ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ট্যাক্সি ও অ্যাম্বুলেন্স চালকদের আলঝেইমার রোগে মৃত্যুঝুঁকি কম: নতুন গবেষণা


ট্যাক্সি ও অ্যাম্বুলেন্স চালকদের আলঝেইমার রোগে মৃত্যুঝুঁকি কম: নতুন গবেষণা

আলঝেইমার রোগটি বয়স্কদের মধ্যে স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়ার একটি অন্যতম পরিচিত রোগ। দীর্ঘকাল ধরে এ রোগের কারণ ও কার্যকর চিকিৎসা নিয়ে গবেষণা চললেও, এর সম্পূর্ণ কার্যকর প্রতিকার এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। তবে সম্প্রতি একটি নতুন গবেষণায় এমন একটি বিষয় উন্মোচিত হয়েছে, যা আলঝেইমার নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।

গবেষণার ফলাফল নির্দেশ করে, ট্যাক্সিচালক ও অ্যাম্বুলেন্সচালকদের মধ্যে আলঝেইমার-সম্পর্কিত মৃত্যুর হার অন্যান্য অনেক পেশার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। গবেষকদের মতে, এই ধরনের পেশায় নিয়মিতভাবে পথ চিনে চলা এবং তাৎক্ষণিকভাবে দিক নির্ধারণের প্রয়োজন হতে পারে, যা মস্তিষ্কের একটি বিশেষ অংশে পরিবর্তন ঘটাতে পারে।

তবে গবেষণাটি চূড়ান্তভাবে প্রমাণ করে না যে, ট্যাক্সি বা অ্যাম্বুলেন্স চালানো আলঝেইমার থেকে সুরক্ষা দেয়।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন

কীভাবে পেশার সঙ্গে আলঝেইমারের সম্পর্ক মিলল?

গত দুই দশকে পরিচালিত কিছু ছোট গবেষণায় দেখা গেছে, লন্ডনের ট্যাক্সিচালকদের মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাসের একটি অংশ তুলনামূলকভাবে বড় হতে পারে। এই অংশটি স্মৃতি তৈরি এবং বিশেষ করে স্থান ও পথ মনে রাখার সঙ্গে জড়িত।

আলঝেইমার রোগে হিপোক্যাম্পাসের এই অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ কারণে গবেষকদের মধ্যে প্রশ্ন ওঠে—নিয়মিত পথ খোঁজা ও স্থানিক স্মৃতি ব্যবহারের মতো কাজ কি ট্যাক্সিচালকদের মস্তিষ্কে এমন কোনো পরিবর্তন ঘটায়, যা আলঝেইমারের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত?

নতুন গবেষণায় সেই সম্ভাবনাকে আরও বিস্তৃতভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু

প্রায় ৯০ লাখ মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ

গবেষকেরা প্রায় ৯০ লাখ মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। এসব মানুষের মৃত্যুর সময় পেশার তথ্য ছিল এবং তারা তিন বছরের একটি সময়ে মারা গেছেন।

বিভিন্ন বয়সের প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে ৪৪৩টির বেশি পেশায় আলঝেইমার-সম্পর্কিত মৃত্যুর হার হিসাব করা হয়। এতে ট্যাক্সিচালক ও অ্যাম্বুলেন্সচালকদের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যায়।

ট্যাক্সিচালকদের মৃত্যুর মধ্যে শূন্য দশমিক ৯১ শতাংশ ছিল আলঝেইমার-সম্পর্কিত। অ্যাম্বুলেন্সচালকদের ক্ষেত্রে এ হার ছিল ১ দশমিক ০৩ শতাংশ।

আরও পড়ুন: ক্যানসার হাসপাতালগুলোতে রেডিওথেরাপি মেশিন স্থাপনের উদ্যোগ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

অন্যদিকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের মৃত্যুর মধ্যে আলঝেইমার-সম্পর্কিত মৃত্যুর হার ছিল ১ দশমিক ৮২ শতাংশ, যা সাধারণ জনগণের গড় হারের কাছাকাছি।

গবেষণার হিসাব অনুযায়ী, অন্যান্য পেশার তুলনায় ট্যাক্সিচালক ও অ্যাম্বুলেন্সচালকদের মধ্যে আলঝেইমার-সম্পর্কিত মৃত্যু ৪০ শতাংশের বেশি কম ছিল।

সব ধরনের চালকের ক্ষেত্রে একই ফল নয়

তবে মজার বিষয় হলো, পথনির্দেশ ও চলাচলের সঙ্গে যুক্ত সব পেশায় একই ধরনের ফল পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: স্বাস্থ্যখাতের বাজেটের বড় অংশ ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যয় হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বিমানচালকদের মধ্যে আলঝেইমার-সম্পর্কিত মৃত্যুর হার ছিল ২ দশমিক ৩৪ শতাংশ এবং জাহাজের ক্যাপ্টেনদের ক্ষেত্রে ২ দশমিক ১২ শতাংশ। বাসচালকদের মধ্যে এ হার ছিল ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

অর্থাৎ, শুধুমাত্র গাড়ি বা যানবাহন চালানোর সঙ্গে আলঝেইমার-সম্পর্কিত মৃত্যুর হার কমে যাওয়ার সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।

ট্যাক্সি ও অ্যাম্বুলেন্সচালকদের ক্ষেত্রে কেন এমন হতে পারে?

গবেষকদের একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হলো, ট্যাক্সি ও অ্যাম্বুলেন্সচালকদের অনেক সময় চলার পথে তাৎক্ষণিকভাবে দিক নির্ধারণ করতে হয়। কোন রাস্তা দিয়ে যেতে হবে, কোথায় মোড় নিতে হবে এবং কীভাবে নির্দিষ্ট গন্তব্যে দ্রুত পৌঁছাতে হবে—এসব সিদ্ধান্ত নিতে নিয়মিত স্থানিক স্মৃতি ও পথ চিনে চলার দক্ষতা ব্যবহার করতে হয়।

আরও পড়ুন: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিনামূল্যে অনলাইন কোর্সে আবেদন করার পদ্ধতি

এ ধরনের নিয়মিত মানসিক কাজ মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাসের গঠন ও কার্যক্রমে পরিবর্তন আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হিপোক্যাম্পাস সুস্থ থাকলে তা আলঝেইমার-সম্পর্কিত পরিবর্তনের বিরুদ্ধে কোনো ভূমিকা রাখে কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

অন্যদিকে বাসচালক, বিমানচালক বা জাহাজের ক্যাপ্টেনদের অনেক ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট পথ বা পূর্বনির্ধারিত চলাচলের ব্যবস্থা থাকে। ফলে তাদের কাজের মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে পথ খোঁজার প্রয়োজন তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে।

তবে গবেষণার বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

গবেষণাটি গুরুত্বপূর্ণ একটি সম্পর্কের ইঙ্গিত দিলেও এটিকে আলঝেইমার প্রতিরোধের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখা যাবে না। কারণ এটি পর্যবেক্ষণভিত্তিক গবেষণা। এ ধরনের গবেষণায় দুটি বিষয়ের মধ্যে সম্পর্ক দেখা গেলেও একটি বিষয় সরাসরি অন্যটির কারণ—এমনটা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।

আরও পড়ুন: খাদ্যপণ্যে নিষিদ্ধ টেক্সটাইল রং ও হাইড্রোজ মেশানোর ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে

গবেষকেরা মৃত্যুসনদে উল্লেখ করা মৃত্যুর সময়কার প্রধান পেশার তথ্য ব্যবহার করেছেন। কিন্তু একজন মানুষের জীবনে একাধিক পেশা থাকতে পারে। আবার মৃত্যুসনদের পেশার তথ্যও সবসময় পুরোপুরি নির্ভুল নাও হতে পারে।

আরেকটি বিষয় হলো, কিছু মানুষ হয়তো স্বাভাবিকভাবেই পথ চিনতে বেশি দক্ষ। যারা আলঝেইমারের ঝুঁকিতে বেশি, তারা হয়তো এমন পেশা বেছে নেন না, যেখানে নিয়মিত পথ খুঁজে চলতে হয়। ফলে পেশার পরিবর্তে ব্যক্তির স্বাভাবিক সক্ষমতাও ফলাফলের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।

ধূমপানের মতো অন্যান্য বিষয়ও এখানে প্রভাব ফেলতে পারে। যেমন ট্যাক্সি বা অ্যাম্বুলেন্সচালকদের মধ্যে ধূমপানের হার যদি তুলনামূলকভাবে কম হয়, তাহলে আলঝেইমার-সম্পর্কিত মৃত্যুর কম হারের পেছনে সেটিও ভূমিকা রাখতে পারে।

এছাড়া ট্যাক্সিচালকদের মধ্যে আলঝেইমার-সম্পর্কিত মৃত্যুর সংখ্যা ছিল মাত্র ১০টি। এত কম সংখ্যার ক্ষেত্রে কয়েকটি তথ্য বাদ পড়লেও গবেষণার ফল পরিবর্তিত হতে পারে।

মুঠোফোনের পথনির্দেশ কি প্রভাব ফেলবে?

গবেষণাটি আরও একটি নতুন প্রশ্ন সামনে এনেছে। বর্তমানে পথ খুঁজে নিতে মুঠোফোনের মানচিত্র ও পথনির্দেশের ব্যবস্থা (গুগল ম্যাপ) ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

ট্যাক্সি ও অ্যাম্বুলেন্সচালকদের যদি এখন আগের তুলনায় কম নিজের মস্তিষ্ক ব্যবহার করে পথ খুঁজতে হয়, তাহলে এই পেশার সম্ভাব্য সুরক্ষামূলক প্রভাবও কমে যেতে পারে কি না—তা ভবিষ্যৎ গবেষণায় দেখা প্রয়োজন।

পথ চিনে চলার অনুশীলন কি সবার জন্য উপকারী?

নতুন গবেষণার ফল সামনে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে পারে—ট্যাক্সি বা অ্যাম্বুলেন্স চালানোর মতো কাজ না করেও কি নিয়মিত স্থানিক স্মৃতির অনুশীলন করা যায়?

পথ খোঁজার খেলা, জটিল ধাঁধা, কিছু মুঠোফোনভিত্তিক খেলা কিংবা বোর্ডের খেলায় স্থানিক দক্ষতা ব্যবহারের প্রয়োজন হয়। এমনকি জটিল পথে দিকনির্দেশ অনুসরণ করে চলার অনুশীলনও মস্তিষ্কের এই দক্ষতা চর্চায় সহায়ক হতে পারে।

তবে এসব কার্যক্রম আলঝেইমার প্রতিরোধ করে—এমন নিশ্চিত প্রমাণ এখনো নেই। এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

এখন কী করা উচিত?

একটি গবেষণার ফলের ওপর ভিত্তি করে আলঝেইমার প্রতিরোধের নতুন কোনো পদ্ধতি নিশ্চিতভাবে গ্রহণ করা ঠিক নয়। বিশেষজ্ঞদের প্রচলিত পরামর্শ অনুযায়ী পর্যাপ্ত ও ভালো ঘুম, স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং সামগ্রিকভাবে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ট্যাক্সিচালক ও অ্যাম্বুলেন্সচালকদের মধ্যে আলঝেইমার-সম্পর্কিত মৃত্যুর হার কম পাওয়ার বিষয়টি গবেষণায় নতুন একটি সম্ভাবনার দরজা খুলেছে। ভবিষ্যৎ গবেষণায় যদি এই সম্পর্ক নিশ্চিত হয়, তাহলে মস্তিষ্কের স্মৃতি ও স্থানিক দক্ষতার সঙ্গে আলঝেইমারের সম্পর্ক আরও ভালোভাবে বোঝা সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে রোগটি প্রতিরোধের নতুন পথও খুঁজে পাওয়া যেতে পারে।

সূত্র: হার্ভার্ড

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেসি-কাসেমিরোর গোলে ক্যাম্পিওনেস কাপ জিতল ইন্টার মায়ামি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:২৩ পি.এম


মেসি-কাসেমিরোর গোলে ক্যাম্পিওনেস কাপ জিতল ইন্টার মায়ামি

পায়ের জাদু দিয়ে প্রতিপক্ষকে পরাজিত করতে অভ্যস্ত লিওনেল মেসি এবার ভিন্ন এক রূপে হাজির হয়েছেন। দুর্দান্ত একটি হেডারে গোল করার পাশাপাশি তিনি একটি অ্যাসিস্টও প্রদান করেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। তার অসাধারণ নৈপুণ্যে মেক্সিকোর ক্লাব ক্রুজ আজুলকে ২-০ গোলে পরাজিত করে ক্যাম্পেওনেস কাপের শিরোপা জয় করেছে ইন্টার মায়ামি।

ঘরের মাঠ ন্যু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের ২৪তম মিনিটে লুইস সুয়ারেজের দারুণ ক্রস থেকে হেড দিয়ে গোল করে মায়ামিকে এগিয়ে দেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি। ২০০৯ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালের পর এটি মেসির প্রথম হেডে করা গোল কোনো ফাইনালে।

এই গোলের মাধ্যমে মায়ামির জার্সিতে মাত্র ১১৪ ম্যাচে ১০০ গোল পূর্ণ করেছেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী তারকা। কোনো ক্লাবের হয়ে গোলের সেঞ্চুরি পূর্ণ করতে এটি মেসির সবচেয়ে কম ম্যাচের কীর্তি।

দ্বিতীয়ার্ধেও গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন মেসি। ৫৫ মিনিটে সুয়ারেজের পাস থেকে তার চিপ শট জালে প্রবেশ করলেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। তবে ম্যাচের ৮১ মিনিটে আবারও মায়ামির গোলের উৎস হয়ে ওঠেন তিনি। মেসির নিখুঁত কর্নার থেকে হেডে গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার কাসেমিরো।

মায়ামির হয়ে কাসেমিরোর করা চার গোলের তিনটিতেই অ্যাসিস্ট করেছেন মেসি।

শুধু আক্রমণভাগ নয়, মায়ামির জয়ের পেছনে বড় অবদান ছিল গোলরক্ষক ডেইন সেন্ট ক্লেয়ারেরও। ক্রুজ আজুলের একের পর এক আক্রমণ সামলে অন্তত চারটি নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে দলকে ক্লিনশিট এনে দেন তিনি। তার অসাধারণ পারফরম্যান্সের কারণেই শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মায়ামি।

মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) চ্যাম্পিয়ন ও মেক্সিকোর লিগা এমএক্সের চ্যাম্পিয়নের মধ্যে ২০১৮ সাল থেকে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে এক ম্যাচের বার্ষিক প্রতিযোগিতা ক্যাম্পেওনেস কাপ। সেই আসরেই এবার মেসির নেতৃত্বে শিরোপা ঘরে তুলল ইন্টার মায়ামি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রে সন্তানের স্কুল বাছাইয়ে ভুলগুলো এড়ানোর উপায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:২৪ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রে সন্তানের স্কুল বাছাইয়ে ভুলগুলো এড়ানোর উপায়

যুক্তরাষ্ট্রে সন্তানের জন্য স্কুল বাছাই করতে শুধুমাত্র বাসার নিকটবর্তী হওয়া, এলাকার সুনাম অথবা ইন্টারনেটের রেটিং দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া যথেষ্ট নয়। সন্তানের প্রয়োজন, স্কুলের শিক্ষক ও কর্মীদের মান, নিরাপত্তা, পড়াশোনার ব্যবস্থা, শিক্ষার্থীদের ফলাফল এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা—এসব বিষয় একসঙ্গে যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় শিক্ষা পরিসংখ্যান কেন্দ্রের তথ্য অনুসারে, একাধিক স্কুল বিবেচনা করার সময় অভিভাবকদের কাছে শিক্ষক ও স্কুলকর্মীদের মান, নিরাপত্তা, শিক্ষাব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে।

প্রথমেই বুঝুন সন্তানের প্রয়োজন

স্কুল বাছাইয়ের পূর্বে সন্তানের জন্য কোন ধরনের পরিবেশ উপযোগী, তার আগ্রহ কী, ইংরেজি ভাষায় অতিরিক্ত সহায়তা প্রয়োজন কি না কিংবা বিশেষ শিক্ষাগত সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে কি না—এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।

একটি স্কুল অন্য শিশুর জন্য উপযুক্ত হলেও আপনার সন্তানের জন্য একইভাবে কার্যকর নাও হতে পারে। তাই সন্তানের প্রয়োজনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

সরকারি তথ্য যাচাই করুন

এরপর স্কুলের সরকারি তথ্য যাচাই করা উচিত। সরকারি স্কুলের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের শিক্ষা বিভাগ ও স্থানীয় স্কুল এলাকার তথ্য থেকে শিক্ষার্থীদের ফলাফল, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।

যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি শিক্ষাব্যবস্থা মূলত স্থানীয় পর্যায়ে পরিচালিত হয়। ফলে একই অঙ্গরাজ্যের মধ্যে বিভিন্ন স্কুল এলাকার নিয়ম, সুযোগ-সুবিধা ও শিক্ষাব্যবস্থায় পার্থক্য থাকতে পারে।

শুধু ইন্টারনেটের রেটিং দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।

কোনো একটি ইন্টারনেটভিত্তিক রেটিং বা অভিভাবকের মন্তব্য দেখে স্কুল সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত নয়।

স্কুলের পড়াশোনার ফলাফল, শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি এবং উচ্চবিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতির তথ্যও দেখতে হবে। এসব তথ্য স্কুল এলাকা বা অঙ্গরাজ্যের সরকারি তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে নিলে স্কুল সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়।

নিরাপত্তার তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ

স্কুলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা কেমন, বুলিং বা হয়রানির ঘটনা কতটা ঘটে, শৃঙ্খলা ব্যবস্থা কেমন এবং সামগ্রিক পরিবেশ কেমন—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

কোনো একজন অভিভাবকের মন্তব্য বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পোস্টকে পুরো স্কুলের চিত্র হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। একাধিক নির্ভরযোগ্য উৎসের তথ্য মিলিয়ে দেখা অধিক কার্যকর।

বাংলাদেশি পরিবারের জন্য ভাষা সহায়তা জরুরি।

বাংলাদেশ থেকে যেসব পরিবার যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তানের জন্য স্কুল খুঁজছেন, তাদের জন্য ইংরেজি ভাষায় সহায়তার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

সন্তান ইংরেজিতে পুরোপুরি স্বচ্ছন্দ না হলে স্কুলে ইংরেজি শেখার জন্য আলাদা সহায়তা আছে কি না, ভাষা সহায়তার ব্যবস্থা কেমন এবং অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে কি না—এসব বিষয় আগে জেনে নেওয়া উচিত।

প্রয়োজনে স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে এসব বিষয়ে প্রশ্ন করা যেতে পারে।

পড়াশোনার বাইরের সুযোগও দেখুন

স্কুলের বাইরে শিক্ষার্থীদের জন্য কী ধরনের কার্যক্রম রয়েছে, সেটিও বিবেচনা করা প্রয়োজন। খেলাধুলা, সংগীত, চারুকলা, দাবা, রোবট তৈরি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং বিভিন্ন ক্লাব সন্তানের আগ্রহ ও দক্ষতা বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে।

উচ্চবিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে উন্নত পাঠ্যক্রম, সম্মানসূচক পাঠ্যক্রম, একই সঙ্গে বিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ এবং পেশাভিত্তিক কারিগরি শিক্ষার মতো ব্যবস্থা রয়েছে কি না, তাও দেখে নেওয়া যেতে পারে।

উচ্চবিদ্যালয়ে আরও কিছু তথ্য দেখুন

উচ্চবিদ্যালয় বাছাইয়ের সময় শুধুমাত্র কত শতাংশ শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষ করে তা দেখলেই হবে না। উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি, উন্নত পাঠ্যক্রমে অংশগ্রহণ, শিক্ষার্থীদের ফলাফল এবং কলেজে যাওয়ার প্রস্তুতির তথ্যও বিবেচনা করা প্রয়োজন।

কোনো একটি নম্বর বা রেটিংকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভিত্তি না করাই শ্রেয়।

বাসা নেওয়ার আগে স্কুল এলাকা জানুন

যুক্তরাষ্ট্রে অনেক সরকারি স্কুলে বাসার ঠিকানা অনুযায়ী শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। তাই নতুন বাসা নেওয়ার আগে ওই ঠিকানার জন্য কোন স্কুল নির্ধারিত, স্কুল এলাকার নিয়ম কী এবং ভর্তি প্রক্রিয়া কেমন—এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জেনে নেওয়া জরুরি।

কিছু স্কুল এলাকায় শিক্ষার্থীদের পছন্দ অনুযায়ী স্কুল বেছে নেওয়া, বিশেষায়িত স্কুল কিংবা অন্য ধরনের বিকল্প ব্যবস্থা থাকতে পারে।

সম্ভব হলে স্কুলে সরাসরি যান

সুযোগ থাকলে স্কুলটি সরাসরি দেখে আসা ভালো। স্কুলের পরিবেশ, শিক্ষক ও প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ, অভিভাবকদের অংশগ্রহণ এবং সন্তানের জন্য কী ধরনের সহায়তা পাওয়া যাবে—এসব বিষয়ে সরাসরি ধারণা নেওয়া যায়।

সবশেষে শুধুমাত্র পরিচিত কারও পরামর্শ বা ইন্টারনেটের রেটিংয়ের ওপর নির্ভর না করে সন্তানের প্রয়োজন অনুযায়ী তথ্য যাচাই করা উচিত। বাসা, স্কুল এবং পরিবারের দৈনন্দিন বাস্তবতা—সবকিছু একসঙ্গে বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিলে সন্তানের জন্য উপযুক্ত স্কুল বেছে নেওয়ার সুযোগ বৃদ্ধি পায়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্ব বাজারে সৌদি ও ওমানের তেলের সরবরাহে কমল জ্বালানি তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:২৪ পি.এম


বিশ্ব বাজারে সৌদি ও ওমানের তেলের সরবরাহে কমল জ্বালানি তেলের দাম

সৌদি আরব ও ওমানের মাধ্যমে এশিয়ার শোধনাগারগুলোর জন্য অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেল সরবরাহের প্রস্তাব দেওয়ার খবরের ফলস্বরূপ আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমে গেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কা কিছুটা কমে আসায় বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিম্নমুখী প্রবণতা প্রদর্শন করেছে।

ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৯২ ডলার বা ২ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ দশমিক ৮৩ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ৪০ ডলার বা ৩ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে, ফলে প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআইয়ের দাম দাঁড়িয়েছে ১০২ দশমিক ৪৩ ডলার।

বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো রয়টার্সকে জানিয়েছে যে, সৌদি আরব ওমানের সোহার বন্দরের কাছে জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরের মাধ্যমে এশিয়ার শোধনাগারগুলোর কাছে অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেল সরবরাহের প্রস্তাব দিচ্ছে।

সম্প্রতি সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর এই উদ্যোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। উক্ত পাইপলাইনটি লোহিত সাগরের ইয়ানবু রপ্তানি টার্মিনালে তেল সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত হয়।

ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভান্নি স্তাউনোভো মন্তব্য করেছেন যে, সৌদি আরব উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানি করছে এমন খবর সরবরাহ ব্যবস্থায় আরও বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কা কমিয়ে দিয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুতের তথ্যও তেলের দামে চাপ সৃষ্টি করেছে। গত সপ্তাহে দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত ৬ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল কমেছে, যদিও বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছিল যে, মজুত কমবে ১৬ লাখ ব্যারেল।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিন ও ডিস্টিলেটের মজুত বেড়ে যাওয়ার ফলে বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে স্বস্তি বৃদ্ধি পায় এবং এর ফলে জ্বালানি তেলের দামে নিম্নমুখী চাপ তৈরি হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকার তাপমাত্রা কমাতে ছাদবাগান-ভার্টিকেল গার্ডেনিংয়ে বিশেষজ্ঞদের জোর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:২৪ পি.এম


ঢাকার তাপমাত্রা কমাতে ছাদবাগান-ভার্টিকেল গার্ডেনিংয়ে বিশেষজ্ঞদের জোর

ঢাকার আরবান হিট আইল্যান্ড বা তাপমাত্রা কমানোর লক্ষ্যে ভবনে ছাদবাগান এবং দেয়ালে ভার্টিকেল গার্ডেনিংয়ের প্রতি উৎসাহ প্রদান করছেন পরিবেশ বিজ্ঞানীরা। তারা উল্লেখ করছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট তীব্র তাপপ্রবাহ, জলাবদ্ধতা এবং পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলায় শহরাঞ্চলে ছাদবাগান করার জন্য সবার এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের সাথে আলোচনা করে জানা যায়, জলাবদ্ধতা দূরীকরণের জন্য প্লাবন ভূমি, বন্যা প্রবাহ অঞ্চল এবং সংরক্ষিত জলাশয়গুলো ভরাট বা দখল ঠেকাতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্রাতিষ্ঠানিক প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

রাজউক কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, রাজধানীর হাজারীবাগ এবং লালবাগে ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট গ্রিন অ্যাকশন প্ল্যান (সিআরজিএপি) সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য পুরোনো এবং জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায়ও গ্রিন অ্যাকশন প্ল্যান সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম মন্তব্য করেন, নগরীর তাপমাত্রা কমাতে ক্ষুদ্র নগর বনায়ন এবং ঢাকা শহরের শিরা-উপশিরার মতো খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণ করা আবশ্যক। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ছাদবাগান কিংবা ভার্টিকেল গার্ডেনিংকেও উৎসাহিত করা প্রয়োজন। অন্যথায়, এই নগর বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে।

তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট তীব্র তাপপ্রবাহ এবং আকস্মিক জলাবদ্ধতার ঝুঁকিগুলো আমরা প্রতিনিয়ত অনুভব করছি। রাজউকের মূল দায়িত্ব হলো পরিকল্পিত ভূমি ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং এমন একটি নগর অবকাঠামো তৈরি করা, যা জলবায়ু ঝুঁকিগুলো মোকাবিলা করতে সক্ষম।

অন্যদিকে, রাজউকের নগর পরিকল্পনাবিদ (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মাহফুজা আক্তার জানান, মেগা প্রজেক্ট পূর্বাচল নতুন শহরকে দেশের প্রথম পরিকল্পিত গ্রিন ও স্মার্ট সিটি হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে বিশাল লেক সংরক্ষণ, কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধন প্ল্যান্ট (এসটিপি) এবং ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ করা হচ্ছে।

তিনি উল্লেখ করেন, রাজউকের লক্ষ্য শুধুমাত্র সংখ্যার বিচারে বেশি ভবন নির্মাণ নিয়ন্ত্রণ করা নয়, বরং ঢাকার ভবিষ্যৎ নগরায়নকে পরিকল্পিত, নিরাপদ এবং টেকসই পথে পরিচালিত করা। ঢাকা শুধুমাত্র একটি শহর নয়, এটি কোটি মানুষের কর্মসংস্থান এবং স্বপ্নের কেন্দ্রবিন্দু।

রাজউকের চেয়ারম্যান মো. রিয়াজুল ইসলাম ঢাকা মহানগর প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন, জলবায়ুবান্ধব নগরী গড়ে তোলার জন্য সমন্বিত জলবায়ু এবং দুর্যোগ সহনশীল উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রাজউকের নতুন আইন এবং ইমারত নির্মাণ বিধিমালা সংশোধনে এই দু’টি বিষয় মাথায় রেখেই আইনি কাঠামো প্রস্তুত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ঢাকা মহানগরীর উন্নয়নের প্রধান বাধা হলো সমন্বয়হীনতা। গুলশান-বনানী লেক দূষণমুক্ত করা কিংবা নিয়ম না মেনে নির্মিত ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে ওয়াসা, ডেসকোসহ সকল স্টেকহোল্ডারদের সাথে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।

রাজউকের বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (২০২২-২০৩৫) একটি জলবায়ু ও পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনা হিসেবে উল্লেখ করে নগর পরিকল্পনাবিদ মাহফুজা আক্তার বলেন, এই পরিকল্পনার মাধ্যমে ঢাকাকে ‘ব্লু-গ্রিন নেটওয়ার্ক’ (জলাশয় ও সবুজের সমন্বয়) হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে, যেখানে আধুনিকতা এবং প্রকৃতির একটি টেকসই ভারসাম্য থাকবে।

তিনি জানান, ড্যাপে বন্যাপ্রবাহ অঞ্চল নির্ধারণ করে নিখুঁত হাইড্রোলজিক্যাল অ্যানালাইসিসের মাধ্যমে বন্যাপ্রবাহ অঞ্চলগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সব ধরনের স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এতে শহরের প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল রাখা সম্ভব হবে।

মাহফুজা আক্তার বলেন, জলাধার সংরক্ষণ নীতিমালার আওতায় ঢাকার ভেতরে এবং চারপাশের বিদ্যমান সমস্ত পুকুর, খাল, ডোবা এবং প্লাবন ভূমিকে আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে, যেন কোনোভাবেই এগুলো ভরাট করা না যায়। এটি শহরের পানির ধারণ ক্ষমতা বাড়াবে এবং আকস্মিক জলাবদ্ধতা দূর করবে। শহরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং জীববৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনতে জলাশয় এবং লিনিয়ার পার্কের সমন্বয়ে ব্লু-গ্রিন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ঢাকার সব অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য এক নয়, বিশেষ করে পুরান ঢাকার মতো ঐতিহাসিক এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোর চ্যালেঞ্জ সম্পূর্ণ ভিন্ন। এ কারণেই সিআরজিপির মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে হাজারীবাগ এবং লালবাগ অঞ্চলকে কেন্দ্র করে এই অ্যাকশন প্ল্যান গ্রহণ করা হয়েছে।

এই নগর পরিকল্পনাবিদ আরও বলেন, রাজধানীর হাজারীবাগের ট্যানারি স্থানান্তরের পর যে বিশাল পরিবেশগত শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তা পুনরুদ্ধার করে সেখানে পরিবেশবান্ধব সবুজ বলয় এবং উন্মুক্ত স্থান তৈরি করা এবং লালবাগের ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব ধরে রেখে জলবায়ু অভিযোজন সক্ষমতা বাড়ানোই সিআরজিপির মূল লক্ষ্য। এই প্ল্যানের আওতায় জলবায়ু ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি ওই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, রাজউকের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভবনগুলোর কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরবান রেজিলিয়েন্স প্রজেক্ট (ইউপিআর) সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। নতুন নকশা অনুমোদনের সময় প্রতিটি বহুতল ভবনে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা এবং বিধিমালা অনুযায়ী পানি সরাসরি মাটিতে শোষিত হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত উন্মুক্ত স্থান রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

তিনি জানান, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আবাসন খাতের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত না করে আবাসন এবং অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি জলাধার, বন্যাপ্রবাহ এলাকা এবং উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকার সার্বিক উন্নয়নে রাজউক ছাড়াও দুটি সিটি কর্পোরেশন, ঢাকা ওয়াসা, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং পরিবেশ অধিদপ্তর নিজ নিজ আইনি পরিধিতে কাজ করছে।

রাজধানীতে অসংখ্য বহুতল ভবন নির্মাণের কথা উল্লেখ করে রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে নির্মিত এই বহুতল ভবনের অধিকাংশই গ্লাস দিয়ে আচ্ছাদিত। ভবনটিকে শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত করার কারণে ভবনের বাইরে কার্বন নিঃসরণ হচ্ছে। শহরের প্রাকৃতিক জলাধার ৮ থেকে ১০ শতাংশ হারিয়ে গেছে। এর ফলে উষ্ণতা শোষণের পরিমাণ কমে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, রাজধানী হিসেবে ঢাকা শহরের ইতিহাস চারশ’ বছরেরও বেশি। এই দীর্ঘ সময়ে শহরের বিস্তৃতি নারায়ণগঞ্জ এবং গাজীপুর পর্যন্ত হলেও নতুন করে রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এবং জিয়া উদ্যানের মতো নতুন কোনো পার্ক বা উদ্যান তৈরি হয়নি। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় হলো এলাকাভিত্তিক পার্ক এবং রিটেনশন পন্ড তৈরি করা। নতুন নতুন ভবন তৈরিতে জ্বালানি সাশ্রয়ী এবং গ্রিন বিল্ডিং মেটেরিয়ালসকে উৎসাহিত করতে হবে। সূত্র: বাসস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%