০৮:৩৮ পি.এম
পাকিস্তানের লাহোরের কাহনা এলাকায় অবস্থিত একটি টিউশন সেন্টারের ছাদ ধসে অন্তত ১৪ শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছে বলেও জানা গেছে। পুলিশের বরাতে দ্য ডন এ সংবাদটি নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান শুরু করে। লাহোর পুলিশের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) অপারেশনস ফয়সাল কামরান জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
লাহোর জেনারেল হাসপাতাল বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ করে নিহতদের প্রাথমিক তালিকা প্রদান করেছে, যেখানে অন্তত আটজনের বয়স ৫ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে রয়েছে। সন্ধ্যা ৭টায় লাহোর পুলিশ এক বিবৃতির মাধ্যমে জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান সম্পন্ন হয়েছে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তের প্রেক্ষিতে বাড়ির মালিকসহ দুজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করে ডিআইজিকে উদ্ধৃত করা হয়, দুর্ঘটনার প্রমাণ সংগৃহীত হচ্ছে এবং অবহেলার জন্য দায়ী প্রমাণিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিআইজি কামরান আরও জানিয়েছেন, সম্প্রতি বাড়িটি নির্মাণকারী ঠিকাদারও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাড়িটির একটি অংশ তখন নির্মাণাধীন ছিল এবং ছাদ ধসে পড়ার সময় শ্রমিকরা কাজে ব্যস্ত ছিলেন বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
এর আগে রেসক্যু ১১২২-এর মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানান, ঘটনাস্থলে তাদের দলের সদস্যরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় আটকে পড়া শিশুদের বিষয়ে তথ্য প্রদান করেছেন। রেসক্যু ১১২২-এর মুখপাত্র ফারুক আহমেদ ডন নিউজকে বলেন, ‘শিশুদের বয়স খুব কম এবং দুটি ঘর ব্যবহার করা হচ্ছিল। তাই ছাদ ধসে পড়ায় শিশুরা আটকা পড়ে’।
উদ্ধার অভিযানে অংশগ্রহণকারী একটি রেসক্যু সার্ভিসের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ঘটনাস্থলে একটি বাড়ির ঘরের ছাদ ‘হঠাৎ ধসে পড়েছে’। এতে আরও বলা হয়েছে, প্রাথমিক তথ্যে অবগত হয়েছে যে ধসে পড়া ছাদটি টিআর গার্ডার ব্যবহার করে নির্মাণ করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ দুর্ঘটনা জানার সাথে সাথে পুলিশ ও জেলা সরকারি কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন, ছাদ ধসে মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের ভূমিকা নির্ধারণ করে ফৌজদারি মামলা দায়ের করার।
লাহোর জেলা শিক্ষা কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তারিক মাহমুদ জানিয়েছেন, ভবনটিতে একটি বেসরকারি টিউশন কেন্দ্র ছিল এবং এটি এলাকার এক নারী পরিচালনা করতেন।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ নিকটবর্তী লাহোর জেনারেল হাসপাতালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। তারা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের, ডাক্তার, নার্স ও প্যারামেডিক্যাল কর্মীদের সেখানে আহত শিশুদের অবিলম্বে চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন শিশু উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন