারাগারে বন্দির অতিরিক্ত চাপ কমানোর পাশাপাশি বিচারব্যবস্থার ওপর চাপও হ্রাস পেতে পারে।
এ ব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা, আইনজীবী, পুলিশ, কারা কর্তৃপক্ষ ও সমাজকল্যাণ কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক ও উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবিব আহসান বলেন, প্রবেশন ব্যবস্থার ব্যাপক প্রয়োগ সম্পর্কে অনেক বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা ও আইনজীবীর পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় এটি এখনও প্রত্যাশিত মাত্রায় ব্যবহৃত হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে কারাদণ্ডকেই শাস্তির স্বাভাবিক পন্থা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
তিনি বলেন, কারাগার পরিচালনায় বিপুল ব্যয় হয়। অন্যদিকে, উপযুক্ত ক্ষেত্রে প্রবেশন তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল ও সমাজের জন্য অধিক কল্যাণকর বিকল্প হতে পারে।
প্রবেশন ব্যবস্থার পরিধি বাড়াতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে আরও প্রবেশন কর্মকর্তা নিয়োগ, তদারকি ও নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়ার ব্যবস্থা জোরদার এবং জনসচেতনতামূলক প্রচার বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
জিয়া হাবিব আহসান বলেন, ‘কারাগারের দেয়াল একজন মানুষকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে, আর প্রবেশন তাকে মানুষ হিসেবে নতুন করে বাঁচার সুযোগ দেয়।’
প্রবেশনকে কেবল আইনি প্রক্রিয়া হিসেবে নয়, বরং সামাজিক ও মানবিক সংস্কারের কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ ঘাঁটিতে (বানৌজা)-তে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাগেরহাটের মোংলায়।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে নৌপথে বানৌজা মোংলার জেটিতে তিনি পৌঁছান।
আরো পড়ুন
প্রধানমন্ত্রীকে দেখার জন্য হাজারো মানুষ অপেক্ষা করছিল।
এর আগে সকালে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে খুলনা আসেন। খুলনায় অবতরণের আগে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে হিরণ পয়েন্ট ও সুন্দরবন এলাকা পরিদর্শন করেন।
সুন্দরবন পরিদর্শন শেষে, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর সেখান থেকে তিনি নৌপথে বাগেরহাটের বানৌজা মোংলায় আসেন।
আরো পড়ুন
প্রধানমন্ত্রীর জনসভার বাইরে টাকার বিনিময়ে বক্তব্য ধারণের অভিযোগে ভুয়া সাংবাদিক আটক করা হয়েছে।
পরে বিকেলে মোংলা বন্দরের জেটি পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর তিনি প্রস্তাবিত বেজা অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করবেন।
সফর শেষে বিকেল ৫টায় হেলিপ্যাড থেকে ঢাকায় ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ