বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:২৭ পি.এম
বাংলাদেশ ব্যাংক ২০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ স্কিম চালু করেছে, যার উদ্দেশ্য হলো বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় কার্যকর করা। এই নতুন স্কিমের আওতায় গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সুদহার সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। ঋণগ্রহীতাদের জন্য ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ডও রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।
সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন স্কিম’-এর আওতায় ব্যাংকগুলোকে অর্থায়নের মাধ্যমে বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর সুযোগ তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোকে প্রাক-অর্থায়ন দেওয়া হবে।
নীতিমালা অনুযায়ী, স্কিমের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া প্রাক-অর্থায়নের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে ৪ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে। তবে, প্রাক-অর্থায়ন নেওয়ার পর প্রথম ছয় মাস এ সুদ পরিশোধ করতে হবে না। ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংককে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে সুদ পরিশোধ করতে হবে। প্রথম দুই ত্রৈমাসিকের বকেয়া সুদও পরিশোধ করতে হবে এ সময়।
অন্যদিকে, নতুন এ স্কিমের আওতায় ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের যে ঋণ দেবে, তার সুদহার সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। ঋণগ্রহীতাদের জন্যও ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ড রাখা হয়েছে। অর্থাৎ ঋণ বিতরণের পর প্রথম ছয় মাস গ্রাহকের কাছ থেকে সুদ আদায় করা যাবে না। ছয় মাস শেষ হওয়ার পর সুদ আদায় শুরু করতে হবে। এ ক্ষেত্রেও প্রথম দুই ত্রৈমাসিকের বকেয়া সুদ আদায়ের আওতায় থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়েছে, তহবিলের প্রাপ্যতা থাকা সাপেক্ষে স্কিমটির মেয়াদকালীন তিন বছরের মধ্যে যেকোনো সময়ে প্রাক-অর্থায়নের জন্য আবেদন করা যাবে। অর্থাৎ স্কিমের আওতায় সুবিধা নিতে আগ্রহী ব্যাংকগুলো তিন বছরের মধ্যে যেকোনো সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে প্রাক-অর্থায়নের আবেদন করতে পারবে।
স্কিমের আওতায় দেওয়া অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার হচ্ছে কি না, ঋণ আদায় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের তদারকির ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
নীতিমালা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে প্রাক-অর্থায়নের অর্থ নির্ধারিত কাজে ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ঋণের ব্যবহার ও আদায় পরিস্থিতি তদারক করতে হবে। গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর ব্যাংকগুলোকে নির্ধারিত নিয়মে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সুদ পরিশোধের হিসাব নিষ্পত্তি করতে হবে।
ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। সার্কুলারে দেওয়া নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) রেলস্টেশনে ১৫ অক্টোবর থেকে যাত্রাবিরতি শুরু করবে তিতুমীর ও সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস। একই সময়ে, রাতে চলাচলকারী তিনটি আন্তঃনগর ট্রেনের জন্য শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে ক্যাম্পাস থেকে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে শাটল বাসের ব্যবস্থা করবে রাবি প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টায় রাকসু ভবনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মার এসব তথ্য জানান।
সালাউদ্দিন আম্মার এ সময় বলেন, "শিক্ষার্থীরা মনে করছে, অনুমোদন হওয়ার পর থেকেই ট্রেন যাত্রাবিরতি দেবে। কিন্তু বিষয়টি ভিন্ন। এটি দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ আছে। সুতরাং এটি সংস্কার করতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন। সে সময়টুকু আপনারা শিক্ষার্থীসুলভ আচরণ করুন।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, "আনুমানিক আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে তিতুমীর ও সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস নামের দুটি আন্তঃনগর ট্রেন যাত্রাবিরতি দেবে। গভীর রাতে চলাচলকারী আরও তিনটি আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির জন্যও আমরা আলোচনা করছি। ততদিন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাত্রিকালীন ট্রেনের সঙ্গে সমন্বয় করে ক্যাম্পাস থেকে রাজশাহী স্টেশনে শাটল বাসের ব্যবস্থা করা হবে।"
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, "আপনারা দয়া করে টিকিট ছাড়া ভ্রমণ করবেন না এবং সর্বদা শিক্ষার্থীবান্ধব আচরণ করবেন।"
উল্লেখ্য, প্রায় দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেলস্টেশনটি। শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে আগামী ৬ আগস্ট দুটি আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ রেলওয়ে মন্ত্রণালয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানকে প্রত্যাহার (ক্লোজ) করা হয়েছে একটি বিতর্কিত অডিও রেকর্ডের কারণে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদের সই করা এক অফিস আদেশে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রশাসনিক কারণে ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি মো. রাকিবুল হাসানকে সদর দপ্তর ও প্রশাসন বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, আদেশে ভুলবশত রফিকুল ইসলাম নাম উল্লেখ করা হলেও পদবি অনুযায়ী তিনি রাকিবুল হাসান। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অডিও রেকর্ডে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে বিতর্কিত কথোপকথন শোনা যায়। অডিওতে এক কণ্ঠকে বলতে শোনা যায়, ‘শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরলে কিছু হবে না। রাস্তার পুলিশ কত দুর্বল, তাই ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা না করে চলতি মাসেই তার দেশে আসা উচিত।’ সেখানে ‘পুলিশ কিছুই করতে পারবে না’ বলেও মন্তব্য করা হয়।
অডিও রেকর্ডটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন মহলে কড়া সমালোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রত্যাহারের এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
এদিকে ভাইরাল হওয়া এই অডিও রেকর্ডটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের প্রোফাইল থেকে পোস্ট করে সাফাই গেয়েছেন ওসি রাকিবুল হাসান। তিনি দাবি করেছেন, অডিওটি সম্পূর্ণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। তিনি লেখেন, এআই প্রযুক্তি দিয়ে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে এবং গণমাধ্যমকে সঠিক তথ্য যাচাই করে খবর প্রকাশের অনুরোধ জানান তিনি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম বন্দরে পাঁচ দিনের শুভেচ্ছা সফরে নোঙর করেছে চীনা নৌবাহিনীর তিনটি যুদ্ধজাহাজ, যেগুলোর নাম হলো ‘থাং শান’, ‘দা ছিং’ ও ‘থাই হু’।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) যখন জাহাজগুলো বন্দরে পৌঁছায়, তখন কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের পক্ষ থেকে চীনা নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ও নাবিকদের স্বাগত জানানোর ব্যবস্থা করা হয়।
এ সময় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সুসজ্জিত বাদকদল ঐতিহ্যবাহী রীতি অনুযায়ী ব্যান্ড পরিবেশন করে। এই অনুষ্ঠানে চীনা দূতাবাসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, চীনা নাগরিক এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর স্থানীয় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, চীনা নৌবাহিনীর জাহাজগুলো যখন বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে, তখন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ ‘বানৌজা ওমর ফারুক’ তাদের অভ্যর্থনা জানায়।
সফরকালে চীনা নৌবাহিনীর জাহাজগুলোর অধিনায়ক এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের মিলিটারি অ্যাটাশেসহ একটি প্রতিনিধি দল কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল, কমান্ডার বিএন ফ্লিট এবং চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
এছাড়া, সফরকারী জাহাজগুলোর কর্মকর্তা ও নাবিকরা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিভিন্ন জাহাজ ও ঘাঁটি এবং চট্টগ্রামের বিভিন্ন দর্শনীয় ও ঐতিহাসিক স্থাপনা পরিদর্শন করবেন। একইসঙ্গে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যরা চীনা নৌবাহিনীর জাহাজ পরিদর্শনের সুযোগ পাবেন।
এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের নৌসদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক কার্যক্রম ও পেশাগত বিষয়ে মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি উভয় দেশের নৌবাহিনীর সদস্যরা পরস্পরের কার্যক্রম ও পেশাগত উৎকর্ষ সরাসরি পর্যবেক্ষণের সুযোগ পাবেন।
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এ ধরনের শুভেচ্ছা সফরের মাধ্যমে দুই দেশের নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ও নাবিকদের মধ্যে পেশাগত মতবিনিময়, ভবিষ্যৎ প্রশিক্ষণ ও পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর ফলে বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শুভেচ্ছা সফর শেষে চীনা নৌবাহিনীর জাহাজ তিনটি আগামী ২১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের জলসীমা ত্যাগ করবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্যের ব্যক্তিগত সচিবের (পিএস) বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অসহযোগিতা ও রূঢ় আচরণের একাধিক অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সময় পেতে নানা ধরনের ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হয়েছে। সম্প্রতি জকসুর এক প্রতিনিধির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর আরও কয়েকজন তাদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
অভিযোগকারীদের মতে, উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করার জন্য সময় চাওয়ার সময় পিএসের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। অনেকের অভিযোগ, তাদের সঙ্গে উচ্চস্বরে কথা বলা হয়েছে এবং সাক্ষাতের বিষয়ে পরে জানানো হবে বলেও কোনো তথ্য প্রদান করা হয়নি।
আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীও ওই কর্মকর্তার আচরণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে আগস্টের পর ডিন অফিস পর্যায়েও আলোচনা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিতর্ক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত এক শিক্ষার্থী জানান, উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সময় চাইতে গিয়ে তাকে প্রায় তিন সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হয়েছে। তার অভিযোগ, সাক্ষাতের বিষয়টি উপাচার্যের কাছে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। তিনি মনে করেন, প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের আচরণ ও জবাবদিহির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের এক শিক্ষার্থী জানান, শ্রেণিকক্ষ সংকট ও সংস্কারসংক্রান্ত কয়েকটি বিষয় নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলার জন্য তারা সাক্ষাতের উদ্যোগ নেন। প্রথমে চেয়ারম্যান ছাড়া দেখা করা যাবে না বলে জানানো হয়। পরে চেয়ারম্যানকে সঙ্গে নিয়ে সময় চাওয়ার পর আবেদন গ্রহণ করা হয়। কিন্তু এরপর আর সাক্ষাতের সময় বা এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন ব্যক্তির অভিযোগ, পিএসের আচরণে সাংবাদিকদেরও বিভিন্ন সময় বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া কয়েকটি পোস্ট ও মন্তব্যে ওই কর্মকর্তার আচরণ নিয়ে ‘রূঢ়’, ‘বদমেজাজী’ ও ‘অসহযোগিতামূলক’ মন্তব্য করা হয়েছে।
সম্প্রতি জকসুর হল সংসদের সংস্কৃতি সম্পাদক ফাতেমা তুজ জোহরা ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় পেতে গিয়ে অসহযোগিতা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ করেন। তার ভাষ্য, বার্ষিক ফেস্ট আয়োজনের বিষয়ে সময় চাইতে গেলে পিএস প্রথমে জানান, সাক্ষাতের সময় দেওয়ার দায়িত্ব তার নয়। পরে দায়িত্ব তার ওপর থাকার বিষয়টি স্বীকার করলেও নির্দিষ্ট দিনের সাক্ষাতের কথা উপাচার্যকে জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
ফাতেমা তুজ জোহরা আরও অভিযোগ করেন, একপর্যায়ে তাকে উপাচার্য আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলা হয়। শুধু সাক্ষাতের সময় জানার জন্য অনির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করা সম্ভব নয় জানিয়ে পরে সময়সূচি জানাতে অনুরোধ করলে পিএস উচ্চস্বরে কথা বলেন। একপর্যায়ে তিনি সময়সূচি দেবেন না বলেও জানান বলে অভিযোগ করেন ফাতেমা।
এসব অভিযোগের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সেবা পাওয়ার পদ্ধতি এবং উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নির্ধারণের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাংবাদিক ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রশাসনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের পেশাদার ও সম্মানজনক আচরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইচ উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমি অবগত ছিলাম না। আপনাদের সাংবাদিকদের কয়েকজনের মাধ্যমে মাত্রই বিষয়টি জানলাম। দ্রুতই তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পিএসের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে কথা বলতে আগ্রহী না।”
উল্লেখ্য, এর আগেও ওই কর্মকর্তার আচরণ নিয়ে শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের মধ্যে অভিযোগ উঠেছিল। এসব অভিযোগ যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ