ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পুকুরে ডুবতে থাকা শিক্ষার্থী উদ্ধার


ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পুকুরে ডুবতে থাকা শিক্ষার্থী উদ্ধার

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পুকুর থেকে এক শিক্ষার্থীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হল সংলগ্ন পুকুরে এ ঘটনা ঘটে। ডুবে যাওয়া শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইয়াসীর আরাফাত সাজ্জাদ।

জানা গেছে, বৃষ্টিতে ভিজে দুই বন্ধু (ইউসুফ আর সাজ্জাদ) পুকুরে যায়। দুই জনের সিদ্ধান্ত হয় সাঁতার কেটে পুকুরটি পার হবে। যথারীতি সাঁতার শুরু করলে মাঝপথে ডুবে যায় এক বন্ধু (সাজ্জাদ)। আরেক বন্ধু (ইউসুফ) কোনো মতে অপর পাড়ে গিয়ে দেখে সাজ্জাদ ডুবে যাচ্ছিল। তখন চিৎকার করলে ঘটনাস্থলের কয়েকজন মিলে উদ্ধার করে মেডিকেলে নিয়ে যায়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী ইউসুফ বলেন, "আমি আর ও সাঁতার কেটে পার হওয়ার জন্য একসাথে পানিতে নেমেছিলাম। আমি ওকে আগেই সতর্ক করেছিলাম, কিন্তু পানিতে নামার পর ও পিছিয়ে পড়ে আর আমি অর্ধেক পথ যেতেই প্রচণ্ড হাঁপিয়ে যাই। কোনোমতে শ্বাস নিয়ে ভেসে ভেসে অন্য পাড়ের কাছাকাছি পৌঁছালেও পায়ে দেওয়ার মতো কোনো মাটি পাচ্ছিলাম না। এমন সময় ও পিছন থেকে ডেকে বলল, ‘ইউসুফ, আমি পারতেছি না, আমাকে একটু নিয়ে যাও।’"

"ওর ডাক শুনে আমি প্যানিক হয়ে যাই এবং ওকে বাঁচাতে পিছনে ফিরতে গিয়ে আমার মুখে পানি ঢুকে যায়। আর না পেরে বাধ্য হয়ে আমি পাড়ে ফিরে আসি এবং চিৎকার করে সবাইকে ওকে বাঁচাতে বলি। পাড়ের একজন ওকে ধরতে যাওয়ার আগেই চোখের সামনে ও পানিতে ডুবে যায়; আমি দিশেহারা হয়ে হাতের কাছে কিছু না পেয়ে নিজের শার্টটা খুলে ওকে উদ্ধারের শেষ একটা চেষ্টা চালাই। পরে পাড়ের শিক্ষার্থীরা এসে ওকে উদ্ধার করেন।"

ইবি মেডিকেল সেন্টারের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. জাকিয়া বলেন, "ওই শিক্ষার্থীকে এখানে আনা হয় অচেতন অবস্থায়। পরে আমরা পেটে চাপ দিয়ে পানি বের করি। তারপর অক্সিজেন দিলাম। এখন মোটামুটি একটু ভালো আগের চেয়ে। আমরা প্রাইমারি ট্রিটমেন্ট দিয়ে দিয়েছি। ভেতরের ফুসফুসের পানি বের করার ইন্সট্রুমেন্ট তো আমাদের এখানে ওরকম ব্যবস্থা নাই। এখন শ্বাসকষ্ট হচ্ছে দেখে অ্যাম্বুলেন্সে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।"

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, "আমি সদরে শিক্ষার্থীর সাথে আছি। ডাক্তার পালস ও অক্সিজেন চেক করেছে। এখন মেডিসিন দেওয়া হয়েছে সাথে ২৪ ঘণ্টা অবজারভেশনে রাখা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের পুকুরে নামার বিষয় আরও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়া বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্তের পথে, খুলছে সম্ভাবনার নতুন দ্বার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৪৯ পি.এম


বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়া বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্তের পথে, খুলছে সম্ভাবনার নতুন দ্বার

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর লক্ষ্যে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ) স্বাক্ষরের চূড়ান্ত পর্যায়ের দিকে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে সিইপিএ নিয়ে চূড়ান্ত দফার আলোচনা করতে দক্ষিণ কোরিয়া সফর করছে বাংলাদেশের একটি বাণিজ্যিক প্রতিনিধিদল। পাশাপাশি, দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী কিম জং-ক্বানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এই চুক্তি আগামী ৪ আগস্ট সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বুধবার (২৯ জুলাই), বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে এসব তথ্য।

এর আগে, মঙ্গলবার, বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে টেলিফোনে দক্ষিণ কোরিয়ার বর্তমান বাণিজ্য, শিল্প ও সম্পদ মন্ত্রী কিম জং-ক্বান সিইপিএ চুক্তির বিষয়ে আলোচনা করেন। দুই দেশের মধ্যে এই আলোচনা ইতিবাচক ছিল।

জানা গেছে, সিইপিএ চুক্তির অধীনে দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি হওয়া বিভিন্ন পণ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বেশ কিছু সুবিধা পাবে, যার মধ্যে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার অন্তর্ভুক্ত। ইতোমধ্যে, দুই দেশ চারটি বিষয়ে চুক্তির জন্য একমত হয়েছে, বাকি আট বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনা চলছে।

এই চুক্তিতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ, পাটপণ্যসহ বিভিন্ন রপ্তানি পণ্যের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার লাভ করা হবে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পরেও এ সুবিধা চলমান থাকবে, এবং কিছু পণ্যকে রুলস অব অরিজিনের আওতায় রাখা হবে।

সেইসঙ্গে আইটি, প্রকৌশল ও অন্যান্য সেবা খাতে বাজারে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তিগত সহায়তা, বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শুল্কায়ন প্রক্রিয়া সহজীকরণ, পণ্য দ্রুত ছাড়, ডিজিটাল কাস্টমস ব্যবস্থা, বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ (ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপারটি) পেটেন্ট, ট্রেডমার্ক ও কপিরাইট সুরক্ষার বিষয়গুলোও আলোচনা হচ্ছে।

এছাড়াও, এই চুক্তিতে প্রযুক্তি হস্তান্তর, শিল্প উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, অবকাঠামো সহযোগিতার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া তথ্যমতে, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ভিন্নভাবে তুলনামূলক ছোট হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটি ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে আসছে। দুই দেশের মোট দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রায় এক দশমিক ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি হয় প্রায় ৪৯১ দশমিক ৭৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। বিপরীতভাবে, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বাংলাদেশে আমদানি হয় প্রায় ৯০২ দশমিক ৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য।

অর্থাৎ, বাংলাদেশ প্রায় ৪১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি বাণিজ্য ঘাটতির সম্মুখীন।

দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে বাংলাদেশের প্রাধান্যগুণ সম্পন্ন রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক (নিট ও ওভেন), হোম টেক্সটাইল, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, জুতা, ওষুধ, পাট ও পাটজাত পণ্য, হিমায়িত খাদ্য এবং সিরামিক পণ্য। বিপরীতে, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বাংলাদেশে আমদানি করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে লোহা ও ইস্পাত, যন্ত্রপাতি ও শিল্প মেশিনারি, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, প্লাস্টিক ও প্লাস্টিকজাত পণ্য, রাসায়নিক পদার্থ, কাগজ ও কাগজজাত পণ্য।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘নগদ’ বিক্রির বিষয়ে মন্ত্রীর বক্তব্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৫১ পি.এম


‘নগদ’ বিক্রির বিষয়ে মন্ত্রীর বক্তব্য

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, ‘নগদ’ বিক্রি নিয়ে যেসব খবর ছড়ানো হচ্ছে, সেগুলো ভিত্তিহীন।

মন্ত্রী বলেছেন, ডাক বিভাগকে আরও জনপ্রিয় করার উদ্যোগ চলমান রয়েছে। ‘নগদ’ বিক্রি নিয়ে এখন যে গুজব বা রিউমার ছড়ানো হচ্ছে, সেগুলো ভিত্তিহীন। এই ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হবেন না জনগণ। বাজার প্রতিযোগিতার জন্য এই ফিন্যান্সিয়াল প্রতিষ্ঠানটির সরকারি ব্যবস্থাপনা অব্যাহত থাকবে।

মন্ত্রী বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ডাক ভবনে ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিসের উদ্বোধন এবং নগদের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংগৃহীত রাজস্ব থেকে ১৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ডাক অধিদপ্তরের কাছে আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

ফকির মাহবুব আনাম আরও বলেন, পোস্ট অফিস ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থা নতুন কোনো ধারণা নয়। এটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বহু বছর ধরে সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশেও এই উদ্যোগের মাধ্যমে ডাকসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে। জনগণ ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিসের সুবিধা সম্পর্কে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে। যাতে আরও উদ্যোক্তা এ কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারে।

তিনি যোগ করেছেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব পোস্ট অফিসকে ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলে পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। এতে একদিকে নাগরিক সেবার পরিধি বাড়বে, অন্যদিকে নতুন কর্মসংস্থান ও ব্যবসার সুযোগ তৈরি হবে। তিনি ফ্র্যাঞ্চাইজি উদ্যোক্তাদের শুভকামনা জানিয়ে আশ্বস্ত করেছেন যে, কার্যক্রম চালাতে কোনো সমস্যা হলে ডাক বিভাগ সব ধরনের সহযোগিতা দেবে।

মন্ত্রী নগদের রাজস্বের চেক গ্রহণ শেষে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসের মধ্যেই নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। নগদের মুনাফা অর্জন সেই সফলতারই একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি বলেন, উন্নত নাগরিকসেবা নিশ্চিত করতে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি অপরিহার্য। ডাক বিভাগের সঙ্গে নগদের অংশীদারিত্বের ফলে জনগণের আস্থা, সরকারের রাজস্ব এবং ডাক বিভাগের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমান সরকার স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করছে।

উল্লেখ্য, প্রথম পর্যায়ে ঢাকার অভ্যন্তরে ৪টি এবং ঢাকার বাইরে ৪টি ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিস চালু করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে দেশের সব অঞ্চলে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছাড়ার কোনো প্রশ্নই আসে না: ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৫৮ পি.এম


হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছাড়ার কোনো প্রশ্নই আসে না: ইরান

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ইরান আলোচনার জন্য মরিয়া। অথচ গত ১৬-১৭ দিনে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য কোনো অনুরোধ পাঠাইনি।

সিএনএনের একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত দুই সপ্তাহে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা বা উদ্যোগ নেয়নি। পাশাপাশি, ইরান জানিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণও তারা ছাড়বে না। এই বিবৃতিটি তারা জর্ডানের যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে নতুন দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে করেছেন।

গারিবাবাদি উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বিরোধের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। কারণ বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশের বেশি এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে যে, এই কৌশলগত জলপথে অবাধ নৌ চলাচল পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে।

তার দাবি অনুযায়ী, গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী সমুদ্রপথে মাইন অপসারণের দায়িত্ব ইরানের। এ কারণে মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে প্রণালির কাছাকাছি আসতে দেওয়া হয়নি।

কাজেম গারিবাবাদি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছাড়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। যদি প্রণালিটি আগের অবস্থায় ফিরে যায়, তাহলে এই যুদ্ধে আমাদের সাফল্য পূর্ণাঙ্গ হবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি যোগ করেন, ওমান দক্ষিণাঞ্চলে মাইন অপসারণের জন্য অন্য একটি দেশকে আনতে চেয়েছিল। কিন্তু আমরা তা অনুমোদন করিনি।

গারিবাবাদি আরও ইঙ্গিত দেন যে, হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে ইরান যাতায়াত ফি আদায়ের অধিকার সংরক্ষণ করে। তার মতে, সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী ইরান কেবল ৬০ দিনের জন্য বিনামূল্যে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে বাধ্য।

সূত্র: সিএনএন

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সবুজ মাংসের আতঙ্ক, কিন্তু বিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:০৪ পি.এম


সবুজ মাংসের আতঙ্ক, কিন্তু বিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা

খুলনায় একটি বেকারির কর্মচারীদের পিকনিকে রান্না করা গরুর মাংস হঠাৎ করে সবুজ হয়ে যাওয়ার একটি ঘটনা দেশজুড়ে কৌতূহল এবং উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিগুলি ঘিরে কেউ বিষক্রিয়া, কেউ ভেজাল বা রাসায়নিক ব্যবহারের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, তবে মাংসবিজ্ঞান বলছে ভিন্ন বক্তব্য।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) এনিম্যাল সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ মিট সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ড. মো. আবুল হাশেমের মতে, মাংসের ভেতরে আগেই শুরু হওয়া জটিল রাসায়নিক পরিবর্তনের ফলেই এমন অস্বাভাবিক সবুজ রঙ দেখা দিতে পারে। বাহ্যিকভাবে কোনো রং বা রাসায়নিক মেশানোর প্রয়োজন নেই।

বুধবার অনুষ্ঠিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, জবাইয়ের পর, মাংসের রঙ স্বাভাবিকভাবে কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করে। প্রথমে বেগুনি-লাল, পরে অক্সিজেনের সংস্পর্শে উজ্জ্বল লাল এবং সময়ের সঙ্গে ধীরে ধীরে বাদামি রঙ ধারণ করে। তবে সংরক্ষণে সামান্য ত্রুটিও এ স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে অস্বাভাবিক করে ফেলতে পারে।

ড. হাশেম উল্লেখ করেছেন, যদি যথাযথ তাপমাত্রা বজায় না থাকে অথবা দীর্ঘ সময় অনুপযুক্ত পরিবেশে মাংস সংরক্ষণ করা হয়, তাহলে কিছু ব্যাকটেরিয়া সক্রিয় হয়ে হাইড্রোজেন সালফাইড (H₂S) উৎপন্ন করতে পারে। এই যৌগ মাংসের হিম রঞ্জকের সঙ্গে বিক্রিয়া করে সালফমায়োগ্লোবিন (Sulfmyoglobin) তৈরি করে, এবং এর ফলস্বরূপ মাংস সবুজ হয়ে যায়। রান্নার পর এ সবুজ বর্ণ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

তিনি আরো জানিয়েছেন, আরেকটি সম্ভাব্য কারণ হলো কোলেগ্লোবিন (Choleglobin) বা ভার্ডোহিম (Verdoheme) জাতীয় সবুজ রঞ্জকের সৃষ্টি। দীর্ঘদিন সংরক্ষণ, চর্বির জারণ (লিপিড অক্সিডেশন), অথবা কিছু ব্যাকটেরিয়ার উৎপন্ন পারঅক্সাইডের প্রভাবে এ রকম পরিবর্তন ঘটে। অনেক ক্ষেত্রে এ অবস্থায় মাংসের দুর্গন্ধ সৃষ্টি হতে পারে, যা বাসি তেলের মতো।

অধ্যাপক হাশেম আরও বলেন, প্রক্রিয়াজাত বা কিউরড মাংসে অতিরিক্ত নাইট্রাইট ব্যবহারের ফলে সবুজ রঙ দেখা দিতে পারে, যা আন্তর্জাতিকভাবে ‘নাইট্রাইট বার্ন’ (Nitrite Burn) নামে পরিচিত। আবার তীব্র জারণের শেষ পর্যায়ে হিম রঞ্জক ভেঙে গিয়ে স্থায়ী সবুজ বর্ণও তৈরি হতে পারে।

খুলনার ঘটনায় কী ঘটতে পারে? ড. হাশেম মনে করছেন, খুলনার ঘটনায় প্রথম দুটি কারণই সবচেয়ে সম্ভাব্য। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গরু জবাইয়ের পর একদিন সাধারণ রেফ্রিজারেটরে রাখা হয়েছিল। এই সময়ে কোল্ড চেইন সঠিকভাবে বজায় না রাখলে মাংসের ভেতরে ব্যাকটেরিয়ার কার্যক্রম ও রাসায়নিক পরিবর্তন শুরু হতে পারে। পরে রান্নার সময় জীবাণু ধ্বংস করলেও সেই পরিবর্তনের চিহ্ন থেকে যায় এবং সবুজ রঙ স্পষ্টভাবে দেখা দেয়।

তার মতে, তরকারির ঝোল স্বাভাবিক লাল থাকলেও শুধু মাংসের টুকরো সবুজ হয়ে যাওয়ার ঘটনা নির্দেশ করে যে সমস্যাটি বাইরের কোনো মসলা বা রাসায়নিকের নয়; বরং মাংসের অভ্যন্তরীণ হিম রঞ্জকের পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে আসার জন্য পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা করতে হবে।

ড. হাশেম বলেছেন, এ ধরনের সবুজ বর্ণ সাধারণত অনুপযুক্ত সংরক্ষণ বা পচনশীল অবস্থার ইঙ্গিত দেয়। তাই এমন মাংস খাদ্যে নেওয়ার ঝুঁকি নেওয়া উচিত নয়। উৎস ও কারণ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সন্দেহজনক রঙের মাংস পরিত্যাগ করাই নিরাপদ।

তিনি আরো বলেন, জবাই থেকে ভোক্তার টেবিল পর্যন্ত পুরো কোল্ড চেইন ঠিকভাবে বজায় রাখা, দ্রুত শীতলীকরণ, স্বাস্থ্যসম্মত সংরক্ষণ এবং মানসম্মত প্যাকেজিং নিশ্চিত করা সম্ভব হলে এ ধরনের ঘটনা সহজেই এড়ানো সম্ভব।

অধ্যাপক হাশেমের মতে, বাংলাদেশে কোল্ড চেইন ব্যবস্থার দুর্বলতা এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিদ্যুৎ বিভ্রাট, পরিবহনের সময় তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা কিংবা খুচরা পর্যায়ের অব্যবস্থাপনার কারণে বাইরে থেকে মাংস স্বাভাবিক দেখালেও ভেতরে নীরবে রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে থাকতে পারে, যেটার প্রকৃত চিত্র রান্নার পরই অনেক সময় প্রকাশ পায়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%