সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:২০ পি.এম
শিল্পকারখানায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে পেরে আশাবাদী হয়েছেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা। তারা মনে করছেন, সরকারের পক্ষ থেকে পাঁচটি ভাসমান এবং একটি স্থায়ী স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের মতো ইতিবাচক পদক্ষেপের ফলে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন খাতের স্থবিরতা দূর হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রথম সারির ২১টি ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।
বৈঠকে অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিল্প উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটছিল। ফলে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা বজায় রাখা এবং সময়মতো রপ্তানি অর্ডার সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ছিল। প্রধানমন্ত্রী তাদের কথা শুনেছেন এবং দ্রুত সমাধানসহ দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট পথরেখা তুলে ধরেছেন।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সরকার সাময়িক সমাধানের দিকে নজর না দিয়ে ভবিষ্যতে অতিরিক্ত চাহিদা পূরণে অবকাঠামো তৈরির যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আত্মবিশ্বাস জোগাবে। পুঞ্জীভূত সমস্যা সমাধানে সরকারের এমন স্পষ্ট ও দূরদর্শী অবস্থানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন শিল্পমালিকেরা।
বৈঠকে শিল্প উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে নীতিগত সব ধরনের সহায়তার পাশাপাশি জ্বালানি সংকট কাটাতে ধাপে ধাপে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই আশ্বাসে দেশের অর্থনীতি ও শিল্প খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে প্রত্যাশা করছেন দেশের তরুণ ও প্রবীণ উদ্যোক্তারা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গোপালগঞ্জে তিন দিন নিখোঁজ থাকার পর এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সদর উপজেলার সাতপাড় বেদভিটা গ্রাম থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত পরী হাজরা (৬৫) ছিলেন ওই গ্রামের তুলশি হাজরার স্ত্রী।
তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে নিখোঁজ ছিলেন পরী হাজরা। আজ সকালে বাড়ির উঠানের সামনে সবজি ক্ষেতের মধ্যে উপুড় হয়ে তার মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে বাড়ির লোকজন পুলিশে ফোন করেন।
পুলিশ পরে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নিহতের ছেলে মৃণাল হাজরা জানান, তিন দিন ধরে তার মা নিখোঁজ ছিলেন। সকালে ক্ষেতের পাশ থেকে দুর্গন্ধ বের হলে তিনি এগিয়ে গিয়ে মায়ের মরদেহ দেখতে পান। তিনি বলেন, "কে বা কারা আমার মাকে হত্যা করে এখানে ফেলে গেছে। মায়ের কান ও নাকে স্বর্ণালংকার ছিল, তাকে মেরে সবকিছু লুট করে নিয়ে গেছে।"
গোপালগঞ্জ সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সিরাজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার সময় ঘনিয়ে আসছে। তবে দলের জন্য একটি দুঃসংবাদ এসেছে। জাতীয় দলের ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষ হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে ফিফা আসিয়ান কাপ থেকে বাদ পড়েছেন।
ফিফা আসিয়ান কাপ আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়া ও হংকংয়ে অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ দলের উদ্দেশ্যে ১৯ সেপ্টেম্বর ইন্দোনেশিয়া ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই লক্ষ্যে বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় অনুশীলন করছিলেন বিশ্বনাথ। তিনি প্রাথমিক স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
তবে অনুশীলনের সময় হঠাৎ করে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে আক্রান্ত হন এই ডিফেন্ডার। এর ফলে আসন্ন টুর্নামেন্টে তার অংশগ্রহণ সম্ভব হচ্ছে না। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) চোট নিয়ে জাতীয় দলের টিম হোটেল ত্যাগ করেছেন বিশ্বনাথ, এবং তিনি নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হ্যামস্ট্রিংয়ের এই ধরনের চোট থেকে পুরোপুরি সেরে উঠতে সাধারণত চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ সময় লাগে। এ কারণে আসিয়ান কাপে মাঠে ফেরার সম্ভাবনা নেই বিশ্বনাথের।
তবে তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে জাতীয় দলে ফেরার লক্ষ্যে কাজ করছেন। যদি সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চলে, তাহলে আগামী নভেম্বরে দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে আবারও জাতীয় দলের জার্সিতে দেখা যেতে পারে বসুন্ধরা কিংসের এই ডিফেন্ডারকে।
এর আগে, চোটের কারণে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের পর দীর্ঘ সময় জাতীয় দলের বাইরে ছিলেন বিশ্বনাথ। দীর্ঘ অপেক্ষার পর চলতি বছরের মার্চে তিনি আবারও জাতীয় দলে ফিরেছিলেন। কিন্তু দলে ফেরার কয়েক মাসের মধ্যেই নতুন করে চোটের কবলে পড়লেন এই ডিফেন্ডার।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিমন্স বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ফুল-ফ্রি স্কলারশিপ প্রদান করছে। কোটজেন স্কলারশিপের আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের এই স্কলারশিপ দেওয়া হবে।
বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা এই স্কলারশিপের জন্য আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
কোটজেন স্কলারশিপের মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল দক্ষতা উন্নয়ন করা। সিমন্স ইউনিভার্সিটি ১৮৯৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত হয়। জন সিমন্স নামক পোশাক প্রস্তুতকারক এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১৮ সালে এটি কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়।
সুযোগ-সুবিধাসমূহ
• সম্পূর্ণ টিউশন ফি প্রদান করা হবে।
• বিনামূল্যে একটি রুম সুবিধা দেওয়া হবে।
• ৩ হাজার ডলার উপবৃত্তি প্রদান করা হবে।
• স্কলারশিপের মেয়াদ ৪ বছর।
আবেদনের যোগ্যতা
• উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় পাশ হতে হবে।
• একাডেমিক ফলাফল সন্তোষজনক হতে হবে।
• মেধার ভিত্তিতে এই স্কলারশিপ প্রদান করা হবে, যার জন্য ন্যূনতম ৩.৩ সিজিপিএ বজায় রাখতে হবে।
• আইইএলটিএস এবং টোয়েফল স্কোর জমা দিতে হবে।
আবেদনের শেষ সময়: ১ ডিসেম্বর, ২০২৬।
আবেদনের প্রক্রিয়া: আবেদন করতে হবে অনলাইনে। আবেদন করতে বিস্তারিত জানুন এখানে ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভারত ও মিয়ানমার থেকে আমদানি করা ইলিশ বর্তমানে দেশের বাজারে উচ্চ মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। আমদানিকারকদের হিসাব অনুযায়ী, ভারত থেকে আমদানি করা ইলিশের কেজির মোট খরচ প্রায় ৫১৪ টাকা। কিন্তু বেনাপোলের বাজারে এই ইলিশের দাম ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা কেজি পর্যন্ত উঠেছে।
অভিযোগ উঠেছে যে, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ভারত ও মিয়ানমার থেকে আসা ইলিশকে পদ্মা, চাঁদপুর, বরিশাল বা দেশের অন্যান্য অঞ্চলের ইলিশ হিসেবে বিক্রি করছেন। এর ফলে ক্রেতারা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।
কাস্টমস ও ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৭ কেজি ইলিশ আমদানি করা হয়েছে। জুলাই মাসে ২৯ হাজার ৪৪০ কেজি এবং আগস্ট মাসে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৬ কেজি ইলিশ আমদানি হয়েছে।
এই দুই মাসে আমদানি করা ইলিশের মোট মূল্য ৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা হিসেবে দেখানো হয়েছে। জুলাইয়ে আমদানি মূল্য ছিল ৩৫ লাখ ৪৮ হাজার ৭৯৬ টাকা এবং আগস্টে ৬ কোটি ৫৭ লাখ ৪৫ হাজার ৭১৪ টাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ফেমাস ট্রেডার্স, সততা ফিস ফিড, শরীফ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, স্বর্ণালী ইন্টারন্যাশনাল, রাব্বি এন্টারপ্রাইজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এসব ইলিশ আমদানি করেছে।
আমদানিকারকদের তথ্য অনুযায়ী, এলসির মাধ্যমে ভারত থেকে আমদানি করা ইলিশের কেজির মূল্য প্রায় ২৫২ টাকা। সরকারি শুল্ক ১৬২ টাকা এবং অন্যান্য খরচ যোগ করলে কেজিপ্রতি মোট খরচ প্রায় ৫১৪ টাকা দাঁড়ায়। কিন্তু বাজারে সেই মাছের দাম প্রায় তিন গুণ বেশি।
ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, ভারত ও মিয়ানমার থেকে আসা ইলিশ দেখতে দেশি ইলিশের মতো হওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের পক্ষে পার্থক্য বোঝা কঠিন। রান্নার পর স্বাদ ও গন্ধে পার্থক্য বোঝা যায় বলে অনেক ক্রেতা দাবি করছেন।
বেনাপোল স্থলবন্দর ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কার্যালয়ের পরিদর্শক আশওয়াদুল আলম জানিয়েছেন, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৭ কেজি ইলিশ আমদানি হয়েছে। এসব মাছ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কোয়ারেন্টাইন সার্টিফিকেট দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আসা ইলিশ ভারতীয়। অন্যদিকে, মিয়ানমার থেকে আমদানি করা ইলিশ সাধারণত চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ করে।
এদিকে, গত ২২ জুলাই বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে সাদা মাছের ঘোষণা দিয়ে আমদানি করা ১২ কার্টনে প্রায় ৩৬০ কেজি ভারতীয় ইলিশ জব্দ করে বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
ক্রেতা রেজা জানিয়েছেন, তিনি দেশি ইলিশ মনে করে একটি মাছ কিনেছিলেন। পরে রান্না করে খাওয়ার পর স্বাদ ও গন্ধে পার্থক্য বুঝতে পারেন। তার মতে, দেখতে একই রকম হওয়ায় বিদেশি ও দেশি ইলিশ আলাদা করা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য কঠিন।
আরেক ক্রেতা মিশুর অভিযোগ, কখনও চাঁদপুর, কখনও বরিশাল কিংবা চট্টগ্রামের ইলিশের পরিচয়ে বিদেশি মাছ বিক্রি করা হচ্ছে। এভাবে চড়া দামে মাছ বিক্রি করে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে।
বাজারের ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১ কেজি ২০০ থেকে ১ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের দেশি ইলিশ প্রতি কেজি ৩ হাজার ৩০০ থেকে ৩ হাজার ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। একই আকারের কথিত ভারতীয় ও মিয়ানমারের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা কেজি দরে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, কম দামে বড় আকারের বিদেশি ইলিশ বাজারে আসায় দেশি ইলিশের বিক্রি কমেছে। এর ফলে দেশি ইলিশ ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
আমদানিকারকদের কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, তারা সরকারি নিয়ম মেনে এলসির মাধ্যমে ভারত থেকে ইলিশ আমদানি করেছেন এবং শুল্ক পরিশোধ করেছেন। আমদানির পর আড়তদারদের কাছে মাছ বিক্রি করেন তারা। এরপর বাজারে কীভাবে মাছ বিক্রি হচ্ছে, সেটি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।
ক্রেতাদের দাবি, বিদেশি ইলিশকে দেশি ইলিশের নামে বিক্রি ঠেকাতে বাজারে নিয়মিত নজরদারি বাড়াতে হবে। পাশাপাশি মাছের প্রকৃত উৎস ও আমদানির বৈধতা যাচাই করে প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ