০৯:৪১ পি.এম
নওগাঁর মান্দা উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের চকরঘুনাথ মধ্যপাড়া গ্রামে ২৫ বছর বয়সী এক শারীরিক প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, অভিযুক্ত যুবকের নাম শাহীন, যিনি ৩০ বছর বয়সী।
মামলা নিষ্পত্তির চেষ্টা করার অভিযোগ রয়েছে যে, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ও মাতব্বর সালিশ-বৈঠকের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে আপস-মীমাংসার চেষ্টা করেছেন। এছাড়া ভুক্তভোগী পরিবারকে আইনি ব্যবস্থা নিতে নিরুৎসাহিত করেছেন।
শাহীন উপজেলার চকমানিক গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে, তিনি বিবাহিত এবং এক সন্তানের জনক। ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে চকরঘুনাথ বাজারে মামার বাড়িতে বিয়ের দাওয়াত শেষে নিজের বাড়িতে ফিরছিলেন ওই তরুণী।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
পথে দুপুর ১টার দিকে পুকুরপাড় সংলগ্ন একটি নির্জন জঙ্গলে শাহীন তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে তিনি কোন কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারছিলেন না। পরে বাড়িতে ফিরে ইশারা ও ভাঙা-ভাঙা অস্পষ্ট কথার মাধ্যমে মায়ের কাছে পুরো ঘটনার বিবরণ দেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ঘটনার পর বিষয়টি স্থানীয় প্রভাবশালী নাগরিক মো. কালাম, আহাম্মদ এবং শিক্ষক আফজালসহ কয়েকজনকে জানানো হলে তারা থানায় মামলা না করার জন্য চাপ দেন। আইনি ব্যবস্থা নিলেও উল্টো আর্থিক ক্ষতির ভয়ভীতিও দেখানো হয়। পরবর্তী সময়ে বুধবার আহাম্মদের বাড়িতে বিকেলে সালিশ-বৈঠক বসিয়ে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে তারা ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
ভুক্তভোগীর মা রোজিনা আক্ষেপ করে বলেন, আমার মেয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধী, সে নিজে হাঁটতেই পারে না। আমি কোনো টাকা-পয়সা চাইনি, আমি সুষ্ঠু বিচার চেয়েছিলাম। কিন্তু মাতব্বররা ভয় দেখিয়ে ও প্রলোভন দিয়ে আমাদের থানায় যেতে দেয়নি। আমি এখন আইনগত লোকজনের কাছে সুষ্ঠু বিচার চাই।
ভুক্তভোগীর দাদি মোছা. আতরজান বলেন, শনিবার মামার বাড়ি থেকে ফেরার সময় শাহীন আমার নাতনিকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে মাতব্বররা ৫০ হাজার টাকায় কাগজে সই করিয়ে আপসের চেষ্টা করে। তবে এই আপসে আমরা রাজি ছিলাম না, আমরা সঠিক বিচার চাই।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, আমরা শুনেছি বিষয়টি গোপনে আপস করার চেষ্টা করা হয়েছে। ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধ সালিশে মীমাংসা করার চেষ্টা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা চাই এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হোক।
অভিযুক্ত মো. শাহিনের বাড়িতে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তার স্ত্রী জানায়, ঘটনার পর থেকেই স্বামী বাড়িতে নেই এবং মোবাইল ফোনটিও তার কাছে নেই।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত শিক্ষক আফজাল সালিশ ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, মেয়ের বাবা-মা আমাদের কাছে এসেছিল। কিন্তু আমরা কোনো সালিশ বা টাকা লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত নই।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রভাবশালী মো. কালাম ও আহাম্মদও একই রকম বক্তব্য দিয়েছেন এবং টাকা-পয়সা বা স্ট্যাম্পে সই নেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেছেন, ভুক্তভোগী পরিবার যদি আইনগত ব্যবস্থা নেয়, তবে তাদের কোনো আপত্তি নেই।
আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম জানান, আমার কাছে তো কোনো অভিযোগ নেই। আমি সাংবাদিকের নিউজ পেয়ে অফিসার পাঠাচ্ছি। যদি সত্যতা থাকে তবে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন