০৪:০৮ পি.এম
সৌদি আরবে উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে চুয়াডাঙ্গার দর্শনার পাঁচটি পরিবারের কাছ থেকে মোটামুটিভাবে ২৮ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগটি করা হয়েছে দর্শনা থানাধীন জিরাট বাগানপাড়া গ্রামের মিনু খাতুন এবং তার সহযোগী দামুড়হুদা উপজেলার বক্কর মাস্টারের পুত্র মো. সবুজের বিরুদ্ধে।
কাজের ভিসা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও চারজনকে টুরিস্ট ভিসায় সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেখানে পৌঁছে তারা চাকরি না পাওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন, এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
ভুক্তভোগীদের মতে, কাজের ভিসা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও প্রকৃতপক্ষে সৌদি আরবে চারজনকে টুরিস্ট ভিসায় পাঠানো হয়েছিল। সেখানে গিয়ে তাদেরকে বিভিন্ন কফিলের কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রতিশ্রুত চাকরির অভাব, নিয়মিত বেতনের ব্যবস্থা না থাকা, এবং খাবারের অভাবে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে। এর পর আরও ৩০ হাজার টাকা করে জরিমানার অজুহাতে আদায় করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তিরা পদে পদে বেতন না পাওয়ায় চরম দুর্ভোগের সম্মুখীন। দেশে থাকা পরিবারের সদস্যরা বৈদেশিক কর্মসংস্থান ব্যাংক, এনজিও এবং অন্য বিভিন্ন উৎস থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যরা বিদেশে আটকা পড়ায় তাদের স্বজনরা অর্থনৈতিক এবং মানসিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।
সৌদি আরবে থাকা ভুক্তভোগী রুবেল, আজানুর এবং অন্য তিনজন একটি ভিডিও বার্তায় জানান, তাদেরকে এনে বিভিন্ন কফিলের কাছে দেওয়া হয়েছে। তারা কোনো বেতন পাচ্ছেন না এবং একবেলা খেয়ে না খেয়ে বেঁচে আছেন। দেশে ফেরত যাওয়ার সম্ভাবনাও নেই। জীবন বাঁচানোর জন্য তারা অন্যত্র চলে গেছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, জিরাট বাগানপাড়া গ্রামের যারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন তাদের মধ্যে রুবেল (৩৫), আজানুর (৪০), আবু সাইদ ওরফে পিন্টু (৩৬), সুরুজ (৪০) এবং মো. সাদির ছেলে সজিব অন্তর্ভুক্ত।
সজিব জানিয়েছেন, গ্রামের চারজনের দুরবস্থার কারণে তিনি অবশেষে বিদেশে যেতে পারেননি। তবে বিদেশ পাঠানোর নামে তাঁর কাছ থেকে আগেই ২ লাখ ১০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে গত ৫ জুলাই দর্শনা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সজিব উদ্দীন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রায় সাত মাস আগে মিনু খাতুন বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সজিবের কাছ থেকে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা এবং অন্যান্য চারজনের কাছ থেকে জনপ্রতি ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা দাবি করেন, পরে জরিমানা বাবদ ৩০ হাজার টাকা করে এবং অন্যান্য খরচের নামে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করেছেন। সব মিলিয়ে প্রায় ২৮ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এই চারজনকে সৌদি পাঠানোর পর সেখানে বৈধ কর্মসংস্থানের অভাব দেখা দেয়।
অভিযোগে আরও জানানো হয়েছে, টুরিস্ট ভিসায় যাওয়ার কারণে বর্তমানে তারা আইনি জটিলতায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা হুমকি দিছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
মিনু খাতুন অভিযোগের বিষয়ে একটি ফোন কলের মাধ্যমে জানান যে, তারা তাঁর কাছে এসেছিল এবং টাকা-পয়সার লেনদেন হয়েছে। বিদেশ ভাগ্যের ব্যাপার, কার কপালে কী রয়েছে সেটা তিনি জানাতে পারেননি। তিনি বলেন, যে স্থানগুলোতে পাঠিয়েছিলেন, সেখান থেকে তারা পালিয়ে গেছে।
বিদেশে জনশক্তি পাঠানোর বৈধ লাইসেন্স আছে কি না জানতে চাইলে তিনি সরাসরি উত্তর না দিয়ে জানান, বিষয়টি দামুড়হুদার বক্কর মাস্টারের ছেলে সবুজ দেখেছেন।
আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার
অভিযোগ অস্বীকার করে মো. সবুজ বলেন, তারা ডিস্টার্ব করছে। মিনু আপার বাড়িতে কেন গিয়েছেন? তারা বলেন, আমাদের সাথে হয়রানি করা হচ্ছে। আমাদের আসল কাজ হয়রানি থেকে রক্ষা করা। বিষয়টি নিয়ে মামলা দায়ের হবে। বৈধ রিক্রুটিং লাইসেন্সে সম্পর্কে কোনো তথ্য তিনি দেননি।
তবে ঢাকার আল আমিনের কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রদান করা হয়নি, যার ফলে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, অভিযোগ পাওয়া পর উভয়পক্ষকে থানায় বসানো হয়েছে। তবে সমঝোতা না হওয়ায় আদালতের মাধ্যমে আইনগত প্রতিকার নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে গ্রামের সহজ-সরল মানুষের ওপর একটি দালালচক্র সক্রিয়। বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির বাইরে দালালদের মাধ্যমে বিদেশে গিয়ে অনেকেই প্রতারণার শিকার হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা তেমন কোনো ন্যায়বিচার পান না।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এসআরবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীকে অপহরণ, পুলিশ উদ্ধার অভিযান
অভিযোগে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অর্থ ফেরত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় জনগণ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন