০৯:৫২ পি.এম
চাঁদপুরের মতলব পৌরসভার উদ্দমদী এলাকার একটি কালভার্ট আটটি গ্রামের মানুষের জীবন বদলে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে একটি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোই ছিল তাদের চলাচলের একমাত্র ভরসা। বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টি বা পানির স্রোত বাড়লেই সেই সাঁকো আতঙ্কের প্রতীক হয়ে দাঁড়াত। প্রতিদিন জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে শিক্ষার্থী, কৃষক, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে চলাচল করতে হতো। দীর্ঘদিনের অপেক্ষা এখন শেষের দিকে, কারণ প্রায় ৭২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন কালভার্টটির কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। স্থানীয়দের আশা, যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হয়, তবে শুধু যাতায়ातের দুর্ভোগই দূর হবে না, বরং পুরো এলাকার আর্থ-সামাজিক চিত্র বদলে যাবে। আজ রবিবার (১৯ জুলাই ২০২৬) সরেজমিনে পরিদর্শনকালে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এতদিন তারা খালের ওপর বাঁশের সাঁকো দিয়েই চলাচল করতে বাধ্য ছিলেন। বর্ষাকালে খালের পানির পরিমাণ বাড়লে ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যেত। শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাওয়ায় ভোগান্তি সৃষ্টি হতো, কৃষিপণ্য বাজারে নিতে হিমশিম খেতে হতো, জরুরি রোগী পরিবহনেও সংকট দেখা দিত। অনেক সময় বিকল্প দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে যেতে হতো, ফলে সময় ও অর্থ দুয়েরই অপচয় হতো। স্থানীয় বাসিন্দা ও পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর শাহজাহান সাগর বলেন, "কালভার্ট না থাকায় এই এলাকার আটটি গ্রামের সহস্রাধিক মানুষকে দীর্ঘদিন ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। আমরা চাই, দ্রুত এর নির্মাণকাজ শেষ করা হোক।" স্থানীয়দের মতে, বহু বছর ধরে তারা জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে কালভার্ট নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। অবশেষে উদ্যোগ নেওয়ায় সেই স্বপ্ন এখন বাস্তবায়িত হতে চলেছে। নির্মাণকাজ শেষের দিকে পৌঁছানোয় এলাকায় স্বস্তি এবং আশাবাদ দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীদের মতামত হলো, কালভার্টটি চালু হলে আট গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারবেন। কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারে নিয়ে যাওয়া সহজ হবে, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত সহজ হবে, এবং জরুরি প্রয়োজনে রোগী পরিবহনেও বেশি অসুবিধা হবে না। ফলে এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকান্ডও আরও গতিশীল হবে। নির্মাণকাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার মো. জহিরুল হক জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্যে বর্ষার মাঝেও নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে কালভার্টের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে। কালভার্টটি আরও টেকসই করার লক্ষ্যে নির্ধারিত ড্রইংয়ের বাইরেও অতিরিক্ত বিমের কাজ করা হচ্ছে। মতলব পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) ফেরদৌস আহমেদ জানিয়েছেন, কালভার্ট নির্মাণকাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এখন রেলিং ও রঙের কিছু কাজ বাকি আছে। খুব শিগগিরই পুরো কাজ শেষ হলে এলাকাবাসী এর সুফল ভোগ করতে পারবেন। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী জানান, কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে। প্রায় ৭২ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পে কোনো ধরনের মানের সঙ্গে আপস করা হচ্ছে না। মতলব দক্ষিণ পৌরসভার প্রশাসক কে এম ইশমাম বলেন, কালভার্টের নির্মাণকাজ শেষ হলে ওই এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট দূর হবে। কাজটি মানসম্মত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের লক্ষ্যে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। কোনো একটা ত্রুটি দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্মাণকাজ শেষ করার উদ্দেশ্যে কালভার্টটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। তাদের বিশ্বাস, দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটিয়ে এই একটি অবকাঠামো উদমদী এলাকার আটটি গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রায় নতুন গতি আনবে এবং উন্নয়নের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন