প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
খুলনায় একটি ভাড়া বাসা থেকে বিশ্বজিৎ দেউড়ী (৩৫) নামে এক তরুণের রক্তাক্ত মরদেহ পুলিশ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনার পর থেকে তার রুমমেট ও সহকর্মী অন্তর সরকার নিখোঁজ রয়েছেন।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে পাইকগাছা পৌর এলাকার হাসপাতাল মোড় এলাকা থেকে এই মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত বিশ্বজিৎ দেউড়ী (৩৫) ঝালকাঠি সদর উপজেলার বেতরা গ্রামের হিরালাল দেউড়ীর ছেলে। তিনি আরএফএলের ভিগো গ্রুপের বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অপরদিকে, নিখোঁজ অন্তর সরকার মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার লিটন সরকারের ছেলে। তিনি একই প্রতিষ্ঠানে টেকনিশিয়ান হিসাবে কাজ করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্বজিৎ এবং অন্তরের সঙ্গে কর্মরত সহকর্মী নয়ন রায় মোবাইল ফোনে তাদের না পেয়ে ওই ভাড়া বাসায় যান। সেখানে গিয়ে তিনি দরজায় তালাবদ্ধ অবস্থায় এবং সামনে রক্তমাখা একটি ছুরির খাপ দেখতে পান। এরপর বিষয়টি পুলিশকে জানান।
খবর পেয়ে পুলিশ তালা ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে কাঁথা দিয়ে মোড়ানো এবং তোশকে ঢাকা অবস্থায় বিশ্বজিৎ দেউড়ীর মরদেহ উদ্ধার করে। পরে তারা প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। পরে ঘটনাস্থলের আলামত পরীক্ষার জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক দলকে খবর দেওয়া হয়।
রাত সাড়ে আটটার দিকে সিআইডির ফরেনসিক কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম (মনির) এর নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়। এ সময় সহকারী পুলিশ সুপার (ডি সার্কেল) আমির হামজা এবং পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী পুলিশের সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা যৌথভাবে ঘটনাস্থলের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন এবং বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন।
পুলিশ ও স্থানীয়দের ধারণা, সোমবার গভীর রাতের মধ্যে এই ঘটনা ঘটতে পারে।
বাড়ির মালিক রামপ্রসাদ মণ্ডল জানান, বিশ্বজিৎ ও অন্তর তার বাড়ির নিচতলার একটি কক্ষে ভাড়া থাকতেন। কিন্তু ঘটনার পর থেকে অন্তরকে আর এলাকায় দেখা যাচ্ছে না।
আরএফএল কোম্পানির পাইকগাছা শাখার ম্যানেজার শরিফুল ইসলাম বলেছেন, বিশ্বজিৎ এবং অন্তর উভয়েই তাদের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর থেকে অন্তর সরকারের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর তিনি কক্ষে তালা দিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে সেখানে থেকে চলে যান।
এই বিষয়ে পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী বলেছেন, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের পাশাপাশি অন্তরকে খুঁজে বের করতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন