ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

‘রডের বদলে বাঁশ’ নির্বাচনী এলাকার সমস্যা নিয়ে তাহেরীর প্রতিবাদী স্ট্যাটাস


‘রডের বদলে বাঁশ’ নির্বাচনী এলাকার সমস্যা নিয়ে তাহেরীর প্রতিবাদী স্ট্যাটাস

হবিগঞ্জের মাধবপুরে ওয়াজ মাহফিলে অংশ নেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও অসঙ্গতি নিয়ে প্রতিবাদী স্ট্যাটাস দিয়েছেন হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনের বিগত নির্বাচনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সংসদ সদস্য প্রার্থী ও ইসলামী বক্তা পীর গিয়াস উদ্দিন তাহেরী।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ওই স্ট্যাটাসে তিনি হবিগঞ্জ-৪ নির্বাচনী এলাকার মাধবপুর, ছাতিয়াইন ও গোপীনাথপুরের বিভিন্ন সড়কের বেহাল দশার কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে রতনপুর থেকে ছাতিয়াইন সড়কটি অত্যন্ত বেহাল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

স্ট্যাটাসে তাহেরী বলেন, মাধবপুর-চুনারুঘাটের আঞ্চলিক অনেক সড়ক অচলাবস্থায় থাকায় মানুষের দুর্ভোগ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতা, মাদক ও ইয়াবার ছড়াছড়ি, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি এবং লোডশেডিং বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

আরও পড়ুন: সৌদির বিমানবন্দরে হামলায় নিহত শাহেদের মরদেহ বগুড়ায় পৌঁছেছে

এ ছাড়া জনগণের প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ না করে তাদের বিলাসবহুল স্বপ্ন দেখানো হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তাহেরী। উন্নয়নকাজের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলে ‘রডের বদলে বাঁশ দেওয়া’র মতো অভিযোগের বিষয়টি সামনে আনেন তিনি। স্ট্যাটাসের শেষে তিনি লেখেন, ‘মানুষগুলোই সমাজের ফুটফুটে...।’

তাহেরীর এসব মন্তব্যের বিষয়ে স্থানীয় দক্ষিণ মাধবপুর উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ও সাবেক যুবদল নেতা আনোয়ার হোসেন বেলাল বলেন, গণতন্ত্রে সবার বাক্‌স্বাধীনতা রয়েছে। তবে হবিগঞ্জ-৪ আসনে মাদক, দুর্নীতি ও অনিয়ম সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রিত। এমপি সাহেবের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। রাস্তাঘাট নিয়েও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ চলছে। মূলত এগুলো কিছু বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের অবহেলার ফসল।

অন্যদিকে গিয়াস উদ্দিন তাহেরীর ঘনিষ্ঠজন ও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের নেতা মুফতি মোজাম্মিল হক মাসুমী বলেন, মাদক, অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদ করা ঈমানি দায়িত্ব। তাহেরী হুজুর এই প্রতিবাদের মাধ্যমে জাহেলের ভিতরে জিহাদ ঘোষণা করেছেন। হুজুর যেমন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী, তেমনি ইসলামী চেতনা ও ওলি-আউলিয়ার আদর্শের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল।

আরও পড়ুন: ভেঙে পড়ার ছয় বছরেও নির্মিত হয়নি সেতু, বাঁশের সাঁকোই পাঁচ গ্রামের মানুষের একমাত্র ভরসা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কারাগারের বাইরে সংশোধনের সুযোগ, স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন ১,৫৫১ অপরাধী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৬ পি.এম


কারাগারের বাইরে সংশোধনের সুযোগ, স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন ১,৫৫১ অপরাধী

চট্টগ্রাম, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ : আদালতের তত্ত্বাবধানে শর্তসাপেক্ষে সংশোধনের সুযোগ দিয়ে চট্টগ্রামে ১ হাজার ৫৫১ জন লঘু অপরাধীকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করেছে প্রবেশন ব্যবস্থা। এই অপরাধীদের মধ্যে অধিকাংশই কিশোর ও তরুণ। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে অপরাধীদের তাদের পরিবার ও সমাজের সঙ্গে যুক্ত রেখে সংশোধনের পাশাপাশি দেশের অতিরিক্ত জনাকীর্ণ কারাগারগুলোর ওপর চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

২০১৬ সালে চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে প্রবেশন কার্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে মোট ১ হাজার ৫৫১ জন অপরাধী এই সুযোগ পেয়েছেন। প্রবেশন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৯৯২ জন প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে রয়েছেন, যা দেশের একক কোনো প্রবেশন কার্যালয়ের অধীনে সর্বোচ্চ সংখ্যা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, শর্ত পূরণ করে ৫৫৯ জন তাদের দণ্ড থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন।

প্রবেশন একটি আইনি ব্যবস্থা, যেখানে আদালত কোনো অপরাধীর কারাদণ্ড স্থগিত রেখে নির্দিষ্ট শর্তে তাকে পরিবারের সঙ্গে বসবাস ও সমাজে পুনর্বাসনের সুযোগ দেন। এই সময় একজন প্রবেশন কর্মকর্তা তার আচরণ ও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং সংশোধনের প্রক্রিয়ায় সহায়তা করেন।

জীবনের মোড় ঘুরে যাওয়ার একটি উদাহরণ হলো আবদুল্লাহ (প্রকৃত নাম নয়)। ২০২৩ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় চট্টগ্রাম সরকারি মুসলিম উচ্চবিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন তিনি। ভালো ফলাফল থাকা সত্ত্বেও একসময় কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন আবদুল্লাহ। পরে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) তাকে গ্রেপ্তার করে এবং তাকে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

তবে তার জীবনের গতিপথ বদলে যায় চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫-এর একটি আদেশে। আদালত তাকে আটক রাখার পরিবর্তে একজন প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে রাখার নির্দেশ দেন। প্রবেশন কর্মকর্তা মনজুর মোরশেদ আবদুল্লাহ ও তার পরিবারের সদস্যদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় যুক্ত করেন। তার আচরণ পরিবর্তনে সহায়তা করা হয়। একপর্যায়ে আবদুল্লাহ আগের অভ্যাস ত্যাগ করে নতুনভাবে জীবন গড়ার উদ্যোগ নেন। পরে আদালত ও প্রবেশন কার্যালয় তার শর্ত পূরণের বিষয়টি যাচাই করে তাকে দণ্ড থেকে অব্যাহতির যোগ্য বলে বিবেচনা করে।

আবদুল্লাহ শিক্ষাজীবনে ফিরে এসে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ভর্তির সুযোগ পান। কিশোর অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়া থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হয়ে ওঠার এ যাত্রা প্রমাণ করে, যথাযথ পুনর্বাসনের সুযোগ পেলে তরুণ অপরাধীরাও নতুন জীবন শুরু করতে পারে।

চট্টগ্রাম সিএমএম আদালত ও এর অধীনস্থ আদালতগুলো সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন কার্যালয়ের মাধ্যমে যোগ্য আসামি ও দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের শর্তসাপেক্ষ তত্ত্বাবধানে রাখছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এ ব্যবস্থা অপরাধীদের সমাজে পুনঃএকীভূত হতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে কারাগারে অতিরিক্ত বন্দির চাপ কমায় এবং লঘু অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের কারাগারে গুরুতর অপরাধীদের সংস্পর্শে এসে আরও বড় অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি হ্রাস করে।

প্রবেশনপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আদালতের দেওয়া শর্ত পূরণ করতে হয়। এসব শর্তের মধ্যে বই পড়া, গাছ লাগানো, প্রতিবেশীদের সঙ্গে সদাচরণ, মা-বাবার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা, মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ, ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা এবং হাসপাতালে মাদক পরীক্ষা করানোর মতো বিষয় থাকতে পারে।

১৯৬০ সালের অপরাধী প্রবেশন অধ্যাদেশের ৫ ধারা অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় নয়-এমন অপরাধের ক্ষেত্রে যোগ্য পুরুষ অপরাধীরা প্রবেশনের সুযোগ পেতে পারেন। মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে নারী অপরাধীরাও এ সুযোগের আওতায় আসতে পারেন। অন্যদিকে, শিশু আইন, ২০১৩-এর বিধান অনুযায়ী, আইনের শর্ত সাপেক্ষে অপরাধের ধরন নির্বিশেষে শিশু অপরাধীদের প্রবেশনে রাখার সুযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের কারাগারগুলোতে বর্তমানে প্রায় ৮০ হাজার বন্দি রয়েছেন, যেখানে ধারণক্ষমতা প্রায় ৪৬ হাজার। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারেই প্রায় ৬ হাজার বন্দি রয়েছেন, যা কারাগারটির নির্ধারিত ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি।

প্রবেশন কর্মকর্তা মনজুর মোরশেদ একটি গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে বলেন, কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া প্রায় ৫২ শতাংশ ব্যক্তি জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর কিংবা সাজা ভোগ শেষে পুনরায় অপরাধ বা বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। এ তথ্য অপরাধীদের কার্যকর পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

তিনি বলেন, প্রবেশনপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের প্রায় ৮০ শতাংশ শর্ত মেনে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করেন বলে তার ধারণা। তবে কেউ শর্ত ভঙ্গ করলে তাকে মূল দণ্ড ভোগের জন্য কারাগারে পাঠানো হতে পারে।

তবে জনবলের সংকট, পর্যাপ্ত লজিস্টিক সহায়তার অভাব ও সীমিত অর্থায়নের কারণে প্রবেশন ব্যবস্থার কার্যকর বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাঈদ আহসান খালিদ বাসসকে বলেন, প্রবেশনকে কেবল একটি আইনি ব্যবস্থা হিসেবে দেখলে চলবে না; বরং সমাজ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে এটি একটি পুনর্বাসন প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

তিনি বলেন, লঘু অপরাধে জড়িত কিছু ব্যক্তি কারাগারে গিয়ে গুরুতর অপরাধীদের সংস্পর্শে আসেন এবং একপর্যায়ে আরও গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারেন। কারাগার থেকে মুক্তির পর পরিবার ও সমাজের সঙ্গে পুনরায় খাপ খাইয়ে নিতেও তাদের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে পরিবার ও সমাজ তাদের সহজে গ্রহণ করতে চায় না।

তিনি বলেন, ‘এসব সমস্যা মোকাবিলায় প্রবেশন অত্যন্ত কার্যকর একটি ব্যবস্থা।’

আদালত সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতেই ৬৬ হাজারের বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

সাঈদ আহসান খালিদ বলেন, প্রবেশনের ব্যবহার বাড়ানো গেলে কারাগারে বন্দির অতিরিক্ত চাপ কমানোর পাশাপাশি বিচারব্যবস্থার ওপর চাপও হ্রাস পেতে পারে।

এ ব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা, আইনজীবী, পুলিশ, কারা কর্তৃপক্ষ ও সমাজকল্যাণ কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক ও উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবিব আহসান বলেন, প্রবেশন ব্যবস্থার ব্যাপক প্রয়োগ সম্পর্কে অনেক বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা ও আইনজীবীর পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় এটি এখনও প্রত্যাশিত মাত্রায় ব্যবহৃত হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে কারাদণ্ডকেই শাস্তির স্বাভাবিক পন্থা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

তিনি বলেন, কারাগার পরিচালনায় বিপুল ব্যয় হয়। অন্যদিকে, উপযুক্ত ক্ষেত্রে প্রবেশন তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল ও সমাজের জন্য অধিক কল্যাণকর বিকল্প হতে পারে।

প্রবেশন ব্যবস্থার পরিধি বাড়াতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে আরও প্রবেশন কর্মকর্তা নিয়োগ, তদারকি ও নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়ার ব্যবস্থা জোরদার এবং জনসচেতনতামূলক প্রচার বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

জিয়া হাবিব আহসান বলেন, ‘কারাগারের দেয়াল একজন মানুষকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে, আর প্রবেশন তাকে মানুষ হিসেবে নতুন করে বাঁচার সুযোগ দেয়।’

প্রবেশনকে কেবল আইনি প্রক্রিয়া হিসেবে নয়, বরং সামাজিক ও মানবিক সংস্কারের কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মোংলায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী, সুন্দরবন এলাকা পরিদর্শন করেছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৭ পি.এম


মোংলায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী, সুন্দরবন এলাকা পরিদর্শন করেছেন

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ ঘাঁটিতে (বানৌজা)-তে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাগেরহাটের মোংলায়।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে নৌপথে বানৌজা মোংলার জেটিতে তিনি পৌঁছান।

আরো পড়ুন

প্রধানমন্ত্রীকে দেখার জন্য হাজারো মানুষ অপেক্ষা করছিল।

এর আগে সকালে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে খুলনা আসেন। খুলনায় অবতরণের আগে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে হিরণ পয়েন্ট ও সুন্দরবন এলাকা পরিদর্শন করেন।

সুন্দরবন পরিদর্শন শেষে, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর সেখান থেকে তিনি নৌপথে বাগেরহাটের বানৌজা মোংলায় আসেন।

আরো পড়ুন

প্রধানমন্ত্রীর জনসভার বাইরে টাকার বিনিময়ে বক্তব্য ধারণের অভিযোগে ভুয়া সাংবাদিক আটক করা হয়েছে।

পরে বিকেলে মোংলা বন্দরের জেটি পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর তিনি প্রস্তাবিত বেজা অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করবেন।

সফর শেষে বিকেল ৫টায় হেলিপ্যাড থেকে ঢাকায় ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাজেকে পর্যটকদের ফেরার পথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গোলাগুলি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৭ পি.এম


সাজেকে পর্যটকদের ফেরার পথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গোলাগুলি

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক থেকে খাগড়াছড়িতে পর্যটকদের পৌঁছানোর পথে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে তাদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে সাজেক ইউনিয়নের উজোবাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সড়ক অবরোধের কারণে সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর আজ সকাল ৮টার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় প্রায় তিন হাজার পর্যটক খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা হন। তবে পর্যটকবাহী গাড়িগুলো উজোবাজার এলাকায় পৌঁছালে অবরোধকারীদের বাধার সম্মুখীন হয়।

পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যারিকেড সরিয়ে পর্যটকদের খাগড়াছড়ির দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে সশস্ত্র ব্যক্তিদের সঙ্গে গোলাগুলি শুরু হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, সাজেক থেকে ফেরত আসা পর্যটকেরা নিরাপদে খাগড়াছড়ির কাছাকাছি পৌঁছেছেন বলে জানা গেছে।

রাঙামাটির পুলিশ সুপার আব্দুর রবিক গোলাগুলির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘উজোবাজার এলাকায় থেমে থেমে গোলাগুলির খবর পেয়েছি। বিস্তারিত পরে জানানো যাবে। তবে সাজেক থেকে ফেরা পর্যটকরা নিরাপদে খাগড়াছড়ির কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন।’

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক দুই রাজনৈতিক সংগঠনের বিরোধের কারণে আজ থেকে রাঙামাটির সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে। সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন এই অবরোধের ডাক দিয়েছে। এর ফলে সাজেকে বেড়াতে যাওয়া পর্যটকদের যাতায়াতে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

তবে জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা। তিনি বলেন, ‘এসব ইউপিডিএফের ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচার। দীর্ঘদিন ধরে সাজেকে ইউপিডিএফ যে সন্ত্রাসী তৎপরতা ও জনগণের ওপর শোষণ-পীড়ন চালাচ্ছে, সেখান থেকে নজর সরাতেই তারা এ কাজ করছে।’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কক্সবাজার সৈকতে সাগরে ভাসমান আরো এক পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৮ পি.এম


কক্সবাজার সৈকতে সাগরে ভাসমান আরো এক পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার

কক্সবাজার সৈকতে গোসলে নেমে নিখোঁজ ৫ পর্যটকের মধ্যে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ফলে মৃতের সংখ্যা এখন চারজনে দাঁড়িয়েছে। এই ঘটনায় এখনও একজন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে ওই পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দুর্ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরে সৈকতে ভেসে আসা মরদেহটি চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ কবিরের ছেলে মোহাম্মদ হারুনের বলে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করেন তার স্বজনেরা।

আরো পড়ুন

নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সচেতনতা বৃদ্ধিতে বসুন্ধরা শুভসংঘের পোস্টার প্রদর্শন

এর আগে বুধবার বিকেলে হিমছড়ি এলাকার মারিনা রিসোর্টের পাশে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পরপরই তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ীর বাসিন্দা রোহান (২৩) ও শহীদুল ইসলাম জিসান (২৩) এবং চট্টগ্রামের বায়েজিদ শার্সা এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আকাশ (২১)। বর্তমানে নিখোঁজ রয়েছেন ঢাকার আজিমপুরের বাসিন্দা নাফিসুল হক নিবিড় (২২)।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মস জিল্লুর রহমান জানিয়েছেন, পর্যটকদের দুটি পৃথক দল হিমছড়ির পেঁচারদ্বীপ জাদুঘর-সংলগ্ন রেজু খাল পেরিয়ে সমুদ্র ও খালের মোহনায় জেগে ওঠা একটি বালুচরে বেড়াতে যায়। বিকেলের দিকে সাগরে পূর্ণ জোয়ার শুরু হলে ধীরে ধীরে বালুচরটি পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করে। কিন্তু পর্যটকেরা বিষয়টি বুঝতে পারেননি। একপর্যায়ে পুরো চরটি পানির নিচে চলে গেলে দুই দলের সদস্যরা সাগরের পানিতে আটকা পড়ে যান বলে তিনি জানান।

ইউএনও আরও বলেন, খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। তারা চট্টগ্রাম থেকে আসা পর্যটক দলের তিন সদস্যকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান এবং পরে তল্লাশি চালিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে উদ্ধার হয় আরো একজনের মরদেহ।

জীবিত উদ্ধার হওয়া তিনজন হলেন– চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকার মৃত আবুল কালামের ছেলে রাকিব হাসান, একই এলাকার মৃত ছগিরের ছেলে মো. সানী এবং বায়েজিদে বসবাসকারী নোয়াখালীর বাসিন্দা মোহাম্মদ আকাশ। বর্তমানে তারা কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সানী ও আকাশ জানান, বুধবার দুপুর ১২টার দিকে ট্রেনে করে তারা কক্সবাজারে পৌঁছান। এরপর পেঁচারদ্বীপে আগে থেকে বুকিং করা একটি রিসোর্টে ওঠেন। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তারা রেজু খাল পেরিয়ে ওই বালুচরে যান। একই সময়ে ঢাকা থেকে আসা আরেকটি পর্যটক দলও সেখানে অবস্থান করছিল। হঠাৎ জোয়ারের পানি বেড়ে যাওয়ায় তারা বিপদের মুখে পড়েন।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানিয়েছেন, নিহত চারজনের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং নিখোঁজ একজনের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%