বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:০৪ পি.এম
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিজ্ঞান জাদুঘরের সামনে একটি প্রাইভেটকারের ধাক্কায় এক শিশুর মৃত্যু ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টারে (ওসেক) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।
নিহত জিসান (৪) ভোলার লালমোহন উপজেলার গুদিরপুর গ্রামের ব্যবসায়ী আলী আকবরের পুত্র। সে দুই ভাইয়ের মধ্যে বড় ছিল।
নিহতের বাবা আলী আকবর জানিয়েছেন, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টার দিকে পশ্চিম আগারগাঁওয়ে বাসার পাশে বিজ্ঞান জাদুঘরের সামনে খেলা করার সময় আইল্যান্ড থেকে রাস্তায় নামার সঙ্গে সঙ্গে একটি প্রাইভেটকার তাকে ধাক্কা দেয়। এ ঘটনায় সে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়।
তৎক্ষণাৎ তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নিউরো সায়েন্স ইনস্টিটিউট এবং পরে ঢামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ ভোরে তার মৃত্যু ঘটে।
এ বিষয়ে নিশ্চিত করে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাড়ির উপপরিদর্শক এসআই মো. সেলিম হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, শিশুর মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি শেরে বাংলা নগর থানাকে জানানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে রুপসা বাসের ধাক্কায় নিহত হয়েছেন আব্দুস সামাদ (৪৫) নামে এক মোটরসাইকেলচালক।
নিহত আব্দুস সামাদ বুজরুকমুন্দিয়া গ্রামের মৃত আবু বক্কর বিশ্বাসের পুত্র এবং কালীগঞ্জ পৌরসভার কসাইখানা পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে কুষ্টিয়াগামী রুপসা বাসটি দ্রুতগতিতে চলছিল। বাসটি কালীগঞ্জ উপজেলা সাব রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে পৌরসভার কসাইখানা পরিদর্শক আব্দুস সামাদের মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়, ফলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। এ সময় আরেকজন আহত হন, তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আহত ব্যক্তির পরিচয় জানা যায়নি।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক রেজওনা নাহিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "খবর শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি আমার পৌরসভায় কর্মরত আব্দুস সামাদ মারা গেছেন। আহত ব্যক্তিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। পরে জানতে পেরেছি আহত ব্যক্তি আশংকামুক্ত। তবে তার পরিচয় আমার জানা নেই।"
কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী জানান, বাসটি আটক করা হয়েছে এবং মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁ সদর উপজেলার ফতেপুর (১ম) উচ্চ বিদ্যালয়ের আয়া শেফালি বেগম অবসরে গেছেন ৩০ সেপ্টেম্বর, দীর্ঘ ৩৪ বছরের একনিষ্ঠ ও নিঃস্বার্থ সেবা শেষে। বিদ্যালয় চত্বরে তৈরি হয়েছিল এক অভূতপূর্ব ও আবেগঘন পরিবেশ, যা সাধারণত কোনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিদায়লগ্নেও দেখা যায় না। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অশ্রুসিক্ত ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে তিনি রাজকীয় এক ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে নিজের বাড়িতে ফিরে যান।
শেফালি বেগম ব্যক্তিগত জীবনে অবিবাহিত ছিলেন এবং তার কোনো সংসার বা সন্তান ছিল না। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও শিক্ষার্থীরাই তার আপন পরিবার ছিল। তিনি দীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে দাপ্তরিক ও সেবামূলক দায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষার্থীদের টিফিনের খোঁজ নেওয়া, মায়ায় জড়িয়ে তাদের ভুলত্রুটি শুধরে দেওয়া এবং অসুস্থ হলে মায়ের মতো পরম যত্নে সেবা করার কারণে তিনি ‘শেফালি খালা’ নামে পরিচিত ছিলেন। শিক্ষকদের কাজের চাপ কিংবা নিজের ক্লান্তি— কিছুই তার সেবামূলক মানসিকতায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।
শেফালি বেগমের অবসরের দিনে বিদ্যালয়ে শোকাতুর ও শ্রদ্ধাবনত পরিবেশ সৃষ্টি হয়। তাঁর এই ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক বর্ণাঢ্য বিদায়ি সংবর্ধনার আয়োজন করে। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও নওগাঁ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নূর-ই আলম মিঠুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধান শিক্ষক সাজ্জাদুল ইসলাম, পরিচালনা কমিটির সদস্য লিটন হোসেনসহ অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠানে শ্রদ্ধার স্মারক হিসেবে শেফালি বেগমের হাতে সংবর্ধনা উত্তরীয়, নগদ অর্থ ও বিভিন্ন উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
বিদায়ি বক্তৃতায় পরিচালনা কমিটির সভাপতি নূর-ই-আলম মিঠু বলেন, "শেফালি বেগম আমাদের বিদ্যালয়ের শুধু একজন কর্মচারী ছিলেন না, তিনি ছিলেন এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম এক স্তম্ভ। পদের দিক থেকে কেউ বড় বা ছোট হতে পারে, কিন্তু তার কর্তব্যপরায়ণতা এবং মমত্ববোধ আমাদের সবার চেয়ে অনেক উঁচুতে। তার এই নিঃস্বার্থ সেবার ঋণ বিদ্যালয় কোনোদিন শোধ করতে পারবে না।"
অনুষ্ঠানের শেষে বিদায়ের মুহূর্তে এক মানবিক ও চোখ জুড়ানো দৃশ্য তৈরি হয়। প্রথা ভেঙে শেফালিকে অত্যন্ত মর্যাদা ও ভালোবাসার সঙ্গে একটি সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। এ সময় শত শত শিক্ষার্থী তার পথজুড়ে ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে সম্মান জানান। বিদায়ের এই ক্ষণে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কান্না এবং ভালোবাসায় এক অবিস্মরণীয় ও আবেগাপ্লুত দৃশ্যের অবতারণা হয়।
ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের এই অনন্য উদ্যোগটি সমাজে একটি বড় বার্তা দিয়ে গেল—কাজের ছোট-বড় দিয়ে মানুষের প্রকৃত মূল্যায়ন হয় না। সততা, নিষ্ঠা ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসা দিয়ে মানুষের হৃদয় জয় করতে পারলে প্রাতিষ্ঠানিক পদের গণ্ডি পেরিয়েও এমন রাজকীয় সম্মান পাওয়া সম্ভব। ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ইতিহাসে শেফালি বেগম চিরকাল মায়াবী এক মায়ের প্রতিচ্ছবি এবং এক সুমহান অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে থাকবেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফ মন্তব্য করেছেন যে, নিষিদ্ধ লীগ ও জামায়াতের গুপ্তরা বিভিন্ন উপায়ে সরকারকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে।
তিনি বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে ফেসবুকে একটি পোস্টের মাধ্যমে এ কথা জানান।
আবু হানিফ উল্লেখ করেছেন, ‘বর্তমান সরকার দায়িত্ব নিয়েছে প্রায় ৮ মাস হলো। দেশের মানুষ দীর্ঘ সময় পর নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মধ্য দিয়ে একটা গণতান্ত্রিক সরকার গঠন করেছে, ফলে এই সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার জনগণের প্রত্যাশার বিষয়টি মাথায় রেখে দেশের অভ্যন্তরের ও বৈশ্বিক সংকটের মাঝেও চেষ্টা করে যাচ্ছে দেশকে এগিয়ে নিতে। কিন্তু জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পরাজিত শক্তি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সবচেয়ে বেশি সুবিধাভোগী জামায়াত-এনসিপি সমন্বিতভাবে সরকারের বিরুদ্ধে অপতথ্য ছড়িয়ে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে।’
সবশেষে, গণঅধিকার পরিষদের এই মুখপাত্র লিখেছেন, ‘শুধু তাই নয়, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা নিষিদ্ধ লীগ ও জামায়াতের গুপ্তরা নানাভাবে সরকারকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। ফলে ভেতরে-বাইরে নানামুখী ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে দেশের জন্য ভালো কিছু করা এই সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সামান্য বৃষ্টির কারণে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ পানিতে তলিয়ে যায়। বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার পরও মাঠজুড়ে কয়েক মাস ধরে পানি জমে থাকে। বছরের প্রায় ছয় মাস মাঠটি পানির নিচে থাকায় শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা ও শরীরচর্চার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে যাতায়াত ও স্বাভাবিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের।
এমন পরিস্থিতি দেখা গেছে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের ১২৫ নম্বর চন্দ্রপাড়া সর্দার ডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
বিদ্যালয়ের মোট জমির পরিমাণ ৩৩ শতাংশ বলে জানা গেছে। এর মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ জমি মাটি বা বালু দিয়ে ভরাট করা প্রয়োজন। মাঠটি নিচু হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন অংশে পানি জমে যায়। বর্ষা মৌসুমে এবং মৌসুম শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘদিন পানি আটকে থাকায় মাঠটি কার্যত ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও শরীরচর্চার সুযোগ ব্যাহত হচ্ছে, পাশাপাশি বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও বিঘ্ন ঘটছে।
দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকার কারণে মাঠে মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে বিদ্যালয়ে যাতায়াতেও ভোগান্তি হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই সমস্যার কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে গেছে। একসময় বিদ্যালয়ে প্রায় ১৮০ জন শিক্ষার্থী ছিল, বর্তমানে সেই সংখ্যা ১১৫ জনে নেমে এসেছে।
বিদ্যালয়ের মাঠের জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মাঠটি মাটি দিয়ে ভরাট করে উঁচু করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। এতে জলাবদ্ধতা দূর হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ চলাচল, খেলাধুলা ও স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমের পরিবেশ ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুক্তাহিদা বেগম বলেন, "মাঠটি নিচু হওয়ায় হালকা বৃষ্টিতেই পানি জমে যায়। বর্ষা মৌসুমে দীর্ঘ সময় মাঠ পানির নিচে থাকে। এতে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া, খেলাধুলা ও স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। মাঠটি মাটি দিয়ে ভরাট করা হলে শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক উপকার হবে।"
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মামুনুর রহমান জানান, এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন তাকে আশ্বস্ত করেছে। শিগগিরই বিদ্যালয়ের মাঠটি মাটি দিয়ে ভরাট করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন বলেন, "জলাবদ্ধতার কারণে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে— বিষয়টি আমি অবগত আছি। সামর্থ্যের মধ্যে থেকে শিক্ষার্থীদের চলাচলের জন্য কোনো ব্যবস্থা করা যায় কি না, সে চেষ্টা করা হবে।"
স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের মাঠে জলাবদ্ধতার সমস্যা থাকলেও এর স্থায়ী সমাধান হয়নি। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় মাটি দিয়ে মাঠটি উঁচু করা হলে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ চলাচল ও খেলাধুলার পরিবেশ ফিরে আসবে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমও বাড়বে বলে আশা তাদের।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ