০৪:১৩ পি.এম
ভারতে শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কার এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনেক তরুণ-তরুণী রাজধানী দিল্লির রাজপথে নেমে এসেছে। ব্যঙ্গাত্মক একটি অনলাইন উদ্যোগ, ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি), এখন দেশের অন্যতম আলোচিত সংগঠনের তরুণ আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক মাস আগে রাজনৈতিক যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ এবং বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী অভিজিৎ দীপ মজা করে ইন্সটাগ্রাম, টুইটারে আইডি খুলে এই উদ্যোগ শুরু করেন। পরে সদস্য হওয়ার জন্য একটি নিবন্ধন ফরম প্রকাশ করা হলে অল্প সময়েই হাজারো মানুষ এতে নাম লেখান। এরপর আন্দোলনটি বড় আকার ধারণ করে।
গত ১৯ জুলাই এই দলটি সংসদ অভিমুখে পদযাত্রার ঘোষণা দেয়। সেই কর্মসূচিতে দিল্লিতে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন। একই সময়ে মুম্বাই, বেঙ্গালুরু ও গোয়াসহ বিভিন্ন শহরেও বিক্ষোভ এবং মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচি পালিত হয়।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
আন্দোলনে নতুন গতি আসে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের অনশনের পর। গত ২৮ জুন তিনি দিল্লির যন্তর মন্তরে অনশন শুরু করেন। মোদী প্রশাসনের পুলিশ পরে তাকে জোর করেই হাসপাতালে নিয়ে যায়, এই ঘটনা আন্দোলনকারীদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়ায়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বর্তমানে তিনি হাসপাতালেও অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আন্দোলনের নাম ককরোচ জনতা পার্টি রাখা হয়েছে, ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যকে ব্যঙ্গ করে। একটি শুনানিতে তিনি ভুয়া সনদধারী কিছু মানুষকে ককরোচ বা তেলাপোকার সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। পরে তিনি জানান, মন্তব্যটি দেশের সব তরুণকে উদ্দেশ্য করে করা হয়নি। এরপর আন্দোলনকারীরা সেই নাম গ্রহণ করে প্রতিবাদ শুরু করেন।
আন্দোলনের মূল দাবি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগও তারা দাবি করছেন।
এ বছরে চিকিৎসা শিক্ষায় ভর্তি পরীক্ষায় প্রায় ২২ লাখ ৮০ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেন। পরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা বাতিল করা হলে নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হয়। এতে বহু শিক্ষার্থী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। আন্দোলনকারীদের দাবি, এই ঘটনার সাথে যুক্ত মানসিক চাপে অন্তত ২০ জন পরীক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
এদিকে সোমবার (২০ জুলাই) সংসদ চলো কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলা, সংঘর্ষ এবং ভাঙচুরের ঘটনায় এখন পর্যন্ত দিল্লি পুলিশ ছয়টি মামলা করেছে। তবে ককরোচ জনতা পার্টি আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
এছাড়া প্রস্তাবিত ভারত–মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির বিরুদ্ধে আয়োজিত মহাসমাবেশে অংশ নিতে শত শত কৃষক নিজেদের গরু-মহিষ নিয়ে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। একই সঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানানোর জন্য ভারতের পাঞ্জাবের শত শত শিখ এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও হাজারো মানুষ দিল্লিমুখী অভিযাত্রা করছেন। তাদের আটকাতে মোদি সরকার বিভিন্ন বাঁধার সৃষ্টি করছেন।
বুধবার (২২ জুলাই) আন্দোলনের মুখপাত্র সৌরভ দাস জানিয়েছেন, তারা সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তবে তারা শর্ত আরোপ করেছেন যে, আলোচনা কোনো সরকারি দপ্তর বা মন্ত্রীর বাসভবনে নয়, যন্তর মন্তর বা নিরপেক্ষ কোনো স্থানে হতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, শুরু থেকেই তারা সংলাপের পক্ষে ছিলেন।
এ আন্দোলন ইতোমধ্যে ভারতের বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমর্থনও পেয়েছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জকে গণতন্ত্রের ওপর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীও সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
অন্যদিকে ক্ষমতাসীন জোটের সংসদীয় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। এ ঘটনায় ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত ফলও প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দেশের সর্বোচ্চ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং দোষীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের তরুণ-তরুণীরা বাংলাদেশ এবং নেপালের জেন-জি গণঅভ্যুত্থান থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন