ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দেশে সন্দেহজনক লেনদেন বেড়েছে ৭৪ শতাংশ


দেশে সন্দেহজনক লেনদেন বেড়েছে ৭৪ শতাংশ

অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের ওপর নজরদারি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে (বিএফআইইউ) জমা পড়েছে ৩০ হাজার ১৯৯টি সন্দেহজনক লেনদেন ও কার্যক্রমের (এসটিআর/এসএআর) প্রতিবেদন, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৭৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব প্রতিবেদনের ৯৫ শতাংশই এসেছে ব্যাংকখাত থেকে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে এসব তথ্য তুলে ধরে বিএফআইইউ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে জমা পড়া মোট প্রতিবেদনের মধ্যে ২০ হাজার ৫২৪টি ছিল সন্দেহজনক লেনদেনের প্রতিবেদন (এসটিআর) এবং ৯ হাজার ৬৭৫টি ছিল সন্দেহজনক কার্যক্রমের প্রতিবেদন (এসএআর)। আগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ সংখ্যা ছিল ১৭ হাজার ৩৪৫টি। ২০২০-২১ অর্থবছরে যেখানে মাত্র ৫ হাজার ২৮০টি প্রতিবেদন জমা পড়েছিল, সেখানে চার বছরের ব্যবধানে তা প্রায় ছয়গুণ বেড়েছে।

আরও পড়ুন: সরকারি কর্মচারীদের ভাতা নির্ধারণে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি

বিএফআইইউ জানায়, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধিত ২০১৫) এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ অনুযায়ী রিপোর্টিং সংস্থাগুলোকে সন্দেহজনক লেনদেন ও কার্যক্রমের তথ্য বাধ্যতামূলকভাবে বিএফআইইউতে পাঠাতে হয়। কোনো অস্বাভাবিক বা সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন শনাক্ত হলে বিলম্ব না করে তা প্রতিবেদন আকারে জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সন্দেহজনক লেনদেনের প্রতিবেদন বৃদ্ধির পেছনে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর তদারকি, আইন মেনে চলার বাধ্যবাধকতা বৃদ্ধি, উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর লেনদেন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের ঝুঁকি সম্পর্কে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সচেতনতা বৃদ্ধির ভূমিকা রয়েছে। এ ছাড়াও অনলাইন জুয়া, বাজি, বৈদেশিক মুদ্রা ও ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন এবং ডিজিটাল হুন্ডির মতো ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রমের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সন্দেহজনক লেনদেন ও কার্যক্রমের প্রতিবেদন দাখিলে ব্যাংকিং খাতই সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে মোট প্রতিবেদনের ৯১ শতাংশ, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৯২ শতাংশ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৯৫ শতাংশ এসেছে ব্যাংক থেকে।

সবশেষ অর্থবছরে ব্যাংকগুলো ২৮ হাজার ৭৫৫টি সন্দেহজনক লেনদেন ও কার্যক্রমের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ১৫ হাজার ৯৯১টি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংক খাতের প্রতিবেদন প্রায় ৮০ শতাংশ বেড়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরের ১২ হাজার ৮০৯টির তুলনায় এ সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি。

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

বিএফআইইউর মতে, ব্যাংকখাতে ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি, উন্নত লেনদেন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং নিয়ন্ত্রক নজরদারি জোরদারের ফলেই এ প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।

অন্যদিকে, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জমা দেওয়া প্রতিবেদন ১২১টি থেকে বেড়ে ২৫০টিতে পৌঁছেছে। একই সময়ে অর্থ প্রেরণকারী (মানি ট্রান্সফার) প্রতিষ্ঠানগুলোর জমা দেওয়া প্রতিবেদন ৯০০টি থেকে বেড়ে ১ হাজার ৯৫টিতে উন্নীত হয়েছে। তবে, মোট প্রতিবেদনের মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের অংশ যথাক্রমে প্রায় ১ শতাংশ এবং ৪ শতাংশ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যৌন নির্যাতন মামলায় বড় অঙ্কের জরিমানা পরিশোধ করলেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৫৫ পি.এম


যৌন নির্যাতন মামলায় বড় অঙ্কের জরিমানা পরিশোধ করলেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন এবং মানহানির মামলায় ক্ষতিপূরণের অর্থ পাওয়া গিয়েছে লেখক ও সাবেক ম্যাগাজিন কলামিস্ট ই. জিন ক্যারলের হাতে। মোট ৫৬ লাখ ২৫ হাজার ৫ ডলার ৪৮ সেন্টের এই অর্থ সুদসহ তার আইনজীবীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রায় তিন বছর আগে জুরির দেওয়া রায় অনুসারে এই অর্থের পরিশোধের প্রক্রিয়া আজ সম্পন্ন হলো।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) আদালতের নথিতে অর্থ হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বিচারক লুইস ক্যাপলানের নির্দেশে এই অর্থ ছাড় করা হয়।

এর আগে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু দেশটির সর্বোচ্চ আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করেননি। পরে পুনর্বিবেচনার আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অর্থ পরিশোধ স্থগিত রাখার চেষ্টাও করেছিলেন তিনি। তবে সেই আবেদনেরও সাড়া পাওয়া যায়নি।

আদালতে দাখিল করা নথিতে ক্যারলের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তিনি এই অর্থ অবসর জীবনের জন্য সংরক্ষণ করবেন। তবে ট্রাম্পের পুনর্বিবেচনার আবেদন চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই অর্থকে সুদবাহী একটি ব্যাংকে রাখা হবে।

এদিকে আইনি লড়াই থেকে সরে আসেননি ট্রাম্প। গত শুক্রবার তার আইনজীবীরা ফেডারেল আপিল আদালতে অর্থ হস্তান্তর স্থগিতের আবেদন করেছেন। তাদের যুক্তি, সুপ্রিম কোর্ট পুনর্বিবেচনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত অর্থ ছাড় দেওয়া উচিত নয়। এমনকি যদি অর্থ হস্তান্তর হয়ে থাকে, তবে তা আদালতের নিয়ন্ত্রণে ফেরত নেওয়ার জন্যও আবেদন জানানো হয়েছে। তবে জরুরি ভিত্তিতে অর্থ ছাড় স্থগিতের আবেদন আপিল আদালত এরই মধ্যে খারিজ করে দিয়েছে। সর্বশেষ আবেদনের বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।

বর্তমানে ৮২ বছর বয়সী ই. জিন ক্যারল পুরো অর্থই পাবেন বলেও জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা। তারা জানান, চুক্তিভিত্তিক পারিশ্রমিকে মামলাটি পরিচালনা করলেও এই ক্ষতিপূরণের অর্থ থেকে তারা কোনো আইনগত ফি নেবেন না।

এক বিবৃতিতে ক্যারলের আইনজীবী রবার্টা ক্যাপলান বলেন, তিন বছর আগে নয় সদস্যের সর্বসম্মত জুরি ট্রাম্পকে ই. জিন ক্যারলের ওপর যৌন নির্যাতন এবং পরে তাকে মানহানির দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেন। সেই রায়ের ভিত্তিতে আজ তিনি ক্ষতিপূরণের অর্থ পেয়েছেন।

ই. জিন ক্যারল ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন প্রথম নারী নন। তবে তিনিই প্রথম এই অভিযোগটি আদালতে পূর্ণাঙ্গ বিচারের জন্য নিয়ে আসেন। আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৯০ সালের দশকের মাঝাপথে নিউইয়র্কের একটি ডিপার্টমেন্ট স্টোরে ট্রাম্প তাকে যৌন নির্যাতন করেছিলেন। প্রথম বিচারে ট্রাম্প আদালতে উপস্থিত না থাকলেও তিনি জানিয়েছিলেন যে অভিযোগগুলো অস্বীকার করছেন। এছাড়া ক্যারলকে নিজের পছন্দের নারী নন বলেও দাবি করেছিলেন এবং জানিয়েছেন তিনি বই বিক্রির জন্য এসব অভিযোগ তুলেছেন। জুরি এসব বক্তব্যকে মানহানিকর বলে রায় দেন। একই সঙ্গে যৌন নির্যাতনের দায়ও প্রমাণিত হওয়ায় ক্যারলকে ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন।

পরে সিএনএনের এক টাউন হল অনুষ্ঠানে ট্রাম্প আবারও ক্যারলকে কটাক্ষ করে তাকে 'পাগল' আখ্যা দেন এবং অভিযোগকে 'সম্পূর্ণ বানানো গল্প' বলে দাবি করেন। এরপর ২০১৯ সালের মানহানি মামলায় নতুন করে এসব মন্তব্যও যুক্ত করেন ক্যারল।

দ্বিতীয় বিচারে ট্রাম্প আদালতে হাজির হন এবং অল্প সময়ের জন্য সাক্ষ্যও দেন। ওই মামলায় জুরি রায় দেয় যে ২০১৯ সালে ট্রাম্পের দেওয়া মন্তব্যগুলোও মানহানিকর ছিল। এজন্য ক্যারলকে অতিরিক্ত ৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ রায়ের বিরুদ্ধেও ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়মুক্তি (প্রেসিডেনশিয়াল ইমিউনিটি) সংক্রান্ত যুক্তি বিবেচনার জন্য চলতি মাসের শেষের দিকে তার আবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। সূত্র: সিএনএন

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাভারে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল, ১৪ জন আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৫৭ পি.এম


সাভারে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল, ১৪ জন আটক

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সাভারের এলাকায় ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতিকালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় পুলিশের হাতে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ১৪ নেতাকর্মী আটক হয়েছেন। এ ঘটনায় ৪টি হাইস গাড়ি, ৭টি মোটরসাইকেল ও একটি ব্যানার জব্দ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে সাভার উপজেলার ভাকুর্তা ইউনিয়নের ভাঙা ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ইব্রাহিম (২৩), সাগর মোল্লা (৪০), মোহাম্মদ আলী (৩৭), রাজু আহমেদ (৩২), অলিল মিয়া (৪২), রাজিব সরকার (৩১), প্রদীপ কুণ্ড (৪০), শহীদ হোসেন (৫৭), রতন রাজবংশী (৪৫), মোকসেদুর রহমান সোহাগ (১৮), হৃদয় হোসেন (২০), জীবন সাহা (২০), মোকাম্মেল হোসেন পারভেজ (৩০) ও সজীব মিয়া (২৪) রয়েছেন। পুলিশ জানায়, আওয়ামী লীগের ৩৫ থেকে ৪০ জন নেতাকর্মী ব্যানার ও লাঠিসোঁটা নিয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও ভাকুর্তা পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে মিছিলকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। এ সময় ১৪ জন আটক হলেও কয়েকজনপানি দিয়ে পালাতে সক্ষম হন। আটককৃতদের কাছ থেকে পাওয়া ৪টি হাইস মাইক্রোবাস, ৭টি মোটরসাইকেল এবং একটি ব্যানার জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আটকদের মধ্যে কিছু ব্যক্তি রেন্ট-এ-কার প্রতিষ্ঠানের চালক এবং বাকিরা আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। পুলিশ দাবি করে বলছে, গত কয়েক মাস ধরে ভাঙা ব্রিজ ও আশপাশের এলাকায় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ৮ থেকে ১০টি ঝটিকা মিছিল হয়েছে। এসব কর্মসূচির জন্য একাধিকবার ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ২০ থেকে ২৫ মিনিট যান চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য, এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধের লক্ষ্যে এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনলাইন কার্যক্রম, গুজব ছড়ানো বা বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তি কর্তৃক অর্থায়নের যে সকল তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যও অর্জন করা সম্ভব হয়নি। সাভার মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) নুর মোহাম্মদ বলেন, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এ ঘটনায় সাভার মডেল থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরের পর আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেষ মুহূর্তের ব্যর্থতায় হতাশ বিশ্বের অন্যতম সেরা আক্রমণভাগ ফ্রান্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:০০ পি.এম


শেষ মুহূর্তের ব্যর্থতায় হতাশ বিশ্বের অন্যতম সেরা আক্রমণভাগ ফ্রান্স

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার আগে ফ্রান্সকে ১৯৮২ সালের কিংবদন্তি ব্রাজিল দলের পর টুর্নামেন্টের সবচেয়ে চোখধাঁধানো আক্রমণভাগের দল হিসেবে প্রশংসা করা হচ্ছিল।

একসময় জিকো, এডার, ফ্যালকাও ও সক্রেটিসদের ব্রাজিল বুঝেছিল যে দৃষ্টিনন্দন ফুটবল সবসময় সাফল্যের নিশ্চয়তা দেয় না, তেমনি কিলিয়ান এমবাপ্পে ও তাঁর সতীর্থরাও কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হলেন।

এবারের বিশ্বকাপে ঝলমলে আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেওয়া ফ্রান্সের অভিযান অনেকটা ব্যর্থতাকে সঙ্গী করেই শেষ হলো। স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নিতে হলো তাদের। এই হার সম্ভবত কোচ দিদিয়ের দেশ্যমের উত্তরাধিকারের ওপরও ছাপ ফেলবে।

এমবাপ্পে, ওসমানে ডেম্বেলে, মাইকেল ওলিসে, ব্র্যাডলি বারকোলা এবং ডিসায়র ডুয়ের সমন্বয়ে গড়া আক্রমণভাগ সেমিফাইনালে ওঠার পথে ছয় ম্যাচে ১৬ গোল করেছিল। কিন্তু মঙ্গলবার টেক্সাসের আর্লিংটনের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে স্পেনের দুর্দান্ত নৈপুণ্যের সামনে ফ্রান্সের বহুল প্রশংসিত আক্রমণভাগ ৭৫ মিনিটেরও বেশি সময় পর্যন্ত লক্ষ্যভেদী কোনো শটই নিতে পারেনি।

ততক্ষণে স্পেন ২-০ গোলে ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে। ফ্রান্সের খেলোয়াড়রা তখন বুঝতে পারছিলেন, শক্তিশালী অস্ত্রাগার থাকলেই হয় না, সেটিকে কার্যকর করতে পর্যাপ্ত গোলাবারুদও প্রয়োজন।

স্পেনের রদ্রি, ডানি ওলমো ও ফাবিয়ান রুইজের দুর্দান্ত মিডফিল্ড ফ্রান্সের মাঝমাঠকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করে দেয়। ফলে আক্রমণভাগে বলের জোগান বন্ধ হয়ে যায় এবং ফরাসিরা নিষ্প্রভ হয়ে পড়ে।

এমবাপ্পে ম্যাচ শেষে বলেন, "মাঝমাঠে আমরা বারবার তিন বনাম দুই পরিস্থিতিতে পড়ে যাচ্ছিলাম। আর স্পেনের বিপক্ষে এটা বড় সমস্যা। সবকিছু মিলিয়েই ফলাফল এসেছে- পরাজয়। এটি ভীষণ হতাশাজনক।"

তিনি আরও বলেন, "কৌশলগতভাবে, কারিগরি দিক থেকে কিংবা সামগ্রিক পারফরম্যান্স, কোনো দিক থেকেই আমরা কাঙ্খিত ম্যাচ খেলতে পারিনি। আর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আপনি যদি নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে না পারেন, তাহলে জয় পাওয়া সম্ভব নয়।"

অন্যদিকে, ফ্রান্সের কোচ হিসেবে বিদায়ের আগে দেশ্যমকে এমন এক অভিযানের হতাশাজনক সমাপ্তি মেনে নিতে হচ্ছে, যা গত পাঁচ সপ্তাহ ধরে শিরোপা জয়ের দারুণ সম্ভাবনা তৈরি করেছিল।

২০১৮ সালে ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ জেতানো এবং ২০২২ সালে টাইব্রেকারে হেরে অল্পের জন্য আরেকটি শিরোপা হাতছাড়া করা দেশ্যমের সামনে এবারও জয় দিয়ে বিদায় নেওয়ার সুযোগ ছিল। নিউ জার্সিতে ফাইনালে ওঠার পথও অনেকটা উন্মুক্ত মনে হচ্ছিল।

তবে দেশ্যম বলেন, "ব্যক্তিগতভাবে আমি সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিচ্ছি নাকি ফাইনাল থেকে, সেটি খুব গুরুত্বপূর্ণ নয়। ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলার সময় এখন নয়। জাতীয় দলের সঙ্গে আমরা যা করেছি, তা নিয়ে আমি অত্যন্ত খুশি এবং গর্বিত।"

"খেলোয়াড় হিসেবে আমি অনেক বড় মুহূর্ত উপভোগ করেছি। আজ তেমন কোনো মুহূর্ত নয়। তবে আমাদের এটি মেনে নিতে হবে, কিন্তু এতদিনের অর্জনগুলো ভুলে গেলে চলবে না।

মঙ্গলবার ফ্রান্স জিতলে ২৭ বছর বয়সী তারকা এমবাপ্পে ১৯৯৪, ১৯৯৮ ও ২০০২ সালে ব্রাজিলের কাফুর পর ইতিহাসের মাত্র দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলার কৃতিত্ব অর্জন করতেন।

কিন্তু সেই সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড এখন ফ্রান্সকে নিয়ে শনিবার মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলতে নামবেন।

তবুও বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের সময় আশাবাদী সুর শোনা গেছে এমবাপ্পের কণ্ঠে। তাঁর বিশ্বাস, প্রতিভায় ভরপুর এই ফরাসি দল ২০২৮ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে আবারও ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভীষণ হতাশ: বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভঙ্গ হওয়ার পরে আক্ষেপ এমবাপ্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:০৪ পি.এম


ভীষণ হতাশ: বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভঙ্গ হওয়ার পরে আক্ষেপ এমবাপ্পের

বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার পর ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন। মঙ্গলবার সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে পরাজয়ের কারণ হিসেবে তিনি দলের কৌশলগত ভুলগুলোকেই দায়ী করেছেন।

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার পথ ধরে এমবাপ্পে ছিলেন টুর্নামেন্টের অন্যতম উজ্জ্বল প্রতিভা। দুর্দান্ত আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলা ফ্রান্সের হয়ে তিনি আটটি গোল করে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছিলেন।

কিন্তু এই ২৭ বছর বয়সী ফরাসি অধিনায়কের টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলার স্বপ্ন হঠাৎ করেই ভেঙে যায়। টেক্সাসের আর্লিংটনের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে পুরো ম্যাচ জুড়ে স্পেন ফ্রান্সকে ছাপিয়ে যায়।

ফরাসি টেলিভিশন চ্যানেল এম৬-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমবাপ্পে উল্লেখ করেন, এই পরাজয় পুরো দলের জন্য "ভীষণ হতাশাজনক"। তিনি বলেন, "আমি মনে করি না আমরা সেই ম্যাচটি খেলতে পারি, যেভাবে আমরা খেলতে চাইছিলাম; কৌশলগত দিক থেকে কিংবা সামগ্রিক পারফরমেন্সের দিক থেকেও নয়।"

এই ফরোয়ার্ড আরও বলেন, "বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আপনি যদি নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে না পারেন, তাহলে জয় পাওয়া সম্ভব নয়।"

ফ্রান্সের ম্যাচ পরিকল্পনা সম্পর্কে এমবাপ্পে বলেন, "আমাদের লক্ষ্য ছিল তাদের ওপরের দিকে চাপ সৃষ্টি করা, যাতে তারা নিজেদের ধীর, নিয়ন্ত্রিত ছন্দে খেলতে না পারে। কারণ ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে তারা আমাদের চেয়ে ভালো। কিন্তু আমরা সেটি করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছি।"

তিনি মনে করেন, ম্যাচের মূল পার্থক্যটি হয়েছিল মাঝমাঠের লড়াইয়ে। ফ্রান্সের আদ্রিয়ান রাবোয়িত ও অরেলিয়ান টিচুয়ামেনির জুটি স্পেনের রদ্রি, ডানি ওলমো এবং ফাবিয়ান রুইজের বিপক্ষে শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায়।

এমবাপ্পে বলেন, "মাঝমাঠে আমরা বারবার তিন বনাম দুই পরিস্থিতিতে পড়ে যাচ্ছিলাম। আর স্পেনের বিপক্ষে এটা বড় সমস্যা। সবকিছু মিলিয়েই ফলাফল এসেছে - পরাজয়। এটি সত্যি ভীষণ হতাশাজনক।"

তবে, এমবাপ্পে এই পরাজয় থেকে শিক্ষা নিয়ে আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, "আমাদের স্বপ্ন ছিল ফাইনালে ওঠা, দেশের মানুষকে স্বপ্ন দেখার সুযোগ দেওয়া এবং ইতিহাস গড়া। এখন আমাদের মাথা উঁচু রেখেই এই বাস্তবতাকে মেনে নিতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, জিতলে যেমন মাথা উঁচু করে জিততে হয়, হারলেও তেমনি মাথা উঁচু রেখেই হারতে হয়।"

তিনি আরও যোগ করেন, "কিন্তু এই মুহূর্তে আমরা ভীষণ হতাশ। আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না, আমি এবং পুরো দল কতটা হতাশ। তবুও বিষয়টি যতই হতাশার মনে হোক না কেন, আমাদের আবার উঠে দাঁড়াতে হবে। কিছুদিন বিশ্রাম নিতে হবে, তারপর নতুন অধ্যায় শুরু করতে হবে। কারণ ফুটবল কারও জন্য অপেক্ষা করে না। আমাদের নতুন করে শুরু করতে হবে, এই ব্যর্থতাকে পেছনে ফেলে সেখান থেকে শিক্ষা নিতে হবে।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%